×
South Asian Languages:
মহাকাশ, 2012
রাশিয়ার পাইলট চালিত মহাকাশযান “সইউজ” মহাকাশচারীদের নিয়ে বুধবারে বৈকনুর মহাকাশ উড়ান কেন্দ্র থেকে রওয়ানা হয়েছে. আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের সঙ্গে এই যানের সংযোগের পরিকল্পনা রয়েছে ২১শে ডিসেম্বর. এবারের মহাকাশচারীদের দলে রয়েছেন রাশিয়া থেকে কম্যান্ডার রমান রমানেঙ্কো, কানাডা থেকে ক্রিস হলফিল্ড আর আমেরিকা থেকে টমাস মাশবিয়র্ন.
মঙ্গল গ্রহের পৃষ্ঠে মানুষ বাঁচতেই পারে. এই গ্রহে তেজস্ক্রিয় বিকীরণের পরিমাণ পৃথিবীর কাছে কক্ষ পথে থাকা আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের মতই. এই রকমের একটা মতে বিজ্ঞানীরা পৌঁছতে পেরেছেন ঐতিহাসিক ভাবে প্রথমবার মঙ্গল গ্রহের জমি থেকে পাঠানো বিকীরণ নিয়ে রিপোর্ট পাওয়ার পরে.
রাশিয়াতে মহাকাশচারী হওয়ার জন্য প্রথম উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার ফল প্রকাশ করা হয়েছে. তাতে অংশ নেওয়ার সুযোগ ছিল একেবারে সকলেরই, শুধু সামরিক বিমানের পাইলট বা ইঞ্জিনিয়ারদেরই নয়, যারা মহাকাশ শিল্পের সঙ্গে সাধারণত যুক্ত থাকেন. প্রতিযোগিতার পরে তিনশ জনের মধ্যে বেছে নেওয়া হয়েছে সাত জন যুবক ও এক যুবতীকে.
বর্তমানে যাঁরা আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে কাজ করছেন, তাঁদের জন্য অপেক্ষা করছে এক মহা ভোজের আয়োজন. পরিবহনের উপযুক্ত মহাকাশযান প্রোগ্রেস এম – ১৭এম কক্ষপথে পৌঁছে দেবে বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি ও স্টেশনের যন্ত্রাংশ ছাড়াও টাটকা সব্জী ও ফল: আপেল, কমলা লেবু ও লেবু. সইউজ- ৫ রকেট পরিবাহক প্রোগ্রেস মহাকাশযান নিয়ে আজ বৈকনুর মহাকাশ উড়ান ক্ষেত্র থেকে যাত্রা শুরু করেছে.
অস্ট্রিয়ার প্যারাশ্যুট ডাইভার ফেলিক্স বাউমগার্টনার স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার থেকে লাফ দিয়ে তিনটি বিশ্ব রেকর্ড একই সঙ্গে ভেঙেছেন: প্যারাশ্যুট ব্যবহার করে সবচেয়ে বেশী উচ্চ স্থান থেকে লাফ দেওয়ার, পতনের গতিবেগ সবচেয়ে বেশী ও ফানুসে চড়ে সবচেয়ে উঁচু নিয়ন্ত্রিত উড়ানের. এই সব ভেঙে দেওয়া রেকর্ড বাস্তব ও একেবারেই ব্যবহারের যোগ্য সংজ্ঞা বহন করে.
বিজ্ঞানীরা মনে করেন যে, রাশিয়ার উচিত্ হবে মহাকাশে সৌর চালিত বিদ্যুত কেন্দ্র তৈরী করা. এর ফলে বিশ্বের জ্বালানীর বাজারে এক নেতৃ স্থানীয় অবস্থান বজায় রাখা সম্ভব হবে. ২০১৬ সালেই এই ধরনের বিদ্যুত কেন্দ্রের প্রাথমিক গঠন দেশে দেখতে পাওয়া যেতে পারে, এই খবর “রেডিও রাশিয়াকে” দিয়েছেন কেন্দ্রীয় যন্ত্র নির্মাণের বৈজ্ঞানিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মী ভিতালি মেলনিকভ.
রাশিয়ার রসকসমস সংস্থা স্থির করেছে পৃথিবীর কাছের কক্ষপথে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে আবার “মঙ্গল – ৫০০” নামের পরীক্ষা করে দেখার. এর জন্য আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে মহাকাশচারীদের পাঠানো হবে এক বছরের জন্য, যা সাধারন ভাবে চলে আসা মহাকাশে যাত্রার চেয়ে দ্বিগুণ বেশী সময়ের.
