×
South Asian Languages:
আফগানিস্তানের সমস্যা ও রাশিয়ার অবস্থান, 2012
১৯৭৯ সালের ২৪শে ডিসেম্বর সোভিয়েত দেশের সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় দপ্তরের প্রধান মার্শাল নিকোলাই অগারকভ এক ঘোষণা পাঠ করেন, যেটি অনুযায়ী ২৫শে ডিসেম্বর সোভিয়েত বাহিনী বাধ্য হয়েছিল আফগানিস্তানের সীমান্ত পার হয়ে অনুপ্রবেশ করতে. এই দিন থেকেই শুরু হয়েছিল আফগানিস্তানে সোভিয়েত বাহিনীর সামরিক উপস্থিতির হিসাব শুরু.
পাকিস্তানের সরকার আফগানিস্তান থেকে তাদের দেশে আসা উদ্বাস্তুদের ৩০শে ডিসেম্বর অবধি সময় দিয়েছে দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্যে. না গেলে তাদের জোর করে দেশ থেকে বের করে দেওয়া হবে. বিভিন্ন উত্স থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী পাকিস্তানে ১৫ থেকে ৩০ লক্ষ আফগানিস্তানের উদ্বাস্তু রয়েছে. আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ এই নিয়ে বিশদ করে বলেছেন.
ইরান আফগানিস্তানে বিদেশী সামরিক উপস্থিতির অবসান চেয়েছে. রাষ্ট্রসঙ্ঘে ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধির ডেপুটি এশাক আল- হাবিব নিজের দেশের অবস্থান সম্বন্ধে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেছেন যে, আফগানিস্তানে বিদেশী শক্তির উপস্থিতি শুধু এই দেশে পরিস্থিতিকেই অস্থিতিশীল করছে. প্রতিবেশীদের মতামত অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু বর্তমানের ক্ষেত্রে চোখে পড়ার মতো হয়েছে যে, প্রতিবেশীরা একেবারেই উল্টো অবস্থানে রয়েছেন. এই প্রসঙ্গে পিওতর গনচারভ মন্তব্য করেছেন.
পাকিস্তান আফগানিস্তানের অনুরোধে জেল থেকে তালিব দলের নেতাদের ছেড়ে দিতে পারে. এই প্রসঙ্গে এক ঘোষণায় যৌথ ভাবে জানিয়েছে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর ও আফগানিস্তানের সর্ব্বোচ্চ শান্তি সভা. বিষয় নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ. এই ঘোষণা ইসলামাবাদে আলোচনার পরে করা হয়েছে.
আফগানিস্তানের রাষ্ট্রপতি হামিদ কারজাই গত সপ্তাহে তাঁর পাঁচ দিন ব্যাপী ভারত সফরে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাত্কার করেছেন ও বেশ কিছু সহযোগিতা নিয়ে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন.
আফগানিস্তানে বর্তমানের সপ্তাহ এমন এক খবর দিয়ে শেষ হচ্ছে, যা সারা সপ্তাহের সেরা খবর হওয়ার দাবী করতে পারে. আফগানিস্তানে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দিনক্ষণ ঠিক হয়েছে এই খবর বিশেষজ্ঞদের জন্য প্রধান খবর হয়েছে.
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পরিবহন বাহিনীর প্রধান জেনারেল উইলিয়াম ফ্রেজারের আফগানিস্তানের সঙ্গে সীমান্তবর্তী মধ্য এশিয়ার প্রজাতন্ত্র – তুর্কমেনিস্থান, উজবেকিস্তান, তাজিকিস্তানে সফর, অবশ্যই বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টি এড়াতে পারে নি. পিওতর গনচারভের এই প্রসঙ্গে মন্তব্য. ন্যাটো জোট ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী সম্পূর্ণ ভাবে আফগানিস্তান থেকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার আগে পর্যন্ত শেষ দুই বছর – এটা খুব একটা বেশী সময়ের অপেক্ষা নয়.
