×
South Asian Languages:
রাশিয়ার ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনা সম্বন্ধে অবস্থান, 2012
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেনেট বর্তমানে ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা নেওয়া নিয়ে এক নতুন আইন প্রণয়নের চেষ্টা করছে. তেহরানের উপরে চাপ বাড়ছে. তারই মধ্যে বিশেষজ্ঞরা কল্পনা করতে বসেছেন – এই চাপ এবারে কি ধরনের আকার নেবে – আর পরিনামে আমেরিকার লোকরা কি পেতে চলেছে.
বিশ্বে খনিজ তেলের দাম সোমবারে আস্তে ধীরে নামতেই থেকেছে – বিশ্লেষকরা এটাকে ব্যাখ্যা করেছেন ইরানের পররাষ্ট্র দপ্তরের সরকারি মুখপাত্র রহমান মেহমানপারাস্ত যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধি করা নিয়ে তাঁদের দেশের আলোচনায় প্রস্তুত থাকা সম্বন্ধে ঘোষণা করেছেন, তার সঙ্গেই জড়িত ঘটনা বলে.
ইস্রায়েলের প্রচার মাধ্যমগুলি আবার ইরানের পারমানবিক কেন্দ্রগুলির উপর আঘাত হানার সম্ভাবনার বিষয়ে সোরগোল করছে. যেহেতু সদ্য মিট রোমনি রিপাব্লিকান পার্টির তরফ থেকে পদপ্রার্থী হয়েছেন – সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে কার শ্রবনের জন্য এই সবকিছু. নেতানিহায়ুর ঘনিষ্ঠ চক্র মনে করে, যে বারাক ওবামা ইরানের পারমানবিক প্রকল্পের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্কনীতি অবলম্বন করছেন.
জোট নিরপেক্ষ দেশগুলি একবাক্যে ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমানবিক শক্তি রাখার অধিকার সমর্থন করেছে ও সে দেশের বিরূদ্ধে একপাক্ষিক নিষেধাজ্ঞা জারী করার তীব্র নিন্দা করেছে. তেহরানে শুক্রবারে সমাপ্ত হওয়া জোটের সম্মেলনে যোগদানকারীরা সিরিয়ার আভ্যন্তরীন ব্যাপারে বিদেশী হস্তক্ষেপেরও সমালোচনা করেছে, যেখানে দেড়বছর ধরে সশস্ত্র সংঘর্ষ চলছে.
আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থা পরিকল্পনা করছে এক নির্দিষ্ট কার্যকরী গোষ্ঠী তৈরী করার, যাতে ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনা নিয়ে সমস্যার সমাধান খোঁজা সম্ভব হয়. এই কথা বলা হয়েছে সংস্থার থেকে প্রকাশিত এক খবরে. আশা করা হয়েছে যে, নতুন দল নিজের কাজে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের ও আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার সিদ্ধান্তকেই ভিত্তি হিসাবে গ্রহণ করবে.
জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের সদস্য দেশ গুলির নেতৃত্ব ছয় দিন ব্যাপী শীর্ষ সম্মেলন শেষ করছেন দেশ গুলির শীর্ষ স্থানীয় নেতাদের বৈঠক দিয়ে. ১০০রও বেশী দেশের প্রতিনিধিরা ইরান এসেছেন, তাদের মধ্যে ৩৬ জন রাষ্ট্রপতি, উপ রাষ্ট্রপতি অথবা প্রধানমন্ত্রী. এত শীর্ষ স্থানীয় প্রতিনিধিত্ব এর মধ্যেই বলতে দিয়েছে যে, শীর্ষ সম্মেলন সফল হয়েছে, তার পরিনাম যাই হোক না কেন, এই কথাই উল্লেখ করেছেন বিশেষজ্ঞরা.
