×
South Asian Languages:
উত্তর- পূর্ব এশিয়াতে পরিস্থিতি ও রাশিয়ার অবস্থান, এপ্রিল 2013
সাবেক সামরিক স্বৈরতন্ত্র মায়ানমারের সঙ্গে সম্পর্কের জট ছাড়ানোর জন্য পশ্চিমের দেশ গুলি এবারে একটা প্রধান পদক্ষেপ নিয়েছে. ইউরোপীয় সঙ্ঘের নেতৃত্ব মায়ানমারের বিরুদ্ধে সমস্ত রকমের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে, শুধু অস্ত্র সরবরাহ সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা বজায় রেখে. এই কাজ করেই ব্রাসেলস খনিজ সম্পদে ধনী দেশকে বিতাড়িতদের সারি থেকে তুলে এনে ইউরোপীয় ব্যবসার এক আগামী নেতৃস্থানীয় সহকর্মী দেশের সারিতে বসিয়েছে.
জন গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কোরিয়াকে ঘিরে সঙ্কট নিয়ন্ত্রণের জন্য মস্কো ও ওয়াশিংটন সম্মিলিত ভাবে কূটনৈতিক শক্তি বৃদ্ধি করছে. এই বিষয়ে সোমবারে ক্রেমলিনে রাশিয়ার সরকারি মুখপাত্রদের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ে রাষ্ট্রপতির সহকারী টমাস ডনিলনের সঙ্গে সাক্ষাত্কারের সময়ে আলোচনা করা হয়েছে. তাতে কিছু সময়ের জন্যে যোগ দিয়েছিলেন রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন.
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী কিম গ্ভান চ্ঝিন ঘোষণা করেছেন যে, জন গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কোরিয়া তৈরী হয়ে রয়েছে ব্যালিস্টিক মিসাইল উড়ান করার জন্য. কিন্তু উত্তর কোরিয়ার সম্পূর্ণ অর্থে যুদ্ধ প্রস্তুতির লক্ষণ দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না. বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করেন যে, কোরিয়া উপদ্বীপ এলাকায় যুদ্ধের কাজ অবধি ব্যাপারটা গড়াবে না. ১৫ই এপ্রিল উত্তর কোরিয়াতে সূর্য উত্সব পালন করা হচ্ছে.
রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্তকে খোলাখুলি ও চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ভঙ্গ করা মেনে নেওয়া হবে না. এই নিয়ে ঘোষণা করেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান সের্গেই লাভরভ. তিনি এই ভাবেই উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে নতুন করে পারমানবিক অস্ত্র পরীক্ষা ও তাদের ব্যালিস্টিক মিসাইল পরীক্ষা করার ইচ্ছা প্রসঙ্গে মত দিয়েছেন. মস্কো পর্যায়ক্রম মেনেই কোরিয়া উপদ্বীপ এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে চাইছে বলে আশ্বাস দিয়েছেন মন্ত্রী.
উত্তর কোরিয়ার প্রশাসন আবারও বিদেশীদের খুবই জোর দিয়ে অনুরোধ করেছে পিয়ংইয়ং ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য. সানকেই সিমবুন নামের সংবাদপত্রের তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রদূতদের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, ১০ই এপ্রিলের পরে জন গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কোরিয়া ঠিক করেছে রকেট উড়ান করার, যা সম্ভবতঃ জাপান হয়ে উড়ে যাবে.
সিওল শহর বিদেশী সাংবাদিকে ভরে গিয়েছে. তাঁরা এখানে উড়ে এসেছেন, যাতে তাঁরা সেই বিষয়ে খবরে ভরিয়ে দিতে পারেন, যা তাঁদের সম্পাদকরা মনে করেছেন এক গুরুতর আন্তর্জাতিক সঙ্কট বলে. বিশ্বের সংবাদ মাধ্যম জানাচ্ছে যে, কোরিয়ার উপদ্বীপ এলাকা বর্তমানে পারমানবিক যুদ্ধের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে. কিন্তু এটা বিশ্বাস করার কি দরকার রয়েছে? বিদেশী সাংবাদিকরা সিওলের রাস্তায় খুবই তন্নতন্ন করে আতঙ্কের চিহ্ন খুঁজছেন.
