×
South Asian Languages:
রকেটবিরোধী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, এপ্রিল 2013
রাশিয়া ও চিন এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা খুলে ধরার বিষয়ে আরও বেশী করেই উদ্বিগ্ন হয়েছে. এই বিষয়ে রাশিয়ার উপ প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি রগোজিন ঘোষণা করেছেন. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এশিয়াতে নিজেদের রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা খুবই গুরুতর ভাবে বাড়িয়ে ফেলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে.
জন গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কোরিয়াকে ঘিরে সঙ্কট নিয়ন্ত্রণের জন্য মস্কো ও ওয়াশিংটন সম্মিলিত ভাবে কূটনৈতিক শক্তি বৃদ্ধি করছে. এই বিষয়ে সোমবারে ক্রেমলিনে রাশিয়ার সরকারি মুখপাত্রদের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ে রাষ্ট্রপতির সহকারী টমাস ডনিলনের সঙ্গে সাক্ষাত্কারের সময়ে আলোচনা করা হয়েছে. তাতে কিছু সময়ের জন্যে যোগ দিয়েছিলেন রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন.
রাশিয়া সফলভাবে মীমাংসা করেছে মার্কিনী রকেটবিরোধী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অতিক্রমের প্রশ্ন, আর বর্তমানে এ সমস্যা আর সামরিক-প্রযুক্তিগত নয়, এখন তা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক. এ সম্বন্ধে সাংবাদিকদের বলেছেন রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী দমিত্রি রগোজিন, যিনি লন্ডনে বই-মেলায় গিয়েছিলেন নিজের বইয়ের উপস্থাপনার জন্য, যা ন্যাটো জোটে রাশিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে কাজ সম্পর্কে. রগোজিন বলেন, “আমাদের জন্য রকেটবিরোধী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অতিক্রমের প্রশ্ন মীমাংসিত.
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী কিম গ্ভান চ্ঝিন ঘোষণা করেছেন যে, জন গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কোরিয়া তৈরী হয়ে রয়েছে ব্যালিস্টিক মিসাইল উড়ান করার জন্য. কিন্তু উত্তর কোরিয়ার সম্পূর্ণ অর্থে যুদ্ধ প্রস্তুতির লক্ষণ দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না. বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করেন যে, কোরিয়া উপদ্বীপ এলাকায় যুদ্ধের কাজ অবধি ব্যাপারটা গড়াবে না. ১৫ই এপ্রিল উত্তর কোরিয়াতে সূর্য উত্সব পালন করা হচ্ছে.
উত্তর কোরিয়ার প্রশাসন আবারও বিদেশীদের খুবই জোর দিয়ে অনুরোধ করেছে পিয়ংইয়ং ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য. সানকেই সিমবুন নামের সংবাদপত্রের তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রদূতদের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, ১০ই এপ্রিলের পরে জন গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কোরিয়া ঠিক করেছে রকেট উড়ান করার, যা সম্ভবতঃ জাপান হয়ে উড়ে যাবে.
প্রাগ শহরে রাশিয়ার তত্কালীন রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামার স্বাক্ষরিত তৃতীয় পারমানবিক স্ট্র্যাটেজিক আক্রমণাত্মক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তির তিন বছর মেয়াদ উত্তীর্ণ হতে চলেছে ৮ই এপ্রিলে. বলা যেতে পারে যে, এটা ছিল, মস্কো ও বারাক ওবামার রাষ্ট্রপতি হিসাবে নেতৃত্বে ওয়াশিংটনের মধ্যে সম্পর্ক রিসেট করার পরে প্রথম গুরুত্বপূর্ণ পরিণতি.
দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রপতি পাক কীন হের প্রশাসনের মুখপাত্র রবিবার এই খবর জানিয়েছেন. ১০ই এপ্রিল তারিখটি সিওলের পক্ষ থেকে সরকারি ভাবে এই কারণে জানানো হয়েছে যে, উত্তর কোরিয়া থেকে এই দিনের আগে সমস্ত বিদেশী দূতাবাসের কর্মীদের দেশ ছেড়ে যেতে বলা হয়েছে নিরাপত্তা জনিত কারণে.
দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এই খবর দেওয়া হয়েছে. মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী সবচেয়ে বেশী বাজেট থেকে ব্যয় করা হয়েছে গত বছরে আর তা দেশের সমগ্র গড় বার্ষিক উত্পাদনের শতকরা ২, ৫৯ ভাগ. গত বছরে উত্তর কোরিয়ার তরফ থেকে রকেট ও পারমানবিক বিপদ বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে সিওল ব্যয় করেছিল প্রায় ২ হাজার ৯৭০ কোটি ডলারের সমান অর্থ.
