×
South Asian Languages:
সন্ত্রাসবাদের সমস্যা ও রাশিয়ার অবস্থান, নভেম্বর 2013

যে কোন ট্র্যাজেডির বর্ষপূর্তি - এটা শুধু তাতে নিহতদের স্মৃতিতে তর্পণ করার সময় নয়, বরং আরও ভাবার যে, সব কিছুই কি করা হয়েছে, যাতে এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি আর কখনও না হতে পারে. ২০০৮ সালের মুম্বাই শহরে সন্ত্রাসবাদী আক্রমণের পাঁচ বছর পরে কে দোষী আর কি করা দরকার এই প্রশ্নগুলোর যে উত্তর পাওয়া গিয়েছে, তা যথেষ্ট মনে হচ্ছে না. এই ধরনের শেষ অবধি না বলার প্রমাণ হতে পারে এই সপ্তাহে রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিব বান কী মুনের আহ্বান যে, “এই ভয়ানক অপরাধের সমস্ত দোষীদের ন্যায্য বিচারের জন্য শক্তি প্রয়োগ চালিয়ে যাওয়া দরকার”. নিরাপত্তা রক্ষীদের সঙ্গে লড়াইয়ে একমাত্র বেঁচে যাওয়া সন্ত্রাসবাদী পাকিস্তানের নাগরিক আজমল কাসবের বিচার হয়েছে ও তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে. কিন্তু এই সমস্ত জঙ্গীদের যারা পুতুল নাচ করিয়েছিল, সেই সমস্ত নেপথ্যে থাকা ক্রীড়নকরা – যারা এই অপরাধের বরাত দিয়েছিল আর আয়োজন করেছিল, তারা এখনও মুক্তিই রয়েছে. ভারতের পক্ষ থেকে ধারণা অনুযায়ী তারা আছে পাকিস্তানে. মনে হয় সেই লোকদের কথাই মনে করে রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিব আহ্বান করেছেন, যাতে অনেক বছর পার হয়ে যাওয়ার পরেও ন্যায্য বিচার পাওয়া সম্ভব হয়.

২০০৮ সালে নির্বাচনের সময়ে সাফল্যের পরে নেপালের মাওবাদী দল এবারে এমন এক পরিস্থিতিতে পড়েছে যে, তারা এবারে দেখাতে বাধ্য হবে যে, তারা শুধু জিততেই নয়, বরং সভ্য ভাবে হারতেও পারে. এই দেশে এ’সপ্তাহের পার্লামেন্ট নির্বাচন নেপালের মাওবাদী সংযুক্ত কমিউনিস্ট পার্টির জন্য খারাপ খবরই নিয়ে এসেছে. পুষ্প কুমার দহল, যাঁকে জনগন প্রচণ্ড নামে চেনেন, তাঁর অনুগামীরা একই সঙ্গে দেশের দুটি বামপন্থী দলের কাছেই হেরে গিয়েছে – একটা সমাজবাদী পার্টি “নেপালের কংগ্রেস” আর অন্যটা নেপালের কমিউনিস্ট পার্টি (সংযুক্ত মার্কসবাদী – লেনিনবাদী পার্টি). আর যদিও দেশের সাংবিধানিক সভার ৬০১টি আসন কিভাবে এবারে ভাগ হতে চলেছে, তা নিয়ে শেষ অবধি উত্তর পাওয়া যায় নি, তার উত্তর পাওয়া যেতে পারে স্রেফ সপ্তাহ দুয়েক বাদে, তবুও আজ সম্পূর্ণ রকমের আস্থা নিয়েই বলা যেতে পারে যে, নেপালের মাওবাদীদের আশায় ছাই পড়েছে. পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করেছেন আমাদের সমীক্ষক সের্গেই তোমিন. তিনি বলেছেন:

পাকিস্তানে পরিস্থিতি আবারও টালমাটাল. নভেম্বর মাসের শুরুতে আমেরিকার ড্রোন বিমানের আঘাতে নিহত হয়েছে পাকিস্তানের তেহরিক-এ-তালিবান পাকিস্তান দলের নেতা হাকিমুল্লা মেহসুদ. আবার এবারে নতুন করে নিহত হল সশস্ত্র বিরোধী দলের এক প্রখ্যাত (কুখ্যাত) নেতা. রবিবারে মারা গিয়েছে নাসিরুদ্দীন হাক্কানি, যাকে মনে করা হত হাক্কানি সন্ত্রাসবাদী দলের মুখ্য অর্থের জোগানদার ও গোষ্ঠীর স্রষ্টা জালালুদ্দীন হাক্কানির এক পুত্র. এই সবই চলছে একটা অনির্দিষ্ট অবস্থার মদ্যে, তা যেমন পাকিস্তানের প্রশাসনের প্রতি, তেমনই সশস্ত্র জঙ্গীদের প্রতি আর একই সঙ্গে পাকিস্তান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেও. দেখাই যাচ্ছে যে, কারও একটা প্রয়োজন পড়েছে এই পরিস্থিতিকে এমন একটা জায়গায় পৌঁছে দিতে, যখন দেশের কেন্দ্রীয় সরকার দেশের ঘটনা নিয়ন্ত্রণে অপারগ হবে, এই রকম মনে করেছেন রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ বরিস ভলখোনস্কি.

কলম্বো শহরে এই সপ্তাহের শেষে শুরু হতে যাওয়া কমনওয়েলথ সামিট ঘিরে স্ক্যান্ডাল এবারে গতি অর্জন করেছে. কানাডার প্রধানমন্ত্রী স্টিভেন হার্পারের পরে এই ফোরাম বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়ে শ্রীলঙ্কায় যেতে অস্বীকার করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ডঃ মনমোহন সিংহ. আর ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ঠিক করেছেন কলম্বোকে তাদের দেশের নেতৃত্বের জন্য অসুবিধা জনক দীর্ঘদিন ব্যাপী যুদ্ধ নিয়ে প্রশ্ন করে অসুবিধায় ফেলবেন.

“তেহরিক-এ-তালিবান পাকিস্তান” গোষ্ঠীর নেতার জায়গা, যা গত শনিবারে হাকিমুল্লা মেহসুদের নিহত হওয়ার পরে তৈরী হয়েছিল, তা বেশী দিন খালি থাকে নি. এক বানানো সাংবাদিক সম্মেলনে যা পাকিস্তানেরই উত্তর – পশ্চিমের এক খুবই গোপনীয় জায়গায় আয়োজন করা হয়েছিল, তাতে এই দলের কার্যকরী নেতা আসমাতুল্লা শাহীণ নতুন খবর জানিয়ে বলেছে যে, পাকিস্তানের তালিবান আন্দোলন নতুন নেতাকে পেয়েছে. সমস্ত মুসলমান ভাইদের অভিনন্দন এই কারণে জানাই যে, “তেহরিক-এ-তালিবান পাকিস্তান” দলের নতুন নেতা নির্বাচিত হয়েছেন মৌলবী ফজলুল্লা.

“এটা একটা রাজনৈতিক হত্যা” – এই রকমই মন্তব্য করেছেন ইয়াসর আরাফাতের বিধবা স্ত্রী, যখন জানতে পারা গিয়েছে যে, তাঁর স্বামী ও প্যালেস্তিনীয় প্রশাসনের প্রাক্তন প্রধান ও পিএলও দলের নেতাকে পোলোনিয়াম প্রয়োগ করে হত্যা করা হয়েছে. সুইজারল্যান্ডের লজানের রেডিও ফিজিক্স ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞদের করা পরীক্ষার ফলাফল এই বিষ দিয়ে হত্যার ধারণাকেই সমর্থন করেছে.

অক্টোবর মাসে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের ওয়াশিংটন সফরের অব্যবহিত পরেই মার্কিন ড্রোন বিমানের আঘাত হানা হয়েছে পাকিস্তানে, যার পরিণতিতে মৃত্যু হয়েছে “তেহরিক-এ-তালিবান পাকিস্তান” দলের নেতা হাকিমুল্লা মেহসুদ ও তাঁর চার দলের লোকের. ওবামার সঙ্গে আলোচনার সময়ে নওয়াজ শরীফের একটি প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল ইসলামাবাদের জন্যই সবচেয়ে বেদনাদায়ক আচমকা পাইলট বিহীণ বিমান থেকে আঘাত, যা পাকিস্তানের প্রশাসনের কাছ থেকে কোন রকমের অনুমতির অপেক্ষা না রেখেই করা হয়েছে আফগানিস্তানের সঙ্গে সীমান্তের কাছের এলাকায় সন্ত্রাস বিরোধী অপারেশনের অংশ হিসাবে.

1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30
নভেম্বর 2013
ঘটনার সূচী
নভেম্বর 2013
1
2
3
4
6
7
9
10
12
13
14
15
16
17
18
19
20
21
23
24
25
26
28
29
30