×
South Asian Languages:
রাশিয়ার বিমান

রাশিয়া বিশ্বের বাজারে নিজেদের সামরিক অস্ত্র সম্ভার ও প্রযুক্তি বিক্রীর পরিমাণ বৃদ্ধি করেছে. “রসআবারোনএক্সপোর্ট” কোম্পানী ইতিমধ্যেই সেপ্টেম্বর মাসের আগে অস্ত্র রপ্তানীর বিষয়ে সারা বছরের পরিকল্পনার শতকরা ৭৫ ভাগ শেষ করে উঠতে পেরেছে. বিদেশে এখনও শেষ না হওয়া নয় মাসে বিক্রীর পরিমাণ হয়েছে প্রায় এক হাজার কোটি ডলার. আশা করা হয়েছে যে, গত বছরের চেয়ে কম এবারে অস্ত্র বিক্রী হবে না অর্থাত্ এক হাজার তিনশ কোটি ডলারের মতো হবে.

সমরাস্ত্রের বাজার বিভিন্ন কারণেই বাড়ছে. যে সব পরিস্থিতির বদল নিকটপ্রাচ্যে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে, তার থেকেই নতুন করে অস্ত্র সম্ভারে সজ্জিত হওয়ার কারণ ঘটেছে, এই কথা উল্লেখ করে স্ট্র্যাটেজি ও প্রযুক্তি বিশ্লেষণ কেন্দ্রের ডিরেক্টর রুসলান পুখভ বলেছেন:

১৯১৩ সালের ৯ই সেপ্টেম্বর, আজ থেকে ১০০ বছর আগে রুশী পাইলট পিওতর নেস্তেরভ প্রথম আকাশে তথাকথিত “মরণ গ্রন্থি” করে দেখিয়েছিলেন. এই ঘটনা এতটাই অবাক করা ছিল যে, তা নিয়ে শুধু রাশিয়ার নয়, বরং বিদেশের সংবাদপত্রও লিখেছিল. নেস্তেরভ ছিলেন এয়ারোব্যাটিক্স উড়ান প্রশিক্ষণের প্রথম ভিত্তি স্থাপক, যাঁর কল্যাণেই প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে আকাশের যুদ্ধে পাইলটদের পক্ষে যুদ্ধের সময়ে খুব একটা কম বীরত্বপূর্ণ বিজয় লাভ করা সম্ভব হয়নি.

মস্কো উপকণ্ঠের ঝুকোভস্কি শহরে সদ্য শেষ হওয়া আন্তর্জাতিক বিমান মহাকাশ প্রদর্শনী ম্যাক্স সুযোগ করে দিয়েছে আমাদের দেশের বিমান নির্মাণ শিল্প ও তার সঙ্গে জড়িত শিল্প ক্ষেত্রের কিছু প্রবণতা লক্ষ্য করার. বিমানবাহিনী ও আকাশ প্রতিরক্ষা বিষয়ে রাশিয়ার বিকাশ আগামী দশ বছরে এই সব বাহিনীর বাইরের চেহারায় যেমন পরিবর্তন এনে দেবে, তেমনই রাশিয়া সামরিক শক্তিতেও. এই সময়ের মধ্যে প্রধান কাজের দিক হবে উচ্চ রকমের লক্ষ্যভেদে সক্ষম অস্ত্রের ভাগ বাড়ানো ও বিমানবাহিনীকে নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করে তোলা.

মস্কো উপকণ্ঠের বিজ্ঞান নগরী ঝুকোভস্কিতে আন্তর্জাতিক বিমান মহাকাশ প্রদর্শনী ম্যাক্স-২০১৩ চলছে. ম্যাক্স-২০১৩- এটা বিশ্বের চুয়াল্লিশটি দেশ থেকে এক হাজারেরও বেশী কোম্পানী, নয়টি ওস্তাদ বিমান চালকদের দল ও আকাশে কয়েকশো বিমান আর মাটিতেও আরও একশোর বেশী উড়ানের যন্ত্র – যেগুলি দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে.

রাশিয়ায় অভূতপূর্ব ষষ্ঠ প্রজন্মের ফাইটার বিমান নির্মানের কাজ শুরু হয়েছে. নতুন বিমানটি সম্ভবত হবে চালকবিহীন, সেটার পাইলটিং করবে কৃত্রিম মগজ.

আন্তর্জাতিক মহাকাশ বিমান প্রদর্শনী ম্যাক্স – ২০১৩, যা ২৭শে আগষ্ট মস্কো উপকণ্ঠের ঝুকোভস্কি শহরে শুরু হয়েছে, তাতে ইতিমধ্যেই প্রথম চুক্তিগুলো স্বাক্ষরিত হয়েছে. ১২৯টি অসামরিক বিমান নিজেদের মালিক খুঁজে পেয়েছে. ম্যাক্স – ২০১৩, যাঁরা আয়োজন করেছেন, তাঁরা আশ্বাস দিয়েছেন যে, এবারে সমস্ত রেকর্ডই ভেঙে যাবে নতুন ধরনের প্রযুক্তি প্রদর্শনীর বিষয়ে আর চুক্তি মূল্যের পরিমাণেও.

