×
South Asian Languages:
রাশিয়া- সংস্কৃতি, ডিসেম্বর 2013

নতুন বছর এগিয়ে আসছে – ভবিষ্যত উজ্জ্বল আশার এক অপরূপ উত্সব. ১লা জানুয়ারী শুরু হওয়ার আগে রূপকথার রাতে ৩১শে ডিসেম্বর আমরা সকলে, আমাদের জাতীয় পরিচয়, সামাজিক অবস্থান ও রাজনৈতিক পছন্দ ভুলে ঐক্যবদ্ধ এক স্বপ্ন নিয়েই বাঁচি – শুরু হওয়া বছরে আর একটু বেশী আনন্দিত হতে পারার জন্যই.

রাশিয়াতে নতুন বছরের উত্সব পনেরোশ শতকের শেষে পালন করা শুরু হয়েছিল, কিন্তু তা করা হত ১লা জানুয়ারী নয়, ১লা সেপ্টেম্বর. এই দিনটিকে স্থির করেছিলেন মস্কোর তখনকার মহান রাজা তৃতীয় ইভান. তারপর থেকে হেমন্তের প্রথম দিনে মস্কো ক্রেমলিনের প্রধান চত্বরে জনগন জমা হ’তেন, সম্রাট ও তাঁর পারিষদরা উত্সবের পোষাকে প্রাসাদ থেকে বের হ’তেন. অর্থোডক্স গির্জার প্রধান প্যাট্রিয়ার্ক ধর্মীয় প্যারেডের নেতৃত্ব দিতেন আর সেই প্যারেডে থাকত ক্রুশ কাঠ, ধর্মীয় পতাকা ও আইকন. সম্রাটের কাছে পৌঁছে তিনি সম্রাটের সাফল্য কামনা করতেন ও তাঁর স্বাস্থ্য কামনা করতেন. তারপরে শুরু হত উত্সবের উপাসনা, সেই উপাসনা শেষ হলে সম্রাট ও প্যাট্রিয়ার্ক উপস্থিত ধর্মীয় নেতা ও রাজন্য বর্গের কাছ থেকে সম্বর্ধনা পেতেন.

লমনোসভ নামাঙ্কিত মস্কো রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় ব্রিকস রাষ্ট্রগুলির মধ্যে সেরা ১০০টি উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের রেটিংয়ে তৃতীয় স্থান পেয়েছে. প্রথম একশটির মধ্যে রাশিয়া থেকে প্রায় কুড়িটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে. ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চিন ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে নিয়ে এই তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, আর তার মূল্যায়ণ করা হয়েছে, সেই পদ্ধতি অনুসারে, যা বিশ্বের সমস্ত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে মূল্যায়ণ করার জন্য QS রেটিংয়ে ব্যবহার করা হয়ে থাকে.

রাশিয়ার সঙ্গে মৈত্রী ও সহযোগিতার ক্ষেত্রে বিশাল অবদান রাখার জন্য ও বিজ্ঞান, সংস্কৃতি ও সক্রিয় ভাবে সমাজসেবা করার জন্য তিন প্রখ্যাত ভারতীয় নাগরিককে মৈত্রী পদক দিয়ে সম্মানিত করেছে রাশিয়া. এই সংক্রান্ত নির্দেশ রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন ৬ই ডিসেম্বর স্বাক্ষর করেছেন. মৈত্রী পদক প্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন ভারতীয় লোকসভার সদস্য মুরলী মনোহর যোশী, যৌথ রুশ-ভারত সংস্থা ব্রামোস এয়ারো স্পেসের কর্তা এ. এস. পিল্লাই ও পুশকিন পদক দিয়ে সম্মানিত করা হয়েছে আন্তর্জাতিক ভারতীয় সংস্কৃতি কেন্দ্রের ডিরেক্টর লোকেশ চন্দ্রকে.

রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন আরও একবার রাশিয়ার জনগনের নির্বাচনে বছরের সেরা ব্যক্তি হয়েছেন, তিনি ১৯৯৯ সাল থেকেই জনপ্রিয়তার শিখরে রয়েছেন বলে জানিয়েছে সামাজিক মতামত তহবিল.

রাশিয়ার তেরঙ্গা পতাকা ১১ই ডিসেম্বর পুনর্জন্মের পরে বিংশতিতম জয়ন্তী পালন করছে. সব মিলিয়ে রাশিয়ার তেরঙ্গা জাতীয় প্রতীকের ইতিহাস শুরু হয়েছিল সেই সপ্তদশ শতকের শেষ থেকে.

