×
South Asian Languages:
আগ্রহের বিষয়, সেপ্টেম্বর 2013

আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে আরও একদল অভিযাত্রী গিয়ে পৌঁছেছেন. পাইলট চালিত মহাকাশ যান “সইউজ”- এর উড়ান ও তা মহাকাশ স্টেশনের সঙ্গে যুক্ত হওয়া স্বাভাবিক অবস্থাতেই হয়েছে. ৩৮তম রুশ মহাকাশচারীদের অভিযাত্রী দলের ওলেগ কোতভ ও সের্গেই রিয়াজান্তসেভ এর জন্য এখানে বহু সংখ্যায় পরীক্ষা নিরীক্ষা করা ছাড়াও এক বিশেষ মিশন রয়েছে. নভেম্বরে তাঁরা খোলা মহাকাশে “সোচী- ২০১৪” অলিম্পিকের মশাল নিয়ে বের হবেন.

সোচী শহরের শীত অলিম্পিকে যারা যোগ দিতে যাচ্ছে সেই সমস্ত স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশিক্ষণ এখন পুরোদমে চলছে. যারা বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী, দ্রুত লোকদের সহায়তা করতে যাচ্ছে, তারা এখন অলিম্পিকের জন্য সক্রিয়ভাবে তৈরী হচ্ছে. প্রথমবার স্বেচ্ছাসেবকদের শুধু যেখানে অলিম্পিক হচ্ছে সেই শহরেই তৈরী করা হচ্ছে না, বরং তা করা হচ্ছে সারা রাশিয়া জুড়েই, আর তাদের যা শেখানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে, তা এর আগে হওয়া সমস্ত অলিম্পিকের চেয়েই বেশী.

মঙ্গলবারে পাকিস্তানে সমস্ত রাজনৈতিক বিষয়গুলো নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে. প্রথম দিনে সাধারন সভার মঞ্চ থেকে তিরিশটিরও বেশী দেশের নেতারা বক্তব্য রেখেছেন. সেখানে কেন্দ্রীয় হয়েছিল বারাক ওবামা ও ইরানের রাষ্ট্রপতি হাসান রোহানির ঘোষণা. তাছাড়া গতকাল বারাক ওবামাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে খুব একটা কম সমালোচনা শুনতে হয় নি.

সোচী শহরে ২০১৪ সালের অলিম্পিকের একটা প্রধান প্রাণ কেন্দ্র হতে চলেছে “রোজা খুতর” (গোলাপ গ্রাম) নামের জায়গা. কয়েক বছরের মধ্যে এই প্রতিযোগিতার আয়োজকরা ককেশাসের পাহাড়ী এলাকার ঢালে একটা সত্যিকারের খেলাধূলার শহর বানিয়ে ফেলেছেন. ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে অলিম্পিকের পাহাড়ে স্কি করার রাস্তা ও রেকর্ড সৃষ্টি হওয়ার জায়গার একেবারেই কাছে শুধু খেলোয়াড়রাই এসে থাকতে পারবেন না, পর্যটকরাও থাকতে পারবেন.

রাশিয়াতে অলিম্পিক আন্দোলনের উত্সমুখে ছিলেন জেনারেল আলেক্সেই দিমিত্রিয়েভিচ বুতভস্কি. তিনি দেশের পদাতিক বাহিনীতেই ছিলেন আর অবসর পাওয়ার পরে সামরিক বাহিনীর লোকদের জন্য নানা রকমের বিশেষ ধরনের জিমন্যাসটিক্স কোর্স তৈরী করে নানা রকমের প্রশিক্ষণের প্রতিষ্ঠানে তা শিখিয়ে বেড়াতেন. ১৮৯২ সালে তিনি পিয়ের দ্য কুবেরতেনের সঙ্গে পরিচিত হয়েছিলেন, আর তার দুই বছর পরেই তাঁর অলিম্পিকের খেলাধূলার ধারণাকে সমর্থন করেছিলেন.

সার্বভৌমত্ব, আত্ম নির্ভরতা ও রাশিয়ার অখণ্ডতা কোন শর্তসাপেক্ষ বিষয় নয় – এটা সেই রক্ত রেখা, যা পেরিয়ে কারোরই আসার অধিকার নেই. এই বিষয়ে ঘোষণা করেছেন রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন, তিনি রাশিয়ার উত্তর-পশ্চিমে নভগোরদ এলাকায় আয়োজিত আন্তর্জাতিক আলোচনা চক্র “ভালদাই” ক্লাবের অধিবেশনে ভাষণ দিচ্ছিলেন.

