×
South Asian Languages:
আফগানিস্তানের সমস্যা ও রাশিয়ার অবস্থান, 2013

২০১৪ সালের পরে, যখন সেই দেশ থেকে পশ্চিমের জোট শক্তির মূল অংশ বেরিয়ে চলে যাবে, তখন আফগানিস্তানের পরিস্থিতি কি রকমের হতে চলেছে, তা নিয়ে রাশিয়া ও ন্যাটো জোটের প্রতিনিধিরা ভবিষ্যদ্বাণীর ক্ষেত্রে পার্থক্য দেখতে পেয়েছেন. মস্কোতে আলোচনা শুরু হয়েছে ন্যাটো জোটের প্রতিনিধি কার্যালয় ও রাশিয়ার রাজনৈতিক গবেষণা কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে. এই সব বিতর্কের কারণে সম্মেলনের একটি মুখ্য প্রশ্ন যে, কিভাবে আফগানিস্তানের বিষয়ে সহযোগিতা করা দরকার রয়েছে, তা উত্তর বিহীণ রয়ে গিয়েছে.

আফগানিস্তানের রাষ্ট্রপতি হামিদ কারজাই ভারত সফরে গিয়েছিলেন. আসন্ন সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো জোটের পক্ষ থেকে আফগানিস্তানের মূল সেনাবাহিনী প্রত্যাহার, কাবুল ও দিল্লীর সামনে খুবই কঠিন প্রশ্ন উপস্থিত করেছে, যেগুলোর সমাধানের উপরে নির্ভর করছে শুধু আফগানিস্তানের ভবিষ্যতই নয়, বরং সমগ্র মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তাও.

আফগানিস্তানের রাষ্ট্রপতি হামিদ কারজাই – ভারতীয় রাজধানীর এক নিয়মিত অতিথি, কিন্তু তাঁর এই বিগত চার দিনের সফরকে বিশেষ বলে উল্লেখ করা সম্ভব, এই রকম মনে করে আমাদের সমীক্ষক সের্গেই তোমিন বলেছেন:

যদিও আন্তর্জাতিক জোটের মূল শক্তি আফগানিস্তান ছেড়ে আগামী বছরে চলে যাবে, তবুও মনে করা হয়েছে যে, আমেরিকার সেনাবাহিনীর এক সামান্য অংশ সেখানে তাও থেকে যেতে চলেছে. এটাও সত্যি যে, আপাততঃ সম্পূর্ণ ভাবে জানা যায় নি যে, কত সংখ্যক সৈন্য থাকবে, অথবা সেটাও যে, এই সমস্ত সেনারা কি নিয়ে কাজ করবে.

এরই মধ্যে ওয়াশিংটন রাষ্ট্রপতি হামিদ কারজাইয়ের সঙ্গে দরাদরি করে কাবুল থেকে সেনা প্রত্যাহার করার ভয় দেখাচ্ছে, যাতে আফগান প্রশাসন তালিবানের সঙ্গে মুখোমুখি হতে বাধ্য হয়. তবে এটাও ঠিক যে, এই ধরনের হুমকির সত্যতা খুব কম লোকই বিশ্বাস করেন.

যখন হোয়াইট হাউসের থেকে পাঠানো দূতেরা ও আফগানিস্তানের রাষ্ট্রপতি খুবই কড়া ভাষায় একে অপরের সঙ্গে আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা নিয়ে চুক্তির বিষয়ে সময় ও শর্ত নিয়ে আলোচনায় মত্ত, তখনই বিশেষজ্ঞরা অনুমান করতে বসেছেন যে, কি করে এই দরাদরি আফগানিস্তানের অন্যান্য জীবন যাপনের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলবে.

