×
South Asian Languages:
আফগানিস্থান

বুধবার সকালে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে মার্কিনী দূতাবাসের কাছে একসারি বিস্ফোরণ ঘটেছে.

২০১৪ সালের পরে, যখন সেই দেশ থেকে পশ্চিমের জোট শক্তির মূল অংশ বেরিয়ে চলে যাবে, তখন আফগানিস্তানের পরিস্থিতি কি রকমের হতে চলেছে, তা নিয়ে রাশিয়া ও ন্যাটো জোটের প্রতিনিধিরা ভবিষ্যদ্বাণীর ক্ষেত্রে পার্থক্য দেখতে পেয়েছেন. মস্কোতে আলোচনা শুরু হয়েছে ন্যাটো জোটের প্রতিনিধি কার্যালয় ও রাশিয়ার রাজনৈতিক গবেষণা কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে. এই সব বিতর্কের কারণে সম্মেলনের একটি মুখ্য প্রশ্ন যে, কিভাবে আফগানিস্তানের বিষয়ে সহযোগিতা করা দরকার রয়েছে, তা উত্তর বিহীণ রয়ে গিয়েছে.

সিরিয়া ও আফগানিস্তানে পরিস্থিতি, ইরানের পারমাণবিক পরিকল্পনা নিয়ে সমস্যার সমাধান রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মনোযোগের কেন্দ্রেই রয়েছে. এই বিষয়ে বুধবারে ঘোষণা করেছেন রাশিয়ার রাজ্যসভার সদস্যদের সামনে উপস্থিত হয়ে এক ভাষণ দেওয়ার সময়ে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ. তিনি উল্লেখ করেছেন যে, সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্র নষ্ট করার প্রক্রিয়া, যা মস্কো ও ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে সম্মিলিত শক্তি প্রয়োগে শুরু করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ গতিতেই চলছে. লাভরভ তারই সঙ্গে বলেছেন যে, সিরিয়া ও নিকটপ্রাচ্যে সন্ত্রাসবাদী হুমকির মোকাবিলা হবে সিরিয়া নিয়ে “জেনেভা-২” সম্মেলনে আলোচনার এক মুখ্য বিষয়. সন্ত্রাসবাদী “আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী”, যারা আজ সিরিয়াতে ঘাঁটি গেড়ে বসেছে, তারা সমস্ত নিকটপ্রাচ্যের জন্যই একটা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে.

আফগানিস্তানের রাষ্ট্রপতি হামিদ কারজাই ভারত সফরে গিয়েছিলেন. আসন্ন সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো জোটের পক্ষ থেকে আফগানিস্তানের মূল সেনাবাহিনী প্রত্যাহার, কাবুল ও দিল্লীর সামনে খুবই কঠিন প্রশ্ন উপস্থিত করেছে, যেগুলোর সমাধানের উপরে নির্ভর করছে শুধু আফগানিস্তানের ভবিষ্যতই নয়, বরং সমগ্র মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তাও.

আফগানিস্তানের রাষ্ট্রপতি হামিদ কারজাই – ভারতীয় রাজধানীর এক নিয়মিত অতিথি, কিন্তু তাঁর এই বিগত চার দিনের সফরকে বিশেষ বলে উল্লেখ করা সম্ভব, এই রকম মনে করে আমাদের সমীক্ষক সের্গেই তোমিন বলেছেন:

ঠিক দুই বছর আগে বাগদাদে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পতাকা নামিয়ে নেওয়া হয়েছিল. এটা ছিল একটা প্রতীকী ব্যাপার, যা করা হয়েছিল, স্রেফ দেখানোর জন্যই যে, ইরাক থেকে মার্কিন সেনাবাহিনী চলে যাচ্ছে. আগামী বছরে, সব দেখে শুনে মনে হয়েছে যে, আমেরিকার সেনাবাহিনীর মূল অংশ আফগানিস্তান থেকেও নিয়ে যাওয়া হতে চলেছে.

কিছু লোক মনে করেছেন যে, ওয়াশিংটন রাজনৈতিক দিক থেকেও মধ্য ও নিকট প্রাচ্য থেকে নিজেদের প্রভাব কম করছে – আর এটা বিগত সময়েই বেশী করে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে.

মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়াতে ঐক্যবদ্ধ বিদ্যুতশক্তি সরবরাহ ব্যবস্থায় আরও একজন বিনিয়োগকারী উদয় হয়েছে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা করেছে CASA-1000 প্রকল্পে এক কোটি পঞ্চাশ লক্ষ ডলার বিনিয়োগ করার বিষয়ে আগ্রহের কথা. রাশিয়া এই প্রকল্পের জন্য প্রায় ৫০ কোটি ডলার পর্যন্ত দিতে তৈরী আছে.

২০০৭ সালেই প্রথম CASA-1000 প্রকল্প নিয়ে বলা হয়েছিল. এই ধারণার মূল কথা হল যে, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানকে উন্নয়নে সহায়তা করা. দুই দেশেই খুব বেশী করে বিদ্যুত শক্তির অভাব টের পাওয়া যায়. তাদের দিকে প্রাক্তন সোভিয়েত মধ্য এশিয়ার দেশগুলো থেকে কিছু বাড়তি বিদ্যুত সরবরাহ করার কথা হয়েছে, যে সমস্ত দেশে অনেক বেশী পরিমানে বিদ্যুত শক্তি উত্পাদনের সুযোগ রয়েছে.

শুক্রবারে আফগানিস্তানের রাষ্ট্রপতি হামিদ কারজাই ঘোষণা করেছেন যে, রাশিয়া ও ভারত কাবুলের কাছে অস্ত্র মেরামতের কারখানা পুনরায় তৈরী করে দেবে. এই বিষয়ে জানিয়েছে টেলিভিশন চ্যানেল “এনডিটিভি”. এর আগে এই ধরনের এক পরিকল্পনার কথা ভারতের ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস কাগজকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে বলেছিলেন ভারতে আফগানিস্তানের রাষ্ট্রদূত শাইদা আবদালি.

আফগানিস্তান থেকে আসা নার্কোটিকের বিপদ ন্যাটো জোটে গৃহীত হচ্ছে আন্তর্জাতিক জনসমাজের জন্য গুরুতর সমস্যা হিসেবে, এবং তা ২০১৪ সালে মীমাংসিত হওয়া উচিত্.

ভারত আফগানিস্তানের রাষ্ট্রপতি হামিদ কার্জাই-কে নিরাপত্তা সম্পর্কে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চুক্তি স্বাক্ষরে বোঝাতে পারে, যে চুক্তিতে ২০১৪ সালের পরে আফগান ভূভাগে মার্কিনী সৈনিকদের উপস্থিতি অনুমিত.

তাজিকিস্তানে রাশিয়ার সামরিক ঘাঁটি ব্যবহৃত হতে পারে, যদি আফগানিস্তানের পরিস্থিতি তাজিকিস্তান অথবা যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি সংস্থার সদস্য অন্য কোনো দেশের জন্য বিপদ সৃষ্টি করে.

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী চাক হেগেলের সফর ইসলামাবাদে গত চার বছরের মধ্যে এই প্রথম পেন্টাগনের প্রধানের সফর, যে দেশকে ওয়াশিংটনের স্ট্র্যাটেজি তৈরী করা লোকরা বহুদিন হল নিজেদের জন্য এশিয়ার “সমস্যা জনক জোটসঙ্গী” বলেই নির্দিষ্ট করেছে. গত কয়েক বছরে দুই দেশের সম্পর্ক একাধিক সঙ্কট পার হয়েছে. তার ওপরে পাকিস্তানে লোকসভা নির্বাচনের পরে এই বছরে “যুগের পরিবর্তন” হয়েছে. শাসন ক্ষমতা হস্তান্তর হয়েছে নওয়াজ শরীফের হাতে, যিনি নির্বাচকদের আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, দেশের ভিতরে শান্তি আলোচনার ব্যবস্থা করবেন ও ইসলামাবাদের প্রধান ঋণদাতা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আরও কড়া ভাবে নিজেদের অবস্থান রক্ষা করে চলবেন, এই কথা উল্লেখ করে আমাদের সমীক্ষক সের্গেই তোমিন বলেছেন:

পাকিস্তান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সমস্ত ক্ষেত্রে সম্পর্ক বিকাশ নিয়ে কাজ করতে চায়. এ সম্বন্ধে বুধবার বলেছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ মার্কিনী প্রতিরক্ষামন্ত্রী চাক হেগেলের সাথে সাক্ষাতের ফলাফলের ভিত্তিতে.