সোচীতে রাশিয়ার আন্তর্জাতিক অলিম্পিক বিশ্ববিদ্যালয় খোলা হয়েছে. এই অনন্য পড়াশোনার প্রতিষ্ঠান খেলাধূলার শিল্পের জন্য কর্মকর্তা তৈরী করে দেবে. রাশিয়া ও আরও ১৪টি দেশের ছাত্রছাত্রীরা এখানে পড়বেন ক্রীড়া কূটনীতি, আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক ক্ষেত্রের পরিবেশ, ক্রীড়া পরিচালনার ভিত্তি, আর তারই সঙ্গে ক্রীড়া জগতের আইন সঙ্গত ভিত্তি. ২০১০ সালে রাশিয়াতে সোচী শহরে এই ক্রীড়া পরিচালনা বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ শুরু হয়েছিল. বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তি প্রস্তরে ভবিষ্যত প্রজন্মের উদ্দেশ্য বার্তা সহ ক্যাপস্যুল স্থাপনের কাজে তখন অংশ নিয়েছিলেন রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন ও আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির সভাপতি জ্যাক রোগ্গে.

পবিত্র কোরানের পাঠ একেবারেই মুখস্থ অবস্থায় জানা, আবৃত্তির তাজবিদ, পড়ার সুর, বিপুল জনসমাগমের সমানে পড়ার সময়ে ভিতরের আবেগকে পার হওয়ার ক্ষমতা – এই সমস্ত দিকের কথা মাথায় রেখেই চতুর্দশ আন্তর্জাতিক কোরান পাঠের প্রতিযোগিতার জ্যুরিরা বিচার করেছেন.

প্রতিযোগীদের সংখ্যা ছিল ৩৬জন – তাঁরা এসেছিলেন নিকটপ্রাচ্য, ইউরোপ, এশিয়া থেকে. কিন্তু বিজয় লাভ করতে সমর্থ হয়েছেন সিরিয়া থেকে চব্বিশ বছরের প্রতিনিধি ইয়াসিন আল-খুমভি. যিনি প্রথম পর্বের বাছাইয়ের সময়েই নেতৃস্থানীয়দের মধ্যে ছিলেন.

১. শীত অলিম্পিকের ইতিহাসে সোচী -২০১৪ অলিম্পিকের মশালদৌড় হতে চলেছে সবচেয়ে বেশী দূরত্বের পথ জুড়ে. ২০১৩ সালের ৭ই অক্টোবর মস্কো শহরে শুরু হয়ে, তা ঠিক চার মাস ধরে চলবে. এই সময়ের মধ্যে অলিম্পিকের আগুন দৌড়বে, গাড়ীতে চড়বে, উড়বে, সাঁতার কাটবে, হাঁটবে আর এমনকি ঘোড়ার গাড়ী চেপেও সারা রাশিয়া জুড়ে ৬৫ হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করবে. এই আগুন দেখতে পাবেন দেশের ৩০০০টি জনপদের বাসিন্দারা. এই আগুন চড়বে ইউরোপের সবচেয়ে উঁচু বিন্দু এলব্রুস পাহাড় চূড়ায়, তারপরে নামবে বৈকাল হ্রদের অতলে – বিশ্বের সবচেয়ে গভীর হ্রদে. এই মশালদৌড় পৌঁছবে ইয়াসনায়া পলিয়ানাতে, যেখানে বিখ্যাত রুশ সাহিত্যিক তাঁর যুদ্ধ ও শান্তি এবং আন্না কারেনিনা লিখেছিলেন. অলিম্পিকের আগুন প্রথম পৌঁছবে উত্তর মেরুতে আর মহাকাশেও – আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে.

২০১৪ সালের আগামী শীত অলিম্পিকে সোচী খুব একটা কম বিস্ময়ের কারণ হবে না. শীতকালীণ এই ক্রীড়ার অতিথিদের জন্য অপেক্ষা করে থাকবে একসারি নতুনত্ব – তা যেমন প্রযুক্তির ক্ষেত্রে, তেমনই খেলার ব্যাপারেও. যাঁরা স্কি করেন, তাঁদের খেয়াল রাখা হবে উপগ্রহ মারফত দিক নির্ণয়ের ব্যবস্থা করে. আর বরফ তৈরী করা হবে- এক “বিশেষ গোপন ফর্মুলা” অনুযায়ী. অলিম্পিকের খেলার তালিকায় নতুন ধরনের প্রতিযোগিতা যোগ করা হয়েছে. আর এই খেলার ষ্টেডিয়াম গুলোতে ঢুকতে পারা যাবে শুধু বিশেষ ধরনের ফ্যান (অনুরাগী) পাসপোর্ট অনুযায়ী.

