×
South Asian Languages:
শীত - তুষার ঝড়

রাষ্ট্রসঙ্ঘ আয়োজিত আবহাওয়া সংক্রান্ত সম্মেলন, যা ওয়ারশ শহরে ১১ থেকে ২৩শে নভেম্বর পর্যন্ত হয়েছে, তাতে কোন নতুন উন্নতি দেখতে পাওয়া যায় নি. এই আলোচনার লক্ষ্য ছিল আবহাওয়া নিয়ে নতুন করে চুক্তির বয়ান তৈরী করা, যা ২০২০ সালে কিয়োটো প্রোটোকলের জায়গা নেবে. কিন্তু এই প্রশ্ন নিয়ে প্রতিনিধি দলেরা এমনকি আলোচনার সূত্রপাত পর্যন্ত করেন নি.

এই সম্মেলনে যাঁরা অংশ নিয়েছেন, তাঁরা সহমতে এসেছেন যে, আগামী বছরে এই বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাবেন. আর এটাই প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ১৯০টি দেশ থেকে আসা প্রতিনিধি দলের কাজের মূল পরিণাম. তাও একেবারে শেষ মুহূর্তে সর্বসম্মতি ক্রমে সিদ্ধান্ত করা সম্ভব হয়েছে মাত্র কয়েকটি দলিল নিয়েই, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার প্রতিনিধি দলের প্রধান আলেকজান্ডার বেদরিত্শকি বলেছেন:

তীব্র শৈত্য প্রবাহের কবলে পড়েছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলো। বিশেষকরে ব্রাজিল, প্যারাগুয়ে, উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও চিলিতে অতিরিক্ত ঠান্ডায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা
সুইডেনে ১৫-১৬ই জুলাই আবহাওয়ার পরিবর্তন নিয়ে আরও একটি সম্মেলন হতে চলেছে. বহু ডজন বিশেষজ্ঞ মানুষের আবহাওয়ার উপরে প্রভাব নিয়ে আলোচনা করছেন, বিশ্বের উষ্ণায়ন ও এই সমস্যা সমাধানের জন্য খরচ নিয়েও. তারই মধ্যে বিজ্ঞানীরা এই প্রথমবারই উল্লেখ করছেন না: সূর্য বিশ্বের আবহাওয়ার উপরে মানুষের চেয়ে অনেক বেশী গুনেই প্রভাব ফেলে থাকে.
১৯২৮ সালের ২৪শে মে ইতালির মেরু অভিযাত্রী উমবের্তো নোবিলে “ইতালি” নামের একটি হাওয়াই জাহাজে করে উত্তর মেরুতে গিয়ে পৌঁছেছিলেন. পরের দিনই এই বায়ু যানে চড়ে যাওয়া অভিযাত্রীদের যান ভেঙে পড়েছিল. তার পরেই শুর হয়েছিল বিশ্বে প্রথম আন্তর্জাতিক ত্রাণ অভিযান, যাতে ছয়টি দেশ থেকে ১৮টি জাহাজ ও ২১টি বিমান অংশ নিয়েছিল.
রাষ্ট্রীয় মহাকাশ সংস্থা রসকসমস মহাকাশ ও বড় ধরনের বিপর্যয় সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সনদপত্রে স্বাক্ষর করছে. সেই সমস্ত দেশ, যারা এই সনদে সামিল হয়েছে, তারা বিপর্যয় ক্লিষ্ট দেশ গুলিকে ত্রাণের কার্যে সহায়তা দিয়ে থাকে. অংশতঃ, তাদের কাছে মহাকাশ থেকে পৃথিবীকে দেখার তথ্য দেয়, যা বিপর্যস্ত অঞ্চলে দেখতে পাওয়া যায়.
ভারত রাশিয়ার অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি ব্যবহার করবে জাতীয় সঙ্কট পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বিকাশের জন্য. এই লক্ষ্য নিয়ে রাশিয়াতে বর্তমানে ভারতের এক প্রতিনিধি দল এসেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সুশীল কুমার শিন্ডের নেতৃত্বে. মন্ত্রী রাশিয়ার রাজধানীতে রাষ্ট্রীয় বিপর্যয় নিরসন মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ দপ্তরে গিয়েছিলেন.