যদিও আন্তর্জাতিক জোটের মূল শক্তি আফগানিস্তান ছেড়ে আগামী বছরে চলে যাবে, তবুও মনে করা হয়েছে যে, আমেরিকার সেনাবাহিনীর এক সামান্য অংশ সেখানে তাও থেকে যেতে চলেছে. এটাও সত্যি যে, আপাততঃ সম্পূর্ণ ভাবে জানা যায় নি যে, কত সংখ্যক সৈন্য থাকবে, অথবা সেটাও যে, এই সমস্ত সেনারা কি নিয়ে কাজ করবে.

এরই মধ্যে ওয়াশিংটন রাষ্ট্রপতি হামিদ কারজাইয়ের সঙ্গে দরাদরি করে কাবুল থেকে সেনা প্রত্যাহার করার ভয় দেখাচ্ছে, যাতে আফগান প্রশাসন তালিবানের সঙ্গে মুখোমুখি হতে বাধ্য হয়. তবে এটাও ঠিক যে, এই ধরনের হুমকির সত্যতা খুব কম লোকই বিশ্বাস করেন.

রাশিয়া ও ন্যাটো জোট আফগানিস্তানে নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করায় এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে অগ্রগতি অর্জন করেছে.

পাকিস্তানের ভূখন্ড ব্যবহার করে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সামরিক রসদ পরিবহনের কাজ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের এক মূখপাত্র সাংবাদিকদের এ কথা জানিয়েছেন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিরাপত্তা সংক্রান্ত চুক্তি না করলে আফগানিস্তানে ন্যাটো জোটের পক্ষ থেকে নতুন করে প্রশিক্ষণ মূলক মহড়া করা সম্ভব হবে না বলে ঘোষণা করেছেন জোটের মহাসচিব আন্দ্রেস ফগ রাসমুস্সেন.

আফগানিস্তানের পরিস্থিতি, রাশিয়ার সাথে ন্যাটো জোটের শরিকানা বিকাশ, আর তাছাড়া জোটের আসন্ন শীর্ষ সাক্ষাতের জন্য প্রস্তুতি মঙ্গলবার ন্যাটো জোটের সদর দপ্তরে পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের পর্যায়ে সম্মেলনে প্রধান আলোচ্য বিষয় হবে.

ইউরোপীয় নিরাপত্তা ও সহযোগিতা পরিষদের দেশগুলির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের পরিষদ ২০১৪ সালে আফগানিস্তান থেকে আন্তর্জাতিক সামরিক বাহিনী অপসারণ উপলক্ষে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ৫-৬ই ডিসেম্বরের বৈঠকে আফগানিস্তান সম্পর্কে ঘোষণাপত্র গ্রহণ করতে চায়.

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ বলেছেন, তালেবান গোষ্ঠীর সাথে আফগানিস্তানের আলোচনা শুরু করার জন্য পাকিস্তান সহযোগিতা চালিয়ে যাবে। শীর্ষ তালেবান নেতাদের সাথে সংলাপ আয়োজনের পরিবেশ তৈরী করার চেষ্টা পাকিস্তান চালিয়ে যাবে।

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরোভ ৪ঠা ডিসেম্বর ব্রাসেলসে পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের পর্যায়ে রাশিয়া-ন্যাটো পরিষদের পরবর্তী বৈঠকে অংশগ্রহণ করবেন, শুক্রবার জানানো হয়েছে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে. 

আগের
1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30
সেপ্টেম্বর 2017
ঘটনার সূচী
সেপ্টেম্বর 2017
1
2
3
4
5
6
7
8
9
10
11
12
13
14
15
16
17
18
19
20
21
22
23
24
25
26
27
28
29
30