১৩ই সেপ্টেম্বর বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (সাসস) রাষ্ট্র নেতাদের শীর্ষ সম্মেলন হতে চলেছে. এই বিশকেক শীর্ষ সম্মেলনের আলোচ্য তালিকায় যেমন এই সংস্থার বিকাশ নিয়ে ভিত্তি সংক্রান্ত বিষয় রয়েছে, তেমনই রয়েছে বর্তমানের আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিষয়ও, প্রাথমিক ভাবে সিরিয়ার সঙ্কটের তীক্ষ্ণ হওয়া, এই রকমই মনে করেছেন রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর সুদূর প্রাচ্য ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর সের্গেই লুজিয়ানিন.

রাশিয়া বিশ্বের বাজারে নিজেদের সামরিক অস্ত্র সম্ভার ও প্রযুক্তি বিক্রীর পরিমাণ বৃদ্ধি করেছে. “রসআবারোনএক্সপোর্ট” কোম্পানী ইতিমধ্যেই সেপ্টেম্বর মাসের আগে অস্ত্র রপ্তানীর বিষয়ে সারা বছরের পরিকল্পনার শতকরা ৭৫ ভাগ শেষ করে উঠতে পেরেছে. বিদেশে এখনও শেষ না হওয়া নয় মাসে বিক্রীর পরিমাণ হয়েছে প্রায় এক হাজার কোটি ডলার. আশা করা হয়েছে যে, গত বছরের চেয়ে কম এবারে অস্ত্র বিক্রী হবে না অর্থাত্ এক হাজার তিনশ কোটি ডলারের মতো হবে.

সমরাস্ত্রের বাজার বিভিন্ন কারণেই বাড়ছে. যে সব পরিস্থিতির বদল নিকটপ্রাচ্যে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে, তার থেকেই নতুন করে অস্ত্র সম্ভারে সজ্জিত হওয়ার কারণ ঘটেছে, এই কথা উল্লেখ করে স্ট্র্যাটেজি ও প্রযুক্তি বিশ্লেষণ কেন্দ্রের ডিরেক্টর রুসলান পুখভ বলেছেন:

১৯১৩ সালের ৯ই সেপ্টেম্বর, আজ থেকে ১০০ বছর আগে রুশী পাইলট পিওতর নেস্তেরভ প্রথম আকাশে তথাকথিত “মরণ গ্রন্থি” করে দেখিয়েছিলেন. এই ঘটনা এতটাই অবাক করা ছিল যে, তা নিয়ে শুধু রাশিয়ার নয়, বরং বিদেশের সংবাদপত্রও লিখেছিল. নেস্তেরভ ছিলেন এয়ারোব্যাটিক্স উড়ান প্রশিক্ষণের প্রথম ভিত্তি স্থাপক, যাঁর কল্যাণেই প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে আকাশের যুদ্ধে পাইলটদের পক্ষে যুদ্ধের সময়ে খুব একটা কম বীরত্বপূর্ণ বিজয় লাভ করা সম্ভব হয়নি.

চাঁদে অনেক জল রয়েছে, কিন্তু তা রয়েছে অনেক গভীরে. এই রকম একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ভারতের “চান্দ্রায়ণ – ১” মহাকাশযান থেকে পাওয়া তথ্যের উপরে গবেষণা করে. বিজ্ঞানীরা এই রকম একটা সম্ভাবনাকে বাদ দিচ্ছেন না যে, ভবিষ্যতের অভিযান নিয়ে, আর তার মধ্যে আবার পাইলট চালিত অভিযানগুলোর পরিকল্পনা করার সময়ে এই রকমের একটা সম্ভাবনার কথা হিসাবের মধ্যে রাখার দরকার হবে.

1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30
সেপ্টেম্বর 2013
ঘটনার সূচী
সেপ্টেম্বর 2013
1
2
3
5
6
7
8
11
13
18
20
22
23
27
28
29
30