×
South Asian Languages:
আফগানিস্থান, এপ্রিল 2012
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও আফগানিস্তানের কর্তৃপক্ষ “তালিবান” আন্দোলনের প্রতিনিধিদের নিরাপত্তার গ্যারান্টি দিতে প্রস্তুত, যারা আফগান সঙ্ঘর্ষ মীমাংসা সংক্রান্ত আলাপ-আলোচনায় অংশগ্রহণ করতে চায়. এ সম্বন্ধে জানিয়েছে মার্কিনী টেলি-চ্যানেল “এন.বি.সি”. ওয়াশিংটনে এবং কাবুলে তালিব প্রতিনিধিদের চলাফেরার নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার প্রস্তুতি প্রকাশিত হয়েছে, যখন তারা এমন আলাপ-আলোচনার জন্য রওনা হবে.
    সেই দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ফিলিপ হ্যামন্ড এই ঘোষণা করেছেন, এই কাজ করা হবে ক্যাথলিক বড়দিনের উত্সবের আগে. এর পরে আফগানিস্তানে ব্রিটেন থেকে সৈন্য থাকবে সংখ্যায় নয় হাজার. প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর কথামতো, আফগানিস্তানের সেনা বাহিনী ও পুলিশ শান্তি রক্ষার কাজে যথেষ্ট উন্নতি করেছে.
    আফগানিস্তানের তালিবান আন্দোলনের জঙ্গীরা এই কাজ করেছে বলে বুধবারে ইরানের টেলিভিশন চ্যানেল “প্রেস- টিভি” জানিয়েছে. আরও দুটি গাড়ীর ক্ষতি করা হয়েছে, তবে কেউই হতাহত হন নি. স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন যে, বুধবারের ভোর রাতে কান্দাহার- গেরাট সড়ক পথে এই ঘটনা ঘটেছে.
    ব্রাসেলস শহরে বিগত রাশিয়া- ন্যাটো জোটের সম্মেলনে আবারও আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত ভাবে রাশিয়া ও জোটের বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের সাক্ষাত্কার নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় নি.     রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান সের্গেই লাভরভ এই ধরনের পরিস্থিতিকে রাশিয়ার প্রতি “অন্যায় ও অসত্” বলে উল্লেখ করেছেন.
মা৪কিন যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানে নিজের সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখবে ২০১৪ সালের পরেও, যখন সেখান থেকে সমস্ত কোয়ালিশন বাহিনী অপসারণ শেষ করার পরিকল্পনা আছে. এ সম্বন্ধে সোমবার বলেছেন পেন্টাগনের প্রধান লেওন পানেট্টা নিজের কলম্বিয়া সফরের সময়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও আফগানিস্তানের মাঝে স্ট্র্যাটেজিক শরিকানার চুক্তির প্রস্তুতি সম্বন্ধে মন্তব্য করে. গত রবিবার এ দলিলটি কাবুলে উভয় পক্ষের দ্বারা প্রাথমিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছিল.
আফগানিস্তান আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘ প্রতীক্ষিত রণনৈতিক শরিকানার  চুক্তি প্রণয়ন করেছে. এই বিষয়ে আফগানিস্তানের রাষ্ট্রপতি হামিদ কার্জাইয়ের প্রশাসনের প্রতিনিধি জানিয়েছেন. এই চুক্তি উভয় দেশের রাষ্ট্রপতিদের দ্বারা অনুমোদিত হওয়া উচিত.  প্রশাসনের খবরে ঘষণায় বলা হয় নি, ওয়াশিংটন কাবুলের এই সপ্তাহের শর্ত নিয়েছে কিনা. চুক্তি স্বাক্ষর করার শর্ত ছিল আফগানিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য প্রতি বছর শত শত কোটি ডলার দেওয়া.
     রবিবার আফগান রাষ্ট্রপতি হামিদ কারজাইয়ের প্রশাসনিক দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক খবরে এই বহু প্রতীক্ষিত সংবাদ জানানো হয়েছে. দুই দেশের রাষ্ট্রপতিদের এই চুক্তি গ্রহণ করতে হবে এবারে, অবশ্য এই কথা জানানো হয়নি যে, ওয়াশিংটনের তরফ থেকে কাবুলের গত সপ্তাহে উত্থাপিত শর্ত স্বীকার করা হবে কি না.
