×
South Asian Languages:
জাপান, মার্চ 2011
আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি এজেন্সি ২০-২৪শে জুন ভিয়েনায় পারমাণবিক নিরাপত্তা সম্পর্কে সম্মেলন আয়োজনের কথা ঘোষণা করেছে. এ সম্মেলন আয়োজিত হচ্ছে জাপানের “ফুকুসিমা-১”  পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্রে দুর্ঘটনা উপলক্ষ্যে, যা ঘটেছে ১১ই মার্চ ধ্বংসাত্মক ভূমিকম্পের পরে. এর আগে এজেন্সির ১৫০টি সদস্য দেশেরই উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে সম্মেলন আহ্বানের প্রস্তাব করেন এজেন্সির ডিরেক্টর জেনারেল ইউকিয়া আমানো.
জাপানের পারমাণবিক ও শিল্প ক্ষেত্রে নিরাপত্তার এজেন্সি সরকারকে দুর্ঘটনাগ্রস্ত  “ফুকুসিমা-১” পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্রের চারপাশে লোকেদের অপসারণের এলাকা প্রসারের সুপারিশ করেছে. আগে এর উপর জোর দিয়েছিল আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি এজেন্সি. ২০ কিলোমিটারের অপসারণের এলাকার সীমানার বাইরের এলাকাও ভীষণ তেজষ্ক্রিয়তায় বিষগ্রস্ত হয়েছে. দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিদ্যুত্ কেন্দ্রের ৪০ কিলোমিটার উত্তর-পুবে মৃত্তিকার নমুনায় অতি বেশি পরিমাণ তেজষ্ক্রিয় আইওডিন এবং সিজিয়াম পাওয়া গেছে.
রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে ক্রাস্নোদার অঞ্চল ধ্বংসাত্মক ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত জাপানের ৫০০ শিশুকে বিশ্রামের জন্য গ্রহণ করতে প্রস্তুত. এ সম্বন্ধে বলেছেন কুবান অ়ঞ্চলের গভর্নর আলেক্সান্দর ত্কাচেভ. তিনি বলেন যে, কৃষ্ণ সাগরের উপকূলে শ্রেষ্ঠ বিশ্রাম-কেন্দ্রগুলি শিশুদের দেওয়া হবে. তাদের শারীরিক ও মানসিক পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা করা হবে, তারা খেলাধুলা করবে, পরিভ্রমণে যাবে. এ রকমেরই প্রস্তাব দিয়েছে সাইবেরিয়ার কেমেরোভ প্রদেশ.
জাপানের "ফুকুসিমা – ১" পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রে দূর্ঘটনা রাশিয়ার জনগনের জন্য বিপজ্জনক নয়, এই ভরসা বাণী দিয়েছেন রাশিয়ার "রসঅ্যাটম" সংস্থার প্রধান সের্গেই কিরিয়েঙ্কো. তাঁর কথামতো, এমনকি যদি পরবর্তী ঘটনা খুবই খারাপ কোন পরম্পরা ধরেও হয়, তাহলেও সুদূর প্রাচ্য ও দেশের অন্যান্য জায়গার জন্য তার কোন কূপ্রভাব পড়বে না.
জাপানের কর্তৃপক্ষ এ সম্ভাবনা বাদ দিচ্ছেন না যে, “ফুকুসিমা-১” পারমাণবিক বিদ্যুত্শক্তি কেন্দ্রের চারপাশে অপসারণের এলাকা ৩০ কিলোমিটারের বাইরেও প্রসারিত হতে পারে. কেন্দ্রের তৃতীয় রিয়াক্টরের টার্বাইন হলে তেজষ্ক্রিয়তার মান নির্ধারিত সর্বাধিক মাত্রার চেয়ে ১০ হাজার গুণ বেশি. জাতীয় পারমাণবিক নিরাপত্তা এজেন্সিতে অনুমান করা হচ্ছে যে, রিয়াক্টরে কোনো ক্ষতি হয়েছে. বৃহস্পতিবার ১৭ জন কর্মী অতি মাত্রার বিকীরণ পেয়েছে.
রাষ্ট্রীয় সংস্থা রসঅ্যাটম রাশিয়ার পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র বন্ধ করার সম্ভাবনা বজায় রেখেছে, যদি সেগুলির কোন রকমের বিপজ্জনক জায়গা লক্ষ্য করা যায়, এই খবর দিয়েছেন এই সংস্থার কার্যকরী ডিরেক্টর সের্গেই বইয়ারকিন.
রাশিয়ার গোটা দূরপ্রাচ্যে আজ স্বাভাবিক তেজষ্ক্রিয়তার মান বজায় রয়েছে. বিপর্যয় নিরসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি জানিয়েছেন যে, তা মাপা হচ্ছে ৬১০টি স্থিতাবস্থার ও চলমান কেন্দ্রে, ব্যবহৃত হচ্ছে বিমান ও সামুদ্রিক জাহাজ. এর প্রাক্কালে, মঙ্গলবার, দূরপ্রাচ্যের ভূভাগে বিভিন্ন জায়গায় তেজষ্ক্রিয়তার মাত্রা ছিল ঘন্টায় ৬ থেকে ১৭ মাইক্রো রেন্টগেন, যা স্বাভাবিকের চেয়ে নিচে.
