১. রাশিয়ার প্রাণী জগত খুবই সমৃদ্ধ ও বহু রকমের, যার কারণ এই দেশের বিবিধ এলাকায় বিভিন্ন রকমের পরিবেশ – আর্কটিক মরুভূমি থেকে বিষুবরেখা নিকটবর্তী অঞ্চলের আবহাওয়া. আর প্রতিটি এলাকাতেই সেই সমস্ত জন্তুরা রয়েছে, যারা তাদের উপযুক্ত আবহাওয়া ও খাদ্য সেখানে খুঁজে পায়.

২. সম্পূর্ণ উত্তরে, আর্কটিক বরফের মাঝখানে, যেখানে কোন রকমের উদ্ভিদ নেই, শুধু বরফ ও তুষার, সেখানে শ্বেত ভল্লুক থাকে – বিশ্বের সবচেয়ে অতিকায় হিংস্র জন্তু. শ্বেত ভল্লুকের লোম এতই ঘন যে, তার জন্য কোন রকমের ঠাণ্ডাই ভয়ঙ্কর নয়. শ্বেত ভল্লুক মাছ ও সিন্ধু ঘোটক খেয়ে বেঁচে থাকে.

৩. তুন্দ্রা ও বনাঞ্চল আকীর্ণ তুন্দ্রা অঞ্চলে বহু রকমের জন্তু নেই, সেখানের আবহাওয়া যথেষ্ট চরম বলে. এই ধরনের আবহাওয়াতে বেঁচে থাকতে পারে শুধু বিশেষ ধরনের খরগোশ, নেকড়ে বাঘ, লোমশ ভোঁদড়, পাহাড়ী ছাগল ও উত্তরাঞ্চলের হরিণ.

৪. এখানে হরিণের জন্য খাবার প্রচুর, ঘাস, বন্য ফল, গাছের কচি পাতা.

৫. রাশিয়ার বনাঞ্চলেও প্রচুর নানা ধরনের জন্তু রয়েছে – ছোট ইঁদুর জাতের জন্তু থেকে বড় ধরনের খুর ওয়ালা জন্তু  - বড় হরিণ, বুনো ঘোড়া, শুয়োর, ছোট হরিণ.

৬. রাশিয়ার বনে এমনকি হিংস্র জন্তুও রয়েছে নেকড়ে বাঘ, বাদামী ভল্লুক, শেয়াল, বন বেড়াল. এছাড়া রয়েছে সাপ ও গিরগিটি.

৭. জন্তু দের মধ্যে প্রায়ই এক রকমের জাতীয় প্রতীক বলা হয়ে থাকে বাদামী ভল্লুককে.

৮. এই বিরাট লোমশ পশুর ছোট মোটা থাবা. এর শরীরের দৈর্ঘ্য দুই মিটারেরও বেশী – ওজন ৭০০ কিলোর চেয়ে বেশী. তার বড় ধারালো দাঁত, লম্বা তীক্ষ্ণ নখ. এই ভল্লুক সাধারণত গাছ পালা খেয়েই বেঁচে থাকে বুনো ফল, বাদাম, মাছ সবই এর মধ্যে রয়েছে. কিন্তু কখনও হিংস্র জন্তু মত শুয়োর ও বুনো ঘোড়া ধরেও খেয়ে ফেলে.

৯. দেখলে যদিও মনে হয় যে, একেবারে আনাড়ী, তবুও বুনো ভল্লুক খুব সহজেই গাছের উপরে উঠতে পারে, নিঃশব্দে শিকার করে, বিদ্যুত গতিতে আক্রমণ করে থাকে. ভল্লুকের প্রিয় খাদ্য মধু. এর জন্য গাছে চড়ে বুনো মৌমাছির মৌচাক খালি করে দেয়. শীতে ভল্লুক গর্তে ঢুকে বসন্ত কাল অবধি ঘুমিয়ে থাকে.

১০. রাশিয়ার বহু লোক কথার নায়ক ভল্লুক, বহু শহরের প্রতীকে তার জায়গা হয়েছে. ১৯৮০ সালের মস্কো অলিম্পিকের সময়ে প্রতীক হয়েছিল ভল্লুক মিশা. রাশিয়ার শাসক দল ঐক্যবদ্ধ রাশিয়ার প্রতীক ও ভল্লুক.