×
South Asian Languages:
ইন্টারনেট, জুন 2013
এখন রাশিয়ার প্রশাসনই ঠিক করবে সিআইএ সংস্থা প্রাক্তন কর্মী এডওয়ার্ড স্নোডেনকে নিয়ে কি করা হবে, ঘোষণা করেছেন ইকোয়েডরের রাষ্ট্রপতি রাফায়েল কোর্রেয়া. রাষ্ট্রপতি যোগ করেছেন যে, রাজনৈতিক আশ্রয়ের জন্য আবেদন প্রক্রিয়াতে ইকোয়েডরের এলাকায় থাকার কথা রয়েছে. কোর্রেয়া উল্লেখ করেছেন যে, ইকোয়েডর “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কথা শুনবে”, কিন্তু শেষ সিদ্ধান্ত নিজেরাই নেবে.
আজ তিরিশে জুন রবিবারে এক সপ্তাহ হতে চলল, যখন থেকে মস্কোর শেরেমেতিয়েভো বিমান বন্দরের ট্রানজিট এলাকায় বসতি করে রয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিআইএ ও জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার কর্মী এডওয়ার্ড স্নোডেন. সংবাদ মাধ্যমে আমেরিকার পক্ষ থেকে বিশ্বজোড়া গুপ্তচর বৃত্তির খবর ফাঁস করে দেওয়ার পরে সে হংকংয়ে পালিয়ে ছিল, তার পরে ২৩শে জুন উড়ে এসেছে মস্কোয়.
মার্কিন প্রশাসনের গোপন দিল ফাঁস করে দেওয়া এডওয়ার্ড স্নোডেনের বাবা এই কথা বলছেন. রয়টার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে ছেলের ভবিষ্যত নিয়ে চিঠি লিখেছেন. উইকিলিক্সের প্রতিনিধিরা খোলাখুলি ভাবেই স্নোডেনের সমর্থন করেছে মার্কিন গুপ্তচরদের কাজ ফাঁস করে দেওয়ার পরে. সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী উইকিলিক্সের প্রতিনিধিরা স্নোডেনের সঙ্গেই যাচ্ছে ও তাকে আইনের পরামর্শ দিচ্ছে.
সিআইএ সংস্থার প্রাক্তন কর্মী এডওয়ার্ড স্নোডেনকে ঘিরে পরিস্থিতি আমাদের চোখের সামনেই একটা গুপ্তচর কেলেঙ্কারি থেকে একেবারে টেলিভিশনের লাইভ শোতে পরিণত হয়েছে, বলে লিখেছে রাশিয়ার সংবাদপত্র “ত্রুদ” (শ্রম). একজন ব্যক্তি রয়েছেন, যিনি মস্কো উড়ে এসেছেন, কিন্তু রাশিয়ার সীমান্ত পার হন নি. তার ওপরে আবার একটা বিমানবন্দর রয়েছে, যার ভেতরের এলাকা খুবই সীমিত.
চিনের প্রতিরক্ষা দপ্তরে বৃহস্পতিবারে এই অভিযোগ করা হয়েছে মার্কিন গুপ্তচর বিভাগের কাজের পদ্ধতির কথা উল্লেখ করে. মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি ইয়ান ইউইত্সজুং এই বিষয়ে ঘোষণা করেছেন, তিনি যোগ করেছেন যে, প্রিজম ব্যবস্থার মাধ্যমেই সেই দেশের দুমুখো নীতি যে কি রকমের তা বোঝা যায়, এই ক্ষেত্রে তিনি রাষ্ট্রের নাম করেন নি.
ইকোয়েডর রাষ্ট্রের মন্ত্রীসভার প্রতিনিধির করা ঘোষণার কথা উল্লেখ করে রয়টার সংস্থা জানিয়েছে যে, মার্কিন গুপ্তচর সংস্থার প্রাক্তন কর্মী এডওয়ার্ড স্নোডেনের কাছ থেকে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়ে কোন রকমের আবেদন সেই দেশে কূটনৈতিক পথে এখনও পৌঁছায় নি.
