×
South Asian Languages:
উত্তর- পূর্ব এশিয়াতে পরিস্থিতি ও রাশিয়ার অবস্থান, 2013

এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় পরিস্থিতি তীক্ষ্ণ হওয়ার কথাই মনে রয়ে যাবে চলে যাওয়ার বছরের সঙ্গে. উত্তর কোরিয়া থেকে রকেট উড়ান ও পারমাণবিক পরীক্ষা, বিতর্কিত দ্বীপপূঞ্জের এলাকায় শক্তি প্রদর্শন – জলসীমা পার করে ও আকাশ সীমা লঙ্ঘণ করেই পতাকা ও বিমানের “ডানা” দিয়ে করা হয়েছে – এই সবই বাধ্য করেছে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকাতে ফলপ্রসূ নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরী করার জন্য.

উত্তর কোরিয়াতে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে দেশের দ্বিতীয় প্রধান ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে – কিম চেন ঈনের সম্পর্কে যিনি চাচা হন. দেশের রাজনীতিতে একজন অত্যন্ত প্রভাবশালী লোক বলেই চান সন থেককে মনে করা হয়েছে. তার ওপরে অভিযোগ করা “ভয়ঙ্কর সমস্ত অপরাধের” মধ্যে ছিল রাজিন-সনবন এলাকায় আর্থ-বাণিজ্যিক ভাবে অর্থবহ জমি ৫০ বছরের জন্য এক বিদেশী রাষ্ট্রকে বেচে দেওয়া.

চার হাতে একসাথে করমর্দন করে টোকিও শহরে রাশিয়া ও জাপানের ইতিহাসে পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পর্যায়ে প্রথম “২+২” ফরম্যাটে আলোচনা শুরু হয়েছে. আইনের চোখে দুটি দেশ, যারা এখনও যুদ্ধ পরিস্থিতিতে রয়েছে (কারণ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে এখনও এই দুই দেশের মধ্যে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় নি), তারা এখন স্ট্র্যাটেজিক ভাবে সহকর্মী দেশ হয়েছে. শনিবারে টোকিও শহরে রাশিয়া ও জাপানের মন্ত্রী পর্যায়ে সমর্থন করা হয়েছে: আজ এই ধরনের কাজ সম্পূর্ণ ভাবেই বাস্তব সম্মত বলে. বর্তমানের আলোচনা সমস্ত এলাকার স্বার্থেই সহযোগিতার একটা ভিত্তি স্থাপন করতে পেরেছে.

কিম চেন ঈনের ছোট বোন কয়েকদিন আগে এক দায়িত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় পদে বহাল হয়েছেন. দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদ মাধ্যমে যেমন জানানো হয়েছে যে, ২৬ বছরের কিম ইও চ্ঝান রাষ্ট্রীয় প্রতিরক্ষা পরিষদের অনুষ্ঠান বিভাগের নেত্রী হয়েছেন. এই পদে তিনি সমস্ত রকমের অনুষ্ঠানের নেতৃত্ব দেবেন, যাতে কিম চেন ঈন নিজে অংশ নেবেন. এটা ঠিকই যে, এই খবরের প্রতি সাবধান হওয়া দরকার.
ভারত ও জাপান সক্রিয়ভাবে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বিস্তার করছে. এর প্রমাণ হয়েছে মে মাসে টোকিও শহরে ভারত-জাপান শীর্ষ সম্মেলন. দুই দেশের কাছে আসা, তাদের নতুন “টোকিও – নিউ দিল্লী” নামের এক স্ট্র্যাটেজিক অক্ষ তৈরীর প্রচেষ্টার সঙ্গে যুক্ত. তার ওপরে ভারত মহাসাগর ও পূর্ব চিন সাগরের নিরাপত্তার সমস্যার দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে.
ফানমুঞ্চজমে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রশাসনিক প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে. অথচ মাত্র দুই মাস আগেই পিয়ংইয়ং এর সরকারি প্রতিনিধিরা সিওল শহরকে আগুনের সমুদ্র বানানোর ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং জাপানের উপরে পারমানবিক আঘাত হানার হুমকি দিয়েছিল. ওপর থেকে দেখলে, এই স্বল্প সময়ের মধ্যে কিছুই পাল্টায় নি, কিন্তু পিয়ংইয়ং থেকে এখন একেবারেই অন্য ভাষণ দেওয়া হচ্ছে.
