সেন্ট-পিটার্সবার্গে বাঘের সংখ্যা সংরক্ষণ করার জন্য সম্মেলন হয়েছে, সেখানে ১৩টি দেশের প্রতিনিধিরা যোগ দিয়েছিলেন.

সেন্ট-পিটার্সবার্গের ব্যাঘ্র সম্মেলনে বক্তৃতা দিতে গিয়ে রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন জানিয়েছেন, রাশিয়ার সরকার বেআইনি বাঘ শিকারের জন্য শাস্তি কঠোর করার পরিকল্পনা করেছে.

৩১শে আগষ্ট ২০০৮ সালে ভ্লাদিমির পুতিন বিপর্যয় নিরসন মন্ত্রণালয়ের প্রধান সের্গেই শউগুর সঙ্গে উসুরিস্কের সংরক্ষিত অরণ্যে গিয়েছিলেন, যেখানে আমুর অঞ্চলের বাঘ সংরক্ষণ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করা হচ্ছে.

ভ্লাদিমির পুতিন ও রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর পরিবেশ ও বিবর্তন সংক্রাম্ত সমস্যা অনুসন্ধান বিষয়ক সিনিয়র সায়েন্টিফিক কর্মী ভিক্তর লুকারেতস্কি বিজ্ঞানীদের ধরা একটি পাঁচ বছর বয়সী বাঘিনীকে পর্যবেক্ষণ করছেন.

বিগত ১০০ বছরে বিশ্বে বাঘের সংখ্যা এক লক্ষ থেকে তিন হাজারে কমে এসেছে ও প্রতিদিনই তা আরও কমে যাচ্ছে. 

বিশ্বের বহু অঞ্চলে শার্দুল প্রজাতির এই বিশালাকার প্রতিনিধিরা একেবারেই নির্মূল হয়ে গিয়েছে ককেশাস পর্বতমালার পিছনে, মধ্য এসিয়াতে, বালি ও জাভা দ্বীপপূঞ্জে.

ভারতে ১৯৯৫ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে বাঘের সংখ্যা কমেছে প্রায় তিন গুণ.

রাশিয়াতে বর্তমানে একটি এলাকার মধ্যে থাকা বাঘের সংখ্যা বিশ্বে সবচেয়ে বেশী (প্রায় ৫০০ টি বাঘ, অথবা বিশ্বের মোট বাঘের সংখ্যার ১১ শতাংশ). রাশিয়া বিশ্বের অন্যতম দেশ, যেথানে গত ১০০ বছরে বাঘের সংখ্যা কমেনি, বরং উল্টো, বেড়েছে দশ গুণ. 

বাঘ সংরক্ষণের বিষয়ে রাশিয়ার সাফল্য সবচেয়ে উল্লেখ যোগ্য. এই কারণেই ব্যাঘ্র সম্মেলন আয়োজনের কথা হয়েছিল সেন্ট-পিটার্সবার্গে.

ব্যাঘ্র সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন সেই সব দেশের নেতা ও প্রশাসনের প্রধানেরা, যেথানে বর্তমানে বাঘ রয়েছে. এটা বাংলাদেশ, ভুটান, ভিয়েতনাম, ভারত, ইন্দোনেশীয়া, কম্বোডিয়া, চিন, লাওস, মালয়েশিয়া, মিয়ানমার, নেপাল, রাশিয়া ও থাইল্যান্ড.

রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন ও বাংলাদেশ সরকারের প্রধান শেখ হাসিনা ওয়াজেদ সেন্ট-পিটার্সবার্গের ব্যাঘ্র সম্মেলনে.

এই সম্মেলনের প্রতিনিধিরা বাঘ সংরক্ষণের বিষয়ে একটি ঘোষণা-পত্রে স্বাক্ষর করেছেন, যেথানে ২০২২ সালের মধ্যে বিশ্বে বন্য বাঘের সংখ্যা দ্বিগুণ করার ইচ্ছার কথা বলা হয়েছে.