রাশিয়ার মানবাধিকার কর্মীরা সিআইএ সংস্থার প্রাক্তন কর্মীকে মুক্তিযোদ্ধা বলে মেনে নিয়ে, তাকে রক্ষা করতে বলেছে. বুধবারে জানা গিয়েছে যে, রাশিয়ার মানবাধিকার রক্ষা সভার সদস্যরা দেশের নেতৃত্বের কাছে স্নোডেনকে রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়ার জন্য উদ্যোগ নিয়েছে. আমেরিকার বিশেষ বাহিনীর ২৯ বছরের তথ্য ফাঁস করে দেওয়া এডওয়ার্ড স্নোডেন ইতিমধ্যেই চার দিন হল মস্কোর শেরেমেতিয়েভো বিমান বন্দরের ট্রানজিট এলাকায় রয়েছে.
     বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র জেই কার্নি বলেছেন, যে স্নোডেনের ব্যাপারে রাশিয়ার অবস্থান ওয়াশিংটনের কাছে বোধগম্য. কার্নি এই মুহুর্তে মার্কিনী রাষ্ট্রপতির আফ্রিকা সফরের সহচর. তিনি বলেছেন - আমরা রাষ্ট্রপতি পুতিনের সাথে একমত, যে "স্নোডেনের ঘটনা যেন কোনোভাবেই আমাদের দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কে কুপ্রভাব না ফেলে".
মানসিক ভাবে ভারসাম্য হারিয়েছে, বিশ্বাসঘাতক, নাকি স্রেফ ঠগ? পশ্চিমের মুখ্য সংবাদ মাধ্যম গুলি একসঙ্গেই আমেরিকার বিশেষ বাহিনীর বিরুদ্ধে এডওয়ার্ড স্নোডেনের দেওয়া এক সারি সন্দেহ করার মতো খবর ছেপে, তার পরে আবার সকলে মিলে তার কাদের অসাধু উদ্দেশ্য ও গোপন কারণ নিয়ে প্রামাণ্য উদ্ধারের কাজে.
      উইকিলিক্স ওয়েব-সাইটের প্রতিনিধিরা লিখছেন, যে ওয়াশিংটনের তরফ থেকে হুমকির কারণে সিআইএ-র প্রাক্তন কর্মচারী এডওয়ার্ড স্নোডেনকে হয়তো বরাবরের জন্য রাশিয়াতেই থেকে যেতে হতে পারে. উইকিলিক্স লিখেছে, যে আমেরিকা স্নোডেনের পাসপোর্ট বাতিল করে দেওয়ায় এবং তাকে আশ্রয় দিতে পারে, এরকম মধ্যস্থতাকারী দেশগুলিকে চোখ রাঙানোর জন্যই হয়তো তাকে সারা জীবনের জন্য রাশিয়ায় থেকে যেতে হবে.
তৈপ এরদোগান ব্রিটেনের দ্য গার্ডিয়ান কাগজে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে বলেছেন যে, তাঁর দেশের ভেতরে বিরোধ ও প্রতিরোধের মূলে রয়েছে বিদেশী ষড়যন্ত্র ও বিদেশী শক্তি. দেশের কিছু সংবাদ মাধ্যম এই কাজে হাত লাগিয়েছে আর তাদের বাইরে থেকে উস্কানি দিচ্ছে বিদেশী সংবাদ মাধ্যম. অংশতঃ তিনি তুরস্কের বিবিসি সংবাদদাতার বিরুদ্ধেও কথা বলেছেন – তিনি বলেছেন এই ব্যক্তি নিজের দেশের বিরুদ্ধেই ষড়যন্ত্র করছে.
সিআইএ সংস্থার প্রাক্তন কর্মী এডওয়ার্ড স্নোডেন কোথায় আছে কেউ জানে না. এর আগে জানানো হয়েছিল যে, স্নোডেন হংকং থেকে উড়ে গিয়েছে ও ট্রানজিটে মস্কোতে রয়েছে. সেখানে সে সর্বত্র উপস্থিত বিশ্ব সংবাদ মাধ্যমের নজর থেকে হারিয়ে গিয়েছে. তার চলাফেরার খবর খুবই পরস্পর বিরোধী. একটাই, যা প্রমাণিত হয়েছে – ইকোয়েডর এডওয়ার্ড স্নোডেন যে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছে, সেই বিষয়ে ইতিবাচক উত্তর দিয়েছে.
