×
South Asian Languages:
আমেরিকা – হিন্দুস্থান: সম্পর্ক ও সমস্যা সম্বন্ধে রাশিয়ার অবস্থান

দুই দেশের ব্যবসায়ী মহলকে চিন্তিত করে তুলেছে ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের মধ্যে এক শোরগোল তোলা কূটনৈতিক স্ক্যান্ডাল, যা দিয়ে ২০১৩ সাল শেষ হতে চলেছে. কিছু ব্যবসায়ী ইতিমধ্যেই মনমোহন সিংহের প্রশাসনকে আহ্বান করেছেন ঘুমন্ত সিংহকে না জাগাতে ও সাবধান করে দিয়েছেন যে, এভাবে চললে ভারত আমেরিকার ও পশ্চিমের বিনিয়োগকারীদের হারাতে পারে. ফলে আগে ঘোষণা করা ২০১৭ সালে দেশে এক লক্ষ কোটি বিদেশী ডলার বিনিয়োগ টেনে আনার লক্ষ্য অধরাই থেকে যেতে পারে.

প্রথম থেকে শেষ অবধিই অসম্ভব ঠেকেছে নিউইয়র্ক শহরে ভারতের ডেপুটি কনসাল জেনারেল দেবযানী খোবরাগাদে আচমকা গ্রেপ্তার হওয়া আর তারপরে জেলবন্দী থাকার ঘটনা. উচ্চপদস্থ এই কূটনীতিবিদকে অপমানজনক ভাবে খানাতল্লাশী করা হয়েছে ও তারপরে নানারকমের অপরাধী ও মাদকাসক্তদের সাথে একত্রে কারাবাসে বাধ্য করা হয়েছে. এই কাজ দিয়েই খুব নোংরা ভাবে বিদেশে রাষ্ট্রের প্রতিনিধি সংক্রান্ত ১৯৬৩ সালের ভিয়েনা কনভেনশন ভঙ্গ করা হয়েছে, যে দলিলে স্পষ্ট করেই লেখা রয়েছে কূটনীতিবিদদের অনাক্রম্যতা নিয়ে.

ওয়াশিংটন ও দিল্লীর মধ্যে কূটনৈতিক স্ক্যান্ডাল এবারে আরও বেশী করেই জ্বলে উঠেছে, যদিও সেটা যুক্তিসঙ্গত দেখাচ্ছে না কারণ গত দশক পূর্ব ও পশ্চিমের দুই গণতন্ত্রের ঐতিহাসিক ভাবে কাছাকাছি আসা নিয়ে কেটে গিয়েছে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতের সঙ্গে পারমাণবিক ক্ষেত্রে সহযোগিতার প্রশ্নে এগিয়ে এসেছে বাধা নিষেধ পার হয়ে আর ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহকে এমন ভাবে নিজেদের দেশে সফরের সময়ে আপ্যায়ন করেছে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বহু জোটসঙ্গী দেশের প্রধানদের দেওয়া হয় না. বাণিজ্য ও বিনিয়োগও বহু গুণে বেড়ে গিয়েছিল. মনে হয়েছিল যে, ভারত আবার করে যেন নিজেদের জন্য আমেরিকা আবিষ্কার করেছে, আর আমেরিকা – ভারতকে.

ভারত সঙ্কটের দোড়গোড়ায়. আপাততঃ অর্থনীতিবিদরা বিদেশী মূলধন আকর্ষণ করা নিয়ে যখন ব্যস্ত ও রাজনীতিবিদরা এগিয়ে দিচ্ছেন দেশের জন্য খুবই দামী খাদ্য নিরাপত্তা বিল, তখন ভারতের জাতীয় মুদ্রা রুপিয়ার দাম কমে যাওয়ার কারণে খুবই দ্রুত বেড়ে গিয়েছে যেমন জ্বালানী ও শিল্পজাত দ্রব্যের দাম, তেমনই মূল খাদ্যোপোযোগী জিনিষের দামও: আলু, পিঁয়াজ ও নুনের দাম. পরিস্থিতি একেবারে চরমে পৌঁছেছে যখন বিহারে নুনের দাম এক দিনে পনেরো টাকা থেকে দশগুণ বেড়ে দেড়শো টাকা হয়েছিল প্রতি কিলোগ্রামে.

ভারতে নির্বাচনী প্রচারের জোরদার সময়ে আমেরিকার রাজনীতিবিদরা এবারে বিরোধী পক্ষ ভারতীয় জনতা দলের নেতা ও প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে যোগাযোগের রাস্তা খুঁজছে. তাঁকে নিমন্ত্রণ করা হয়েছিল “ক্যাপিটাল হিলসে ভারত দিবসে” আমেরিকার কংগ্রেস সদস্যদের সামনে বক্তৃতা দিতে. তবে এটাও ঠিক যে, ব্যক্তিগত ভাবে নয়, স্রেফ ভিডিও যোগাযোগের মাধ্যমে.

ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামার মধ্যে ওয়াশিংটনে সাক্ষাত্কারের অব্যবহিত পূর্বে দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে নতুন স্ক্যান্ডাল ফেটে পড়েছে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার তথ্য, যা ভারতের সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে দেখা গিয়েছে যে, আমেরিকার গুপ্তচর বাহিনী খুবই সক্রিয়ভাবে ভারতের সরকারি কর্মচারী, বিজ্ঞানী ও রাজনীতিবিদদের উপরে গোয়েন্দাগিরি করেছে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফাঁদের মধ্যে ভারতবর্ষ রয়েছে এই খবর আরও একটি বিরক্তির কারণ হয়েছে দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে, যা খুবই আর্থ- বাণিজ্যিক বিরোধ ও পররাষ্ট্র রাজনীতির বিরোধের মধ্যে উদ্ভব হয়েছে. এই প্রসঙ্গে সমীক্ষক সের্গেই তোমিন মন্তব্য করে বলেছেন:

নিউইয়র্কে গত সপ্তাহের শেষে এক শিখ সম্প্রদায়ের প্রফেসরকে মারধর করার জন্য তা যেমন ভারতের শিখ সম্প্রদায়ের মধ্যে, তেমনই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিখ সম্প্রদায়ের মধ্যে এক প্রতিবাদের বন্যা ডেকে এনেছে. কিন্তু এখানে সমস্যা যথেষ্ট প্রসারিত: এটা এক মর্মান্তিক ঘটনা – তা স্রেফ অনেক ঘটনার মধ্যে একটা, যা প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, পশ্চিমের সমাজের পক্ষ থেকে প্রাচ্যের সভ্যতা ও বিশেষত্ব সম্বন্ধে সম্পূর্ণ রকমের অজ্ঞতা ও অবুঝ মনোভাবের পরিচয় প্রকট – আর তা শুধু আলাদা করে সমাজের নীচু তলার কয়েকজন বদমাশ লোকেরই নয়, বরং সমাজের উচ্চ মহলের প্রতিনিধিদেরও, এই রকম মনে করেন স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ বরিস ভলখোনস্কি.

বিদেশের রাজনীতিবিদদের মধ্যে ভারতের গুজরাট রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও বিরোধী ভারতীয় জনতা পার্টি দলের মোর্চার প্রাক্ নির্বাচনী নেতা নরেন্দ্র মোদীকে নিয়ে পরস্পর বিরোধী প্রতিক্রিয়া এখনও একই রকমের রয়েছে. আর সব কিছুই সেই তাঁর নামের সঙ্গে ২০০২ সালে গুজরাটে মুসলমানদের উপরে দাঙ্গার সময়ে প্রশ্রয় দেওয়ার কথা জড়িয়ে থাকার জন্যই রয়েছে.

