×
South Asian Languages:
বরিস ভলখোনস্কি

২০১৩ সালের শেষ বঙ্গোপসাগরে ভারতের একসারি সামরিক কাজকর্ম দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে. “অগ্নি-৩” রকেটের উড়ান আর জাপান – ভারত সম্মিলিত সামুদ্রিক মহড়া – শুধু এই সবেরই কয়েকটা উদাহরণ হতে পারে. এটা কোন দ্ব্যর্থ না রেখেই বলা যেতে পারে যে, ভারত শুধু এখন সমুদ্র তীরে কোন রকমের আক্রমণ প্রতিহত করতেই সক্ষম নয়, বরং অনেক উচ্চাকাঙ্ক্ষাও পোষণ করেছে, যা তাদের সমুদ্র সীমা থেকে অনেক দূরের এলাকায় বর্তমানে তৈরী হয়েছে. বাস্তবে ভারতের সামরিক –সামুদ্রিক ক্ষমতা বৃদ্ধি করা বহু রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের সেই তত্ত্বকেই প্রমাণ করে দেয় যে, ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগর ইতিমধ্যেই একটি সম্পূর্ণ মহাসাগরে পরিণত হতে চলেছে – যাকে বলা যেতে পারে ভারত- প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকা.

পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশে সাংস্কৃতিক উত্সবের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে, যা করা হতে চলেছে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারী মাসে. এই উত্সবের প্রচারের কাজে সবচেয়ে সক্রিয় ও প্রধান উদ্যোক্তা হয়েছে দেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের বংশধর বিলাবল ভুট্টো- জারদারি. সব দেখে শুনে মনে হয়েছে যে, সে তাদের দলের এই বছরের মে মাসের নির্বাচনে ভরাডুবি দেখে শিক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করছে ও দেশের জনগনের সামনে এক নতুন প্রজন্মের নেতা হিসাবে উপস্থিত হতে চাইছে. কিন্তু প্রতিবেশী ভারতে তার সহকর্মী রাহুল গান্ধীর খুবই দুঃখজনক অভিজ্ঞতা দেখিয়ে দিয়েছে যে, এমনকি সবচেয়ে প্রভাবশালী বংশের লোকদেরও আগে হোক বা পরেই হোক মঞ্চ থেকে নেমে দাঁড়াতে হয়.

ভারতের ডেপুটি কনসাল জেনারেল দেবযানী খোবরাগাদে কে নিউইয়র্কে গত সপ্তাহে গ্রেপ্তার নিয়ে স্ক্যান্ডাল জ্বলে উঠেছে. ভারতের পার্লামেন্টের সদস্যরা ও প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মচারীরা মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাত্কার করতে অস্বীকার করেছেন ও মঙ্গলবারে ভারতীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দিল্লী শহরে মার্কিন দূতাবাসের সামনে থেকে কংক্রীটের পথ রোধ করার ব্লক হঠিয়ে নেওয়া হয়েছে আর বিরোধী জনতা দলের নেতা যশবন্ত সিনহা আমেরিকার কূটনীতি দপ্তরের কর্মচারীদের সমকামী সহকর্মীদের ভারতে কয়েকদিন আগে নতুন করে প্রবর্তিত ভারতীয় অপরাধ আইনের ৩৭৭ ধারার ভিত্তিতে আদালতে বিচার করতে বলেছেন. কারণ এই স্ক্যান্ডাল শুরু করানো হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আর ধারণা করা যেতে পারে যে, ওয়াশিংটন ঠিক করেছে ভারতের সর্বজনীন নির্বাচন অবধি অপেক্ষা না করেই আমেরিকা- ভারত সম্পর্ক খারাপ করার ভার নিজেদের হাতেই তুলে নিতে, কারণ খুবই সম্ভাব্য যে, ভারতে ক্ষমতায় আসতে চলেছে আমেরিকা বিরোধী শক্তি.

