×
South Asian Languages:
রাশিয়ার ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনা সম্বন্ধে অবস্থান

ঠিক দুই বছর আগে বাগদাদে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পতাকা নামিয়ে নেওয়া হয়েছিল. এটা ছিল একটা প্রতীকী ব্যাপার, যা করা হয়েছিল, স্রেফ দেখানোর জন্যই যে, ইরাক থেকে মার্কিন সেনাবাহিনী চলে যাচ্ছে. আগামী বছরে, সব দেখে শুনে মনে হয়েছে যে, আমেরিকার সেনাবাহিনীর মূল অংশ আফগানিস্তান থেকেও নিয়ে যাওয়া হতে চলেছে.

কিছু লোক মনে করেছেন যে, ওয়াশিংটন রাজনৈতিক দিক থেকেও মধ্য ও নিকট প্রাচ্য থেকে নিজেদের প্রভাব কম করছে – আর এটা বিগত সময়েই বেশী করে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে.

রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান ইরান সফরে গিয়েছিলেন, যেখানে তিনি তাঁর সহকর্মী জাভাদ জারিফের সঙ্গে আলোচনা করেছেন আর তাঁর সঙ্গে ঐস্লামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের রাষ্ট্রপতি হাসান রোহানি দেখা করেছেন.

যদিও এই সফরকে আনুষ্ঠানিক ভাবে কার্যকরী বলা হয়েছে, তবুও তার সংজ্ঞা সাধারণ দ্বিপাক্ষিক অনুষ্ঠানের বাইরেই হয়েছে. এই প্রসঙ্গে আমাদের সমীক্ষক ভ্লাদিমির সাঝিন মন্তব্য করেছেন.

রুশ প্রজাতন্ত্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ইরানে দুদিনের সফর শুরু করেছেন. জেনেভা সমঝোতা, সিরিয়ার সঙ্কট, অন্যান্য আঞ্চলিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা সমেত একটি মুখ্য বিষয় কোন সন্দেহই নেই যে, হতে চলেছে দ্বিপাক্ষিক ভাবে রাশিয়া ইরান সম্পর্ক.

এই সম্পর্কের বর্তমানের পরিস্থিতি কি রকমের ও তার ভবিষ্যত সম্ভাবনা কি? এই বিষয়ে - আমাদের সমীক্ষক ভ্লাদিমির সাঝিন মন্তব্য করেছেন.

ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা বিশেষজ্ঞদের খনিজ তেলের বাজারে একেবারেই নানা রকমের ভবিষ্যত সম্ভাবনা ব্যক্ত করতে আগ্রহী করেছে. বিশ্বের বাজারে বৃহত্ পরিমানে ইরানের খনিজ জেল উপস্থিত হলে তা এই কালো সোনার দামের ক্ষেত্রে অনেকটাই প্রভাব ফেলতে পারে.

২০১২ সাল পর্যন্ত তেহরান ওপেক সংস্থার সদস্য দেশগুলোর মধ্যে উত্পাদনের বিষয়ে দ্বিতীয় স্থানে ছিল. প্রতিদিনে তারা ৩৫ লক্ষ ব্যারেল খনিজ তেল উত্পাদন করত, যা ২৩টি দেশে সরবরাহ করত. পশ্চিমের দেশগুলো থেকে নিষেধাজ্ঞা বহালের পরে বিশ্বের বাজারে তেহরানের জায়গা ভাগ করে নিয়েছিল ওপেক সংস্থার অন্যান্য অংশীদার দেশরা, প্রাথমিক ভাবে ইরাক. বিগত সময়ে ইরান দিনে মাত্র সাত লক্ষ ব্যারেল তেল উত্পাদন করত, যা চিনে যেত, আর তারই সঙ্গে তাইওয়ান, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও তুরস্কে যেত.

