×
South Asian Languages:
ন্যাটো জোট, এপ্রিল 2011
জার্মানিতে ইস্টার উত্সব উপলক্ষ্যে পরাম্পরাগত শান্তি মিছিল হয়েছে. তার অংশগ্রহণকারীরা সারা পৃথিবীতে পারমাণবিক ভান্ডার ও পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্রের উচ্ছেদের, ন্যাটো জোট ভেঙ্গে দেওয়ার, পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত জগতের, আফগানিস্তান থেকে জার্মান সৈনিকদের অপসারণ এবং লিবিয়ায় বল প্রয়োগ বন্ধ করার পক্ষে মত প্রকাশ করেছে. বার্লিনে পারমাণবিক বিদ্যুত্শক্তির বিরোধী চার হাজারেরও বেশি লোক রাস্তায় বের হয়েছিল.
ন্যাটো জোটের বিমান বাহিনী গত রাতে ত্রিপোলিতে লিবিয়ার নেতা মুয়ম্মর গাদ্দাফির বাসভবনের অঞ্চলে আঘাত হেনেছে. তিনটি ভবন গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে. ৪৫ জন আহত হয়েছে, জানিয়েছে “রয়টার” সংবাদ সংস্থা. একটি ভবনের ছাদ, যেখানে গাদ্দাফি পরামর্শ বৈঠক চালাচ্ছিলেন, ভেঙ্গে পড়েছে. ন্যাটো জোটের বিমান বাহিনী তাঁর বাসভবনের অঞ্চলে এই প্রথমবার বোমা বর্ষণ করছে না.
রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ সমস্ত দেশকে একত্রে পারমানবিক সন্ত্রাসের মোকাবিলা করার আহ্বান জানানোর সিদ্ধান্ত বহাল করেছে. এই দলিল তৈরী করার কাজে সাতটি দেশ অংশ নিয়েছে, তার মধ্যে রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও রয়েছে. এই দলিলে বিশেষ কমিটিকে আরও দশ বছর কাজ করার মেয়াদ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যা কালো বাজার কে লক্ষ্যে রাখে ও সেখানে গণহত্যার অস্ত্র আসাকে নিরোধ করে.
ইউরোপের পুলিশের হাতে এমন তথ্য নেই যে, ইউরোসঙ্ঘের দেশগুলিতে নিষিদ্ধ বস্তু সরবরাহের জন্য রাশিয়াকে ট্রানজিট দেশ হিসেবে ব্যবহার করা হয়. এ সম্বন্ধে জানিয়েছেন রাশিয়ার নার্কোটিক আবর্তন নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত ফেডারেল বিভাগের ডিরেক্টর ভিক্তর ইভানোভ. তাঁর কথায়, পরিস্থিতি একেবারে উল্টো চরিত্রের – দেশে সাইকোট্রপিক বস্তুর যথেষ্ট অংশ আসে ইউরোপ থেকে.
আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সীমান্ত অঞ্চল – বিশ্ব সন্ত্রাসবাদের কেন্দ্র বিন্দু. ইস্লামাবাদে এ মত প্রকাশ করেছেন উচ্চপদস্থ মার্কিনী সামরিক অধিনায়ক অ্যাডমিরাল মাইকেল ম্যাল্লেন. তিনি বলেন যে, উত্তর ওয়াজিরিস্তানে ঘাঁটি গেড়েছে বহু সংখ্যক সন্ত্রাসবাদী দল. তা ওয়াশিংটনে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ জাগাচ্ছে, উল্লেখ করেন ম্যাল্লেন. তাঁর কথায়, পাকিস্তানের ঐক্যবদ্ধ গোয়েন্দা বিভাগ “আই.এস.
  ন্যাটো জোট লিবিয়ায় সামরিক সঙ্ঘর্ষে অংশগ্রহণ না করা শান্তিপূর্ণ অধিবাসীদের আহ্বান জানাচ্ছে সামরিক ক্রিয়াকলাপের জায়গা ছেড়ে চলে যেতে. জোট লিবিয়ার নেতা মুয়ম্মর গাদ্দাফির বাহিনীর প্রকল্পগুলির উপর বিমান-আঘাতের সংখ্যা বাড়ানোর অভিপ্রায় সম্বন্ধে সতর্ক করে দিচ্ছে.