চলতি বছরের শেষ অবধি আফগানিস্তানের সব শরণার্থীদের পাকিস্তান থেকে যেতে হবে. এই বিষয়ে পাজভাক সংবাদ সংস্থাকে পাকিস্তানের প্রদেশ এবং সীমান্ত অঞ্চলের ফেডেরাল মন্ত্রণালয়ের  প্রধান শাউকাত উল্লা খান জানিয়েছেন. তাঁর ভাষায়, আফগানিস্তানের শরণার্থীদের সমস্যা পাকিস্তান, ইরান আর আফগানিস্তানের প্রতিনিধিদের দ্বারা আলোচনা করা হবে জেনেভায়, মে মসে.
        ব্রাসেলসে রাশিয়া ও ন্যাটোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে. দুই পক্ষের জয়ন্তী বৈঠক উপলক্ষ্যে উভয়ই নানা বিষয় ঐক্যমতে পৌঁছার একটি সুযোগ পেয়েছে. বিশেষত রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা সংক্রান্ত প্রশ্নের সমাধান করা. শিকাগোতে আসন্ন ন্যাটোর সম্মেলনে এ বিষয়টি সত্যিই অনেক বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে.
    দাবা আর রাজনীতি অনেক বিষয়েই এক রকমের. আর এটাতে অবাক হওয়ার মতো কিছু নেই – কারণ দাবার ঘুঁটি গুলিকেই ষষ্ঠ শতাব্দীর সেনা বাহিনীর আদলে ভেবে বার করা হয়েছিল. যুগ পাল্টে গিয়েছে, কিন্তু যোগাযোগ, যা এই প্রাচীন খেলাকে সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে এখনও জুড়ে রেখেছে, তা শুধু আরও মজবুত হয়েছে.
    বিশ্বাস করো, তবুও পরীক্ষা করো – ঠিক এই ভাবেই রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান সের্গেই লাভরভ ন্যাটো জোটের নেতৃত্বের সেই ঘোষণা যে, ইউরোপীয় রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা রাশিয়ার স্বার্থের বিরুদ্ধে করা হচ্ছে না, তার সম্বন্ধে মন্তব্য করেছেন. এই ঘোষণা করা হয়েছে রাশিয়া ন্যাটো সভার জয়ন্তী বর্ষপূর্তি সভায়, যেটি বৃহস্পতিবারে ব্রাসেলস শহরে অনুষ্ঠিত হয়েছে.
ন্যাটো জোট আফগানিস্তানের সীমান্ত সংলগ্ন উত্তর পশ্চিম পাকিস্তানের এলাকায় জঙ্গীদের বিরুদ্ধে কোন সামরিক অপারেশনের পরিকল্পনা করছে না, কারণ এই প্রসঙ্গে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের কাছ থেকে কোন রকমের ম্যান্ডেট তারা পায় নি. এই বিষয়ে ঘোষণা করেছেন উত্তর অতলান্তিক জোটের মহাসচিব আন্দ্রেস ফগ রাসমুসেন দুই দিন ব্যাপী পররাষ্ট্র মন্ত্রী পর্যায়ে সদস্য দেশ গুলির সম্মেলনের পরে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে.
আগামী ৬-৭ই জুন বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিতব্য শাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ বৈঠকে সংস্থার বিকাশের মুখ্য অভিমুখগুলির স্ট্র্যাটেজি গৃহীত হবে. আজ বেইজিংয়ে রাশিয়ার সাংবাদিকদের এই তথ্য জুগিয়েছেন সংস্থাটির সাধারন সম্পাদক মুরাতবেক ইমানালিয়েভ. রাষ্ট্রপ্রধানরা শাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সমস্যাবলী এবং বিশ্বে পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে নিজেদের মানিয়ে নেওয়ার প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা করবেন. ইমানালিয়েভের কথায়, অন্যতম দুশ্চিন্তাকর প্রশ্ন হচ্ছে আফগানিস্তানের পরিস্থিতি.
আফগানিস্তানের রাষ্ট্রপতি হামিদ কারজাই কাবুলে ভাষণ দিয়ে বলেছেন, যে তিনি আমেরিকা তাদের সেনাবাহিনী অপসারন করার পরে আফগানিস্তানকে যে আর্থিক সাহায্যদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তাকে লিখিতভাবে তাদের কাছ থেকে পেতে চায়. গতকাল 'পাঝওয়াক' সংবাদসংস্থা এই খবর দিয়েছে. রাষ্ট্রপ্রধান 'আফগানিস্তান সংস্কারের পথে' শীর্ষক সেমিনারে বক্তৃতা দিয়ে বলেছেন, যে তার দেশ এক শতাব্দী আগের মতোই বিদেশীদের কবলে পড়ে আছে.
