×
South Asian Languages:
মহাকাশ, এপ্রিল 2011
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা শিল্প ও মহাকাশ ক্ষেত্রের পরিপ্রেক্ষিত ভালই, বলেছেন রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দমিত্রি মেদভেদেভ. মেদভেদেভ মনে করিয়ে দেন যে, ২০২০
ভারত রাশিয়ার সাথে একত্রে মহাকাশে “ ইউটস্যাট ” স্পুতনিক পাঠিয়েছে. তা পৃথিবীতে তথ্য পাঠাবে, যা পৃথিবীর বায়ুমন্ডলের উপরের স্তরে সৌর সক্রিয়তার কম্পনের প্রভাব বুঝতে সাহায্য করবে. রাশিয়ার তরফ থেকে এ প্রকল্পে প্রতিনিধিত্ব করছে মস্কো বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা, যারা স্পুতনিকের জন্য তৈরি করেছে এক্স-রে ও গামা-রশ্মি বিকিরণের প্রবাহ “ সোলরাড ” মাপার ষন্ত্র.
রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দমিত্রি মেদভেদেভ মানবচালিত মহাকাশযাত্রার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিকাশের জন্য নিজের নির্দেশনামা অনুযায়ী “মহাকাশের আত্তীকরণে অবদানের জন্য” পদকে ভূষিত করেছেন বড় একদল বিদেশী মহাকাশচারীকে, যাঁদের মধ্যে ভারতীয় মহাকাশচারী রাকেশ শর্মাও ছিলেন. তিনি ১৯৮৪ সালে সোভিয়েত-ভারত মহাকাশচারী-দলে “সোয়ুজ তে-১১” মহাকাশযানে  মহাকাশযাত্রা করেন.  
ইউরি গাগারিনের মহাকাশযাত্রার ৫০তম জয়ন্তী বার্ষিকী গ্রেট-বৃটেনে পালিত হচ্ছে গাগারিন সম্বন্ধে নতুন চলচ্চিত্র প্রদর্শন করে, প্রদর্শনী আয়োজন করে, গোল-টেবিল বৈঠক এবং আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের সাথে ভিডিও-সেতুর ব্যবস্থা করে. ১২ই এপ্রিল “প্রথম কক্ষপথ” নামে চলচ্চিত্রটি দেখানো হচ্ছে ৬০টিরও বেশি দেশে ৭০০টি জায়গায়, আর তাছাড়া “ইউ-টিউব” ইন্টারনেট-পোর্টালে.
১২ই এপ্রিল সারা বিশ্বের রেডিও তরঙ্গের শ্রোতারা মহাকাশ থেকে ইউরি গাগারীনের কন্ঠস্বর নিজেদের যন্ত্রে শুনতে পাচ্ছেন. ঐতিহাসিক ধ্বণির রেকর্ডিং ও তার মধ্য গাগারীনের বিশ্ব বিখ্যাত "চলো যাই!" পৃথিবীর কক্ষপথ থেকে ছোট উপগ্রহ "কেদর" সম্প্রচার করছে. এই উপগ্রহের নাম দেওয়া হয়েছে বিশ্বের প্রথম মহাকাশচারীর পৃথিবীর সঙ্গে যোগাযোগের সাঙ্কেতিক নাম থেকে.
১২ ই এপ্রিল ১৯৬১ সাল – আজ থেকে পঞ্চাশ বছর আগে – সোভিয়েত মহাকাশচারী ইউরি গাগারীন ইতিহাসের নতুন পাতা উল্টেছেন, তিনিই বিশ্বে প্রথম মহাকাশে পাইলট চালিত উড়ান করেছিলেন. এই যুগান্তরের ঘটনা মানবেতিহাসে মহাকাশ যুগের শুরু ঘোষণা করেছিল, মহাকাশ ও মানুষ এই গবেষণার সম্পূর্ণ একটি দিকের উন্নয়ন করেছিল, নতুন প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার উদ্ভব হয়েছিল.
সারা পৃথিবীতে ইউরি গাগারিনের মহাকাশযাত্রার ৫০তম বার্ষিকী পালিত হচ্ছে. কক্ষপথে যাওয়া প্রথম মানুষ ছিলেন এই মহাকাশচারী. ১৯৬১ সালের ১২ই এপ্রিল বাইকোনুর কসমোড্রোম থেকে গাগারিন-কে নিয়ে সফলভাবে রওনা হয় “ভস্তোক” মহাকাশযান. ১০৮ মিনিটে তা পৃথিবীকে একবার প্রদক্ষিণ করে. কয়েক ঘন্টার মধ্যে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে প্রথম সোভিয়েত মহাকাশচারীর নাম.