গত কয়েকদিন ধরে ভারী তুষারপাতের কারণে অচল হয়ে পড়েছে পূর্ব ইউরোপের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা । চেক প্রজাতন্ত্র, স্লোভাকিয়া ও
রাশিয়ার দূরপ্রাচ্যে অবস্থিত কামচাতকার পশ্চিম উপকূলে শুক্রবার ৮ মিটার উচ্চতার ঢেউ আছড়ে পড়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে. উদ্ধারকার্য কর্মীরা যে সব জাহাজ সম্ভাব্য বিপজ্জনক এলাকায় আছে, তাদের ক্যাপ্টেনদের কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন. জাপানী দ্বীপপুঞ্জ থেকে আগত ঝঞ্ঝা কামচাতকা উপদ্বীপের উপর বৃহস্পতিবার সকালে প্রবল বাতাস ও তুষার সহ ঝাঁপিয়ে পড়েছে. তুষার ঝড় চলছে উপদ্বীপের গোটা দক্ষিণাঞ্চল জুড়ে.
যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের এলাকায় তুষার ঝড়ের পর উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে. রোববার মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেল সিএনএন এ খবর জানিয়েছে. আবহাওয়াবিদরা জনায়, তাষারপাত ধীরে ধীরে কমে আসছে. ম্যাসাচুয়েটস, রড- আইল্যান্ড ও কানেক্টিকাটে সড়কে যানবাহন চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছে. সর্বশেষ পাওয়া খবরে যুক্তরাষ্টে ৭ ও কনাডায় ২ জনের প্রাণহানি ঘটেছে বলে জানা যায়. এদের অধিকাংশই সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়.
রাশিয়ার দূরপ্রাচ্যে কামচাতকার দক্ষিণাঞ্চলে তীব্র হাওয়া ও তুষারপাত হচ্ছে. বাতাসের বেগ সেকেন্ড পিছু ২৮ মিটার, রাস্তাঘাট পিছল, দৃষ্টিসীমা ৫০০ মিটারের বেশি নয়. খারাপ আবহাওয়ার কারনে পেত্রোপাভলভস্ক-কামচাতকায় স্কুলে পাঠ বাতিল করা হয়েছে. যানজটের উদ্ভব হয়েছে. পরিবহন দপ্তর জরুরী প্রয়োজন ছাড়া গাড়ি চালাতে নিষেধ করেছে. প্রবল তুষারপাতের দরুন আগ্নেয়গিরিগুলি থেকে তুষার ধ্বস নামার আশংকা রয়েছে.
বিশ্বের জন্য অপেক্ষা করে রয়েছে মহাজাগতিক অন্তিমকাল, যেখানে একই সঙ্গে জল, বায়ু, ভূমি ও আগুন তাণ্ডবে লিপ্ত হবে, এই রকমই একটা ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন সুদূর প্রাচ্য রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই প্রফেসর আলেকজান্ডার পানিচেভ ও আলেকজান্ডার গুলকভ. আসন্ন শেষের সে দিনে আমাদের পরিচিত বিশ্বের জন্য কোন সুযোগই থাকবে না আস্ত থাকার.
প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ক্রাসনোইয়ারস্ক শহরের একটি নদীর পার ধরে একেবারেই অসাধারণ হুড়োহুড়ি দেখতে পাওয়া গিয়েছিল. সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সেখানে শুনতে পাওয়া যাচ্ছিল প্রচুর আওয়াজ ও ঘন্টা ধ্বনির মতো শব্দ. এখানে যারা ছিলেন, এরা সবাই প্রতিভাশালী স্থপতি ও তারা এসেছিলেন “সাইবেরিয়ার জাদু বরফ” উত্সবে অংশ নিতে ও তারা কাজ করছিলেন বরফ ও তুষার নিয়ে.
পৃথিবী জুড়ে জলবায়ুর পরিবর্তনের কারনে পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধে ও বিশেষতঃ সাইবেরিয়ায় বরফের আস্তরন ক্রমশঃ বাড়ছে. নোভোসিবিরস্ক শহরে তুষার সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক ফোরামে বক্তব্য রেখে এই কথা বলেছেন রুশ বিজ্ঞান এ্যাকাডেমির ভূগোল ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ ভ্লাদিমির কোতলিকোভ. এটা একটা ধাঁধা – যখন পৃথিবীর বহু এলাকায় গড় তাপমাত্রা বাড়ছে, সবমিলিয়ে তুষারপাতের পরিমানও একসাথে বাড়ছে.
