×
South Asian Languages:
আরব, মার্চ 2011
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা লিবিয়াতে গুপ্তচর সংস্থা সি আই এ র গোপন কাজ কারবার করার অনুমতি দিয়েছেন, যাতে মুহম্মর গাদ্দাফির প্রশাসনের সঙ্গে যুদ্ধে রত বিদ্রোহী যোদ্ধাদের সমর্থন করা যায়. এই দলিল দুই তিন সপ্তাহ আগে স্বাক্ষরিত হলেও এই বিষয়ে সদ্য জানা গিয়েছে.
ত্রিপোলি শহরের দিকে লিবিয়ার বিদ্রোহীদের বিজয়ের রথ কাদায় আটকেছে. বুধবারে মুহম্মর গাদ্দাফির সামরিক শক্তির আঘাতে বিদ্রোহীরা দ্রুত রাস- লানুফ ও মার্স- এল- ব্রেগা ছেড়ে পালাচ্ছে. এর আগে তারা পালিয়েছে ভূমধ্যসাগরের আরও একটি বন্দর শহর বেন- ঝাওয়াদা থেকে.     প্রতিঘাত করার সময়ে সরকারি ফৌজ ট্যাঙ্ক ও কামান ব্যবহার করেছে, যার ফলে সশস্ত্র বিদ্রোহী পক্ষের যোদ্ধারা ভীত হয়ে উঠেছে.
মস্কো লিবিয়া নিয়ে লন্ডনে আয়োজিত জোটের সম্মেলনের কাছ থেকে প্রস্তাবিত প্রশ্নগুলির উত্তর আশা করেছে. এই গুলি রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান সের্গেই লাভরভ স্বয়ং উচ্চারণ করেছেন. পশ্চিমের জোট বর্তমানে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত লঙ্ঘণ করছে বলে মন্ত্রী ঘোষণা করেছেন. লাভরভ ন্যাটো জোটকে সাবধান করে দিয়ে বলেছেন যে, লিবিয়াতে আফগানিস্তান বা ইরাকের মতো করে ঘটনার পট পরিবর্তন করা যেতে পারে না.
লিবিয়ার বিদ্রোহী যোদ্ধারা আন্তর্জাতিক জোটের আগুনে সহায়তায় ভূ মধ্য সাগর উপকূলে পূর্বের পাঁচটি শহর জিতে নিয়েছে ও পশ্চিমে ত্রিপোলির দিকে এগিয়ে চলেছে. এই জয় বাস্তবে একটিও গুলি না করে করা সম্ভব হয়েছে. মুহম্মর গাদ্দাফির প্রতি অনুগত সেনারা পশ্চিমের বিমান বহরের ও সামুদ্রিক শক্তির সাঁজোয়া গাড়ী ও অস্ত্র ভাণ্ডারের উপর আঘাতের নীচে হঠে যাচ্ছে.
রাশিয়াতে জলদস্যূ প্রতিরোধ করার জন্য বিশেষ বাহিনী তৈরী করা হচ্ছে. ভারত মহাসাগরে দূরের এলাকায় বাণিজ্য জাহাজ প্রতিরক্ষার জন্য ২০১৩ সালে এই বাহিনী তৈরী হয়ে যাবে. দেশের সামরিক নৌবহরের দপ্তর থেকে যেমন বলা হয়েছে যে, এই নতুন জোটের জন্য কৃষ্ণ সাগরের বাহিনীর জাহাজ গুলি অংশ নেবে.
পশ্চিমের দেশ গুলির লিবিয়াতে সামরিক শক্তি প্রয়োগ হঠাত্ করেই অনিয়ন্ত্রিত ভাবে করা হচ্ছে বলে দেখা যাচ্ছে. যদিও আজ এক সপ্তাহ হতে চলল নির্বিচারে বোমা ফেলার, তবুও কোন একক নিয়ন্ত্রণ অথবা লক্ষ্যের বিষয়ে স্ট্র্যাটেজিক বোধ বর্তমানের কাজের ক্ষেত্রে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না, শুধু রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে মুহম্মর গাদ্দাফি যাতে সরে যায়, তার ইচ্ছাই প্রকট.
রাশিয়ার পার্লামেন্ট ঘোষণা করেছে যে, লিবিয়াতে সামরিক শক্তি প্রযোগ করা চলছে বিনা বিচারে. "লিবিয়ার পরিস্থিতি" নামের এক বিজ্ঞপ্তিতে সামরিক শক্তি প্রয়োগ ও তার বিস্তারের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে. রাশিয়ার পার্লামেন্ট সদস্যরা ফ্রান্স, গ্রেট ব্রিটেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, কানাডা ও অন্যান্য দেশের পার্লামেন্টের সদস্যদের অবিলম্বে সামরিক শক্তি প্রযোগ বন্ধ করতে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সহায়তা করতে বলেছেন.