জাপানের আবহ এজেন্সি ৭ মাত্রার পর পর ভূমিকম্প হওয়ার উচ্চ সম্ভাবনা সম্বন্ধে সতর্ক করে দিচ্ছে. বিজ্ঞানীদের মতে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের আঘাত ১১ই মার্চের ভূমিকম্প ও সুনামীতে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলি ধ্বংস করতে পারে শুধু তা-ই নয়, নতুন প্রবল জোয়ারও আনতে পারে. এ মাসের গোড়া থেকে জাপানে আসা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ফলে নিহত ও নিখোঁজ লোকেদের সংখ্যা ২৩ হাজার ছাড়িয়ে গেছে.
জাপানের ইঞ্জিনিয়ারেরা সমস্ত কিছুই করছেন যাতে ফুকুসিমা -১ পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়. সোমবার তাঁরা ছয়টি রিয়্যাক্টরের সব কটি তেই বিদ্যুত পরিবাহী তার নিয়ে যেতে পেরেছেন. বিশেষজ্ঞরা আশা করেছেন এর ফলে রিয়্যাক্টর ও ব্যবহৃত পারমানবিক জ্বালানী সংরক্ষণের জন্য তৈরী জলাধারে স্বয়ংক্রিয় ভাবে জল সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে.
জাপান থেকে আসা খাওয়ার জিনিসের উপরে রাশিয়াতে পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে – এই খবর জানিয়েছেন দেশের প্রধান স্বাস্থ্য সংরক্ষণ চিকিত্সক গেন্নাদি অনিশেঙ্কো. তাঁর কথামতো, এই নিয়ন্ত্রণ সারা রাশিয়া জুড়েই করা হচ্ছে, বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়েছে দেশের সীমান্ত ও বন্দর অঞ্চলে. জাপানে থেকে আসা, বিমানে পাঠানো খাদ্য দ্রব্যের উপরেও পরীক্ষা করা হচ্ছে.
"ফুকুসিমা – ১" পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের দূর্ঘটনা গ্রস্থ রিয়্যাক্টর গুলি থেকে আর নতুন বিপদের সম্ভাবনা নেই ও নৈরাশ্য জনক পূর্বাভাস দেওয়া বন্ধ হয়েছে. এই বিষয়ে রাশিয়ার "রসঅ্যাটম" সংস্থার প্রধান সের্গেই কিরিয়েঙ্কো ঘোষণা করেছেন.
বিপর্যয় নিরসন দপ্তরের বিমান আজ খাবারভস্ক থেকে জাপানের নিইগাতা শহরে ভূমিকম্প ও সুনামিতে বিধ্বস্ত অঞ্চলে সাহায্যের জন্য মানবিক সহায়তা করার জিনিস পত্র নিয়ে গিয়েছে. বিমানে পাঠানো হয়েছে খাবার জল ও কম্বল. ফেরার পথে বিমানে চড়ে জাপানে থাকা রাশিয়ার তিরিশ জন নাগরিক ফিরে আসবেন, যাঁরা অবস্থা স্বাভাবিক হওয়া পর্যন্ত দেশ ছেড়ে চলে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন.
জাপানের লোকেরা ও দেশে কর্মরত উদ্ধার কর্মীরা এক মিনিট মৌন নীরবতা পালন করে এক সপ্তাহ আগে বিধ্বংসী ভূমিকম্প ও তার ফলে উত্পন্ন জলোচ্ছাসে (সুনামি) নিহত নাগরিকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন. শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় ছিল ঠিক এক সপ্তাহ আগে ৯ অঙ্কের শক্তি সম্পন্ন ভূমিকম্প শুরু হওয়ার সময়.     "ফুকুসিমা – ১" পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের পরিস্থিতি কিন্তু জটিল থেকেই গিয়েছে.
অতি নিকট ভবিষ্যতে রাশিয়ার কয়লা কোম্পানিগুলি ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত জাপানে কয়লা সরবরাহ বাড়ানোর পরিকল্পনা পেশ করবে. এ সম্বন্ধে জানিয়েছেন রাশিয়ার জ্বালানী ও বিদ্যুত্শক্তি সংক্রান্ত মন্ত্রী সের্গেই শ্মাতকো. তিনি বলেন, “এ ব্যাপারে জাপানী কোম্পানিগুলির সাথে আলাপ-আলোচনা হবে”. রাশিয়া তাছাড়া তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস জাপানে পাঠানোর প্রস্তাব করেছে পারমাণবিক বিদ্যুত্শক্তি কেন্দ্র থামায় বিদ্যুত্শক্তির ক্ষতিপুরণের জন্য.      