"নিজাভিসিমায়া গাজেতা" (স্বাধীন সংবাদপত্র) আজ লিখেছে যে, লিবিয়ার অস্থায়ী সরকারের প্রতিনিধি মাহমুদ আওয়াদ শাম্মাম মুহম্মর গাদ্দাফির বিরোধী পক্ষের কাছে অস্ত্রের অভাব বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন. তাঁর কথামতো, মুহম্মর গাদ্দাফির প্রশাসন "রাশিয়ায় তৈরী সর্বাধুনিক অস্ত্র" সরবরাহ পেয়ে চলেছে.
রাশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলেক্সান্দর গ্লুশকো ইউরোপীয় রকেটবিরোধী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে পরিস্থিতি নাটকীয় করে না তোলার আহ্বান জানিয়েছেন. এ সম্বন্ধে তিনি বলেন বার্লিনে পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের পর্যায়ে রাশিয়া-ন্যাটো পরিষদের বেসরকারী বৈঠকের প্রাক্কালে. এ বৈঠকে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরোভ অংশগ্রহণ করবেন. গ্লুশকো জানান যে, এখন এ বিষয়ে প্রখর মত-বিনিময় চলছে.
রাশিয়া ও চিনের আর্থ – রাজনৈতিক সমীকরণ, উত্তর আফ্রিকায় সংঘর্ষের সমাধান, প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সম্পর্ক ও দেশের ভবিষ্যত. এই গুলি ও আরও নানা বিষয়ে চিনের কেন্দ্রীয় টেলিভিশনের সাংবাদিকদের কাছে তাঁর চিনের হাইনান শহরে ব্রিকস (ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চিন ও দক্ষিণ আফ্রিকা) সংস্থার শীর্ষবৈঠক উপলক্ষে সফরের প্রাক্কালে রুশ রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ কথা বলেছেন.
লিবিয়ার সরকার আফ্রিকা সংঘের প্রতিনিধি দলের প্রস্তাবিত দেশে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে পরিকল্পনার সঙ্গে একমত হয়েছে. এই সম্বন্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রপতি মধ্যস্থতা সংক্রান্ত প্রতিনিধি দলের একজন হিসাবে ঘোষণা করেছেন. রবিবারে জুমা ও তাঁর সঙ্গে একসাথে মাউরিটাস, মালী ও কঙ্গোর রাষ্ট্রপতিরা ত্রিপোলি শহরে লিবিয়ার নেতা মুহম্মর গাদ্দাফির সঙ্গে দেখা করেছেন.
আক্রমণাত্মক অস্ত্রসজ্জা কমানোর জন্য নতুন চুক্তি পরমাণু বিপদ শূণ্য বিশ্বের দিকে যাওয়ার শুরুর পথে প্রথম দিক চিহ্ন হতে পারে. এই রকম করেই রুশ ও আমেরিকার বিশেষজ্ঞেরা ঐতিহাসিক তৃতীয় স্ট্র্যাটেজিক আক্রমণাত্মক অস্ত্রসজ্জা চুক্তির প্রথম বার্ষিকীর প্রাক্কালে এই দলিলের অস্তিত্বকে স্বাগত জানিয়েছেন. রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতিরা দিমিত্রি মেদভেদেভ ও বারাক ওবামা ২০১০ সালের ৮ই এপ্রিল প্রাগে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন.
পশ্চিমের জোটের লিবিয়ায় সামরিক অপারেশনের দ্বিতীয় সারিতে গৌণ ভূমিকায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বেচ্ছা অবসর ও লিবিয়ার সমস্যা সমাধানে সমস্ত পক্ষের সঙ্গেই যোগাযোগের সক্রিয়তা বৃদ্ধি দিয়ে হোয়াইট হাউসের দেশকে আবার করে একটি ঝুঁকি সমেত খুবই অস্পষ্ট ভবিষ্যতের অপারেশনে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে অনিচ্ছা স্পষ্টই দেখতে পাওয়া যাচ্ছে.
   বিদ্রোহীদের বাহিনীর প্রতি সামরিক সমর্থন সুনিশ্চিত করার জন্য ন্যাটো জোটের কাছে লিবিয়ার বিদ্রোহীদের আহ্বান এ দেশে গৃহযুদ্ধে হস্তক্ষেপের অনুরোধেরই সমতুল্য. এ সম্বন্ধে আজ মস্কোয় বলেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরোভ. এ ধরণের ব্যাপারের জন্য রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদ সম্মতি দেয় নি, জোর দিয়ে বলেন কূটনীতিজ্ঞ.
রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানকে ২১টি “মি-১৭” মার্কা সামরিক হেলিকপ্টার সরবরাহের চুক্তির শর্ত সর্বসম্মত করেছে, তত্সংক্রান্ত দলিল মস্কো ও ওয়াশিংটন নিকট ভবিষ্যতে স্বাক্ষর করবে. রাশিয়ার “কমেরসান্ত” পত্রিকা জানাচ্ছে যে, এর ফলে মস্কো পাবে ৩৬ কোটি ৭৫ লক্ষ ডলার.
ওয়াশিংটনে মার্কিন কংগ্রেসের সদস্যদের সাথে আলোচনার পরে রাশিয়ার উপ প্রধানমন্ত্রী সের্গেই ইভানভ ঘোষণা করেছেন যে, সেখানে লিবিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে রাশিয়ার অবস্থান সম্বন্ধে প্রশ্নের অবতারণা করা হয়েছিল, তবে এই বিরোধে রাশিয়ার অংশগ্রহণের কথা উঠতেই পারে না. ইভানভ সাংবাদিকদের বলেছেন যে, "আমি নিজে এই প্রসঙ্গ তুলি নি.
লিবিয়ার প্রশাসন এখন আলোচনা করতে প্রস্তুত. গাদ্দাফি প্রশাসনের সরকারি প্রতিনিধি মুসা ইব্রাহিম ঘোষণা করেছেন যে, ত্রিপোলি রাজনৈতিক কাঠামোর সংশোধন করতে রাজী. কিন্তু এই খবরে গাদ্দাফির বিরোধী পক্ষের মানসিকতা পরিবর্তনে কোন উত্সাহের জোয়ার আনতে পারে নি. এই বিরোধের সমাধানের জন্য মুহম্মর গাদ্দাফির পক্ষের লোকেদের প্রস্তাব "বিশ্বাস উত্পাদন করে না".
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কোরান পোড়ানো আফগানিস্তানকে বিস্ফোরিত করেছে. "আমেরিকা মুর্দাবাদ!", "ওবামা মুর্দাবাদ!" স্লোগান দিয়ে আমেরিকা বিরোধী মিছিল হয়েছে আফগানিস্তানের দশটি রাজ্যে. শুক্রবারে মাজারি শারীফে মিছিল শুরু হয়েছিল. সেখানে আমেরিকার কোন রাজদূতাবাস বা প্রতিনিধি দপ্তর নেই, তাই রাষ্ট্রসংঘের দপ্তরের উপরেই মিছিল আক্রমণ করেছিল. সাতজন কর্মী খুন হয়েছেন. আহতদের মধ্যে দপ্তরের প্রধান রাশিয়ার পাভেল এরশভ আছেন.
লিবিয়াতে যে আজ দুই সপ্তাহ ধরে বোমা বর্ষণ হয়ে চলেছে, তা পশ্চিমের জোটের মধ্যে সঙ্কটকে প্রকট করে তুলেছে. তাদের পক্ষে গাদ্দাফির প্রশাসনের যুদ্ধ করার ক্ষমতাকে দাবিয়ে দেওয়া সম্ভব হয় নি, যারা এখনও সমস্ত বিদ্রোহী যোদ্ধাদের দখল করা জায়গা থেকে তাড়িয়ে চলেছে.
সিরিয়ার রাষ্ট্রপতি বাশার আসাদ, যিনি আজ রয়েছেন, তাঁর পদে যোগ্য প্রার্থী নেই. দেশে সংগঠিত কোন বিরোধী পক্ষও নেই – সুতরাং সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন লিবিয়ার মত উত্তাল হবে না. প্রতিবেশী আরব দেশগুলি থেকে প্রতিবাদের ঢেউ এসে আছড়ে পড়া সিরিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি সম্বন্ধে বেশীর ভাগ রাজনীতিবিদই এই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন.
1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30
এপ্রিল 2011
ঘটনার সূচী
এপ্রিল 2011
2
3
9
10
13
14
16
17
18
19
20
22
23
24
26
27
28
29
30