আফগানিস্তানের অর্থনৈতিক উন্নতি – সমস্ত এলাকার জন্যই স্থিতিশীলতার শর্ত. কিন্তু আপাততঃ এই দেশ অর্থনৈতিক স্বাবলম্বীতার চেয়ে অনেক দূরে. ন্যাটো জোটের সেনা বাহিনীকে আফগানিস্তান থেকে আসন্ন ফিরিয়ে আনা নিয়ে অনেকেই নিজেদের মতো করে তৈরী হচ্ছে. এই বিষয়ে “রেডিও রাশিয়াকে” দেওয়া একান্ত সাক্ষাত্কারে ইউরোপীয় নিরাপত্তা ও সহযোগিতা সংস্থার সাধারন সম্পাদক লামবের্তো জানিয়ের মন্তব্য করেছেন.
পেন্টাগন থেকে সমর্থন করা হয়েছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আগে থেকে ঠিক করা সময়সীমা অনুযায়ী ২০১৪ সালের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করবে, আর সেখানে শুধু রেখে দেবে খুবই কম উল্লেখ্য উপস্থিতি. এই বিষয়ে সাংবাদিকদের জন্য এক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সময়ে ঘোষণা করেছেন আমেরিকার সেনাবাহিনীর দপ্তরের প্রধান লিওন প্যানেত্তা. কতটা কম উল্লেখযোগ্য হবে এই উপস্থিতি, তা নিয়ে এখনও কোন রকমের তথ্য নেই.
২০১৪ সালের পরে আফগানিস্তানে ন্যাটো জোটের সামরিক বাহিনীর ভবিষ্যত নিয়ে স্পষ্ট করে জানতে মস্কো থেকে স্থির করা হয়েছে. এই জোটের নেতৃত্ব একাধিকবার ঘোষণা করেছে যে, এই সময়ের মধ্যেই এই দেশ থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করার কাজ শেষ হয়ে যাবে. কিন্তু বর্তমানে পাওয়া খবর থেকে দেখা যাচ্ছে যে, আফগানিস্তানে বিদেশী ঘাঁটি তাও থেকেই যাবে.
চিন আফগানিস্তানে নিজেদের প্রভাব বৃদ্ধির জন্য খুবই সংজ্ঞাবহ এক কাজ করেছে. বিগত সপ্তাহান্তের দিন গুলিতে কাবুল শহরে, এক আগে থেকে না জানানো সফরে এসেছিলেন চিনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় পরিষদের নেতা চ্ঝোউ ইউনকান. এটি ১৯৬৬ সালের পর থেকে চিনের এত উচ্চ পর্যায়ের কোনও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তির আফগানিস্তানে প্রথম সফর.
এই সপ্তাহে বিশ্ব সমাজ স্মরণ করেছে ২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বরের ট্র্যাজেডির ঘটনায় নিহতদের. ঠিক ১১ বছর আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আল- কায়দা দলের সন্ত্রাসবাদী অন্তর্ঘাত হয়েছিল.
পাকিস্তানে ঘাঁটি গেড়ে বসা সামরিক দল হাক্কানি এবারে আমেরিকার সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীর তালিকায় যুক্ত হয়েছে. এই হাক্কানি দলকে ব্ল্যাক লিস্ট করার তথ্য পররাষ্ট্র সচিব হিলারি ক্লিন্টন এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনে ভ্লাদিভস্তকে দিয়েছেন. বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করেন: ইসলামাবাদের উপরে চাপ বাড়ানোর জন্যই এই ব্ল্যাক লিস্ট করা হয়েছে, যাদের এখনও ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুদ্ধার করা হয় নি.
কাবুল ও ইসলামাবাদের সম্পর্কে “ড্যুরান্ড লাইন” নিয়ে সমস্যা আবারও “তীক্ষ্ণ” হয়েছে. বিশেষ করে এটা লক্ষ্যণীয় হয়েছে কুনার রাজ্যে “অন্য পার থেকে” অনুপ্রবেশ করা জঙ্গীদের নিয়ে মন্তব্য গুলিতে, যা করেছেন ভুলুসি জির্গা প্রতিনিধিরা. আফগানিস্তানের সাইট গুলিতে যেমন লেখা হয়েছে যে, কিছু পার্লামেন্ট সদস্য এমনকি রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের পর্যায়ে এই সমস্যার সমাধান করতে চেয়েছেন.