রাশিয়ার দূর প্রাচ্যের আমুর প্রদেশের বাসিন্দারা ধ্বংসাত্মক ভূমিকম্পে গৃহহারা জাপানী পরিবারগুলিকে বাসস্থান দিতে প্রস্তুত. প্রাদেশিক প্রশাসনে জানানো হয়েছে যে, “হট লাইন” টেলিফোন চালু করা হয়েছে, যার মারফত প্রত্যেকে নিজের নিজের সাহায্য প্রস্তাব করতে পারে. জাপানে আসা ভূমিকম্প ও সুনামী হাজার হাজার লোককে গৃহহারা করেছে.
আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি এজেন্সি বিপর্যয়গ্রস্ত “ফুকুসিমা” পারমাণবিক বিদ্যুত্শক্তি কেন্দ্রে তেজষ্ক্রিতা মাপার জন্য দু দিনের মধ্যে বিশেষজ্ঞদের পাঠাবে. এ সম্বন্ধে বলেছেন এজেন্সির নেতা ইউকিয়া আমানো টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী নাওতো কানের সাথে সাক্ষাতে. তিনি জাপানের কর্তৃপক্ষের কাছে বিপর্যয়ের সীমারেখায় এসে পড়া পারমাণবিক বিদ্যুত্শক্তি কেন্দ্রে পরিস্থিতি সম্বন্ধে আরও পূর্ণ তথ্য দেওয়ার দাবি করেছেন.
জাপানে রাশিয়ার ত্রাণকর্মীরা কাজ শুরু করেছে বিপর্যয়ের এলাকার নতুন জায়গায় – ইসিনোমাকি শহরের কাছে, যা ধ্বংসাত্মক ভূমিকম্প ও সুনামীতে ভীষণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে. তারা ধ্বংসস্তূপের তলায় থাকা লোকেদের অনুসন্ধান করছে. রাশিয়ার বিপর্যয় নিরসন মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে যে, কাজ কঠিন হয়ে উঠছে এজন্য যে, ধ্বংসস্তূপের নীচে জমে রয়েছে বিপুল পরিমাণ জল, জায়গায় জায়গায় যার উচ্চতা দেড় থেকে দুই মিটার.
"ফুকুসিমা -১" পারমানবিক কেন্দ্রে বিধ্বংসী ভূমিকম্প ও তা থেকে উত্পন্ন জলোচ্ছাসে প্রথম, তৃতীয় ও দ্বিতীয় রিয়্যাক্টরের ঠাণ্ডা করার ব্যবস্থা নষ্ট হয়ে গিয়েছে বিস্ফোরণে.     জাপানের বিশেষজ্ঞরা চেষ্টা করছেন রিয়্যাক্টরের তাপমাত্রাকে চলতে পারে এমন মাত্রায় কমিয়ে আনার. এই কাজ করার জন্য বেশ কয়েকটি উপায় রয়েছে, তার মধ্যে মাটিতে বসানো পাম্প অথবা হেলিকপ্টার থেকে জল ফেলা যেতেই পারে.
জাপানে রাশিয়ার বিপর্যয় নিরসন মন্ত্রণালয়ের কর্মীদের সংখ্যা বেড়েছে. প্রথম দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন রাশিয়ার "লিডার" নামের এক বিশেষ ঝুঁকি সংক্রান্ত কাজের দলের ৫০ জন কর্মী ও সুদূর প্রাচ্যের খোঁজ করার দপ্তরের ২৫ জন. যেখানে সবচেয়ে বেশী ক্ষতি হয়েছে, সেই সেন্দাই শহরের কাছে, রাশিয়ার ত্রাণ কর্মীরা ধ্বংস স্তূপের তলা থেকে খুঁজে দেখে তা পরিস্কার করার কাজে ব্যস্ত.
রাশিয়ার জ্বালানী সংক্রান্ত মন্ত্রী সের্গেই শ্মাতকো বলেছেন যে, দূর প্রাচ্য থেকে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত জাপানে জ্বালানী সরবরাহ বৃদ্ধির কয়েকটি ধারণা আছে রাশিয়ার. এর মধ্যে, বিশেষ করে, আছে – সাখালিনে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস উত্পাদনের তৃতীয় কারখানার নির্মাণ. রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন ১৫ই মার্চ দূর প্রাচ্যে জ্বালানী নিষ্কাশন সংক্রান্ত প্রকল্পের বাস্তবায়ন, বিশেষ করে, “সাখালিন-৩” প্রকল্পের বাস্তবায়ন দ্রুততর করার নির্দেশ দিয়েছেন.
আগের
1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31
মার্চ 2011
ঘটনার সূচী
মার্চ 2011
1
2
3
4
5
6
7
8
9
12
13
19
20
22
24
26
27
30