জেনেভাতে এই প্রথমবার গত দশকের মধ্যে একটানা ক্লান্ত করে দেওয়া আলোচনার পরে ইরানের পারমাণবিক পরিকল্পনা নিয়ে একটা সহমতে পৌঁছনো সম্ভব হয়েছে. আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারী প্রতিনিধিদল, যাদের মধ্যে রাষ্ট্রসঙ্ঘের পাঁচ স্থায়ী সদস্য দেশ ও জার্মানী রয়েছে – তারা একদিকে ও ইরান – অন্যদিকে, এক দলিলে স্বাক্ষর করেছে, যা ঐস্লামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের পারমাণবিক পরিকল্পনার ভাগ্য নির্ধারণ করবে.

মনে হচ্ছে যে, একটি সমস্যা যা শেষ পর্যন্ত যুদ্ধে পরিণত হতে পারত, তা সমাধানের কাছে পৌঁছেছে. কিন্তু “সম্মিলিত ভাবে তৈরী করা পরিকল্পনা”, যা দিয়ে এই সমঝোতার নাম দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে কিন্তু সকলেই সন্তুষ্ট নয়. কিন্তু কেন? এই প্রসঙ্গে আমাদের সমীক্ষক ভ্লাদিমির সাঝিন মন্তব্য করেছেন.

ইরানের উপরাষ্ট্রপতি পারমাণবিক শক্তি সংস্থার প্রধান আলি আকবর সালেখি ১৩ই নভেম্বর ইরানের প্রেস টিভি টেলিভিশনে ঘোষণা করেছেন যে, মস্কো ও তেহরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রোটোকল অনুযায়ী ২০১৪ সালের প্রথমার্ধে ইরানের নতুন পারমাণবিক বিদ্যুত প্রকল্পের কাজ রাশিয়ার সহযোগিতায় শুরু হয়ে যাবে.

ইরানের সঙ্গে ছয় মধ্যস্থতাকারী পক্ষের (রাষ্ট্রসঙ্ঘের পাঁচ স্থায়ী নিরাপত্তা পরিষদ সদস্য ও জার্মানী) সেই দেশের পারমাণবিক পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা জেনেভা শহরে শেষ হতে না হতেই তেহরানে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার জেনারেল ডিরেক্টর ইউকিও আমানোর সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থার প্রধান আলি আকবর সালেখির আলোচনা হয়েছে. ফলে ১১ই নভেম্বর ইরান ও আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বাকী থেকে যাওয়া সমস্যা নিয়ে পরবর্তী সময়ে সহযোগিতা করার জন্য এক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে.

ইরানে কাজ করার অধিকার পেয়েছে রাশিয়ার বিদেশী খনিজ তেল উত্পাদনের কোম্পানী “জারুবেঝনেফ্ত”. এই কোম্পানী এবারে খৈয়াম খনিজ তেল ক্ষেত্রে কাজ করবে- যেটাকে মনে করা হয় এই দেশের একটি বৃহত্তম ঘনীভূত গ্যাস উত্পাদন ক্ষেত্র. সেখানে শুধু প্রাকৃতিক গ্যাসের সঞ্চয় মূল্যায়ণ করা হয়েছে দুশো ষাট বিলিয়ন কিউবিক মিটার.

১৯৮৮ সালের ২০শে আগষ্ট, আজ থেকে ২৫ বছর আগে ইরান ও ইরাকের মধ্যে শান্তি চুক্তি বহাল হয়েছিল. আট বছর ধরে চলা রক্তক্ষয়ী এক ভীষণ যুদ্ধের ইতি হয়েছিল, যাকে ইরানে বলা হত “পবিত্র প্রতিরক্ষা” আর ইরাকে “সাদ্দামের কাদিসিয়া” (এল- কাদিসিয়া নামক জায়গায় খ্রীষ্টীয় ষষ্ঠ শতকে ইরাকের মুসলিম বাহিনী পারস্যের সাসানিদদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়লাভ করেছিল) বলে. কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, কোন একটি যুদ্ধে রত পক্ষই বিতর্কের উর্দ্ধে থাকার মতো বিজয় এই যুদ্ধে অর্জন করতে পারে নি.