রয়টারস সংস্থার খবর অনুযায়ী আফগানিস্তানের তালিবরা ভারতের আফগানিস্তান সংক্রান্ত অবস্থানকে খুবই উচ্চ মূল্যায়ন করেছে – অংশতঃ ভারতের পক্ষ থেকে আফগানিস্তানের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে একেবারেই হস্তক্ষেপ না করার প্রবল ইচ্ছা. কয়েকদিন আগেই দিল্লী সফরের সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী লিওন প্যানেত্তা আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ভারতের অংশগ্রহণ সক্রিয় করা নিয়ে আহ্বান করেছিলেন. তালিবরা ভারতের অবস্থানের প্রতি স্রেফ সমর্থন করেই ক্ষান্ত হয় নি.
আন্তর্জাতিক নিরাপত্তারক্ষী শক্তি যবেই আফগানিস্তান থেকে ফিরুক না কেন, তার আগে মাদক দ্রব্য পাচার ও সন্ত্রাসবাদ নিকাশ করার কর্তব্য সম্পন্ন করতে হবে ও জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সামনে রিপোর্ট দাখিল করতে হবে. এই মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরোভ কাবুলে আয়োজিত উচ্চস্তরের সম্মেলনে. সম্মেলনে বক্তব্য রেখে লাভরোভ আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলে, যেখানে ভূমিকম্পে ১৭০ জন মারা গেছে, সে ব্যাপারে সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন.
রাশিয়া আফগানিস্তানের অর্থনীতি পুণরূদ্ধারে আগ্রহী ও তার খোলনলচে প্রস্তুত করার যে কোনো প্রকল্পে যোগ দিতে রাজি, সাংবাদিকদের এই কথা বলেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরোভ.     বৃহস্পতিবারে রাশিয়া ও আফগানিস্তানের রাষ্ট্রপতিদের বৈঠকের পরে রাশিয়ার মন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, যে রাশিয়া অন্যান্য দেশের সঙ্গে একসাথে সালাঙ্গ সুড়ঙ্গ পুণরূদ্ধার করার কাজে, তাপবিদ্যুতকেন্দ্র বানানোর কাজে, সার তৈরীর কারখানা পুণর্স্থাপন করার কাজে হাত দিতে প্রস্তুত.
ন্যাটো জোটের নেতৃত্ব চিকাগো শহরের শীর্ষবৈঠকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে. পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন ও তৈরী হচ্ছেন যখন আফগানিস্তানের সমস্যা নিয়ে আলোচনা হবে, তখন চিকাগো যাওয়ার জন্য.  মনে হতে পারে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তান ঠিক করেছে আগের সহযোগী সম্পর্কে ফিরে আসার, কিন্তু এটা তা নয়.
 ন্যাটো মধ্য এশিয়াতে নিজেদের পিছনের দিক মজবুত করছে. ন্যাটো জোটের সদস্য দেশগুলির সম্মেলনে অংশ নেবে কাজাখস্থান, কিরগিজিয়া, উজবেকিস্তান ও তাজিকিস্থান. ব্রাসেলস শহরে আশা করা হয়েছে এই সব দেশগুলির সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধির, এখন তা শুধু মাল ট্রানজিট বিষয়েই সীমাবদ্ধ.
 মার্কিন কংগ্রেস ওবামা প্রশাসনের কাছ থেকে পররাষ্ট্র দপ্তরের বিদেশী সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীর তালিকায় “হাক্কানি নেট ওয়ার্ক” যোগ করার দাবী করেছে. উপযুক্ত পত্র, দুই রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকেই পার্লামেন্ট সদস্যদের কাছ থেকে স্বাক্ষরিত হয়ে শুক্রবারে পররাষ্ট্র সচিব হিলারি ক্লিন্টনের কাছে পাঠানো হয়েছে. বিষয় নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.
আগের
1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31
জানুয়ারী 2012
ঘটনার সূচী
জানুয়ারী 2012
1
2
3
4
5
6
7
8
9
10
11
12
13
14
15
16
17
18
19
20
21
22
23
24
25
26
27
28
29