সোমবার দিল্লী শহরে ২৩ বছরের ছাত্রীকে ভয়ঙ্কর গণ ধর্ষণের এক বছর পূর্ণ হল, যা মনে হয়েছিল যে, সারা দেশকেই উত্তাল করেছিল প্রতিবাদে. দোষীদের খুঁজে পাওয়া গিয়েছে ও তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে. কিন্তু এর অর্থ কি ভারতের সামাজিক মানসে মূলগত কোন পরিবর্তন হয়েছে আর এখন কি মহিলারা নিজেদের নিরাপদ বোধ করতে পারবেন? বাস্তব তথ্য কিন্তু বলছে যে, সংবাদ মাধ্যমের প্রবল প্রচার সমাজের বেশীর ভাগ লোকের এই সমস্যা সম্বন্ধে মানসিকতায় খুব কমই পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছে.

বৃহস্পতিবারে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে বিরোধী ঐস্লামিক জামাত-এ-ইসলামি দলের নেতা আবদুল কাদের খানকে ফাঁসী দেওয়া হয়েছে, আর এই ঘটনায় যেমন বহু লোকের উল্লাস রাস্তায় নেমে এসেছে, তেমনই শোনা গিয়েছে ক্ষোভ ও প্রতিশোধের হুঙ্কার. ঐস্লামিকেরা ১৫ই ডিসেম্বর দিনকে সর্বজনীন হরতাল ঘোষণার দিন করবে বলে আশ্বাস দিয়েছে. যদি এই পরিস্থিতির স্রেফ আইন সংক্রান্ত দিকগুলোকে সরিয়ে রাখা হয়, তবে এই ফাঁসীর রাজনৈতিক পরিণতি হতে পারে একেবারেই অনুমানের বাইরে: প্রশাসন স্পষ্টতঃই নির্বাচন বাতিলের পথ ধরেছে ও দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ভেতর থেকেই ধ্বংস করে দিতে চাইছে, এই রকম মনে করেছেন রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ বরিস ভলখোনস্কি.

বুধবারে ভারতের সুপ্রীম কোর্ট এক রায় দিয়েছে, যার ফলে সমস্ত সমলিঙ্গ বিবাহ ও সমকামী সম্পর্কের পক্ষপাতী আর যারা এই সমকামী পুরুষদের ভারতে ও ভারতের বাইরেও পছন্দ করেন, তারা একেবারে চরম বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন. সুপ্রীম কোর্ট ২০০৯ সালে অধঃস্তন আদালতের দেওয়া রায়, যেখানে বলা হয়েছিল যে, ভারতীয় ফৌজদারী সংহিতার ৩৭৭ নম্বর ধারা রদ করা হচ্ছে, তা বাতিল করেছে. এই ধারা অনুযায়ী স্বাভাবিকের চেয়ে আলাদা রকমের যৌন আচরণ বলা হয়েছিল অপরাধ ও ধারা অনুযায়ী ভারতের যৌন কারণে সংখ্যালঘুদের সাংবিধানিক অধিকার খর্ব হয়. লিবারেল সমাজের এই বিষয়ে ক্ষোভ বোধগম্য: বিশ্বের সবচেয়ে বেশী জনসংখ্যার গণতান্ত্রিক দেশের সর্ব্বোচ্চ আদালতে রায়ের অর্থ হল যে, এবারে তাদেরই পরাজয় হয়েছে, যারা মানবসমাজের সমস্ত ভিত্তি মূলক মূল্যবোধকেই ধ্বংস করে দিতে চেয়েছে.

বুধবারে সংবিধান সম্মত সময় অতিক্রম করার পরে পদত্যাগ করেছেন পাকিস্তানের সুপ্রীম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ইফতিকার মহম্মদ চৌধুরী. তাঁর এই পদে থাকার সময়ে বহু চমকপ্রদ রকমের পরিবর্তনের সাক্ষী হয়েছে: পদচ্যুত হওয়া, পুনর্বহাল হওয়া, রাষ্ট্রপতি পারভেজ মুশারফের পদত্যাগের বিষয়ে সক্রিয় অংশগ্রহণ, ও তাঁর পরবর্তী রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারির বিরুদ্ধে নতুন করে মামলা শুরু করার প্রচেষ্টা ইত্যাদি অনেক কিছুই. প্রসঙ্গতঃ অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ এখন পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতির ব্যক্তিগত ভাগ্যের উত্থান-পতনের চেয়ে দেশের জন্য হয়েছে রাজনৈতিক জীবনে আদালতের ভূমিকা পরিবর্তন: বাস্তবে এখন, যখন দেশের সামরিক বাহিনী বিশেষ করে উল্লেখ করে দেশের রাজনীতিতে সরাসরি ভাবে হস্তক্ষেপ করছে না, রাজনৈতিক ভাগ্যে নির্ণায়কের জায়গা নিয়েছে সেই বিচার বিভাগের ক্ষমতাসীনরাই.

