×
South Asian Languages:
লিবিয়া, জুলাই 2011
লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে গত রাতে তিনটি বড় বিস্ফোরণ ঘটেছে. বেনগাজিতে বিদ্রোহী বাহিনীর অধিনায়ক আব্দেল ফত্তাহ ইউনিসকে হত্যার কথা বিদ্রোহীদের দ্বারা ঘোষণার কয়েক মিনিট পরেই এ বিস্ফোরণগুলি ঘটে, জানিয়েছে “ফ্রান্স প্রেস” সংবাদ এজেন্সি. এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরণের সামান্য আগে ত্রিপোলির আকাশে উড়ে যায় ন্যাটো জোটের কয়েকটি সামরিক বিমান.
লিবিয়ায় মুয়ম্মর গদ্দাফির বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করা বিদ্রোহী বাহিনীর প্রধান অধিনায়ক আব্দেল ফত্তাহ ইউনিস-কে গত রাতে হত্যা করা হয়েছে. এ সম্বন্ধে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন বেনগাজিতে লিবিয়ার অন্তর্বর্তী জাতীয় পরিষদের প্রতিনিধিরা. সংবাদ সংস্থা “রয়টার” জানিয়েছে যে, আগে ইউনিসকে মার্সা-এল-ব্রেগা শহরের অঞ্চলে ফ্রন্ট লাইন থেকে বেনগাজিতে ডেকে পাঠানো হয় জেরার জন্য.
লিবিয়া জামাহিরির সরকার গ্রেট-বৃটেন থেকে লিবিয়ার কূটনীতিজ্ঞদের বিতাড়নকে বেআইনী বলে অভিহিত করেছে. ত্রিপোলিতে তাছাড়া বেনগাজির বিদ্রোহীদের জাতীয় পরিষদকে লিবিয়ার ন্যায়সঙ্গত শাসন হিসেবে স্বীকৃতি দানকেও বেআইনী বলে অভিহিত করা হয়েছে, জানিয়েছে “রয়টার” সংবাদ এজেন্সি. গ্রেট-বৃটেন বুধবার তার ভূভাগে অবস্থিত লিবিয়ার সমস্ত কূটনীতিজ্ঞকে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে.
শত্রুকে ধ্বংস করে চূড়ান্ত জয় লাভ করবার জন্য লিবিয়ার নাগরিকেরা আপন প্রাণ পর্যন্ত ত্যাগ করতে রাজি. গত বুধবার লিবিয়ার শাসক কর্ণেল গদ্দাফি এ কথা বলেছেন. নিজ সমর্থকদের উদ্দেশ্যে উত্সর্গীকৃত তার বেতারভাষণ গতকাল কেন্দ্রীয় দূরদর্শন সম্প্রচার করে. তিনি জোর দিয়ে বলেন, যে বিরোধীপক্ষ এবং ন্যাটো জোটের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করবার মত শক্তি জামাহিরিয়ার এখনো মজুত আছে.
১৯৮৮ সালে স্কটল্যান্ডের লকারবির আকাশে বিমান বিস্ফোরণে দোষী লিবিয়ার নাগরিকটি এক মিছিলে অংশ নেয় এবং কেন্দ্রীয় দূরদর্শন জামাহিরিয়া তা প্রদর্শন করেছে. দূরদর্শনের ভাষ্যকার ঘোষণা করেন, যে আবদেলবাসেতা অল-মেগ্রাহির কারাবন্দী হওয়া হল লিবিয়ার বিরুদ্ধে অর্ধেক দুনিয়ার ষড়যন্ত্রের ফল. ২০০১ সালে ত্রিপোলির শাসক কতৃপক্ষ অল-মেগ্রাহিকে গ্রেট বৃটেনের হাতে সমর্পন করে এবং সেখানে তাকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেওয়া হয়.
লিবিয়ার কেন্দ্রীয় সরকার ও বিদ্রোহীরা সংকটের রাজনৈতিক মীমাংসা থেকে এখনো অনেক দূরে, তবে জাতিসংঘের সাথে এ সমস্যা নিয়ে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত. ত্রিপোলি ও বেনগাজিতে দু-দিন ব্যাপী আলাপ-আলোচনার পরে এ কথা ঘোষণা করেছেন জাতিসংঘের সাধারন সম্পাদকের বিশেষ দূত আবদেল্লা হাতীব.  জাতিসংঘের প্রেস দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, এর প্রাক্কালে হাতীব ত্রিপোলিতে লিবিয়ার প্রধানমন্ত্রী বাগদাদি মাহমুদের সাথে সাক্ষাত করেন.