সিরিয়াকে ঘিরে ঘটনা খুবই বেশী করে ইরানের উপরে আঘাত হানার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিয়েছে ও তাদের বাধ্য করেছে নিজেদের নিরাপত্তা রক্ষায় মাত্রা বৃদ্ধি করতে. এই ভাবেই রুশ বিশেষজ্ঞরা তেহরানের পক্ষ থেকে তাদের দেশের দক্ষিণে বৃহত্তম আকাশ প্রতিরক্ষা ঘাঁটি তৈরী করার সিদ্ধান্তকে ব্যাখ্যা করেছেন. ইরান খনিজ তেলের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা থাকায় খুবই বেশী কে আর্থিক অনটনের মধ্যে রয়েছে.
ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনা নিয়ে সমস্যা সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনার নতুন এক পর্যায় আগষ্ট মাসের শেষেই হওয়ার কথা. দেখাই যাচ্ছে যে, এই আলোচনায় ব্যর্থতা, সেই সব লোকদের জন্য একটা যুক্তি হতে পারে, যারা এই সমস্যার সমাধান যুদ্ধ করেই করতে চায়.
১লা জুলাই থেকে ইউরোপীয় সঙ্ঘের পক্ষ থেকে ইরানের বিরুদ্ধে খনিজ তেল রপ্তানীর বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা ইরানের নেতৃত্বকে মোটেও ইয়ার্কি করার মতো উদ্বিগ্ন করে নি.
ইরানের পার্লামেন্টের আন্তর্জাতিক নীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ এক নতুন আইনের খসড়া প্রণয়ন করেছে, যেখানে খরমুজ প্রণালী দিয়ে সেই সমস্ত দেশে ট্যাঙ্কার পাঠানের পথ বন্ধ করা হবে, যারা ইরানের বিরুদ্ধে খনিজ তেল সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞায় যোগ দিয়েছে বলে জানা রয়েছে. উত্তরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা করেছে যে, এই এলাকায় জাহাজ চলাচলের বাধা সৃষ্টির মোকাবিলা করতে তারা তৈরী আছে.
তেহরানের সঙ্গে খনিজ তেলের বিষয়ে চুক্তিবদ্ধ দেশ গুলির রাষ্ট্রীয় ব্যাঙ্ক গুলির বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা জারী করেছে. এর আগে ব্যক্তিগত মালিকানায় চলা অর্থনৈতিক সংস্থা গুলির উপরে নিষেধাজ্ঞা জারী করা হয়েছিল, যারা সেই ঐস্লামিক প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে কর্ম সূত্রে আবদ্ধ ছিল. আর ১লা জুলাই থেকে ইউরোপীয় সঙ্ঘ ইরানের বিরুদ্ধে খনিজ তেলের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা বহাল করতে চলেছে.
ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনা বিশ্ব সমাজকে শান্তি দিচ্ছে না. পশ্চিম জোর দিচ্ছে যে, তেহরান পারমানবিক যুদ্ধ শুরু করতে পারে, যেই তাদের হাতে পারমানবিক অস্ত্র উপস্থিত হবে, তক্ষুনি. কিন্তু সেই ধরনের ঘটনা চক্র এমনকি ওয়াশিংটনেও বা ব্রুসেলসে খুব কম লোকই বিশ্বাস করে.
সম্ভবতঃ বিশ্বে খুব একটা বেশী জায়গা পাওয়া যাবে না, যেখানে সূর্য প্রায় সারা বছর ধরেই আলো করে রাখে. এই রকমের একটি আকর্ষণীয় জায়গা হল পারস্য উপসাগরের এলাকা. কিন্তু বিগত ছয় মাসে এই নিয়ে দ্বিতীয় বার উপসাগরের সবচেয়ে সংকীর্ণ সামুদ্রিক এলাকা – খরমুজ প্রণালীর উপরের আকাশে রাজনৈতিক আবহাওয়া খারাপ হচ্ছে.