বিগত দিনগুলোতে ভারতের জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্য আবার করে ভারতীয় ও বিশ্বের সংবাদ মাধ্যমের মনোযোগের কেন্দ্রে এসেছে. সংবাদ মাধ্যমে শোনা যাচ্ছে যেমন ভারতের তেমনই পাকিস্তানের তরফে করা নানা রকমের ঘোষণা. এর মধ্যে দুই পুরনো প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে কোন অংশ করা হয়েছে নির্বাচনের আগে জনপ্রিয় হওয়ার জন্য ও কোন অংশ দীর্ঘকালীণ রাজনীতির লক্ষ্য হবে, তা খুব একটা স্পষ্ট নয়. কিন্তু একটা ব্যাপারই স্পষ্ট দেখতে পাওয়া যাচ্ছে: দুটি পারমাণবিক রাষ্ট্রের যুদ্ধে কোন বিজয়ী অথবা বিজিত থাকার সম্ভাবনা নেই, শুধু দু পক্ষেরই বহু কোটি ক্ষয় ক্ষতি আর সম্পূর্ণভাবে যেমন পাকিস্তানে তেমনই ভারতেও অর্থনীতির বিপর্যয় ও রাষ্ট্র কাঠামো ধ্বংসের অনিবার্য সম্ভাবনা রয়েছে.

বাংলাদেশের পরিস্থিতি খুবই দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে. মঙ্গলবারে ৫ই জানুয়ারী হতে যাওয়া নির্বাচন বয়কটের জন্য ডাক দিয়েছে জাতীয় পার্টি – দেশের তৃতীয় সংজ্ঞাবহ দল ও “আওয়ামী লীগ” দলের এক গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী দল. একই সময়ে বিরোধীদের আহ্বানে তৈরী দেশ জোড়া বিক্ষোভের পরিস্থিতিতে সন্ত্রাসবাদীরা সক্রিয় হয়েছে. বুধবারে তারা এক ট্রেন দূর্ঘটনার কারণ হয়েছে, যার ফলে চারজন নিহত হয়েছে ও প্রায় শতাধিক লোক আহত হয়েছে. আন্তর্জাতিক সমাজ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য খুবই চেষ্টা করছে, কিন্তু খুব সম্ভবতঃ, এই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়াতে দেরী হয়ে গিয়েছে ও দেশে মাত্স্যন্যায় দেখা যেতে পারে.

বুধবারে দিল্লীতে বিধানসভা নির্বাচন হতে চলেছে – যা আগামী বছরে সর্বজনীন নির্বাচনের আগে হতে যাওয়া শেষ একটা আঞ্চলিক নির্বাচন. পর্যবেক্ষকরা মনে করেছেন যে, এই নির্বাচনে খুবই শক্তিশালী ভাবে কয়েকদিন আগে মাত্র তৈরী হওয়া দুর্নীতি বিরোধী “আম আদমী পার্টি” ফল দেখাতে পারে. প্রসঙ্গতঃ বলা যেতে পারে যে, এমনকি রাজধানীতে এই দলের খুবই আস্থা ভিত্তিক জয়ও সারা দেশের পরিপ্রেক্ষিতে আবির্ভাব বলতে যাওয়াটা একটু বাড়াবাড়ি হয়ে যাবে.