গত কয়েকদিন ধরে জন গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কোরিয়া থেকে যে রকেট ছোঁড়া হয়েছে, তা রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত অমান্য করেই করা হয়েছে বলে মনে করা যায় না. স্বল্প পাল্লার রকেট ছোঁড়া সরকারি ভাবে নিষেধ করা হয় নি. এই বিষয়ে ঘোষণা করেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই লাভরভ. বিগত কিছু দিন ধরে উত্তর কোরিয়া জাপান সাগরের দিকে বেশ কয়েকটি রকেট ছুঁড়েছে.
সোমবার মায়ানমারের রাষ্ট্রপতি থেইন সেইন সরকারি সফরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পৌঁছাচ্ছেন - গত ৪৭ বছরের মধ্যে এটাই প্রথম এই ধরনের সফর. আমেরিকা-মায়ানমারের ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধির পক্ষের লোকরা আগামী সফরকে বলছেন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এক নতুন মাইল প্রস্তর ও ওয়াশিংটনের তরফ থেকে মায়ানমারে গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের সহায়তার সাক্ষ্য. সমালোচকরা জোর দিচ্ছেন যে, মায়ানমারে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা আজও সমানে চলেছে.
পিয়ংইয়ং মনে করে যে, উত্তর কোরিয়ার জাতীয় নিরাপত্তার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিমিত্স নামক বিশালাকায় পারমানবিক শক্তি চালিত বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজের তিনদিন ব্যাপী দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর সঙ্গে পীত সমুদ্রে মহড়া খুবই বিপজ্জনক. বেশীর ভাগ বিশেষজ্ঞরাই, নিজেদের তরফ থেকে আমেরিকার কাজকর্মকে প্ররোচনা বলে নাম দিয়েছেন, যা সুস্থ চিন্তা থেকে কখনোই করা যেতে পারে না.
সাবেক সামরিক স্বৈরতন্ত্র মায়ানমারের সঙ্গে সম্পর্কের জট ছাড়ানোর জন্য পশ্চিমের দেশ গুলি এবারে একটা প্রধান পদক্ষেপ নিয়েছে. ইউরোপীয় সঙ্ঘের নেতৃত্ব মায়ানমারের বিরুদ্ধে সমস্ত রকমের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে, শুধু অস্ত্র সরবরাহ সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা বজায় রেখে. এই কাজ করেই ব্রাসেলস খনিজ সম্পদে ধনী দেশকে বিতাড়িতদের সারি থেকে তুলে এনে ইউরোপীয় ব্যবসার এক আগামী নেতৃস্থানীয় সহকর্মী দেশের সারিতে বসিয়েছে.
জন গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কোরিয়াকে ঘিরে সঙ্কট নিয়ন্ত্রণের জন্য মস্কো ও ওয়াশিংটন সম্মিলিত ভাবে কূটনৈতিক শক্তি বৃদ্ধি করছে. এই বিষয়ে সোমবারে ক্রেমলিনে রাশিয়ার সরকারি মুখপাত্রদের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ে রাষ্ট্রপতির সহকারী টমাস ডনিলনের সঙ্গে সাক্ষাত্কারের সময়ে আলোচনা করা হয়েছে. তাতে কিছু সময়ের জন্যে যোগ দিয়েছিলেন রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন.
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী কিম গ্ভান চ্ঝিন ঘোষণা করেছেন যে, জন গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কোরিয়া তৈরী হয়ে রয়েছে ব্যালিস্টিক মিসাইল উড়ান করার জন্য. কিন্তু উত্তর কোরিয়ার সম্পূর্ণ অর্থে যুদ্ধ প্রস্তুতির লক্ষণ দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না. বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করেন যে, কোরিয়া উপদ্বীপ এলাকায় যুদ্ধের কাজ অবধি ব্যাপারটা গড়াবে না. ১৫ই এপ্রিল উত্তর কোরিয়াতে সূর্য উত্সব পালন করা হচ্ছে.
রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্তকে খোলাখুলি ও চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ভঙ্গ করা মেনে নেওয়া হবে না. এই নিয়ে ঘোষণা করেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান সের্গেই লাভরভ. তিনি এই ভাবেই উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে নতুন করে পারমানবিক অস্ত্র পরীক্ষা ও তাদের ব্যালিস্টিক মিসাইল পরীক্ষা করার ইচ্ছা প্রসঙ্গে মত দিয়েছেন. মস্কো পর্যায়ক্রম মেনেই কোরিয়া উপদ্বীপ এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে চাইছে বলে আশ্বাস দিয়েছেন মন্ত্রী.