তুরস্কে শোরগোল হওয়া গণ বিরোধের জায়গায় এবারে তথাকথিত “সামাজিক ফোরাম” শুরু হয়েছে. দেশের বড় শহর গুলিতে বহু সংখ্যক পার্কে বিরোধীরা মিলিত হচ্ছে, যাতে নিজেদের প্রতিরোধের, বিরোধী কাজকর্মকে এই নামেই তারা ডাকেন, তার সম্ভাবনা ও অর্থ নিয়ে আলোচনা করা যায়.
     রাশিয়ার দক্ষিণে দেশের অন্যতম বৃহত্ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কেন্দ্র ক্রাসনাদারে ভারতের অতিথিদের আপ্যায়ন করা হয়েছে. ক্রাসনাদার রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আমন্ত্রণে সেখানে বক্তৃতা দিয়েছেন দিল্লির ইন্দিরা গাধীঁ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক কপিল কুমার ও তবলাবাদক ও সঙ্গীতশিক্ষক নারায়ন পন্ডিত.
     নতুন ভূমিকায় আমেরিকার বিদেশ সচিব জন কেরি এই প্রথম সরকারি সফরে ভারতে গিয়েছেন, যেখানে তিনি সহযোগিতা সম্প্রসারণের পরিপ্রেক্ষিত নিয়ে আলোচনা করতে ও বিবিধ আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে মত বিনিময় করতে চান.
      হোয়াইট হাউসের সাইটে আমেরিকাবাসী এডওয়ার্ড স্নোডেনকে ক্ষমা করে দেওয়ার আবেদনপত্রে এক লক্ষ সাত হাজারেরও বেশি সই ইতিমধ্যেই জমা পড়েছে. প্রশাসনকে জবাব দিতে বাধ্য করার জন্য ৩০ দিনের মধ্যে এক লক্ষ সই সংগ্রহ হলেই যথেষ্ট.
    মার্কিনী পক্ষের আর্জি মাফিক হংকংয়ের পুলিশ এখনো এডওয়ার্ড স্নোডেনকে গ্রেফকার করেনি, যিনি মার্কিনী গোয়েন্দা বিভাগের  বেআইনী গোপন কার্যকলাপের কেচ্ছা ফাঁস করেছেন. এই সম্পর্কে আজ জানিয়ে ' সাউথ  চায়না মর্নিং নিউজ' সংবাদপত্র প্রচার করেছে, যে স্নোডেন নিরাপদ স্থানে আছেন.
    গুগল কর্পোরেশনের সরকারি ব্লগে প্রচার করা হয়েছে, যে কোম্পানি তাদের সাইটে বাচ্চাদের অশ্লীল সব চিত্রমালার জন্য পৃথক তথ্যভান্ডার রচনা করে, সেখানে প্রবেশাধিকার দেবে আইনরক্ষা কর্নীদের, দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলিকে ও অন্যান্য কোম্পানীকে.     প্রত্যেকটি ছবিকে স্বকীয় পরিচায়ক দেওয়া হবে, যার সূত্রে মুহুর্তের মধ্যে অশ্লীল ছবি উদ্ঘাটন করা সম্ভব হবে.
      আমেরিকার গুপ্তচর বিভাগগুলির কর্মকান্ডের নথিপত্র ফাঁস করে দেওয়ার সংগঠক এডওয়ার্ড স্নোডেন বেসরকারিভাবে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন আইসল্যান্ডের শাসক মহলের কাছে. আইসল্যান্ডের ফ্রেট্টাব্লাডেট সংবাদপত্র লিখছে, যে মঙ্গলবার স্নোডেনের মুখপাত্রের কাছ থেকে বার্তা পাওয়া গেছে, যেখানে তিনি আইসল্যান্ডে তাকে রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন.
     তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মুয়াম্মার গিউলার এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যে সামাজিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ না করলে পুলিশ মৌন দাঁড়িয়ে থাকা জনতাকে বাধা দেবে না. হিউরিয়েত সংবাদপত্র এই খবর প্রচার করেছে. মঙ্গলবার সারা তুরস্ক জুড়ে হাজার হাজার মানুষ নাগরিক এর্দেম গিউনদুজের সাথে তার প্রতীকি মৌন প্রতিবাদে সামিল হয়েছে.
আগের
1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30
জুন 2013
ঘটনার সূচী
জুন 2013
1
2
3
4
5
6
7
8
9
11
12
13
14
15
16
17
20
21
22