×
South Asian Languages:
মহাকাশ, 2013

সিঝান মহাকাশ উড়ান ক্ষেত্র থেকে “ইউইটু” চন্দ্রযান নিয়ে “চাঙ্গ-এ- ৩” মহাকাশ যানের সফল উড়ান হয়েছে. ডিসেম্বরের মাঝামাঝি পৃথিবীর একমাত্র প্রাকৃতিক উপগ্রহের পিঠে চন্দ্রযান ইউইটু অথবা “লাল খরগোশ বাগি” নেমে পড়বে, যাতে চাঁদের মাটির নমুনা নেওয়া সম্ভব হয় ও সেখানে প্রয়োজনীয় খনিজের সন্ধান করা যেতে পারে. এর পরের অধ্যায় হবে চিনের মহাকাশচারীদের চাঁদে যাওয়া, যা ২০২০ সালের পরে হতে পারে.

১৯৮৮ সালের ১৫ই নভেম্বর, আজ থেকে পঁচিশ বছর আগে খুবই উল্লেখযোগ্য এক ঘটনা বিশ্বের মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে ঘটেছিল – বৈকনুর মহাকাশ উড়ান কেন্দ্র থেকে যাত্রা শুরু করেছিল সোভিয়েত দেশে তৈরী বহুবার মহাকাশে যেতে সক্ষম রকেট “এনেরগিয়া-বুরান”. এক দৈত্যাকার মহাকাশে যাওয়ার উপযুক্ত বিমান, “স্পেস- শাটল্”, যেটা মহাকাশে উড়ে গিয়ে আবার পৃথিবীতে এসে নেমেছিল একেবারেই স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার মাধ্যমে, যেটা তার পরেই “গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে” উল্লেখ করা হয়েছিল.

ঐতিহাসিক এক ঘটনা শেষ অবধি ঘটেছে. অলিম্পিকের মশাল উন্মুক্ত মহাকাশ ভ্রমণ করে ফিরেছে. আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের মহাকাশচারীরা অলিম্পিকের মশাল দৌড়ে অংশ নিয়েছেন. পৃথিবীর কক্ষপথে সোচী শহরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া শীত অলিম্পিকের মুখ্য প্রতীক এক হাত থেকে অন্য হাতে দেওয়া হয়েছে.

ক্রীড়া ইতিহাসে অলিম্পিকের মশাল প্রথম মহাকাশে গিয়েছে. “সইউজ” মহাকাশ যান, অলিম্পিকের প্রধান প্রতীক নিয়ে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের সঙ্গে মস্কো সময় বেলা দুটো বেজে তিরিশ মিনিটে সংযুক্ত হয়েছে.

মহাকাশ যান “সইউজ টিএমএ – ১১এম” যাত্রা শুরু করার ছ’ঘন্টা পরে জোড়া লেগেছে. মহাকাশের কক্ষপথে অলিম্পিকের মশাল পৌঁছে দিয়েছেন এক আন্তর্জাতিক মহাকাশচারীদের দল: রসকসমস সংস্থার মহাকাশচারী মিখাইল ত্যুরিন, জাপানের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা জাক্সা থেকে কোইচি ভাকাতা ও নাসা সংস্থার অ্যাস্ট্রোনট রিচার্ড মাস্ত্রাক্কিও. আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে নতুন আসা মহাকাশচারীদের দল যোগ দিয়েছে সেই সমস্ত মহাকাশচারীদের সঙ্গে যাঁরা এখানে আগে থেকেই ছিলেন: তিনজন রুশ, দু’জন আমেরিকার ও একজন ইতালীয় মহাকাশচারীর সঙ্গে. কক্ষপথের এই স্টেশনে এখন একই সঙ্গে ন’জন মহাকাশচারী থাকবেন আর থাকবে তিনটি জোড়া লাগা মহাকাশ যান.

মঙ্গলবারে ভারত উন্নয়নশীল দেশ গুলোর মধ্যে প্রথম নিজেদের গবেষণার জন্য উপগ্রহ মঙ্গলগ্রহের দিকে পাঠিয়েছে. মঙ্গলের কৃত্রিম উপগ্রহ মঙ্গলযানের সফল উড়ান সেই বিরল ঘটনার একটি হয়েছে, যখন ভারতের পক্ষে সম্ভব হয়েছে চিনকে টপকে যাওয়ার – এই কথা উল্লেখ করেছেন রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজি ও প্রযুক্তি বিশ্লেষণ কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ ভাসিলি কাশিন.