ভারত পরিকল্পনা করেছে ২০১৩ সালের নভেম্বর মাসে মঙ্গল গ্রহের কক্ষপথে এক বৈজ্ঞানিক যন্ত্র পাঠানোর. দেশের প্রধানমন্ত্রী ডঃ মনমোহন সিংহের কথামতো, দেশের মন্ত্রীসভা এই মিশনের ধারণাকে সমর্থন করেছে, যা তুলনামূলক ভাবে খুবই কম খরচ অর্থাত্ মাত্র ৮ কোটি ২০ লক্ষ ডলার দিয়েই সম্পন্ন হয়ে যাবে.
চীনের চালকবাহী মহাজাগতিক যানের মহাকাশ পাড়ি এই মাসেই ঘটতে চলেছে. ‘সিনহুয়া’ সংবাদসংস্থা জানাচ্ছে, যে গানসু প্রদেশের কসমোড্রম থেকে রকেটবাহী ‘চানঝেন-২এফ’ মহাকাশে পাড়ি দেবার জন্য তৈরি হচ্ছে. সে পৃথিবীর কক্ষপথে মহাকাশ যান ‘শেনঝোউ-৯’ কে পৌঁছে দিয়ে আসবে. মহাকাশে যানটি ইতিমধ্যেই সেখানে থাকা ‘ত্যানগুন-১’ নামক চীনা মড্যুলের সাথে সংযুক্ত হবে.
 রাশিয়ার বিশেষজ্ঞরা এই বছরে  ঠিক করেছেন প্রথম কার্যক্ষম পারমানবিক মেগাওয়াট শ্রেনীর শক্তি উত্পাদনে সক্ষম রিয়্যাক্টরের মডেল দূরের মহাকাশ অভিযানের জন্য তৈরী করবেন. মঙ্গল গ্রহে আন্তর্জাতিক মিশনের জন্য রাশিয়ার পক্ষ থেকে ঠিক করা হয়েছে শক্তি উত্পাদনে সক্ষম পরিবহন মডিউল প্রধান প্রযুক্তিগত বিনিয়োগ হবে.  ধাঁধা সৃষ্টি করা লাল এই গ্রহ এখনও নিজের গোপন রহস্য খুলে ধরে নি.
     রাশিয়ার রাজধানী মস্কো শহরে “নেভি টেক – ২০১২” নামের বাত্সরিক দিক নির্ণয় প্রযুক্তি সংক্রান্ত প্রদর্শনী এই নিয়ে ষষ্ঠ বার অনুষ্ঠিত হচ্ছে. এই বছরে এটা হচ্ছে রাশিয়ার উপগ্রহ ভিত্তিক দিক নির্ণয় ব্যবস্থা গ্লোনাসস এর সম্পূর্ণ ভাবে কার্যকরী হওয়ার মতো প্রতীকী ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে.
রাশিয়ার নির্মাতারা এই বছরের গরমকালে জনসমক্ষে প্রথম ব্যক্তিগত উদ্যোগে ও অর্থ বিনিয়োগে নির্মিত চন্দ্র পৃষ্ঠে ভ্রমণে সক্ষম যান প্রদর্শণ করতে চলেছেন. এই যান গুগল লুনার এক্স প্রাইজ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী “সেলেনোখোদ” নামের কোম্পানীর সম্পত্তি হবে.      প্রতিযোগিতা ২০০৭ সালে ঘোষণা করা হয়েছিল.
১২ই এপ্রিল ১৯৬১ সোভিয়েত দেশের নাগরিক, সামরিক বিমান বহরের পাইলট মেয়র ইউরি গাগারিন ভস্তক – ১ মহাকাশ যানে চড়ে বিশ্বের ইতিহাসে প্রথম পৃথিবীর কাছের কক্ষপথে মহাকাশে ভ্রমণ করেছিলেন.     মনে হয়েছিল যে, এই উড়ানের বিষয়ে সব কিছুই জানা হয়ে গিয়েছে. কিন্তু সরকারি সংবাদ মাধ্যমে একটি বিষয় খুবই সযত্নে উপেক্ষা করা হয়েছে. এটা – উড়ন্ত চাকীর বিষয়ে.
রাশিয়ার উচিত্ হবে নিজেদের মহাকাশ গবেষণা ক্ষেত্রে বিশ্ব মান বজায় রাখার ও বিশ্বের তিনটি নেতৃ স্থানীয় মহাকাশ গবেষণায় উন্নত দেশের মধ্যে থাকা. “২০৩০ সাল অবধি মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে উন্নয়নের স্ট্র্যাটেজি” এটিই হয়েছে, যা নিয়ে রাশিয়ার মন্ত্রীসভা বর্তমানে আলোচনার জন্য প্রস্তুত. কয়েক দিন আগে এই দলিলের প্রকল্প রসকসমস সংস্থা প্রস্তাব করেছে. এই স্ট্র্যাটেজি প্রকাশ করা হয় নি.