রাশিয়ার জাতীয় স্বার্থে নিকট প্রাচ্যে ও ইস্রায়েলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা প্রয়োজন. ইস্রায়েলের রাষ্ট্রপতি শিমোন পেরেসের সাথে সাক্ষাত্কারকালে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন এই কথা বলেছেন. তারা ইরানের পারমানবিক সমস্যা নিয়েও আলোচনা করেছেন. রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেছেন, যে নিকট প্রাচ্যে সবপক্ষের পারস্পরিক কর্মকান্ডের এমন রূপ দরকার, যাতে ঐ অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় থাকে.
ইরানের রাষ্ট্রপতি মাহমুদ আহমাদনেজাদ বৃহস্পতিবার রিও-দে-জেনেরোয় বিশ্বের নেতাদের ইরানের পারমানবিক প্রকল্প সম্পর্কে আইনানুগ পথে ফিরে আসার আহ্বাণ জানিয়েছেন. আহমাদনেজাদের ভাষায়, মস্কোয় অনুষ্ঠিত আলোচনায় “ইরান আইনানুগ, গঠনমুলক, ন্যায্য ও মৈত্রীমুলক প্রস্তাব দিয়েছে”. ইরান আবার বলছে, যে তার পারমানবিক অস্ত্র পাওয়ার কোনো অভিপ্রায় নেই. ইরানে ইউরেনিয়ামের সমৃদ্ধিকরন করা হচ্ছে চিকিত্সার জন্য.
বাগদাদ শহরে নতুন করে “ছয় পক্ষের ” (রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য দেশ ও জার্মানী) প্রতিনিধিদের ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে ইরানের পারমানবিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে. “ছয় পক্ষ” চেষ্টা করছে তেহরানকে শতকরা ২০ ভাগ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করা থেকে নিরত করতে.  এই বৈঠকের আগে গুরুত্বপূর্ণ কিছু অগ্রগতি যোগ হয়েছে.
 আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ও ইরানের মধ্যে সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর খুবই নিকট সময়ের মধ্যে হয়ে যাওয়ার কথা, যদিও কিছু বিষয়ে মত পার্থক্য থেকেই যাচ্ছে. এই বিষয়ে ভিয়েনাতে তেহরান থেকে ফিরে এসে ঘোষণা করেছেন সংস্থার জেনারেল ডিরেক্টর ইউকিও আমানো.
মার্কিনী বিদেশ দপ্তরের মুখপাত্র ভিক্টোরিয়া নিউল্যান্ড ঘোষণা করেছেন, যে ছয়পাক্ষিক আলাপ-আলোচনায় অগ্রগতি অর্জিত যদি হয়ও, তবুও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের উপর আঘাত হানার পরিকল্পনা থেকে বিরত হবে না. এই প্রসঙ্গে মনে করিয়ে দিতে চাই, যে এর প্রাক্কালে ইস্রায়েলে মার্কিনী রাষ্ট্রদূত ড্যান শাপিরো ঘোষণা করেছিলেন, যে আমেরিকা চায় ইরান সম্পর্কিত সমস্যার সমাধান করতে কূটনৈতিক উপায়ে ও চাপ সৃষ্টি করে, সামরিক উপায়ে নয়.
২১শে মে আবার বৈঠকে বসা হবে বলে সমঝোতায় এসে মঙ্গলবারে ভিয়েনাতে ইরানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার বৈঠক শেষ হয়েছে, আলোচনা করা হয়েছে পারস্পরিক ভাবে শুভেচ্ছা বিনিময়ের আবহাওয়াতে ও মতামত বিনিময় হয়েছে ভালই. সংস্থা চাইছে ইরানের কাছ থেকে প্রমাণ, যা দিয়ে বোঝা যাবে তাদের পারমানবিক পরিকল্পনায় সামরিক কোন লক্ষ্য নেই, আর শান্তিপূর্ণ চরিত্র নিয়ে সমস্ত রকমের সন্দেহ দূর করতে.
আগের
1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31
জানুয়ারী 2012
ঘটনার সূচী
জানুয়ারী 2012
1
2
3
4
5
6
7
8
9
10
11
12
13
14
15
16
17
19
20
21
22
23
24
27
28
29
30
31