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর দপ্তর প্রধানদের সংযুক্ত কমিটির সভাপতি মার্টিন ডেম্পসি ২০১৩ সালের এপ্রিল মাসে চিনে সফরে যাবেন, বলে জানিয়েছেন পেন্টাগনের সরকারি প্রতিনিধি জর্জ লিটল. পর্যবেক্ষকরা উল্লেখ করেছেন যে, মার্টিন ডেম্পসির সফরের প্রধান কারণ হয়েছে কোরিয়া উপদ্বীপ এলাকায় বর্তমানে গুরুতর তীক্ষ্ণ পরিস্থিতি. কোরিয়ার দিকে আমেরিকার কূটনৈতিক শক্তি প্রয়োগের সঙ্গে সামরিক শক্তিকেও যোগ করা – এই পরিস্থিতি গুরুতর হওয়ার প্রমাণ.
উত্তর কোরিয়ার পূর্ব উপকূলে মাঝারি পাল্লার রকেট “মুসুদান”বসানোর খবর, যা আমেরিকা ও দক্ষিণ কোরিয়ার উত্স থেকে দেওয়া হয়েছে, তা কোরিয়া উপদ্বীপ এলাকা জুড়ে এক নতুন উত্তেজনার অধ্যায়ের সূচনা করেছে.
কোরিয়া উপদ্বীপ এলাকায় পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হতে শুরু করেছে. আমেরিকা ও দক্ষিণ কোরিয়ার গুপ্তচর বিভাগের তথ্য অনুযায়ী উত্তর কোরিয়া নিজেদের পূর্ব উপকূলে “মুসুদান” নামের ব্যালিস্টিক মিসাইল ব্যবস্থা এনে জড়ো করেছে. আজ ৪ঠা এপ্রিল কোরিয়ার জাতীয় ফৌজের তরফ থেকে এক ঘোষণা করা হয়েছে.
বিশ্বের সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী কোরিয়া উপদ্বীপ এলাকা প্রায় যুদ্ধের কিনারায় দাঁড়িয়ে রয়েছে. আসলে, উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে দক্ষিণ কোরিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপরে আঘাত হানার হুমকি – এটা স্রেফ কূটনৈতিক-প্রচার. কিন্তু তা পিয়ংইয়ং এর অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ খবর থেকে মনোযোগ নষ্ট করে দিয়েছে.
উত্তর কোরিয়া ঘোষণা করেছে যে, তারা ফিওনান-পুক্তো প্রদেশের ইওনবেন পারমানবিক গবেষণা কেন্দ্র আবার করে চালু করছে. উত্তর কোরিয়ার প্রধান পারমানবিক শক্তি দপ্তরের প্রতিনিধি যেমন ঘোষণায় বলেছেন যে, সেখানে সবকটি রিয়্যাক্টর চালু করা হয়েছে ও সমস্ত জায়গাতেই কাজ শুরু করা হয়েছে. তার মধ্যে – ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার কারখানা ও পাঁচ মেগাওয়াট শক্তি সম্পন্ন গ্র্যাফাইট রিয়্যাক্টর রয়েছে.
যদি সারা বিশ্বের সংবাদ মাধ্যমের খবর বিশ্বাস করতে হয়, তবে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া এখন যুদ্ধের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে. পিয়ংইয়ং ঘোষণা করেছে যে, তারা শান্তি অবস্থিতি ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছে ও হুমকি দিয়েছে যে, সিওল ও ওয়াশিংটন আগুনের সমুদ্র বানিয়ে ছেড়ে দেবে. এই ধরনের ঘোষণা উত্তরের লোকরা আগেও করেছে. কিন্তু এখন এই ধরনের হুমকির ঘনত্ব বাড়াবাড়ি রকমের বেশী.
1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30
এপ্রিল 2013
ঘটনার সূচী
এপ্রিল 2013
6
7
11
12
13
14
17
18
19
20
21
22
23
25
26
27
28
29
30