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পতাকা সংক্রান্ত ধারা ১১ই ডিসেম্বর ১৯৯৩ সালে স্বাক্ষর করেছিলেন রাষ্ট্রপতি বরিস ইয়েলতসিন. সেই নির্দেশ অনুযায়ী দেশের সরকারি প্রতীক হয়েছিল সাদা-নীল-লাল রঙের পতাকা. তা বদলে দিয়েছিল সেই লাল পতাকা, যা সামনে নিয়ে তার আগের সত্তর বছর ধরে সোভিয়েত সমাজবাদী প্রজাতন্ত্রগুলির সংঘ বিশ্বে পরিচিত হয়েছিল. সেই জটিল সময়ে তেরঙ্গা পতাকা গ্রহণ করা একেবারেই হঠাত্ করে করা হয় নি, এই রকম বিশ্বাস নিয়ে ঐতিহাসিক সম্ভাবনা তহবিলের বিশেষজ্ঞ পাভেল স্ভিয়াতেনকভ বলেছেন:

মস্কোতে প্রায় শ’খানেক মুসলমান ধর্মীয় নেতা রাশিয়া বিভিন্ন এলাকা, স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ এবং বিভিন্ন দূরের দেশ থেকে এসেছিলেন, যাতে মুসলমানদের জন্য বাস্তব প্রশ্নগুলি নিয়ে আলোচনা করা সম্ভব হয়. তার মধ্যে চরমপন্থা ও কট্টরপন্থী মতবাদের বিরুদ্ধে মোকাবিলা করার প্রশ্নও ছিল. আর ছিল সোভিয়েত দেশ পরবর্তী এলাকায় ঐস্লামিক জ্ঞানের প্রসার, যুব সমাজের বিবেক সঙ্গত শিক্ষা, রাশিয়ার ধর্মীয় মাদ্রাসাগুলোর উন্নয়নের প্রসঙ্গ.

জিনের মধ্যে থাকা উচ্চ স্তরের বিবেক সংক্রান্ত মূল্যবোধ রুশ জনগনের বীরত্বের ভিত্তি – এই কথা বলেছেন রুশ রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন ক্রেমলিনে দেশের বীর দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে.

“আমরা সেই সমস্ত লোকদের আজ সম্বর্ধনা দিচ্ছি, যাঁরা সামরিক কাজকর্মে বিশেষ করে পার্থক্য দেখাতে পেরেছেন, যারা রাশিয়ার নিরাপত্তা রক্ষার জন্য খুবই বড় রকমের অবদান রেখেছেন, পুরুষোচিত কর্মের মাধ্যমে”, - বলেছেন পুতিন. এই অনুষ্ঠানে যাঁরা ছিলেন, তাঁদের প্রতি পুতিন বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন যে, তাঁদের জন্য সবচেয়ে বড় পুরস্কার হল লড়াই করতে পারা, সৃষ্টি করতে পারা ও রাশিয়ার জন্যেই কাজ করতে পারা.

১২ই ডিসেম্বর রাশিয়ার সংবিধান দিবসে রুশ রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন রাষ্ট্রীয় সভার প্রতি তাঁর বাণী নিয়ে ভাষণ দেবেন. ত্রয়োদশ বাত্সরিক রাষ্ট্রপ্রধানের ভাষণ, দেশের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃ বৃন্দের প্রতি উদ্দেশ্য করে দেওয়া হল, প্রকাশ্যে চলে যাওয়া বছরের একটি খতিয়ান দেওয়া ও তারই সঙ্গে আসন্ন বছরের জন্য কর্মসূচী স্থির করা. কিন্তু এবারে রাষ্ট্রপতি সাবধান করে দিয়েছেন যে, উপস্থিত ব্যক্তিদের সামনে আরও দীর্ঘ সময়ের উপযুক্ত কর্মসূচী প্রকাশ করবেন.

দিল্লী শহরে শনিবারে "রেডিও রাশিয়ার" অনুষ্ঠিত সম্মেলনে দক্ষিণ এশিয়ার পাকিস্তান ও ভারতীয় বিভাগের প্রধান ইরিনা ম্যাক্সিমেঙ্কো বলেছেন যে, “আমরা ভারতীয় শ্রোতাদের জন্য লেভ তলস্তয়ের যুদ্ধ ও শান্তি অনুসরণে অনুষ্ঠান তৈরী করছি, যাঁর কীর্তির সঙ্গে ভারতীয়রা পরিচিত”. এই অনুষ্ঠান করা হবে লেভ নিকোলায়েভিচ তলস্তয়ের ১৮৫তম জয়ন্তী উপলক্ষে.

1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31
ডিসেম্বর 2013
ঘটনার সূচী
ডিসেম্বর 2013
1
2
3
4
5
6
7
12
13
14
15
17
18
19
20
21
22
24
26
27
28
29
30
31