কাবুলে কিছু বিশেষজ্ঞ ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছেন যে, আফগানিস্তানের লোকদের এই চুক্তির একেবারেই কোন দরকার নেই, কারণ দেখাই যাচ্ছে যে, আমেরিকার লোকরা আফগানিস্তানকে কিছুই দেয় নি, শুধুমাত্র সেই দেশে মাদক দ্রব্য উত্পাদনের বিষয়ে তুমুল পরিমাণে অগ্রগতি ছাড়া. আরও একদল মনে করেছেন যে, এই চুক্তির আবার কিছু ইতিবাচক দিকও রয়েছে, যা ব্যবহার করা দরকার.

আফগানিস্তানের পার্লামেন্ট জির্গা অধিবেশনে অংশ নেওয়া সদস্যরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক চুক্তি স্বাক্ষর করার স্বপক্ষে মত দিয়েছেন ও তাঁরা আহ্বান করেছেন রাষ্ট্রপতি হামিদ কারজাইকে ২০১৩ সাল শেষ হওয়ার আগেই এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করার জন্য. কারজাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নিজের পক্ষ থেকে শর্ত দিয়েছেন. তার মধ্যে রয়েছে ২০১৪ সালের এপ্রিল মাসে দেশে উন্মুক্ত নির্বাচন বাস্তবায়নে সহায়তা করা ও আফগানিস্তানের ঘর বাড়ীতে হানা দেওয়া বন্ধ রেখে, তালিবদের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি করা.

তথাকথিত “সমস্যামালা – ২০১৪” – অর্থাত্ আফগানিস্তান থেকে আন্তর্জাতিক জোটের সেনা প্রত্যাহারের অপেক্ষায় থেকে বিশেষজ্ঞরা আপাততঃ সবচেয়ে মূল প্রশ্নের বিষয়ে এখনও একমত হতে পারেন নি. আর সেটা হল: যদি আফগানিস্তানে শাসন ব্যবস্থাই অস্থিতিশীল হয়ে দাঁড়ায়, তবে কতখানি সম্ভাবনা রয়েছে যে, “তালিবান” ও অন্যান্য চরমপন্থী গোষ্ঠীরা উত্তরের দিকে রওয়ানা দেবে? কিন্তু যদি এটা ঘটে, তবে সেই প্রসারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে পারে একমাত্র যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সংস্থা.

কাবুলের জন্য আলাদা করে দেওয়া অর্থ কিভাবে খরচ করা হচ্ছে, তা ২০১৪ সালে সেনা বাহিনী প্রত্যাহার করে নেওয়ার পরে আমেরিকার লোকদের পক্ষে খুবই কঠিন হবে খোঁজ করায়. আফগানিস্তান পুনর্গঠনের জন্য বিশেষ মার্কিন প্রধান পর্যবেক্ষক জন সপকোর লেখা একটি চিঠিতে এই কথাই বলা হয়েছে. এই দলিল মার্কিন প্রশাসনের বিভাগীয় প্রধানদের ও পেন্টাগনের কাছে পাঠানো হয়েছে.

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো জোটের সেনা বাহিনী ২০১৪ সালে চলে যাওয়ার পরে চিন তৈরী হচ্ছে আফগানিস্তানে নিজেদের অবস্থান মজবুত করার জন্যে. এই বিষয়ে সাহায্য করতে বাধ্য গণ প্রজাতান্ত্রিক চিনের চেয়ারম্যান সি জিনপিনের সঙ্গে আফগানিস্তানের রাষ্ট্রপতি হামিদ কারজাইয়ের ব্যক্তিগত পরিচয়. আফগানিস্তানের নেতা এখন তাঁর ষষ্ঠ চিন সফর করছেন আর বর্তমানের নতুন চেয়ারম্যানের সময়ে প্রথমবার.

যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি সংস্থা তাজিকিস্তানকে অস্ত্র ও অর্থ দিয়ে সাহায্য করবে. সোচী শহরে সোমবারে ঠিক করা হয়েছে দুশানবের সহায়তার জন্য আন্তর্রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা গ্রহণের ও আফগানিস্তানের সঙ্গে সীমান্ত এলাকাকে ভাল করে তৈরী করার. পূর্বাভাস থাকা স্বত্ত্বেও নেতারা রাশিয়ার সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে এই এলাকায় পাঠানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন নি. এমনকি সেই তথ্যও কোন রকমের সমর্থন পায় নি যে, সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্র নষ্ট করার জন্য যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি সংস্থার সদস্য দেশ থেকে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনার কথা ঘোষণা করা হবে.

দোহা শহরে তালিবদের অফিসের উপরে “ঐস্লামিক আমীরশাহী আফগানিস্তানের” পতাকা উত্তোলন নিয়ে ইতিহাসের পরে তালিবদের সঙ্গে আলোচনার বিষয়টা কাবুলের সরকারি শব্দকোষ থেকে হারিয়ে গিয়েছিল. কিন্তু দেখা গেল যে, শুধু সেই কারণেই, যাতে নতুন উদ্যোগের নাম করে আবার ফিরে আসা সম্ভব হয়. আফগানিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের সরকারি প্রতিনিধি ঝানান মুসাজাই ঘোষণা করেছেন যে, তালিবরা নিজেদের প্রতিনিধি দপ্তর তুরস্ক বা সৌদী আরবে খুলতেই পারে, যাতে আফগানিস্তানের সর্ব্বোচ্চ শান্তি সভার সাথে শান্তি আলোচনা করা যেতে পারে.

“রেডিও রাশিয়ার” সমীক্ষা. আফগানিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ঘোষণা করা হয়েছে যে, আগামী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময়ে নিরাপত্তা বজায় রাখা নিয়ে পরিকল্পনা তৈরী করা হয়েছে, যা আগামী ২০১৪ সালের এপ্রিল মাসে হবে. এই প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘোষণা করেছে যে, আফগানিস্তানের জাতীয় বাহিনী দেশের ৬৮৪৫টি ভোট গ্রহণ কেন্দ্রের সবকটিতেই নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য ক্ষমতা ধরে. এই ধরনের আশ্বাস কতটা বাস্তব – যদি সেই প্রকৃত পরিস্থিতিকেই শুধু হিসাব করা হয় যে, বর্তমানে দেশের অনেকাংশই, দেশের সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে নেই, তা হলে?

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে আফগানিস্তানে সামরিক অপারেশনের সমর্থন দেশের লোকের সমর্থন হারিয়েছে রেকর্ড হওয়া নীচু স্তরে. “ওয়াশিংটন পোস্ট