ক্যানাডার ভ্যানকুভার শহরে ম্যাকমিলান নামাঙ্কিত মহাকাশ কেন্দ্রে সমারোহ অনুষ্ঠানের অংশগ্রহণকারীরা মহাকাশের আত্তীকরণের ইতিহাসে ইউরি গাগারিনের বিশিষ্ট ভূমিকার কথা উল্লেখ করেছেন. ইউরি গাগারিনের স্মৃতি সন্ধ্যা – এ হল মহাকাশের যুগের সূচনার উত্সব, প্রথম মহাকাশচারীর পদাঙ্ক অনুসরণ করে এগিয়ে যাঁরা বিপুল সাফল্য অর্জন করেছেন, তাঁদের সাফল্য মূল্যায়নের উপলক্ষ, ইতার-তাস সংবাদ সংস্থাকে বলেন মহাকাশ কেন্দ্রের প্রতিনিধি ট্রেসি ক্রমওয়েল.
ইউরি গাগারীনের মহাকাশ ভ্রমণ বিংশ শতাব্দীর এক উজ্জ্বল ও ভাগ্য নির্দেশক ঘটনা হতে পেরেছিল ও তা মানবেতিহাসের এক নূতন অধ্যায়ের সূচনা করেছে. রাশিয়ার লোকেরা এই বিষয়ে গর্ব অনুভব করেন যে, প্রথম ও নির্দিষ্ট পদক্ষেপ মহাকাশ অভিযানের ক্ষেত্রে তাঁদের দেশের লোকই করেছিলেন.
সম্প্রতি ৩০ বছর পূর্ণ হওয়া মস্কোর মহাকাশযাত্রাবিদ্যার স্মৃতি মিউজিয়ামে দর্শকদের সংখ্যা বছরে ৩ লক্ষে পৌঁছোচ্ছে. এ মিউজিয়াম খোলা হয়েছিল ইউরি গাগারিনের মহাকাশযাত্রার ২০ বছর পূর্ণ হওয়া উপলক্ষে. পুনর্গঠনের পরে তার প্রদর্শনী এলাকা বেড়েছে পাঁচগুণ. এখানে সবচেয়ে মূল্যবান হল স্মৃতি সংগ্রহ, যা প্রধান পরিকল্পক সের্গেই করোলিয়োভ এবং বহু মহাকাশচারীর জীবন ও কার্যকলাপের সাথে জড়িত.
রাশিয়া মহাকাশ উড়ানের সংখ্যার দিক থেকে লীডার হতে পারে. এ সম্বন্ধে বলেছেন রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন রাশিয়ার মহাকাশযাত্রা বিকাশের পরিপ্রেক্ষিত সম্বন্ধে পরামর্শ বৈঠকে. তাঁর কথায়, এখন রাশিয়া পৃথিবীতে মহাকাশ উড়ানের ৪০ শতাংশ সুনিশ্চিত করছে, আর নিকট ভবিষ্যতে প্রতি দ্বিতীয় মহাকাশ উড়ান সুনিশ্চিত করতে পারবে.
রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ অ্যাসেম্বলি ১২ই এপ্রিলকে মানুষের মহাকাশযাত্রার আন্তর্জাতিক দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে. সাধারণ অ্যাসেম্বলির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এ স্মৃতি দিবস সারা পৃথিবীতে পালিত হবে. রাশিয়ার উদ্যোগে তত্সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় বৃহস্পতিবার অ্যাসেম্বলির ৬৫তম অধিবেশনে. এ সিদ্ধান্ত সমর্থন করেছে ৬০টিরও বেশি দেশ. ১৯৬১ সালের ১২ই এপ্রিল সোভিয়েত মহাকাশচারী ইউরি গাগারিন পৃথিবীতে প্রথম পৃথিবীর কক্ষপথে মহাকাশযাত্রা করেন.    
এবার থেকে ১২ই এপ্রিল সারা বিশ্বে আন্তর্জাতিক প্রথম মহাকাশচারী দিবস পালিত হবে. আজ আনুষ্ঠানিক ভাবে রাষ্ট্রসংঘের সাধারন সভায় এই সম্বন্ধে ঘোষণা করা হবে. নিউইয়র্কের রাষ্ট্রসংঘের প্রধান দপ্তরে ইউরি গাগারীনের মহাকাশচারনার সুবর্ণ জয়ন্তী উত্সবের প্রাক্কালে এই অনুষ্ঠান হতে চলেছে.     এখন অবধি ১২ই এপ্রিল – শুধু রাশিয়াতেই মহাকাশ গবেষণা দিবস পালিত হত.