মস্কোর উপকণ্ঠের ঝুকোভস্কি শহরে ২৭শে আগষ্ট শুরু হয়েছে একাদশ আন্তর্জাতিক বিমান মহাকাশ প্রদর্শনী "ম্যাক্স- ২০১৩"।

এবার নিয়ে এগারো নম্বর বার রাশিয়াতে শুরু হচ্ছে আন্তর্জাতিক বিমান মহাকাশ প্রদর্শনী. ম্যাক্স- ২০১৩ আশ্বাস দিয়েছে যে, এবারে এখানে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা হবে রেকর্ড সংখ্যক আর দর্শকরা অবাক হবেন এক বিরল উড়ানের প্রোগ্রাম দেখে.

ইতিমধ্যেই দুই দশক জুড়ে ম্যাক্স প্রদর্শনী হয়েছে খুবই জনপ্রিয় এক জায়গা, যেখানে বিমান নির্মাণ শিল্পের, ব্যবসার ও বিজ্ঞানের প্রতিনিধিরা একে অপরের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করতে পারেন. এখানে বহু শত কোটির চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়ে থাকে আর স্ট্র্যাটেজিক চরিত্রের আন্তর্জাতিক সমঝোতাও করা হয়ে থাকে. এই বছরে প্রদর্শনীর অংশগ্রহণকারী হবেন হাজারেরও বেশী কোম্পানী. তার মধ্যে একের তৃতীয়াংশ – বিদেশী কোম্পানী.

আন্তর্জাতিক বিমান মহাকাশ প্রদর্শনী (ম্যাক্স- ২০১৩) ২৭শে আগষ্ট মস্কো উপকণ্ঠের ঝুকোভস্কি শহরে শুরু হতে চলেছে. ঐতিহ্য মেনেই রাশিয়ার কেন্দ্রীয় পরীক্ষা করার ঘাঁটিতে – যেখানে রয়েছে উড়ান ও গবেষণা ইনস্টিটিউট – আর যে ইনস্টিটিউটের নাম দেওয়া হয়েছে মহান পাইলট মিখাইল গ্রোমভের নামে.

