বিখ্যাত লেখক ম্যাক্সিম গোর্কীর আসল নাম ও পদবি – আলেক্সেই পেশকভ. ১৮৬৮ সালে নিঝনি নভগোরদ শহরে এক দামী কাঠের মিস্ত্রীর পরিবারে তাঁর জন্ম হয়েছিল. অল্প বয়সেই অনাথ হয়ে যাওয়ার পর তিনি তাঁর দাদুর বাড়ীতেই মানুষ হয়েছিলেন. দাদু খুবই শক্ত ও কড়া লোক ছিলেন. আলিওশা পেশকভ কে মাত্র ১১ বছর বয়স থেকেই নিজের খরচ নিজেই রোজগার করতে হয়েছিল. তাঁর যৌবন ছিল খুবই কঠিন ও শোকের তাই নিজের ছদ্ম নাম নিয়েছিলেন ম্যাক্সিম গোর্কী, নিজের অল্প বয়সের জীবনের কথা তিনি লিখেছিলেন – "শৈশব", "মানুষের মাঝে""আমার বিশ্ববিদ্যালয় গুলি" নামের তিনটি ধারাবাহিক রচনাতে.    গোর্কী কোন বিশ্ববিদ্যালয় শেষ করেন নি, যদিও চেষ্টা করেছিলেন সেখানে ভর্তি হওয়ার. কিন্তু তিনি মন দিয়েছিলেন বৈপ্লবিক কাজকর্মে, তাই তাঁকে গ্রেপ্তার হতে হয়েছিল, নির্বাসনে যেতে হয়েছিল ও পুলিশের নজরে থাকতে হয়েছিল. এই সময়েই তিনি চেষ্টা করেছিলেন গল্প ও ছোট রচনা লেখার, আর প্রথম প্রচেষ্টাতেই পেয়েছিলেন অতুলনীয় সাফল্য. পরবর্তী কালের উপন্যাস ও নাটকে তিনি তাঁর জীবনের সেই সব জটিল সময়ের কথাই লিখেছেন যখন রাশিয়াতে নতুন সমাজ গঠিত হচ্ছিল, এই গুলিই তাঁকে বিখ্যাত করেছিল. তাঁর সবচেয়ে বহুল প্রচারিত উপন্যাস মা, যাতে গোর্কী রাশিয়ার ইতিহাসের নতুন বীরদের কথা বলেছেন. বিশ্বমানের সত্যিকারের লেখকের মত গোর্কী তাঁর পরবর্তী কালের লেখায় নিজেকে তুলে ধরতে পেরেছিলেন – "আর্তামোনভদের মকদ্দমা", "ক্লিম সামগিনের জীবন" ইত্যাদি উপন্যাসে, "নীচের মহল""ভাস্সা জিলিয়েজনোভা", "ইগর বুলীচেভ ও অন্যান্যরা" ইত্যাদি নাটকে ও আরও রচনায়.    লেখককে খুবই কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে বেঁচে থাকতে হয়েছিল: তিনটি বিপ্লব, গৃহযুদ্ধ, ধ্বংস... গোর্কী রাশিয়ার সমাজতান্ত্রিক পরিবর্তনের পক্ষে ছিলেন, কিন্তু নতুন সরকারের রাজনৈতিক ধারণাকে তিনি একজন শিল্পীর মানসিকতা দিয়ে বুঝেছিলেন – সমালোচকের দৃষ্টিতে ও একেবারেই নিজের মত করে. তার ওপরে তিনি দীর্ঘকাল ছিলেন দেশের বাইরে, বিভিন্ন দেশে এই সময়ে ঘটা সামাজিক প্রক্রিয়াকে দেখতে পেরেছিলেন এবং খুব ভাল করেই বুঝতে পেরেছিলেন কি থেকে কি হয়. উনি খুব ভাল করেই নতুন সরকারের ভুল গুলি দেখতে পেয়েছিলেন, যদিও নতুন সরকার সব রকম ভাবেই তাঁকে ব্যবহার করতে চেয়েছিল তাঁকে নিজেদের ধারণার ঘোষক বানিয়ে ফেলতে চেয়ে, তবুও লেখক নিজের রচনায় এই সরকারের কাজকে নির্বিচারে বাহবা দিতে ও তাদের মতবাদকে প্রশংসা করতে চান নি.    ম্যাক্সিম গোর্কী একজন ব্যক্তিত্ব হিসাবে ছিলেন মহান. তিনি মূল্যবোধের বিষয়ে ছিলেন বিশাল ও পরিস্কার. গরীব থেকে মহান হয়েও তিনি তাঁর আত্মার ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন নি. কারও ডাকে সাড়া দিতে ভোলেন নি. মানুষের জন্য গোর্কী তাঁর জীবত্কালেই অনেক কিছু করেছেন, হতে পারে কিছু সরকারি প্রতিষ্ঠানের চেয়েও অনেক বেশী. বহু লোকই তাঁর কাছে আসত অর্থ বা মানসিক সাহায্যের প্রত্যাশা নিয়ে, তিনি কাউকেই ফেরান নি, সমস্ত অনুরোধই নিজে বুঝেছেন, যে রকম পারেন, সাহায্য করেছেন.    বিশ্বের বহু ভাষাতেই ম্যাক্সিম গোর্কীর রচনা অনুদিত হয়েছে, তার মধ্যে ভারতীয় ভাষাও রয়েছে. তাঁর স্মৃতি শুধু রাশিয়াতেই নয়, বিশ্বের অন্য দেশেও রক্ষা করা হয়ে থাকে. যেমন, কলকাতায় তাঁর নামে রাস্তা আছে. বহু সাহিত্য ক্লাবই তাঁর নামে তৈরী করা হয়েছে. রাশিয়াতে মহান লেখকের নামে রাস্তা, জাহাজ, লাইব্রেরী, থিয়েটার রয়েছে. বহু শহরেই তাঁর নামে রাস্তাও রয়েছে.