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবারে আফগানিস্তান ছেড়ে যাচ্ছে, পেছনে রেখে যাচ্ছে অর্ধেক ধ্বসে পড়া এক রাষ্ট্র ও বহু শত কোটি ডলার, যা এই আফগানিস্তানের জমিতেই তারা আক্ষরিক অর্থে প্রোথিত করে রেখে যাচ্ছে. কিছু তথ্য অনুযায়ী আমেরিকার পক্ষ থেকে আফগানিস্তানের যুদ্ধের জন্য সেই দেশের করদাতাদের ৬৩ হাজার কোটি ডলার খরচা হয়েছে.
আফগানিস্তান থেকে নিজেদের সেনা বাহিনীকে যত দ্রুত সম্ভব ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য বর্তমানে মার্কিন প্রশাসন চিন্তা করে দেখছে, বলে জানিয়েছে “নিউইয়র্ক টাইমস” সংবাদপত্র. আফগানিস্তানে এই বিষয় নিয়ে কি ভাবা হচ্ছে?
    রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে. যে তালিবদের সাথে আলাপ-আলোচনা ফলপ্রসূ হতে পারে শুধুমাত্র আফগান সরকারের মুখ্য ভূমিকায় এবং আপোষ করার মুলনীতিগুলো মেনে চললে.     ইতিপূর্বে পশ্চিমী সংবাদ মাধ্যমগুলি জানিয়েছে, যে আমেরিকা থেকে দোহায় একটি প্রতিনিধিদল এসে পৌঁছেছে, যেখানে তালিবরা সদ্য তাদের রাজনৈতিক ব্যুরো খুলেছে. তালিবরা এই খবরের সত্যতা অস্বীকার করেনি, কিন্তু মার্কিনী বিদেশ দফতর করেছে.
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তালিবান আন্দোলনের মধ্যে সরাসরি আলোচনা বাকী রাখা হয়েছে. এই পিছিয়ে দেওয়ার কারণ হয়েছে আফগানিস্তানের সরকারি পক্ষের উল্টো পথে চলার জন্য, যারা শান্তি প্রক্রিয়াতে নাম ভূমিকায় থাকতে চেয়েছে. আফগানিস্তানের শান্তি প্রক্রিয়াতে আরও একটি তৃতীয় পক্ষ রয়েছে, যারা নিজেদের এইখানে প্রচার না করা ভূমিকাকেই মনে করে থাকে মুখ্য বলে. তা হল পাকিস্তান.
পশ্চিমের রাজনীতিবিদরা ও আফগান সরকার খুবই আশাবাদী আফগানিস্তান থেকে আসন্ন বিদেশী সৈন্য প্রত্যাহার নিয়ে. এঁরা আর ওঁরা নিজেদের পক্ষ থেকে সবচেয়ে আনন্দময় পূর্বাভাস দিচ্ছেন, যা স্থানীয় শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর হাতে দেশের নিরাপত্তার ভার তুলে দেওয়া নিয়ে ন্যাটো জোটের নেতৃত্ব ও আফগানিস্তানের রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেছেন ১৮ই জুন. কিন্তু পরিস্থিতি কি এতই মেঘ শূণ্য?
     আফগানিস্তানের শেষ প্রদেশ ও এলাকাগুলিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার ভার দেশের জাতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে অর্পণ করাকে গোটা প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ এক পর্ব, বলে অভিহিত করেছেন ন্যাটো জোটের সাধারণ সম্পাদক অ্যান্ডার্স ফগ রাসমুসেন. "এই মুহুর্তটি খুবই তাত্পর্য্যবাহী, যখন আফগানি সশস্ত্র শক্তি দেশের সর্বত্র নিরাপত্তা সুরক্ষা করার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেবে" - উল্লেখ করেছেন ফগ রাসমুসেন.
বুধবার সকালে আমেরিকার ড্রোন বিমান আঘাতে উত্তর ওয়াজিরিস্তানে রাজধানী মিরানশাহ উপকণ্ঠে নিহত হয়েছে ওয়ালিউর রেহমান – এ সেই ব্যক্তি, যকে মনে করা হত পাকিস্তানের তেহরিক-এ-তালিবান দলের দ্বিতীয় মুখ্য নেতা বলে. মনে হতে পারে যে, আমেরিকার সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে আরও একটি প্রতিধ্বনি তোলা জয় হয়েছে.
যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি সংগঠনের দেশ গুলি সমঝোতায় পৌঁছেছেন তাজিক- আফগান সীমান্ত প্রতিরক্ষার জন্য ২০১৪ সালে ন্যাটো জোটের সেনা বাহিনী আফগানিস্তান থেকে প্রত্যাহারের পরে শক্তি জড়ো করার. বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সংগঠনের পক্ষে সম্ভব হবে বহু সংখ্যক সীমান্ত পার হয়ে আসা বিপদের উপযুক্ত বাধা দান করার, যা এই এলাকাতে এখন তৈরী হচ্ছে.
আগের
1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31
জানুয়ারী 2013
ঘটনার সূচী
জানুয়ারী 2013
1
2
3
4
5
6
7
8
9
10
11
12
13
14
15
16
17
18
19
20
21
22
23
24
25
26
27
28
29
30
31