ভারত সফরের সময়ে বৃহস্পতিবারে মার্কিন উপরাষ্ট্রপতি জো বাইডেনের ঘোষিত উদ্যোগে, রাশিয়ার রাজনীতিবিদ ও কূটনীতিজ্ঞদের খুবই সাবধান হওয়া উচিত্. এই বিষয়ে “রেডিও রাশিয়াকে” রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ পিওতর তোপীচকানভ মন্তব্য করে বলেছেন. মুম্বাই শহরে আমেরিকার রাজনীতিবিদ প্রস্তাব করেছেন ওয়াশিংটন, নয়াদিল্লী ও বেজিংয়ের মধ্যে ত্রিপাক্ষিক আলোচনার ব্যবস্থা করতে.
ভারতে ইংরাজী ভাষা “খুবই ক্ষতি” নিয়ে এসেছে. এই চমকপ্রদ ঘোষণা কোন প্রফেসর ভাষাবিদ করেন নি, যিনি কোন অবাক করার মতো ভাষা বিদ্যার তত্ত্বে বিশ্বাস করেন, বরং করেছেন ভারতীয় বিরোধী পক্ষের এক নেতা – ভারতীয় জনতা পার্টির সভাপতি রাজনাথ সিংহ.
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্র সচিব জন কেরি প্রথম সরকারি ভাবে ভারত সফরে গিয়েছেন. তাঁর এই সফরের প্রধান ফলাফল হয়েছে ব্যবসায়িক সহযোগিতা বিষয়ে প্রসার নিয়ে সমঝোতা, প্রাথমিক ভাবে, জ্বালানী ক্ষেত্রে, উচ্চ প্রযুক্তি ক্ষেত্রে, সামরিক ও নিরাপত্তা রক্ষা ক্ষেত্রে. প্রসঙ্গতঃ, সমস্ত পারস্পরিক বিরক্তির কারণ পররাষ্ট্র প্রধানের পক্ষে দূর করা সম্ভব হয় নি.
ভারত জাপানের প্রতিরক্ষা শিল্পোত্পাদনের প্রথম ক্রেতা রাষ্ট্র হতে পারে. টোকিও শহরে হয়ে যাওয়া আলোচনা, যা প্রধানমন্ত্রী সিঞ্জো আবে ও ভারতের মন্ত্রীসভার প্রধান মনমোহন সিংহের মধ্যে হয়েছে, তাতে দুই পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, ভারতে সরবরাহ ও সম্ভাব্য যৌথ উত্পাদন করা হতে পারে জাপানের উভচর বিমান ইউএস-২ এর. বিষয় নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.
সোমবারে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ জাপানে সফর শুরু করেছেন – এই দেশে সরকার বদল হওয়ার পরে প্রথমবার. মুখ্য আলোচ্যের মধ্যে রয়েছে – পারমানবিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা ও জাপানের বিনিয়োগ ভারতীয় অর্থনীতিতে লগ্নি করা. প্রসঙ্গতঃ, এই সফরের সংজ্ঞা অর্থনীতি ছাড়িয়ে অনেক দূরে প্রসারিত – তা দেখা দরকার সমগ্র এশিয়া- প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় স্ট্র্যাটেজিক শক্তি বিন্যাসের কাঠামো তৈরীর পরিপ্রেক্ষিতে.
ভারতের বেসরকারি সংগঠন:শিকারী নাকি শিকার? ভারত সরকার বেসরকারি সংগঠন গুলির কাজকর্মের নিয়মকে কঠোর করেছেন, এবারে সেই সমস্ত সংগঠনকে দেশের বাইরে থেকে অর্থ সহায়তা পাওয়া বন্ধ করা হচ্ছে, যারা প্রশাসনের সমালোচনা করে বক্তব্য প্রকাশ করছে.
মঙ্গলবারে চিনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সরকারি ভাবে প্রথমবার একটি দলিল প্রকাশ করেছে (তথাকথিত শ্বেত পত্র), যাতে দেশের সামরিক বাহিনীর পরিসংখ্যান ও প্রতিরক্ষা খাতে খরচ বিশদ ভাবে দেখানো হয়েছে.
রবিবারে জাতীয় গণতান্ত্রিক জোটের অন্তর্গত জেডিইউ-র পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে যে, তারা ২০১৪ সালের সারা দেশ জোড়া লোকসভা নির্বাচনে বিরোধী পক্ষের তরফ থেকে ভারতীয় জনতা পার্টির নেতা – ৮৭ বছর বয়সী লালকৃষ্ণ আডবাণীকে প্রার্থী হিসাবে প্রস্তাব করার বিষয়ে আপত্তি করবে না.
বৃহস্পতিবারে দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবান শহরে আয়োজিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন শেষে দেশে ফেরার সময়ে সাংবাদিকরা প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বিমানে ভারতের আশি বছর বয়সী প্রধানমন্ত্রী ডঃ মনমোহন সিংহকে প্রশ্ন করেছিলেন, যে, তিনি কি ২০১৪ সালের নির্বাচনের পরে তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য যাবেন, যদি দলের নেতৃত্ব থেকে এটা চাওয়া হয় তাহলে.
প্রায় এক সপ্তাহ আগে, যখন রাষ্ট্রসঙ্ঘের মানবাধিকার পরিষদ শ্রীলঙ্কার প্রশাসনকে সমালোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে, তার পরেও ভারতে এই বিষয়ে উত্তেজনা কিছুতেই কমছে না. নিজের থেকেই এই সিদ্ধান্ত যথেষ্ট কড়া চরিত্রের, কিন্তু, ভারতের নেতৃস্থানীয় তামিল রাজনীতিবিদদের মতে, তা যথেষ্ট কঠোর নয়.
কোন অপ্রত্যাশিত কিছু না ঘটলে এখনও এক বছরের বেশী দেরী রয়েছে ভারতে সারা দেশ জোড়া লোকসভা নির্বাচনের আর আগামী পাঁচ বছরের জন্য রাজনৈতিক শক্তি গুলির অবস্থান কি হতে চলেছে, তা বলা বোধহয় সময়ের আগেই হয়ে যাবে.
এই সপ্তাহে জেনেভা শহরের রাষ্ট্রসঙ্ঘের মানবাধিকার পরিষদের সভায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের খসড়া অনুযায়ী শ্রীলঙ্কায় মানবাধিকার রক্ষা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ভোটাভুটির কথা রয়েছে. এখনও না হওয়া ভোটের ফল ইতিমধ্যেই ভারতের আভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে দেখতে পাওয়া গিয়েছে: তামিল দল দ্রাভিড় মুন্নেত্রা কাঝগম (ডিএমকে) ঘোষণা করেছে যে, তারা জোটের সরকার ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছে.
আগের
1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30
জুন 2017
ঘটনার সূচী
জুন 2017
1
2
3
4
5
6
7
8
9
10
11
12
13
14
15
16
17
18
19
20
21
22
23
24
25
26
27
28
29
30