রাশিয়া নতুন প্রজন্মের মানবচালিত মহাকাশযান গঠন করছে. তা বর্তমানের “সোয়ুজ” মহাকাশযানের চেয়ে দশগুণ সঠিকভাবে নির্দিষ্ট জায়গায় নামবে, নামার সময় মহাকাশযানের গতি নিয়ন্ত্রণের বিশেষ ল্যান্ডিং ব্যবস্থা ব্যবহারের কল্যাণে.
আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের সাথে আজ যুক্ত হওয়া “সোয়ুজ” মহাকাশযানের কর্মীরা স্টেশনে প্রবেশ করেছে. এখন স্টেশনে রয়েছে ছয়জন – তিনজন রুশী, দুজন মার্কিনী এবং একজন ইতালীয়. আজ পৌঁছোনো মহাকাশচারীরা বৈজ্ঞানিক সরঞ্জাম ছাড়াও সঙ্গে এনেছেন পৃথিবীর প্রথম মানুষের মহাকাশযাত্রা সম্বন্ধে তথ্য চলচ্চিত্র. এই মহাকাশযাত্রাটি ইউরি গাগারিনের মহাকাশযাত্রার ৫০তম বর্ষপূর্তির প্রতি উত্সর্গীত. মহাকাশযানটির নামও তাঁর নামে নামাঙ্কিত.
পৃথিবীর প্রথম মহাকাশচারী ইউরি গাগারিন এবং কক্ষপথে তাঁর ঐতিহাসিক মহাকাশযাত্রার বর্ণনা করছে এক ফোটো-প্রদর্শনী, যা শুরু হয়েছে মস্কোয় রাশিয়ার সাংবাদিক সঙ্ঘের ফোটো-সেন্টারে. তা গাগারিনের মহাকাশযাত্রার ৫০ বছর পূর্তির প্রতি উত্সর্গীত. এ প্রদর্শনীর ভিত্তিতে রয়েছে বিরল সব ফোটো, অসাধারণ দলিলপত্র এবং মহাকাশচারীর ব্যক্তিগত জিনিসপত্র. দর্শকরা এই প্রথম বার সেগুলি দেখতে পাবেন.
১২ই এপ্রিল ইউরি গাগারীনের ঐতিহাসিক প্রথম মহাকাশচারনার ৫০ বছরের জয়ন্তী উত্সবে যোগ দিতে নাসার প্রধান চার্লস বোল্ডেন মস্কো আসছেন. এই বিষয়ে ওয়াশিংটনে বর্তমানে সফররত রুশ উপ প্রধানমন্ত্রী সের্গেই ইভানভ জানিয়েছেন. তাঁর কথামতো মস্কোতে বিশ্বের সমস্ত মহাকাশ গবেষণা সংস্থার প্রধানকেই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে.
ইউরি গাগারিনের মহাকাশযাত্রার ৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে ভিয়েনায় রাষ্ট্রসঙ্ঘের প্রতিনিধি-দপ্তরে প্রদর্শনী শুরু হয়েছে. পৃথিবীর প্রথম মহাকাশচারীর জীবন-পথ বর্ণনা করা ১০০টিরও বেশি ফোটো এতে দেখানো হচ্ছে. তাছাড়া, সোভিয়েত ও রাশিয়ার মহাকাশ রকেটের ম্যাকেটও দেখানো হচ্ছে. আরও একটি প্রদর্শনী শুরু হয়েছে ব্রাসেলসে, ইউরো-কমিশনের ভবনে. তাতে দেখানো হচ্ছে মানুষের দ্বারা মহাকাশ আত্তীকরণের ইতিহাস সংক্রান্ত অনুপম সব ফোটো.
রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী সের্গেই ইভানোভ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে চাঁদে এবং মঙ্গলগ্রহে যাত্রার মতো বড় বড় মহাজাগতিক প্রকল্পে মিলিতভাবে অর্থ বিনিয়োগ করার প্রস্তাব করেছেন. এ সম্বন্ধে তিনি বলেন নিউ-ইয়র্কে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক সংক্রান্ত পরিষদের বৈঠকে বক্তৃতা দিয়ে.
মহাকাশযান “ সোয়ুজ-২১ ” , যাকে “ গাগারিন ” নামে নামাঙ্কিত করা হয়েছে, বাইকোনুর কলমোড্রোম থেকে যাত্রা শুরু করেছে. রওনা হওয়ার ৯ মিনিট পরে তা নির্ধারিত কক্ষপথে পৌঁছোয়, আর তারপর আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের দিকে দু দিনের যাত্রা শুরু করে. সংযোগ সাধন হওয়ার কথা ৭ই এপ্রিল. মহাকাশযানের সমস্ত ব্যবস্থা স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে.
আগের
1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30
এপ্রিল 2011
ঘটনার সূচী
এপ্রিল 2011
2
3
9
10
13
14
15
16
17
18
19
21
22
23
24
25
26
27
29
30