রাশিয়ার বিজ্ঞানীরা স্বদেশী প্রথম রোবট-এন্ড্রয়েড নিয়ে নিরীক্ষা শুরু করেছেন. ওটা উন্মুক্ত মহাকাশে কাজ করার জন্য এবং আন্তর্জাতিক মহাজাগতিক স্টেশনে রাশিয়ার মহাকাশচারীদের জন্য এটা হবে সুবর্ণ সুযোগ.

এ্যানড্রয়েড টেখনিক নামক ল্যাবরেটরিতে SAR-400 রোবটটা বানানো হয়েছে. ঐ কোম্পানীটি ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল. তাদের কর্মকান্ডের প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষের নিত্যনৈমিত্তিক জীবন প্রক্রিয়ায় যথাসম্ভব সহায়তা করা.

২০১৪ সালের শীত অলিম্পিকে ইতিহাসে প্রথমবার উন্মুক্ত মহাকাশ থেকে ঘুরে আসা মশাল দিয়ে ষ্টেডিয়ামের মূল মশাল জ্বালানো হতে চলেছে. রাশিয়ার মহাকাশ বিজ্ঞান নিজেদের রেকর্ডের তালিকায় বহু গুণ যোগ করেছে. বিশ্বের প্রথম উপগ্রহ, মহাকাশে প্রথম মানব. প্রথম উন্মুক্ত মহাকাশে বিচরণ. আর এবারে নতুন রেকর্ড আবার. অলিম্পিক আন্দোলনের ইতিহাসে প্রথমবার রাশিয়ার মহাকাশচারীরা আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে অলিম্পিকের একটি মূল প্রতীক - মশাল নিয়ে যাচ্ছেন.
সোচী শহরে ২০১৪ সালের শীত অলিম্পিকের আগের মশাল দৌড়ের মশাল আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হবে, তার সঙ্গে এটা আবার উন্মুক্ত মহাকাশেও বের করা হবে. তা একে অপরকে আনুষ্ঠানিক ভাবেই হস্তান্তর করবেন দুই রুশ মহাকাশচারী ওলেগ কোতভ ও সের্গেই রিয়াজানস্কি, যাঁরা সেপ্টেম্বর মাস থেকে এই স্টেশনের অভিযাত্রীদের মধ্যে থাকবেন.
মঙ্গলগ্রহে পাইলট চালিত মহাকাশ যানে করে যাওয়ার জন্য আবেদন পত্র জমা নেওয়া শুরু হওয়ার কথা শুধু আগামী বছর থেকেই. কিন্তু এখনই যেতে ইচ্ছুক লোকের সংখ্যা একেবারে উপচে পড়ছে. এই রকমই প্রথম মহাকাশ পর্যটক ডেনিস টিটোর নেতৃত্বে এই মিশনের আয়োজকরা জোর গলায় বলছেন. এই অভিযান শুরু হবে ২০১৮ সালের ৫ই জানুয়ারী থেকে.
রাষ্ট্রীয় মহাকাশ সংস্থা রসকসমস মহাকাশ ও বড় ধরনের বিপর্যয় সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সনদপত্রে স্বাক্ষর করছে. সেই সমস্ত দেশ, যারা এই সনদে সামিল হয়েছে, তারা বিপর্যয় ক্লিষ্ট দেশ গুলিকে ত্রাণের কার্যে সহায়তা দিয়ে থাকে. অংশতঃ, তাদের কাছে মহাকাশ থেকে পৃথিবীকে দেখার তথ্য দেয়, যা বিপর্যস্ত অঞ্চলে দেখতে পাওয়া যায়.
রসকসমস ও ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা প্যারিসে মঙ্গলগ্রহ অভিযানের জন্য “একজোমার্স” নামের যৌথ প্রকল্প নিয়ে চুক্তির শেষ খসড়া সমর্থন করেছে. “একজোমার্স” প্রকল্প নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা আগে ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার অংশীদার রাষ্ট্র গুলির মন্ত্রী পর্যায়ে সমর্থন করা হয়েছিল. প্রথম থেকেই “একজোমার্স” প্রকল্প ছিল ইউরোপ ও আমেরিকার. নাসা সংস্থা থেকে ভারী রকেট দেওয়ার কথা ছিল.