প্রথম রুশ অ্যানড্রয়েড রোবট – মহাকাশচারী আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে আগামী দুই বছরের মধ্যে যাবে. সেখানে তার কিছু খুব একটা জটিল নয়, অথচ মানুষের জন্য বিপজ্জনক কাজ থাকবে: মহাকাশ যান থেকে মাল নামান, খোলা মহাকাশে বেরিয়ে মহাকাশ স্টেশনের বাইরের খোলসে ফাটল সারানো. আর খালি সময়ে রোবট এস এ আর – ৪০০ মহাকাশচারীদের সঙ্গে দাবা ও ব্ল্যাক গ্যামন খেলবে.
আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে অভিযাত্রীদের থাকার সময় ৬ মাস থেকে বাড়িয়ে এক বছর অথবা তার থেকেও বেশী করা হতে পারে. রসকসমস সংস্থায় মনে করে হয় যে, বেশী দিন ধরে মহাকাশে থাকার অভিজ্ঞতাকে মানব জাতির জন্য মহাকাশ যাত্রার পরবর্তী অধ্যায়ের জন্য করা যেতে পারে – পৃথিবীর কাছের কক্ষ পথ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়ে.
মহাকাশে প্রথম যারা গিয়েছিলেন, তাঁদের বহু দিনের স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে. সাইবেরিয়ার ক্রাসনোইয়ারস্ক শহরের বিজ্ঞানীরা মানুষের জীবন যাপন করার মতো সম্পূর্ণ আলাদা হওয়া ব্যবস্থা তৈরী করার কাছে পৌঁছেছেন. অন্য মহা জাগতিক বস্তুর উপরে মানুষের থাকার মতো ঘাঁটি তৈরী করতে গেলে স্বয়ং সম্পূর্ণ জৈব শৃঙ্খল ব্যবস্থা ছাড়া উপায় নেই, তাই সেটা ছাড়া পরবর্তী কালে মহাকাশ বিজয়ের পথও ভাবনার অতীত.
"ফোবোস গ্রুন্ত" মহাকাশযানের অসাফল্যের পরে রাশিয়া আন্তর্গ্রহ অনুসন্ধানের পরিসরকে ছোট করে ফেলবে না. শুধু চন্দ্র, শুক্র ও অন্যান্য মহাকাশ পাড়ীর সময়কেই সরিয়ে দেওয়া হবে. রাশিয়ার বিজ্ঞানীদের মতামত অনুযায়ী এই অসফল প্রকল্প আবার করা উচিত্ হবে, আর এই বিষয়ে তাঁদের সহায়তা করতে তৈরী হয়েছেন ইউরোপের সহযোগীরা.
যারা ব্রহ্মাণ্ড জয়ের স্বপ্ন দেখেছে, তাদের প্রত্যেকেরই একটা চাঁদে উড়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে মহাকাশচারী হিসাবে. রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় মহাকাশ সংস্থা "রসকসমস" ও গাগারীনের নামাঙ্কিত মহাকাশচারী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নতুন মহাকাশচারীর দল নেওয়ার জন্য এক সকলের জন্য উন্মুক্ত বাছাইয়ের ঘোষণা করেছে. এই দল তৈরী করা হবে এক সুনির্দিষ্ট কাজের জন্যই – চাঁদে যাওয়ার জন্য.
রাশিয়ার বিজ্ঞানীরা চাঁদে যাবেন, সেখানে শীঘ্রই থাকার মতো স্টেশন তৈরী হবে. এর জন্য ২০২০ সালের মধ্যে চাঁদের উদ্দেশ্যে দুটি চাঁদের পিঠে নামার মতো “লুনা – রিসোর্স” ও “লুনা- গ্লোব” নামে মহাকাশযান পাঠানোর কথা হয়েছে. খবর জানিয়েছেন রসকসমস সংস্থার প্রধান ভ্লাদিমির পাপোভকিন. আজ থেকে বছর কুড়ি বাদেই মানুষ চাঁদে ছুটি কাটাতে যেতে পারবেন বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেছেন.
আগের
1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31
জানুয়ারী 2012
ঘটনার সূচী
জানুয়ারী 2012
1
2
3
4
5
7
8
9
10
12
13
14
15
16
18
19
20
21
23
24
25
26
27
28
29
30
31