জন্মের পর থেকে বছর সত্তরের একেবারেই ভঙ্গুর চেহারা, একেবারেই ন্যাড়ামাথা আর খুবই লম্বা নাক ও একেবারে পুঁতির মতই জ্বলজ্বলে চোখ. মহম্মদ মোসাদ্দীক অথবা বুড়ো মোস্সি, এই নামেই তাকে ডাকত ব্রিটেন আর আমেরিকার লোকরা, তিনিই ছিলেন ইরানে ১৯৫১-১৯৫৩ সালে হয়ে যাওয়া এক নাটকীয় পরিস্থিতির মুখ্য পরিচালক. “তিনি নিজের আঙ্গুলের ইশারায় সকলকে ঘোল খাইয়ে ছেড়েছিলেন: সেটা যেমন বিদেশী খনিজ তেলের কোম্পানীগুলোকে, তেমনই আমেরিকা ও ব্রিটেনের প্রশাসনকেও, যেমন শাহকে, তেমনই দেশের ভেতরে নিজের প্রতিপক্ষকেও”, - এই ভাবেই ডক্টর মোসাদ্দীককে নিয়ে “নিষ্কাশণ, খনিজ তেলের জন্য লড়াইয়ের বিশ্ব ইতিহাস” নামের এক বইয়ের লেখক ড্যানিয়েল এর্গিন বর্ণনা করেছেন. বিশ্ব ইতিহাসে ইরানের প্রধানমন্ত্রী মহম্মদ মোসাদ্দীক প্রবেশ করেছেন এক প্রথম নিকটপ্রাচ্যের রাজনীতিবিদ হিসাবে, যিনি নিজের দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ – খনিজ তেলকে জাতীয় সম্পদে পরিণত করেছিলেন.

কয়েক সপ্তাহ পরেই বুশের পারমাণবিক বিদ্যুতকেন্দ্রের প্রথম এনার্জী ব্লক সরকারি ভাবে রাশিয়ার তরফ থেকে ইরানের পক্ষের হাতে তুলে দেওয়া হবে. এই বিষয়ে আজ এক সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়েছেন ঐস্লামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিনিধি সাঈদ আব্বাস আরাকচি. ইরানের কূটনীতিবিদ একই সঙ্গে উল্লেখ করেছেন যে, বর্তমানে দ্বিপাক্ষিক ইরান- রুশ আলোচনা করা হচ্ছে পারমাণবিক জ্বালানী ও শক্তি সংক্রান্ত নানা ক্ষেত্রের বিষয় নিয়ে.