মহাকাশ থেকে বিপদের হুমকি নিয়ে খবর পাওয়া গিয়েছে – আরও একটি গ্রহাণু অত্যন্ত কাছ দিয়ে যাবে, উল্কা পাতের খবর খুবই ভয় পাইয়ে দেওয়ার মতো নিয়মিত ভাবেই আসতে শুরু করেছে. এই রকমই একটি শেষ পর্যন্ত পাওয়া খবর দেওয়া যাক. আগামী বছরের অক্টোবর মাসে মঙ্গলগ্রহের সঙ্গে ধাক্কা খেতে পারে এক বড় ধুমকেতু.
১৫ই ফেব্রুয়ারী চেলিয়াবিনস্ক এলাকায় যে উল্কা পড়েছিল, তার খণ্ড পরীক্ষা করে বিজ্ঞানীরা প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশ করেছেন. রাসায়নিক বিশ্লেষণ প্রমাণ করেছে এই পাথর পৃথিবীর থেকে পাওয়া নয়. চেবারকুল হ্রদের কাছে বিজ্ঞানীদের পক্ষে সম্ভব হয়েছিল প্রায় ৫০টির মতো কয়েক মিলিমিটার আকারের উল্কার টুকরো সংগ্রহ করার. এই মহাজাগতিক বস্তুগুলির প্রকার নির্ধারণ সম্ভব হয়েছে.
১৫ই ফেব্রুয়ারী চেলিয়াবিনস্ক শহরের কাছে উল্কা পতন সারা বিশ্বের বৈজ্ঞানিক সমাজকে একত্রিত করেছে মহাকাশ থেকে আসা হুমকির প্রত্যুত্তর হিসাবে নতুন ব্যবস্থার সৃষ্টি করার জন্য. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ঠিক করেছে পৃথিবীতে ও মহাকাশে বেশ কয়েকটি পর্যবেক্ষণ কমপ্লেক্স তৈরী করার জন্য.
১৫ই ফেব্রুয়ারী রাশিয়ার চেলিয়াবিনস্ক শহরের কাছে উল্কা পতনের সম্বন্ধে প্রতি নতুন দিনই নতুন সব ধারণা নিয়ে আসছে. বিজ্ঞানীদের থেকে সাংবাদিক বা রাজনীতিবিদরাও পিছিয়ে নেই. কেউ বলছেন এক সুকৌশলে করা বিশ্বজোড়া যঢ়যন্ত্র নিয়ে আবার কেউ কেউ বলছেন এটা নতুন প্রজন্মের কোন খুবই চালাকি করে তৈরী করা অস্ত্র পরীক্ষা হয়েছে.
যদি ওই উল্কাটা একই অক্ষাংশে বিস্ফোরিত হত মাত্র চার ঘন্টা পরে, তবে তা বিশ্বের পিঠ থেকেই সেন্ট পিটার্সবার্গ শহরকে মুছে ফেলত.
মহাকাশ থেকে আসা বিপদের মোকাবিলা করার জন্য গ্রহ প্রতিরক্ষা কেন্দ্রের সাত বছরের বেশী সময় লাগবে না ব্যবস্থা তৈরী করতে. এখনই বিজ্ঞানীদের কাছে রয়েছে অন্তত চব্বিশ রকমের ঘটনা পরম্পরার বিবরণ, যা দিয়ে আমাদের গ্রহকে উল্কা ধুমকেতু ও অন্যান্য বিপজ্জনক মহাকাশের বস্তুর হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব.
মহাজাগতিক দেহগুলিতে খনিজ পদার্থ নিষ্কাশন বাস্তবে সম্ভবপর হতে পারে. সম্প্রতি জানা গেছে, যে এই উদ্দেশ্যে আমেরিকায় কোম্পানি খোলা হয়েছে. মহাজাগতিক দেহগুলি থেকে নিষ্কাশন করা খনিজ পদার্থ পৃথিবীতে নিয়ে আসা হবে শোধনের জন্য. বিজ্ঞানীদের দৃঢ় বিশ্বাস, যে উল্কা থেকে খনিজ পদার্থ নিকাশ করা খুবই ফলপ্রসূ হবে. ইতিমধ্যেই সে সব জায়গায় মহাকাশ যান উড়ে যাচ্ছে এবং কয়েক মিলিগ্রাম পদার্থও আনা হয়েছে.
1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31
জানুয়ারী 2013
ঘটনার সূচী
জানুয়ারী 2013
1
2
3
4
5
6
7
8
9
10
11
12
13
14
15
16
17
18
19
20
21
22
23
24
25
26
27
28
29
30
31