গত রাত থেকে মস্কোয় এমন তুমুল তুষারপাত শুরু হয়েছে, যা আগামী ২-৩ দিনে আধমাসের গড় তুষারপাতের পরিমান ছাপিয়ে যেতে পারে. আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী তুষারপাতের সাথে চলবে ঝঞ্ঝা, যা কেবলমাত্র শুক্রবার সকাল নাগাদ শান্ত হবে. বুধবার সকাল ৭-টায় রাজধানীর রাস্তাঘাট ও পার্কিং করা সব গাড়ি বরফের মোটা আচ্ছাদনে ঢেকে গেছে.
রাশিয়ার জরুরী পরিস্থিতি বিষয়ক মন্ত্রীসভা সারা দেশে অভাবনীয় শীতের প্রকোপ থেকে আশু রেহাই পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছে না. মন্ত্রী ভ্লাদিমির পুচকোভ সমস্ত সামাজিক পরিষেবার কাজ যাতে ব্যাহত না হয়, সেজন্য যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলে ‘ইন্টারফ্যাক্স’ সংবাদসংস্থা জানিয়েছে. তিনি সেইসঙ্গেই বড় রাস্তাঘাটে গাড়িচালকদের নিরাপত্তা সুরক্ষা করার ব্যবস্থা জোরদার করতে বলেছেন.
সিয়াচেন হিমবাহ আবারও নিজের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে. গত রবিবারে ভোর রাতে এক শক্তিশালী তুষার ধ্বস নেমে সিয়াচেনের ভারতীয় সামরিক বাহিনীর পোস্ট চাপা দিয়ে চলে গিয়েছে, তাতে জীবন্ত অবস্থায় তুষারে চাপা পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন সাত জন যোদ্ধা. এই বছরের এপ্রিল মাসে সেখানেই তুষার ধ্বসে চাপা পড়ে মারা গিয়েছিলেন ১৪০ জন পাকিস্তানের সেনা. সিয়াচেনের নিহতদের সংখ্যা বাড়তেই থাকছে.
মস্কোর দিকে ধেয়ে আসছে শৈত্যপ্রবাহ. আবদাওয়াবিদদের দেওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী বুধবারেই রাশিয়ার রাজধানীতে দিনের বেলায় তাপমাত্রা -১০ ডিগ্রি ও সন্ধ্যার পরে -১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামবে. সপ্তাহান্তে বাতাসের তাপমাত্রা -২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামবে. উত্তর মেরু থেকে আসা শৈত্যপ্রবাহ ও তুষারঝড় ইতিমধ্যেই ইউরোপকে ঢেকে দিয়েছে. সেখানে আবহাওয়ার দুর্বিপাকের শিকার হয়েছে কমপক্ষে ৫০ জন মানুষ.
আমাদের জগতের সঙ্গে আজ থেকে একশ বছর পরে কি হতে চলেছে, অথবা হয়তো তারও আগে? বৈজ্ঞানিক ও সাধারন মানুষরা এই প্রশ্নই আজ বেশী করে করতে শুরু করেছেন. সমগ্র দেশ ও মহাদেশের জন্যই আজ বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, খরা সত্যিকারের যমদূত হয়ে দাঁড়িয়েছে.
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উত্তর পূর্বে খুবই কড়া ঠাণ্ডা পড়েছে, এখান দিয়েই তাণ্ডব করে গিয়েছিল স্যাণ্ডি. এখন রাতের তাপমাত্রা প্রায় শূণ্য ছুঁইছুঁই, রবিবারে ইন্টারফ্যাক্স সংস্থা এই খবর দিয়েছে. পরিস্থিতি এই এলাকায় জ্বালানী ও বিদ্যুতের অভাবে জটিল হয়েছে. সত্যই এবারে ঠাণ্ডা লাগছে – এই কথা সাংবাদিকদের বলেছেন নিউইয়র্কের মেয়র মাইকেল ব্লুমবের্গ.
আগের
1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30
সেপ্টেম্বর 2017
ঘটনার সূচী
সেপ্টেম্বর 2017
1
2
3
4
5
6
7
8
9
10
11
12
13
14
15
16
17
18
19
20
21
22
23
24
25
26
27
28
29
30