রাশিয়ার ইউরোপীয় অংশে জুন মাস থেকে এক টানা অস্বাভাবিক গরম দেশের বাইশটি অঞ্চলে দাবানল সৃষ্টি করেছে. প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের শিকার হয়েছেন পঞ্চাশ জনেরও বেশী লোক. গৃহহীণ হয়েছেন প্রায় সাড়ে তিন হাজার রাশিয়ার নাগরিক. প্রশাসনের কেন্দ্রীয় সভাতে প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন যে, সরকার ক্ষতিগ্রস্থদের জন্য সবচেয়ে জরুরী সাহায্যের সমস্ত কাজই করবে.    "প্রস্তাব করা হয়েছে যে, সমস্ত প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্থদের এক কালীণ ভাবে আরও বেশী করে অর্থ দেওয়া হবে". আর তা হল: "যাদের সমস্ত সম্পত্তি আগুনে ধ্বংস হয়েছে, তাদের মাথা পিছু এক লক্ষ রুবল করে দেওয়া হবে, আগে ঠিক হয়েছিল যে পরিবার পিছু পঞ্চাশ হাজার রুবল দেওয়া হবে. আর কেউ মারা গিয়ে থাকলে, তার পরিবারকে অন্ততঃ এক মিলিয়ন রুবল দেওয়া হবে", বলে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন.    তাছাড়া প্রত্যেক গৃহহীণ দুই মিলিয়ন রুবল করে পাবে নতুন বাড়ী তৈরী করার জন্য এবং এক মিলিয়ন রুবল খরচা করা হবে, তাদের কাছে জল বিদ্যুত ইত্যাদি প্রয়োজনীয় সরবরাহ পৌঁছে দিতে.    প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন নির্দেশ দিয়েছেন রাষ্ট্রীয় আঞ্চলিক মন্ত্রণালয়কে ক্ষতিগ্রস্থদের জন্য নতুন বাড়ী তৈরীর বিষয়টি পরিদর্শন করতে.    রাশিয়ার প্রশাসন নিশ্চিত করে বলেছে যে, দেশে ঠাণ্ডা পড়ার আগেই সমস্ত ক্ষতিগ্রস্থদের জন্য বাড়ী তৈরী করা হবে.    যাতে কোন রকম দুর্নীতি করার সুযোগ না থাকে, তার জন্য প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন নির্দেশ দিয়েছেন যে, প্রতিটি বড় গৃহ নির্মাণ প্রকল্পের কাছে লক্ষ্য করার জন্য ক্যামেরা ও তিনটি মনিটর লাগাতে.    একই সময়ে রাশিয়াতে আগুণ নিভাতে এসেছে প্রায় সারা বিশ্বের ত্রাণ ও দমকল কর্মীরা. বিপর্যয় নিরসন দপ্তরের প্রতিনিধিরা বলেছে যে, এর মধ্যেই আন্তর্জাতিক অগ্নি নির্বাপক জোট তৈরী হয়েছে. যেখানে প্রতিদিনই বিশেষজ্ঞ, যন্ত্র, গাড়ী ও বিশেষ প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা নিয়ে আরও বেশী করে যোগ দিচ্ছে.    ইউক্রেন, কাজাখস্থান, ইতালি, বুলগারিয়া, জার্মানী, পোল্যান্ড, আর্মেনিয়া, ফ্রান্স, আজারবাইজান, ভেনেজুয়েলা – এটা রাশিয়াকে যে সমস্ত দেশ সাহায্য করছে তাদের এক অসম্পূর্ণ তালিকা.    রাশিয়ার অর্থোডক্স গির্জা এই প্রসঙ্গে দেশের লোকের কাছ থেকে চাঁদা তুলছে. দেশের বহু জায়গায় মানবিক সাহায্য জড়ো করার জন্য কেন্দ্র খোলা হয়েছে, আগুনে পোড়া লোকেদের জন্য. সেখানে জনসাধারণ কাপড় জামা, বিছানা বালিশ, বাচ্চাদের জন্য খেলনা ও অন্যান্য সব জিনিস নিয়ে আসছে.    জনতার দেওয়া জিনিস স্বেচ্ছাসেবকেরা নিজেদের গাড়ীতে করে পৌঁছে দিয়ে আসছেন, ইন্টারনেটে ব্লগ তৈরী হয়েছে, যেখানে সবাই যারা সাহায্য করতে চান, তারা জানতে পারছেন কি দরকার, কোথায়. বিশেষ সাইট খোলাও হয়েছে, যেখানে লোকে বর্তমান অবস্থা জানতে পারছে.    বর্তমানে যারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্থ এবং গৃহহীণ, তাঁদের বিশেষ কেন্দ্রে রাখা হয়েছে, যেখানে সাহায্য করা হচ্ছে শারীরিক ও মানসিক ভাবে এই আঘাত থেকে সেরে উঠতে.