লিবিয়ার সরকারী বাহিনী রকেট আঘাতের দ্বারা মিসুরাতের বড় একটি পেট্রলের গুদাম পুড়িয়ে দিয়েছে. এ শহর এখন বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণাধীনে রয়েছে, আর গদ্দাফির বিশ্বস্ত বাহিনী কয়েক মাস ধরে তার অবরোধ করছে. ত্রিপোলির ২০০ কিলোমিটার পুবে অবস্থিত লিবিয়ার তৃতীয় বড় বন্দর-শহর মিসুরাত সঙ্ঘর্ষরত উভয় পক্ষের জন্যই রণনৈতিক গুরুত্ব ধারণ করে.
ফ্রান্সের পরে গ্রেট-বৃটেনও ঘোষণা করেছে যে, লিবিয়ার নেতা মুয়ম্মর গদ্দাফি দেশে থাকতে পারে, যদি শাসন ক্ষমতা ত্যাগ করে. বৃটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হেগের কথায়, তাঁর পক্ষে বাঞ্ছনীয় হত, যদি গদ্দাফি লিবিয়া ছেড়ে যেতেন. তবে, লিবিয়াবাসীদের নিজেদেরই এ সম্বন্ধে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত্. হেগ এ বিবৃতি দেন লন্ডনে ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলেন ঝুপ্পে-র সাথে আলাপ-আলোচনার পরে.
ন্যাটো জোটের বিমানবাহিনী লিবিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে হাসপাতালে বোমা বর্ষণ করেছে, জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি. শেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নিহত হয়েছে ৮ জন, তাদের মধ্যে তিনজন ডাক্তার. বিমান আঘাতের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে খাদ্যদ্রব্য ও ওষুধের ভাণ্ডার. ঐ জায়গায় কাজ করছে পুলিশ এবং উদ্ধারকর্মীদের দল. এদিকে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার ত্রিপোলিতে পৌঁছোবে রাশিয়ার মানবতাবাদী সাহায্যের পরবর্তী ক্ষেপ.
লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপলিতে রোববার খুব ভোরে ন্যাটোর একাধিক বিমান হামলা হয়েছে।লিবিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এই সংবাদ জানিয়েছে।এদিকে ত্রিপলির অধিবাসীরা জানিয়েছেন যে,একটি রকেট ক্ষেপোনাস্ত্র আবাসিক এলাকায় আঘাত হানে।তবে এখন পর্যন্ত এ হামলায় হতাহতের বিষয়ে বিস্তারিত কিছুই জানা যায় নি।
মস্কোয় আবার লিবিয়া সঙ্ঘর্ষের পক্ষগুলিকে আহ্বান জানানো হয়েছে রক্তক্ষয় থামানোর. এ সম্বন্ধে বলা হয়েছে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে. এর প্রাক্কালে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরোভ মস্কোয় সাক্ষাত্ করেন লিবিয়ার বৈদেশিক সম্পর্ক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংক্রান্ত প্রধান গণ কমিটির সচিব আব্দেল আতা আল-ওবেইদার সাথে.
লিবিয়ার বিদ্রোহীরা দেশের পশ্চিমে নাফিস পর্বতাঞ্চলে নিজেদের শক্তির পুনর্বিন্যাস করছে ত্রিপোলিতে চূড়ান্ত আক্রমণের জন্য. এ সম্বন্ধে বুধবার বলেছেনজেনারেল ওমর আল-হারিরি, যিনি অন্তর্বর্তী জাতীয় পরিষদে বিরোধী পক্ষের সামরিক ক্রিয়াকলাপের সঙ্গতি সাধন করছেন. জেনারেল মনে করিয়ে দেন যে, বিদ্রোহীদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নাফিস পর্বতাঞ্চল অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে ত্রিপোলির বেশি কাছে অবস্থিত. তাঁর দৃষ্টিতে, এখান থেকে আক্রমণ শুরু করাই সবচেয়ে লাভজনক.
লিবিয়ার জনগণের নিজেদেরই নির্দ্ধারণ করা উচিত, যে মুয়াম্মার গদ্দাফি নিজের দেশেই থাকবেন, নাকি তাকে দেশত্যাগ করতে হবে. তবে হোয়াইট হাউস আগের মতোই গদ্দাফির পদত্যাগের দাবীতে অনড়. মার্কিনী রাষ্ট্রপতি প্রশাসনের প্রতিনিধি জেই কেরনি এই ঘোষণা করেছেন. তিনি ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলেন ঝুপ্পের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া স্বরুপ এ কথা বলেছেন.
লিবিয়ার নেতা মুয়ম্মর গদ্দাফি মঙ্গলবার বলেছেন যে, ন্যাটো জোটের আঘাতে দমবেন না. গদ্দাফি বলেন, “আমার সঙ্গে আছে লক্ষ লক্ষ লিবিয়াবাসী. আমরা নিজেদের সম্মান, তেল এবং দেশের সম্পদ রক্ষার জন্য শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত লড়াই করতে বদ্ধপরিকর”. তিনি বলেন যে, এ যুদ্ধ লিবিয়ার জনগণের উপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, এবং তিনি মিসুরাত ও বেনগাজি নিয়ন্ত্রণে না আনা পর্যন্ত পিছু হটবেন না.