১৯শে এপ্রিল পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের পর্যায়ে রাশিয়া ও ন্যাটোর যৌথ পরিষদের বৈঠক হবে. রাশিয়ার তরফ থেকে প্রতিনিধিত্ব করবেন সের্গেই লাভরোভ. পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ‘রেডিও রাশিয়া’কে জানানো হয়েছে, যে উক্ত বৈঠকে রাশিয়া ও ন্যাটোর মধ্যে বোঝাপড়া কতটা বাস্তবায়িত হচ্ছে, তা নিয়ে আলোচনা হবে. আলোচ্য বিষয় হবে ইউরো-অ্যাটল্যান্টিক এলাকাকে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার প্রান্তরে রূপায়িত করা.
কাবুলে এবং আফগানিস্তানের একসারি প্রদেশে তালিবদের ব্যাপক পরিসরের আক্রমণের দরুণ শুধু এই ঘটতে পারে যে, দেশে বিদেশী বাহিনীর উপস্থিতি প্রলম্বিত হতে পারে. এ সম্বন্ধে মঙ্গলবার জঙ্গীদের প্রতি আবেদনে বলেছেন দেশের রাষ্ট্রপতি হামিদ কার্জাই.
ন্যাটো জোটের কিছু বাহিনী ২০১৪ সালের পরেও আফগানিস্তানে থেকে যেতে পারে. এ সম্বন্ধে মঙ্গলবার “ইন্টারফাক্স” সংবাদ এজেন্সিকে প্রদত্ত ইন্টারভিউতে বলেছেন রাশিয়ায় জোটের তথ্য ব্যুরোর প্রদান রবার্ট প্শেল.তিনি উল্লেখকরেন যে, ২০১৪ সালহল সেই সময়, যখন জোট আফগানিস্তানকে দেখতে চায় স্বতন্ত্রভাবে নিজের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে সক্ষম হিসেবে.
তালিবদের সাথে সংযুক্ত ‘হাক্কানি’ গোষ্ঠী রাষ্ট্রপতি ভবন, বিভিন্ন সরকারী দপ্তর ও কয়েকটি বিদেশী দূতাবাসের উপর হামলার জন্য দায়ী. গত সন্ধ্যায় পেন্টাগনের তথ্য দপ্তর থেকে এই কথা ঘোষণা করা হয়েছে. এর প্রাক্কালে আফগানিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জানিয়েছিল, যে কাবুলে সন্ত্রাসবাদী হামলায় ‘হাক্কানি’র পদচ্ছাপ দেখা যাচ্ছে.
উত্তর অ্যাটলান্টিক জোট আফগানিস্তানে জাতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সৈন্য সংখ্যা ২০১২ সালে ৩ লক্ষ ৫২ হাজার পর্যন্ত বাড়াতে চায়, সোমবার বলেছেন ন্যাটো জোটের সরকারী প্রতিনিধি ওয়ানা লুঙ্গেসকু. এটা পরিকল্পিত সময় নির্ঘন্টের চেয়ে তাড়াতাড়ি, ব্রাসেলসে এক ব্রিফিংয়ে তিনি সঠিক করে বলেন. নিরাপত্তার দায়িত্ব স্থানীয় বাহিনীর হাতে অর্পণের প্রশ্ন ১৮-১৯শে এপ্রিল ব্রাসেলসে ন্যাটো জোটের দেশগুলির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সাক্ষাতে মুখ্য আলোচ্য বিষয় হবে.
      তালিবরা শুরু করেছে “বসন্তের আক্রমণ”. রবিবারে তারা কাবুল শহরে একসাথে আক্রমণ করেছিল রাষ্ট্রপতি ভবন, পার্লামেন্ট হাউস, রাষ্ট্রসঙ্ঘের মিশন, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সহযোগিতা শক্তির সদর দপ্তর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস, গ্রেট ব্রিটেন ও জার্মানীর দূতাবাস গুলি. ন্যাটো জোটের সঙ্গে তালিব শক্তির বিরোধের সমস্ত সময়ের মধ্যে এটা একটা সবচেয়ে বড় হঠকারী কাজ.
আগের
1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30
এপ্রিল 2012
ঘটনার সূচী
এপ্রিল 2012
1
4
5
14
21
29
30