আজভ সাগরের উপকূলে এইস্ক শহরে রাশিয়ার বিমানবাহী যুদ্ধ জাহাজের বিমান ওঠানামা করা নিয়ে পরীক্ষা মূলক উড়ান শুরু হয়েছে, এই কমপ্লেক্সের নাম রুশী ভাষায় “নিত্কা” – বিমানের পরীক্ষা ও প্রশিক্ষণের জন্য ভূমিপৃষ্ঠের কমপ্লেক্স.
লে বুর্জ বিমান প্রদর্শনী, যা এখন ফ্রান্সে চলছে, তাতে রাশিয়ার মাঝারি পাল্লার যাত্রীবাহী বিমান এমসি- ২১ খুবই বেশী আগ্রহের সৃষ্টি করেছে, যাতে এক সঙ্গে ১৫০ থেকে ২১৫ জন যাত্রী নেওয়া যেতে পারে. এই বিমান তৈরীর কাজ করছে “ইরকুত” কর্পোরেশন. এই বিমান নানা রকমের ধরনে তৈরী করা হবে.
বিশ্বের সমরাস্ত্রের বাজারে রাশিয়ার অবস্থান সবচেয়ে ও বেশী করেই শক্তিশালী সামরিক বিমানের ক্ষেত্রে. সু- ৩০, মিগ – ২৯, ধরনের বিমানগুলি বিশ্বের বাজারে বিভিন্ন এলাকায় খুবই পরিচিত, বিশেষ করে এশিয়ার দেশ গুলিতে. রাশিয়াতে তৈরী বিমানের চাহিদা থেকেই যাচ্ছে, কারণ সেই ধরনের নতুন বায়নাদার, যেমন আলজিরিয়া, ভেনেজুয়েলা, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, চিন ও উগান্ডা এই সব দেশের কাছ থেকে চাহিদার উদয় হয়েছে.
বিশ্বে রাশিয়ার হেলিকপ্টারের চাহিদা বাড়ছে. ইরাক ইতিমধ্যেই হওয়া সমরাস্ত্র চুক্তিতে ইচ্ছা প্রকাশ করেছে মি- ২৮এন (রাতের শিকারী) হেলিকপ্টারের সংখ্যা বৃদ্ধি করে ৪০টি অবধি কেনার. আর ২৪টি মি – ১৭১ হেলিকপ্টার রাশিয়া থেকে কিনছে পেরু.
রাশিয়ার সামরিক শিল্প কমপ্লেক্সের ২০টির বেশী কোম্পানী ২৬ থেকে ৩০শে মার্চ নিজেদের সর্বাধুনিক সামরিক প্রযুক্তির উদাহরণ দেখাতে নিয়ে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক ও বিমান-মহাকাশ প্রদর্শনী লিমা – ২০১৩ (লঙ্কাভি আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক ও বিমান-মহাকাশ প্রদর্শনী) উপলক্ষে, মালয়েশিয়ার দ্বীপ লঙ্কাভিতে. রাশিয়ার উত্পাদকরা এই প্রদর্শনীতে উপস্থিত করছে সবচেয়ে প্রসারিত ভাবে সামরিক বিমান প্রযুক্তি, আকাশ নিরাপত্তার ব্যবস্থা, সামুদ্রিক জাহাজ ও ছোট বোট.
রাশিয়াতে প্রশিক্ষণের জন্য তৈরী যুদ্ধবিমান ইয়াক – ১৩০ এর যুদ্ধের কাজে আরও উপযুক্ত করে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে. ভবিষ্যতে এই বেশী করে উপযুক্ত করে তোলা যন্ত্র প্রাথমিক ভাবে রাশিয়া সহ বহু দেশের বিমান বাহিনীর সম্ভবনা ও প্রশিক্ষণের গুণমান বৃদ্ধি করতে পারবে.
বাঙ্গালুরুতে ৬ই-১১ই ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিতব্য ‘আয়েরো ইন্ডিয়া-২০১৩’ নামক প্রদর্শনীতে রাশিয়ার ‘আলমাজ-আন্তাই’ কনসার্ন এই প্রথমবার প্রদর্শন করবে স্বল্পপাল্লার জেনিথ রকেট কমপ্লেক্স ‘টপ-এম২কেএমে’র মডেল ও বিল বোর্ড. উপোরক্ত কমপ্লেক্সটি ছাড়াও প্রদর্শনীতে দেখানো হবো দূরপাল্লার জেনিথ রকেট কমপ্লেক্স ‘আন্তেই-২৫০০’, মাঝারিপাল্লার ‘বুক-এম২এ’, স্বল্পপাল্লার কমপ্লেক্স ‘টপ-এম২এ’, রেডিও লোকেটিং ষ্টেশন ও মেরামতি-খুঁতনির্ণয়কারী যন্ত্রপাতি.
ইন্টারনেটে দেখতে পাওয়া যে সব ফোটো, তা দেখে বোঝা গিয়েছে যে, চিন বাংলাদেশের জন্য ২০১০ সালের চুক্তি অনুযায়ী প্রথম জে -৭ বিজি১ যুদ্ধ বিমান তৈরী করে দিয়েছে. চিনের এই মডেলের বিমান হল সোভিয়েত দেশের সবচেয়ে বিখ্যাত বিমান মিগ – ২১ এর এক রূপান্তরের ফল, যা ঠাণ্ডা যুদ্ধের সময়ের এক প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছিল.
রাশিয়ার বিমান পরিবহন কোম্পানী গুলি এই বছরেও পরিবহনের ক্ষেত্রে দ্রুত পরিমান বাড়িয়েছে. গত নয় মাসে তারা পরিষেবা দিয়েছেন পাঁচ কোটি ৭০ লক্ষ যাত্রীকে. এই ধরনের তথ্য মস্কো শহরে অনুষ্ঠিত রাশিয়ার ডানা নামের সম্মেলনে উচ্চারিত হয়েছে. বিশেষ করে লক্ষ্যণীয় হয়েছে আন্তর্জাতিক সেক্টরে পরিবহনে উন্নতি. বিগত বছর গুলিতে রাশিয়াতে যাত্রী ও মাল পরিবহন খুবই দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে.
রাশিয়ার বিমান নির্মাতারা নতুন ইল- ৪৭৬ বিমান প্রকল্পের উপরে কাজ শেষ করেছেন. এই বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে জানিয়েছেন শিল্পও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রধান দেনিস মান্তুরভ. বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করেন যে, এই বিমানের ভবিষ্যত খুবই উজ্জ্বল. বাস্তবে ইল- ৪৭৬ – এটা খুবই ভাল করে সারা পৃথিবীতে জানা সামরিক পরিবহনের উপযুক্ত ইল- ৭৬ বিমানেরই খুব গভীর রকমের আধুনিকীকরণের ফল. নতুন বিমান ইতিমধ্যেই একাধিকবার আকাশে উঠেছে.
প্রযুক্তিজাত বিপর্যয়, জাহাজ ও সামুদ্রিক প্ল্যাটফর্মে কাজ করার উপযুক্ত সবচেয়ে নতুন বিমান ও হেলিকপ্টার প্রদর্শনী করা হয়েছে “হাইড্রো-অ্যাভিয়েশন প্রদর্শনী – ২০১২” উপলক্ষে. কৃষ্ণ সাগর তীরের শহর গেলেনঝিকে এই প্রদর্শনী হয়েছে. গেলেনঝিকে হাইড্রো- অ্যাভিয়েশন প্রদর্শনী – এটা বিশ্বের একমাত্র এই ধরনের প্রদর্শনী, যেখানে শুধু এই ধরনের বিমান ও উড়ানের নানা রকমের যান প্রদর্শনী করা হয়ে থাকে.
আগের
1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31
অক্টোবর 2017
ঘটনার সূচী
অক্টোবর 2017
1
2
3
4
5
6
7
8
9
10
11
12
13
14
15
16
17
18
19
20
21
22
23
24
25
26
27
28
29
30
31