এই সপ্তাহের শেষে ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প সংগঠনগুলোর সংযুক্ত পরিষদ (FICCI - ফিকি) ঘোষণা করেছে যে, ২০১৩-২০১৪ আর্থিক বছরের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) দেশের গড় বার্ষিক উত্পাদনের হার প্রথম ত্রৈমাসিকের চেয়ে বেশী ও বিশ্লেষকদের অনুমানের চেয়েও কিছুটা বেশী হয়েছে. অনেক অর্থনীতিবিদই এই তথ্যে ভারতীয় অর্থনীতির সুস্থ হওয়ার লক্ষণ দেখতে পেয়েছেন. কিন্তু নিঃসন্দেহ ভাবে ইতিবাচক অগ্রগতি হওয়া স্বত্ত্বেও সত্যিকারের পুনর্জন্ম নিয়ে বলা এখনও তাড়াতাড়ি হয়ে যাবে বলে “রেডিও রাশিয়াকে” ঘোষণা করেছেন রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ বরিস ভলখোনস্কি.

পাকিস্তানের “তেহরিক-এ-ইনসাফ” দল সেই দেশে সিআইএ সংস্থার স্থায়ী কর্মীর নাম ফাঁস করে দিয়েছে ও দাবী করেছে এই ব্যক্তিকে ও সিআইএ সংস্থার প্রধান জন ব্রেন্নানকে হত্যা ও “পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের আগুন জ্বালানোর” জন্য আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর জন্য. এই সবই হচ্ছে পাকিস্তানের উত্তর পশ্চিমের খাইবার পাখতুনভা প্রদেশে ক্রমাগত প্রতিবাদ আন্দোলন ও আফগানিস্তানে ন্যাটো জোটের সৈন্যদের জন্য রসদ পাঠানো আটকে দেওয়ার চেষ্টার মধ্যেই. প্রসঙ্গতঃ, পাকিস্তানের এলাকায় পাইলট বিহীণ ড্রোন বিমানের আঘাত আগের মতই করা হচ্ছে.

ভারতের কুদানকুলাম পারমাণবিক বিদ্যুতকেন্দ্রের চেয়ে অল্প দূরের এক গ্রাম ইদিনথাকারাই, সেখানে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বোমা বিস্ফোরণের ফলে ছ’জন নিহত হয়েছে, তার মধ্যে তিনটি শিশুও ছিল. কিন্তু এই বিস্ফোরণের প্রতিধ্বনি তামিলনাডু রাজ্যের বাইরে বহু দূরেও শুনতে পাওয়া গিয়েছে. আবারও আলোচ্যের তালিকায় উঠে এসেছে খুবই জটিল সমস্ত বিষয়, যা এই কুদানকুলাম পারমাণবিক বিদ্যুতকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে শুরু হয়েছে, আর তারই সঙ্গে যোগ হয়েছে ভারতের পারমাণবিক শক্তি প্রকল্পগুলোর ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তা আর অংশতঃ রুশ-ভারত পারমাণবিক সহযোগিতা নিয়েও. দেখাই যাচ্ছে যে, কেউ একজনের খুব একটা ইচ্ছা হয়েছে বহু বছর ধরে গড়ে ওঠা রুশ-ভারত মৈত্রী বন্ধনকে এই ক্ষেত্রে একেবারে বোমা মেরে ধ্বংস করে দেওয়ার.

আগামী বছরের ৫ই জানুয়ারী বাংলাদেশের লোকসভা নির্বাচনের তারিখ যেই নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে, তখনই সারা দেশ জুড়ে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঢেউ উঠেছে. এই সমস্ত মিছিল–হরতাল-সমাবেশ যেমন বদমাশ লোকদের তরফ থেকে হিংসার স্ফুলিঙ্গ দিয়ে জ্বালানো হয়েছে, তেমনই পুলিশের তরফ থেকে আত্মরক্ষা দিয়েও, যার ফলে কম করে হলেও সাতজন নিহত হয়েছে. এই পরিস্থিতির প্যারাডক্স হল যে, নির্বাচনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে সেই বিরোধী পক্ষই, যারা নাকি দেশের জনমত গ্রহণের ফলাফল অনুযায়ী জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রাখে, যদি এই নির্বাচন গণতান্ত্রিক উপায়ে করা হয়. এই বিষয়ে রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ বরিস ভলখোনস্কি মন্তব্য করে বলেছেন:

রবিবারে ইরান ও “ছয় মধ্যস্থতাকারী পক্ষের” মধ্যে সমঝোতা, যা অর্জন করা হয়েছে, তা শুধু ইরানকেই স্পর্শ করে নি. এর বিশাল এক অর্থ রয়েছে ভারতের জন্যেও, যে দেশ ইরানের উপরে নিষেধাজ্ঞা থেকে নিজেদের জন্য দুর্দশার যথেষ্ট কারণ দেখতে পেয়েছে. ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম যেমন উল্লেখ করেছে যে, এই সমঝোতা ইরানের সঙ্গে জ্বালানী শক্তি ক্ষেত্রে আবার করে সহযোগিতার পথকে অনেক বেশী প্রশস্ত করে দিয়েছে. কিন্তু যেমন মনে করা হয়েছে যে, শুধু জ্বালানী শক্তি ক্ষেত্রেই সহযোগিতা আবদ্ধ হয়ে থাকবে না, আর সমগ্র পূর্ব ইউরো-এশিয়া এলাকার জন্যেই এই ভবিষ্যত সম্ভাবনা অনেক বেশী রকম ভাবেই প্রসারিত হয়েছে. এই প্রসঙ্গে রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ বরিস ভলখোনস্কি মন্তব্য করে বলেছেন:

শুক্রবারে শ্রীলঙ্কার বৃহত্তম শহর কলম্বোতে শুরু হয়েছে কমনওয়েলথ প্রশাসন প্রধানদের অধিবেশন (CHOGM). এই বৈঠকে অনুপস্থিত রয়েছেন তিনজন মন্ত্রীসভার প্রধান, তাঁদের মধ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহও রয়েছেন. তাঁর দেশের ভিতরের তামিল গোষ্ঠীদের ও রাজনৈতিক দলগুলোর চাপে পড়ে এই ভাবে পিছিয়ে আসা, মনে তো হয় না যে, শ্রীলঙ্কায় তামিল সংখ্যালঘুদের অবস্থানকে কোন ভাবে ভাল করবে আর তার ওপরে - ভারতের সঙ্গে সেই দেশের সম্পর্কে বেশী করেই জটিলতা সৃষ্টি হবে, যারা বর্তমানে ভারত মহাসাগরের রাজনীতিতে বেশী করেই ভূমিকা পালন করতে শুরু করেছে বলে “রেডিও রাশিয়াকে” জানিয়েছেন রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ বরিস ভলখোনস্কি.

পাকিস্তানে পরিস্থিতি আবারও টালমাটাল. নভেম্বর মাসের শুরুতে আমেরিকার ড্রোন বিমানের আঘাতে নিহত হয়েছে পাকিস্তানের তেহরিক-এ-তালিবান পাকিস্তান দলের নেতা হাকিমুল্লা মেহসুদ. আবার এবারে নতুন করে নিহত হল সশস্ত্র বিরোধী দলের এক প্রখ্যাত (কুখ্যাত) নেতা. রবিবারে মারা গিয়েছে নাসিরুদ্দীন হাক্কানি, যাকে মনে করা হত হাক্কানি সন্ত্রাসবাদী দলের মুখ্য অর্থের জোগানদার ও গোষ্ঠীর স্রষ্টা জালালুদ্দীন হাক্কানির এক পুত্র. এই সবই চলছে একটা অনির্দিষ্ট অবস্থার মদ্যে, তা যেমন পাকিস্তানের প্রশাসনের প্রতি, তেমনই সশস্ত্র জঙ্গীদের প্রতি আর একই সঙ্গে পাকিস্তান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেও. দেখাই যাচ্ছে যে, কারও একটা প্রয়োজন পড়েছে এই পরিস্থিতিকে এমন একটা জায়গায় পৌঁছে দিতে, যখন দেশের কেন্দ্রীয় সরকার দেশের ঘটনা নিয়ন্ত্রণে অপারগ হবে, এই রকম মনে করেছেন রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ বরিস ভলখোনস্কি.

