রাশিয়ার জাতীয় পোষাক অদ্ভূত সুন্দর, সাধারন ও সহজ. মেয়েদের জন্য লম্বা জামা, তার উপরে চওড়া ঘাঘরা. ছেলেদের বিরাট চওড়া প্যান্ট তার উপরে হাঁটু অবধি ঝুল জামা. কোমরে বেল্ট দিয়ে বাঁধা. জাতীয় পোষাকের বহু জিনিসই আজও নতুন মডেলের জামা কাপড়ে ব্যবহার করা হচ্ছে. কিন্তু বর্তমানের পোষাক যারা বানিয়ে থাকেন, তাদের মাত্র কয়েক মাস লাগে, আর জাতীয় পোষাক তৈরী হয়েছে কয়েক শতাব্দী ধরে. তাই সেখানে প্রতিটি জিনিসই অনেক ভেবে তৈরী করা, আর কোনটাই বিনা কারণে নয়.    প্রথমে কাপড় সম্বন্ধে বলা দরকার, এগুলি সুতী, উল অথবা লিনেন কাপড়. জাতীয় পোষাকের কাট এমন যে, সোজা জামা ও তার উপরে নীচে ছড়িয়ে পড়া ঘাঘরা মেয়েদের চলাফেরার বিষয়ে একটা স্বাধীনতা দেয়, সৌন্দর্য্য আলাদা করে ফুটিয়ে তোলে. পোষাকের সুন্দর অলঙ্কার হল সূঁচ সুতো দিয়ে কারুকার্য. এগুলি শুধু কারুকার্য নয়, তা পিছনে লুকিয়ে থাকে বিশেষ তথ্য. বিয়ের আগে মেয়েরা তাদের মাথার জন্য এক বিশেষ ধরনের কারুকার্য করা পোষাক বানাতো ও লোক ডাকত তা দেখবার জন্য. এই সব কারুকার্য দেখে তা বিচার করে বিয়ের কনের মনের কথা বোঝা হত.    রুশ সূঁচ সুতোর কারুকার্য খুবই গভীর অর্থবহ প্রতীক, বরফি আকৃতি সূর্যের প্রতীক, আলো ও উষ্ণতার প্রতীক. গাছ, ফুল এই সব প্রকৃতির প্রতীক ও মেয়েদের প্রকৃতির সাথে সখ্যতার কথা উল্লেখ করতে, উড়ন্ত পাখী মনে করিয়ে দিত যে, শুধু দৈনন্দিন কাজে কর্মে বাঁচা যায় না, আত্মা যেন পাখীর মত স্বাধীন ও উঁচু মাপের হয়.    পোষাকের রঙের মানেও অনেক. মেয়েদের পোষাকের বিভিন্ন রঙের মানে আলাদা ও তার একসঙ্গে উপস্থিতির মানেও অন্য. যেমন, সাদা ও লাল রঙের মানে ছিল আত্মার অম্লান প্রকাশ ও ভালবাসা. লাল, হলুদ ও সোনালী রঙ মেয়েদের জন্য জীবনী শক্তি, স্বাস্থ্য ও আনন্দের প্রতীক ছিল. তাই এই রঙ গুলিই বিয়ের পোষাকে বেশী করে দেখা যেত.