রাশিয়া মিশরের নতুন নেতৃবৃন্দ ও তার সংস্কার পরিচালনার নীতি সমর্থন করে. এ সম্বন্ধে কায়রোতে বলেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরোভ. তিনি আরও বলেন যে, “মিশর ও রাশিয়ার মাঝে বাণিজ্যিক-অর্থনৈতিক সহযোগিতা বলবত্ থাকছে”. তাঁর কথায়, নিকট ভবিষ্যতে আন্তঃসরকারী কমিশনের পরবর্তী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, যাতে সহযোগিতার সমস্ত দিক এবং বিভিন্ন প্রকল্প আলোচিত হবে, সেই সঙ্গে মিশরে রাশিয়ার শিল্প-এলাকার গঠনও.
ভাগ্যের পরিহাসে, পশ্চিমের জোটের লিবিয়াতে সামরিক হানা শুরু হওয়ার দিন প্রায় একই সঙ্গে পশ্চিমের জোটের আরও একটি স্মরণীয় বর্ষপূর্তি দিবসের সাথে এক হয়েছে. ২০০৩ সালে ২০ শে মার্চ ইরাকে অনুপ্রবেশ শুরু হয়েছিল. জামাহিরি উদ্দেশ্যে প্রথম রকেট গুলি ছোঁড়া হয়েছিল ১৯ শে মার্চ. কিন্তু এটাই একমাত্র মিল নয়. এই বিষয়ের দিকে বহু পর্যবেক্ষক লক্ষ্য করেছেন.
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী এস এম কৃষ্ণ লিবিয়াতে আকাশ পথে হানা বন্ধ করতে বলেছেন. তিনি সোমবারে ঘোষণা করেছেন যে, এই বোমা বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে নিরীহ মানুষ. ভারত রাশিয়া, জার্মানী, চিন ও ব্রাজিলের মতই রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে গাদ্দাফি প্রশাসনের সময়ে লিবিয়ার আকাশকে উড়ান মুক্ত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময়ে ভোট দেওয়া থেকে বিরত ছিল.
সার্বজনীন মতের জন্য আয়োজিত ভোটে ইজিপ্টের জনসাধারন দেশের সংবিধান পরিবর্তনকে সমর্থন করেছে. এই বিষয়ে দেশের সর্ব্বোচ্চ বিচার পরিষদের সভাপতি মাহমুদ আতীয়া ঘোষণা করেছেন. তাঁর কথামতো, দেশের প্রধান আইন পরিবর্তনের বিষয়ে শতকরা ৭২ ভাগ জনতা রায় দিয়েছে. এই সংশোধনের ফলে রাষ্ট্রপতি তাঁর পদে ৬ বছরের জায়গায় ৪ বছর থাকতে পারবেন ও পরপর দুই বারের বেশী রাষ্ট্রপতি থাকতে পারবেন না.
রাশিয়া পশ্চিমের দেশ গুলির জোটকে বিনা বিচারে লিবিয়াতে শক্তি প্রয়োগ বন্ধ করতে আহ্বান করেছে. এই বিষয়ে রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের সরকারি প্রতিনিধি আলেকজান্ডার লুকাশেভিচ ঘোষণা করেছেন. তাঁর কথামতো, লিবিয়াতে আকাশ পথে হানা দেওয়ার সময়ে বেসামরিক জায়গার উপরেও বোমা ফেলা হয়েছে. বহু শান্তিপ্রিয় লোক নিহত হয়েছেন. রাশিয়া মনে করে যে, রাষ্ট্রসংঘের সিদ্ধান্তকে নিজেদের লক্ষ্য পূরণের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে না.
রাষ্ট্রসংঘ লিবিয়ার উপরে উড়ান বন্ধ বলে ঘোষণা করেছে, এটা গাদ্দাফির সেনা বাহিনীর বিমানের জন্যই করা হয়েছে, নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্য দেশের ৫ প্রতিনিধি দেশ এই সিদ্ধান্তের প্রকল্প নিয়ে ভোটের সময়ে বিরত থেকেছেন. গৃহীত সিদ্ধান্তে লিবিয়ার জমিতে নানা লক্ষ্যে আঘাত হানা যেতে পারে, তার মধ্যে ট্যাঙ্ক ও সাঁজোয়া গাড়ীর বাহিনী, পদাতিক বাহিনীর দলের উপরেও.
মুহম্মর গাদ্দাফির প্রশাসন ও বিরুদ্ধ পক্ষের যোদ্ধাদের মধ্যে লড়াই শুধু যুদ্ধ ক্ষেত্রেই হচ্ছে না, সংবাদ মাধ্যমেও তা চলছে. প্রত্যেক পক্ষই দেশের পরিস্থিতি নিয়ে নিজেদের মত প্রচার করছে: সরকার বলছে একটি মূল শহর এজ জাউইয়া দখল করেছে, আর বিরোধী পক্ষ বলছে যে, গাদ্দাফি মিথ্যা কথা বলছে. আর রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ তৈরী হচ্ছে লিবিয়ার প্রশাসনের বিরুদ্ধে নতুন সিদ্ধান্তের প্রকল্প বিচার করে দেখতে.
আগের
1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31
মার্চ 2011
ঘটনার সূচী
মার্চ 2011
2
3
4
5
6
7
8
12
13
15
17
19
20
25
26
27