উত্তর কোরিয়ার প্রশাসন আবারও বিদেশীদের খুবই জোর দিয়ে অনুরোধ করেছে পিয়ংইয়ং ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য. সানকেই সিমবুন নামের সংবাদপত্রের তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রদূতদের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, ১০ই এপ্রিলের পরে জন গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কোরিয়া ঠিক করেছে রকেট উড়ান করার, যা সম্ভবতঃ জাপান হয়ে উড়ে যাবে.
সিওল শহর বিদেশী সাংবাদিকে ভরে গিয়েছে. তাঁরা এখানে উড়ে এসেছেন, যাতে তাঁরা সেই বিষয়ে খবরে ভরিয়ে দিতে পারেন, যা তাঁদের সম্পাদকরা মনে করেছেন এক গুরুতর আন্তর্জাতিক সঙ্কট বলে. বিশ্বের সংবাদ মাধ্যম জানাচ্ছে যে, কোরিয়ার উপদ্বীপ এলাকা বর্তমানে পারমানবিক যুদ্ধের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে. কিন্তু এটা বিশ্বাস করার কি দরকার রয়েছে? বিদেশী সাংবাদিকরা সিওলের রাস্তায় খুবই তন্নতন্ন করে আতঙ্কের চিহ্ন খুঁজছেন.
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর দপ্তর প্রধানদের সংযুক্ত কমিটির সভাপতি মার্টিন ডেম্পসি ২০১৩ সালের এপ্রিল মাসে চিনে সফরে যাবেন, বলে জানিয়েছেন পেন্টাগনের সরকারি প্রতিনিধি জর্জ লিটল. পর্যবেক্ষকরা উল্লেখ করেছেন যে, মার্টিন ডেম্পসির সফরের প্রধান কারণ হয়েছে কোরিয়া উপদ্বীপ এলাকায় বর্তমানে গুরুতর তীক্ষ্ণ পরিস্থিতি. কোরিয়ার দিকে আমেরিকার কূটনৈতিক শক্তি প্রয়োগের সঙ্গে সামরিক শক্তিকেও যোগ করা – এই পরিস্থিতি গুরুতর হওয়ার প্রমাণ.
উত্তর কোরিয়ার পূর্ব উপকূলে মাঝারি পাল্লার রকেট “মুসুদান”বসানোর খবর, যা আমেরিকা ও দক্ষিণ কোরিয়ার উত্স থেকে দেওয়া হয়েছে, তা কোরিয়া উপদ্বীপ এলাকা জুড়ে এক নতুন উত্তেজনার অধ্যায়ের সূচনা করেছে.
কোরিয়া উপদ্বীপ এলাকায় পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হতে শুরু করেছে. আমেরিকা ও দক্ষিণ কোরিয়ার গুপ্তচর বিভাগের তথ্য অনুযায়ী উত্তর কোরিয়া নিজেদের পূর্ব উপকূলে “মুসুদান” নামের ব্যালিস্টিক মিসাইল ব্যবস্থা এনে জড়ো করেছে. আজ ৪ঠা এপ্রিল কোরিয়ার জাতীয় ফৌজের তরফ থেকে এক ঘোষণা করা হয়েছে.
বিশ্বের সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী কোরিয়া উপদ্বীপ এলাকা প্রায় যুদ্ধের কিনারায় দাঁড়িয়ে রয়েছে. আসলে, উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে দক্ষিণ কোরিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপরে আঘাত হানার হুমকি – এটা স্রেফ কূটনৈতিক-প্রচার. কিন্তু তা পিয়ংইয়ং এর অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ খবর থেকে মনোযোগ নষ্ট করে দিয়েছে.
উত্তর কোরিয়া ঘোষণা করেছে যে, তারা ফিওনান-পুক্তো প্রদেশের ইওনবেন পারমানবিক গবেষণা কেন্দ্র আবার করে চালু করছে. উত্তর কোরিয়ার প্রধান পারমানবিক শক্তি দপ্তরের প্রতিনিধি যেমন ঘোষণায় বলেছেন যে, সেখানে সবকটি রিয়্যাক্টর চালু করা হয়েছে ও সমস্ত জায়গাতেই কাজ শুরু করা হয়েছে. তার মধ্যে – ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার কারখানা ও পাঁচ মেগাওয়াট শক্তি সম্পন্ন গ্র্যাফাইট রিয়্যাক্টর রয়েছে.
আগের
1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31
জানুয়ারী 2013
ঘটনার সূচী
জানুয়ারী 2013
1
2
3
4
5
6
7
8
9
10
11
12
13
14
15
16
17
18
19
20
21
22
23
24
25
26
27
28
29
30
31