নিউইয়র্কে গত সপ্তাহের শেষে এক শিখ সম্প্রদায়ের প্রফেসরকে মারধর করার জন্য তা যেমন ভারতের শিখ সম্প্রদায়ের মধ্যে, তেমনই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিখ সম্প্রদায়ের মধ্যে এক প্রতিবাদের বন্যা ডেকে এনেছে. কিন্তু এখানে সমস্যা যথেষ্ট প্রসারিত: এটা এক মর্মান্তিক ঘটনা – তা স্রেফ অনেক ঘটনার মধ্যে একটা, যা প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, পশ্চিমের সমাজের পক্ষ থেকে প্রাচ্যের সভ্যতা ও বিশেষত্ব সম্বন্ধে সম্পূর্ণ রকমের অজ্ঞতা ও অবুঝ মনোভাবের পরিচয় প্রকট – আর তা শুধু আলাদা করে সমাজের নীচু তলার কয়েকজন বদমাশ লোকেরই নয়, বরং সমাজের উচ্চ মহলের প্রতিনিধিদেরও, এই রকম মনে করেন স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ বরিস ভলখোনস্কি.

রবিবারে ভারতের রাজধানী দিল্লী শহরে ভারত ও পাকিস্তানের সম্মিলিত ভাবে তৈরী স্থায়ী সিন্ধু নদ পরিষদের চার দিন ব্যাপী অধিবেশনের শুরু হয়েছে. মূল প্রশ্ন, যা এখানে ভারত ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিরা আলোচনা করতে চলেছেন, তা হল যে, ভারতের তরফ থেকে চিনাব নদীর অববাহিকা এলাকায় চারটি নতুন বাঁধ দেওয়া নিয়ে পরিকল্পনা. কিন্তু জটিলতা হল যে বর্তমানে সীমান্ত পার হয়ে যাওয়া নদীর জলসম্পদ ব্যবহার নিয়ে সমস্যা অনেকদিন হল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের কাঠামো পার হয়ে গিয়েছে ও তার আন্তর্জাতিক পর্যায়েই সমাধানের প্রয়োজন রয়েছে. জলের সমস্যা – আন্তর্জাতিক সব সমস্যার মধ্যে একটি সবচেয়ে তীক্ষ্ণ সমস্যায় পরিণত হয়েছে ও একবিংশ শতকে বিশ্লেষকদের মতে জলের জন্য লড়াই খনিজ তেল ও গ্যাসের জন্য লড়াইয়ের জায়গা নিতে চলেছে. আবহাওয়া পরিবর্তন হওয়ার সঙ্গেই পাহাড়ে হিমবাহ গলে যাওয়া শুরু হয়েছে, তারই সঙ্গে জনসংখ্যার প্রচুর বৃদ্ধি ও শিল্পায়ন সংক্রান্ত ধূম লাগার কারণেই উন্নতিশীল দেশগুলোতে এই সমস্যা খালি তীক্ষ্ণ থেকে তীক্ষ্ণতর হতে শুরু করেছে. মনে হয়, বিশ্বে আর কোথাও এই সমস্যা এত তীক্ষ্ণ হয়ে নেই, যা এই এলাকার এক বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে হয়েছে, যা মধ্য, দক্ষিণ, দক্ষিণ-পূর্ব ও পূর্ব এশিয়াতে হয়েছে, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ বরিস ভলখোনস্কি বলেছেন:

দু’দিন ধরে সারা দেশ জুড়ে হরতাল ও বিরোধীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের পরে বাংলাদেশে কম করে হলেও একজনের মৃত্যু ও কয়েক ডজন লোক আহত হয়েছে. এই রকম সারা দেশ জুড়ে হরতালের কারণ হয়েছে মঙ্গলবারে জামাত-এ-ইসলামি দলের এক নেতা আবদুল কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ডের রায় বের হওয়া. যদি মোল্লার বিরোধীরা এই রায় দেওয়ার মধ্যে দেখেছেন ন্যায়ের বহিঃপ্রকাশ ও ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ে করা অপরাধের জন্য উপযুক্ত শাস্তিকেই, তবে তার পক্ষের লোকরা এই রায়ের মধ্যে আইনের ভিত্তি ভঙ্গ করাকেই দেখেছেন বলে মনে করেন রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ বরিস ভলখোনস্কি.

আগের
1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30
নভেম্বর 2017
ঘটনার সূচী
নভেম্বর 2017
1
2
3
4
5
6
7
8
9
10
11
12
13
14
15
16
17
18
19
20
21
22
23
24
25
26
27
28
29
30