লিবিয়ায় পরিস্থিতি জামাহিরির নেতা মুয়ম্মর গদ্দাফির জন্য অসন্তোষজনকভাবে বিকশিত হচ্ছে, মঙ্গলবার বলেন হোয়াইট হাউজের সরকারী প্রতিনিধি জে কার্নি. মার্কিন রাষ্ট্রপতির প্রশাসনের প্রতিনিধি উল্লেখ করেন যে, গদ্দাফির বাহিনী লিবিয়ায় ক্রমেই কম এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে, আর বিরোধীপক্ষ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আক্রমণ চালাচ্ছে.
লিবিয়ার নেতা মুয়ম্মর গদ্দাফির শাসন ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার বিষয়টি মস্কোয় রাশিয়া ও লিবিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সাক্ষাতে আলোচিত হবে না. দু দেশের কূটনীতিজ্ঞরা তাছাড়া জামাহিরির নেতার আশ্রয়স্থল খোঁজার বিষয় নিয়ে আলোচনায় সময় নষ্ট করতে চান না. এ সম্বন্ধে “মস্কোভস্কিয়ে নোভস্তি” পত্রিকাকে প্রদত্ত ইন্টারভিউতে বলেছেন রাশিয়ায় লিবিয়ার রাষ্ট্রদূত অমীর আল-গরীব.
টিউনিশিয়াতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিনিধিদলের সাথে কর্নেল গাদ্দাফির প্রতিনিধিদের বৈঠক হয়েছে – লিবিয়াতে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই প্রথম. বিশ্বের নেতৃ স্থানে থাকা সংবাদ মাধ্যম গুলির খবরে প্রকাশ যে, কোন রকমের কূটনৈতিক ভাবে চাঞ্চল্যকর সংবাদ এখানে পাওয়া যায় নি. সম্ভবতঃ, এই ধরনের উল্লেখযোগ্য কেন ফল না থাকায়, সাক্ষাত্কারের তিন দিন বাদেই এই খবর প্রকাশিত হয়েছে.
লিবিয়ার সরকার সোমবার দেশের পূর্বাঞ্চলে মার্সা-এল-ব্রেগা শহর বিদ্রোহীদের দ্বারা দখল করার খবর খন্ডন করেছে, জানিয়েছে “ফ্রান্স প্রেস” সংবাদ সংস্থা. সরকারের তথ্য অনুযায়ী, শহরের উপর চারদিন ব্যাপী আক্রমণে ৫২০ জন বিদ্রোহী নিহত হয়েছে. আগে কয়েকটি প্রচার মাধ্যম অন্তর্বর্তী জাতীয় পরিষদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছিল যে, দীর্ঘ লড়াইয়ের পর শহর সম্পূর্ণভাবে তাদের হাতে এসেছে.
লিবিয়ার সরকারের প্রতিনিধিরা গত শনিবার মার্কিনী পররাষ্ট্র বিভাগের কর্মীদের সাথে টিউনিসিয়ায় সাক্ষাত্ করেন. লিবিয়ার পক্ষ শান্তির উদ্দেশ্যে  আলাপ-আলোচনার জন্য প্রস্তুতির কথা সমর্থন করেছে, তবে কোনো প্রাথমিক শর্ত ছাড়া, জানিয়েছে “রয়টার” সংবাদ সংস্থা. ত্রিপোলির প্রতিনিধি মুসা ইব্রাহিম জোর দিয়ে বলেন যে, তাঁরা যে কোনো শান্তিপূর্ণ উদ্যোগ ও আলাপ-আলোচনার জন্য প্রস্তুত, যদি তা বাইরে থেকে এসে না থাকে.
লিবিয়ার বিরোধীপক্ষের যোদ্ধারা জানিয়েছে যে, দেশের পূর্বাঞ্চলে মার্সা-ব্রেগা শহরে মুয়ম্মর গদ্দাফির বিশ্বস্ত সৈনিকদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে. বিরোধীপক্ষের কথায়, সোমবার তারা শহরের বসতি পাড়াগুলি দখল করা শুরু করেছে. কয়েক দিন আগে বিরোধীদের পক্ষসমর্থকরা মার্সা-ব্রেগা শহরে আক্রমণ শুরু করে এ সত্ত্বেও যে, সৈন্যবাহিনী তাদের উপর আর্টিলারির অগ্নিবর্ষণ করে. লিবিয়ায় লড়াই কালে মার্সা-ব্রেগা শহরটির একাধিকবার হাতবদল হয়েছে.
আগের
1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31
জুলাই 2011
ঘটনার সূচী
জুলাই 2011
10
22
23
25
30
31