উত্তর কোরিয়া থেকে ছোঁড়া রকেটগুলির দিকে নজর রেখে সময়মতো সেগুলি ধ্বংস করার জন্য গুয়াম দ্বীপে রকেটবিরোধী প্রতিরক্ষাব্যবস্থা বসানোর প্রস্তুতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্পন্ন করেছে. শনিবার টেক্সাসের ফোর্ট-ব্লিস সামরিক ঘাঁটির প্রধান, জেনারেল ড্যান পিটার্ড এই খবর দিয়েছেন. সামরিক কর্মচারীরা এক সপ্তাহের মধ্যে ঐ ব্যবস্থা স্থাপণ করবে.
দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক কর্মচারীদের সূত্র ধরে ‘ইওনহাপ’ সংবাদসংস্থা জানিয়েছে, যে উত্তর কোরিয়া তার পূর্ব উপকূলে দ্বিতীয় মাঝারিপাল্লার ব্যালেস্টিক রকেট মোতায়েন করেছে. সূত্রটির তথ্য অনুযায়ী, রকেটদুটি পরিবহনযোগ্য নিক্ষেপযন্ত্রে বসানো রয়েছে এবং তাদের এমন একটা জায়গায় লুকানো হয়েছে, যার উদ্দেশ্যর হদিশ পাওয়া যায়নি. দক্ষিণ কোরিয়ার সূত্রদের কথায়, ‘মুসুদান’ মার্কা রকেটের লক্ষ্যভেদের পাল্লা ৩ হাজার কিলোমিটার ও তার বেশি.
উত্তর কোরিয়ার পূর্ব উপকূলে মাঝারি পাল্লার রকেট “মুসুদান”বসানোর খবর, যা আমেরিকা ও দক্ষিণ কোরিয়ার উত্স থেকে দেওয়া হয়েছে, তা কোরিয়া উপদ্বীপ এলাকা জুড়ে এক নতুন উত্তেজনার অধ্যায়ের সূচনা করেছে.
কোরিয়া উপদ্বীপ এলাকায় পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হতে শুরু করেছে. আমেরিকা ও দক্ষিণ কোরিয়ার গুপ্তচর বিভাগের তথ্য অনুযায়ী উত্তর কোরিয়া নিজেদের পূর্ব উপকূলে “মুসুদান” নামের ব্যালিস্টিক মিসাইল ব্যবস্থা এনে জড়ো করেছে. আজ ৪ঠা এপ্রিল কোরিয়ার জাতীয় ফৌজের তরফ থেকে এক ঘোষণা করা হয়েছে.
উত্তর কোরিয়া ঘোষণা করেছে যে, তারা ফিওনান-পুক্তো প্রদেশের ইওনবেন পারমানবিক গবেষণা কেন্দ্র আবার করে চালু করছে. উত্তর কোরিয়ার প্রধান পারমানবিক শক্তি দপ্তরের প্রতিনিধি যেমন ঘোষণায় বলেছেন যে, সেখানে সবকটি রিয়্যাক্টর চালু করা হয়েছে ও সমস্ত জায়গাতেই কাজ শুরু করা হয়েছে. তার মধ্যে – ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার কারখানা ও পাঁচ মেগাওয়াট শক্তি সম্পন্ন গ্র্যাফাইট রিয়্যাক্টর রয়েছে.
উত্তর কোরিয়ার পারমানবিক অস্ত্র সম্ভাব্য আগ্রাসকদের সংযম বজায় রাখার যন্ত্র ও দেশের সমৃদ্ধির বুনিয়াদ – বলেছেন উত্তর কোরিয়ার শীর্ষনেতা কিম চেন ঈন. তিনি সেইসঙ্গেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে দোষারোপ করেছেন, যে তারা উত্তর কোরিয়াকে যুদ্ধে জড়ানোর চেষ্টা করছে, সে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার লক্ষ্যে.
যদি সারা বিশ্বের সংবাদ মাধ্যমের খবর বিশ্বাস করতে হয়, তবে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া এখন যুদ্ধের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে. পিয়ংইয়ং ঘোষণা করেছে যে, তারা শান্তি অবস্থিতি ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছে ও হুমকি দিয়েছে যে, সিওল ও ওয়াশিংটন আগুনের সমুদ্র বানিয়ে ছেড়ে দেবে. এই ধরনের ঘোষণা উত্তরের লোকরা আগেও করেছে. কিন্তু এখন এই ধরনের হুমকির ঘনত্ব বাড়াবাড়ি রকমের বেশী.
1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30
এপ্রিল 2013
ঘটনার সূচী
এপ্রিল 2013
3
7
10
11
12
13
14
17
18
19
20
21
22
23
24
26
27
28
29
30