তেহরান থেকে উত্স জানিয়েছে যে, রুশ রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন ইরান সফরে যেতে পারেন. ক্রেমলিনে এই সব খবর সরকারি ভাবে স্বীকৃতী দেওয়া হয় নি, আবার তা অস্বীকারও করা হয় নি. স্পষ্টই দেখতে পাওয়া যাচ্ছে যে, সম্ভাব্য সফর বিশেষ ধরনের মনোযোগ আকর্ষণ করে. কিন্তু কেন? ভ্লাদিমির সাঝিনের এই প্রসঙ্গে মন্তব্য দেওয়া হল.
ইরানের নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি হাসান রোহানি এক চাঞ্চল্যকর ঘোষণা নিয়ে ভাষণ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন দেশের মানুষের জীবনকে এই ঐস্লামিক প্রজাতন্ত্রে আরও মুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে, বাধা নিষেধ শিথিল করার জন্য ও ইরানের মানুষদের প্রত্যহের জীবনের উপরে কড়া নিয়ন্ত্রণ তুলে নেওয়ার জন্য. রোহানি বলেছেন, - “আমাদের প্রয়োজন শক্তিশালী সমাজের. আমাদের দেশের লোকদের সঙ্গে কথা বলা দরকার.
রাশিয়া আগামী বছর গুলিতে নিরাপদ ও সর্বাধুনিক রিয়্যাক্টর ব্যবহার করে পারমানবিক বিদ্যুত শক্তি উত্পাদন বৃদ্ধি করতে চলেছে. এই বিষয়ে মস্কো শহরে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন ঘোষণা করেছেন আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার প্রধান ইউকিও আমানোর সঙ্গে আলোচনার সময়ে.
নির্বাচিত হওয়ার পরে নিজের প্রথম রাষ্ট্রপতি হিসাবে সাংবাদিক সম্মেলনে ইরানে হাসান রোহানি ঐস্লামিক প্রজাতন্ত্রের পারমানবিক পরিকল্পনা সম্পর্কে বেশী খোলাখুলি হওয়া সম্বন্ধে নিজে প্রস্তুত বলে ঘোষণা করেছেন. তিনি, অংশতঃ, ঘোষণা করেছেন: “আমাদের পারমানবিক পরিকল্পনা সম্পূর্ণ ভাবেই স্বচ্ছ.
ইরানে - নতুন রাষ্ট্রপতি এসেছেন. ১৪ই জুনে নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন জনগনের কাছ থেকে শতকরা ৫০ ভাগেরও বেশী ভোট পেয়ে হাসান রোহানি. হাসান রোহানিকে মনে করা হয়ে থাকে একজন লিবারেল ও সংশোধনকারী হিসাবে, যদিও আধুনিক ইরানে এই সব ধারণা গুলি খুবই তুলনামূলক. সমস্ত প্রার্থীদেরই এখনও নির্বাচনের আগে দেশের সর্ব্বোচ্চ ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কড়া ফিল্টার পার হয়ে আসতে হয়ে থাকে.
আজ ইরানের জনগন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করছেন. বর্তমানের রাষ্ট্রপতি মাখমুদ আহমাদিনিজাদ আর এই পদে কখনও আসীন হবেন না এই কথা জোর দিয়েই বলা যেতে পারে. আহমাদিনিজাদের আট বছর ধরে রাষ্ট্রপতির পদে থাকার ফলাফল নিয়ে একটি সমীক্ষা লিখেছেন আমাদের পর্যবেক্ষক ভ্লাদিমির সাঝিন.
ইরানে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে মাত্র চার দিন বাকী. রাষ্ট্রপতি পদ প্রার্থীরা সক্রিয়ভাবে টেলিভিশনে বিতর্কে অংশ নিচ্ছেন ও ভোটারদের সঙ্গে দেখা করছেন. তাঁদের বক্তৃতার প্রধান বিষয় হচ্ছে দেশের আভ্যন্তরীণ নীতির সমস্যা ও অর্থনৈতিক সঙ্কট থেকে বের হওয়ার পথ খোঁজা.
এপ্রিল মাসের পরিসংখ্যান থেকে দেখা গিয়েছে যে, ভারতে ইরানের খনিজ তেল আমদানী শতকরা ৩৪, ২ ভাগ কমেছে. যদুও ভারত সরকারি ভাবে ইরান বিরোধী নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে যোগ দেয় নি, তবুও, বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন যে, ইরান থেকে আমদানী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় সঙ্ঘের পক্ষ থেকে করা রাজনৈতিক চাপের সঙ্গে যুক্ত. ভারতে ইরানের খনিজ তেল আমদানী কমানো চলছে আজ প্রথম মাস নয়.
জাতীয় পারমানবিক পরিকল্পনা নিয়ে আন্তর্জাতিক সমাজ চেষ্টা করছে সম্ভাব্য উন্নয়নের মাত্রা নির্ধারণ করার, যার পরে শান্তিপূর্ণ গবেষণা শেষ হয়ে সামরিক প্রযুক্তি তৈরী শুরু হয়ে যায়. কারণ এখন পারমানবিক অস্ত্র করায়ত্ত করতে চেয়েছে অনেক গুলি দেশ ও তাদের মধ্যে আবার অস্থিতিশীল প্রশাসন সমেত দেশও রয়েছে. সুইজারল্যান্ডের মনত্রিয়ে শহরে শেষ হতে চলেছে আন্তর্জাতিক পারমানবিক বিপর্যয় রোধ নিয়ে লকসেমবর্গ সম্মেলন.
আগের
1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31
আগষ্ট 2017
ঘটনার সূচী
আগষ্ট 2017
1
2
3
4
5
6
7
8
9
10
11
12
13
14
15
16
17
18
19
20
21
22
23
24
25
26
27
28
29
30
31