×
South Asian Languages:
ভূমিকম্প, এপ্রিল 2011
মানবেতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রযুক্তিগত বিপর্যয়ের প্রতীক হয়েছে ২৫ বছর আগে ইউক্রেনের পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের প্রথম নিদর্শন – চেরনোবিল পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র. চতুর্থ রিয়্যাক্টর ব্লকের বিস্ফোরণ ও ৫০০টি হিরোশিমা বোমার সমান তেজস্ক্রিয় বিকীরণ বহু লক্ষ লোকের জীবনে পরিবর্তন এনে দিয়েছে.
ইন্দোনেশিয়ার সুলাভেসি দ্বীপে ৬.২ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে, জানিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূপদার্থবিদ্যা ইনস্টিটিউট. মুখ্য ভূমিকম্পের পর তার প্রতিধ্বনিমূলক ভূমিকম্প হয়েছে ৫.২ মাত্রার. সুনামী দেখা দেওয়ার ঝুঁকি নেই, কারণ ভূমিকম্পের কেন্দ্রবিন্দু ছিল স্থলভাগে. ক্ষয়ক্ষতি সম্বন্ধে জানানো হয় নি.
জাপানের সরকার ১১ই মার্চের বিপর্যয়কর ভূমিকম্প ও সুনামীর কুপরিণতি অতিক্রমের জন্য প্রথম পর্যায়ে ৪ লক্ষ কোটি ইয়েন (প্রায় ৫ হাজার কোটি ডলার) খরচের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে. এ অর্থ ব্যবহৃত হবে ধ্বংসস্তূপ সরানোর জন্য, অপসারিত লোকেদের সাময়িক বাসগৃহ নির্মাণের জন্য, রাস্তা, বন্দর ও অন্যান্য পরিকাঠামো পুনর্স্থাপনের জন্য. তাছাড়া. ছোট ও মাঝারী ব্যবসাকে সাহায্য করা হবে.
রাশিয়াতে এক সারি পুরানো পারমানবিক শক্তি কেন্দ্র ও রিয়্যাক্টর থামিয়ে দেওয়া হবে. রসঅ্যাটম ও রসটেখনাদজোর সংস্থা ঠিক করেছে পুরনো পারমানবিক রিয়্যাক্টর গুলিকে পরীক্ষা করে দেখা হবে. যদি এই পরীক্ষার ফলে প্রমাণ হয় যে, এই গুলি চালু রাখতে গেলে খুবই জটিল বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়ার দরকার আছে, তবে সেগুলি বন্ধ করা হবে.
দমিত্রি মেদভেদেভ নিকট ভবিষ্যতে পারমাণবিক নিরাপত্তা সম্পর্কে একসারি উদ্যোগ প্রকাশ করবেন. এ সম্বন্ধে জানিয়েছেন রাষ্ট্রনেতার সহকারী আর্কাদি দ্ভোরকোভিচ, জাপানের দূতাবাসে এক সম্বর্ধনা সভায় বক্তৃতা দিয়ে. তিনি অনুমান করছেন যে, সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক ও প্রযুক্তিগত বিপর্যয়ের পরিণতি বিবেচনা করা এ সব উদ্যোগ “বৃহত্ অষ্টদেশের” শীর্ষ সাক্ষাতে অনুমোদিত হবে.
"ফুকুসিমা -১" দূর্ঘটনার পরে রাশিয়ার পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র গুলিতে আপত্কালীণ পরীক্ষা প্রমাণ করে দিয়েছে যে, রাশিয়ার কেন্দ্র গুলি নিরাপদ. এই বিষয়ে রাশিয়ার "রসঅ্যাটম" কোম্পানীর প্রধান সের্গেই কিরিয়েঙ্কো কিয়েভে চেরনোবিল পারমানবিক কেন্দ্রের দূর্ঘটনার ২৫ বছর উপলক্ষে আয়োজিত এক সম্মেলনে ঘোষণা করেছেন.
পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র "ফুকুসিমা – ১" এর পরিস্থিতি বছরের শেষ হওয়ার আগে স্বাভাবিক করা হবে. এই আশ্বাস দিয়েছে দূর্ঘটনাগ্রস্ত কেন্দ্রের পরিচালক টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার. কিন্তু কোম্পানীর আগামী নেতৃত্বকেই এই পরিকল্পনাকে বাস্তবায়নের দায়িত্ব নিতে হবে বলে মনে হচ্ছে.     রবিবারে এই সংস্থার প্রধানেরা নিজেদের উপরে পারমানবিক সঙ্কটের দায়িত্ব নিয়ে পদত্যাগ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন.
প্রায় ৭০ শতাংশ জাপানবাসী ১১ই মার্চের ভূমিকম্প ও সুনামীর পর জাতীয় অর্থনীতি পুনর্স্থাপনের জন্য কর বৃদ্ধিতে প্রস্তুত. প্রায় তত শতাংশ নাগরিক মনে করে যে, “ফুকুসিমা-১” পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্রে দুর্ঘটনার কুপরিণতি দূর করায় সরকার ভালভাবে নিজেকে প্রকট করতে পারে নি. জনমত সংগ্রহ তা দেখিয়েছে, যার ফলাফল আজ প্রকাশ করেছে জাপানের “নিকেই” নামে কারবারী মহলের পত্রিকা.
জাপানে ১১ই মার্চের ভূমিকম্প ও সুনামীর ফলে নিহতদের সংথ্যা ১৩.৩ হাজারের কাছে পৌঁছেছে. এ সম্বন্ধে আজ জানিয়েছে জাতীয় পুলিশ দপ্তর.   ১৫ হাজারেরও বেশি লোক নিখোঁজ. জাপানের পুরো যুদ্ধ-পরবর্তী ইতিহাসে ৯ মাত্রার এই ভূমিকম্প ছিল সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক. এই ভূমিকম্পের ফলে একসারি দুর্ঘটনা ঘটেছে “ফুকুসিমা-১” পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্রে. বিশেষজ্ঞরা এখনও পর্যন্ত সেখানে তেজষ্ক্রিয়তার নিষ্ক্রমণ থামানোর চেষ্টা করছেন.
  জাপানের সবচেয়ে জন-অধ্যুসিত হনস্যু দ্বীপের পূর্ব উপকূলে মঙ্গলবার ৬.৬ মাত্রার আরও একটি জোর ভূমিকম্প হয়েছে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূতত্ত্ববিদ্যা বিভাগের উদ্ধৃতি দিয়ে এ সম্বন্ধে জানিয়েছে “রয়টার” সংবাদ সংস্থা. সাইস্মোলজিস্টদের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের কেন্দ্রবিন্দু ছিল টোকিওর ৭৭ কিলোমিটার উত্তর-পুবে. হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতি সংক্রান্ত তথ্য এখনও পাওয়া যায় নি. সুনামীর বিপদ সম্পর্কে এখনও জানানো হয় নি.
জাপানের প্রধানমন্ত্রী নাওতো কান সে সমস্ত দেশকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন, যারা তাঁর দেশকে সাহায্য করেছে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পরে, যা ঘটেছিল ঠিক একমাস আগে, ১১ই মার্চ. প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, “এ মাসটি আমাদের জন্য খুবই কঠিন ছিল.
জাপানের উত্তর-পুবে বৃহস্পতিবার ৭.৪ মাত্রার যে ভূমিকম্প হয়েছে, তাতে অন্ততপক্ষে ২জন মারা গেছে এবং ১৩০জনের উপর আহত হয়েছে. নতুন ভূমিকম্প বহুসংখ্যক অগ্নিকান্ডের কারণ হয়েছে এবং বাড়ির গ্যাস সরলরাহ ব্যবস্থার যথেষ্ট ক্ষতি সাধন করেছে. বিদ্যুত্শক্তির নিয়মিত সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে. ভূমিকম্প জাপানের পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্রগুলির বিদ্যুত সরবরাহে সমস্যা সৃষ্টি করেছে, কিন্তু তা অভাবিত পরিস্থিতি সৃষ্টি করে নি.
1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30
এপ্রিল 2011
ঘটনার সূচী
এপ্রিল 2011
1
2
3
4
5
6
7
9
10
14
15
16
17
23
24
27
28
29
30