ব্রিটেনের দ্য ডেলি মেল পত্রিকা সম্প্রতি ভিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয় দ্বারা তিন মাস আগে করা সমীক্ষার তথ্য প্রকাশ করেছে. দেখা গেছে যে, এর আগেও ব্যবহারকারীরা ফেসবুক পরিত্যাগ করতো. কিন্তু মালিক মার্ক সুকারবার্গের মন্তব্য – “লোকের নিজস্ব পৃ্ষ্ঠা ঝোলানোর ব্যাপারে ধারণাটা সেকেলে হয়ে গেছে.”–র পরেই পালানোর হিড়িক পড়েছিল আর সিআইএ-র প্রাক্তন কর্মী এডওয়ার্ড স্নোডেনের কাছ থেকে নির্দিষ্টভাবে জানার পরে সেই হিড়িক আরও বেড়েছে. – “মার্কিনী নিরাপত্তা এজেন্সী আপনাদের ওপর কঠোর নজর রাখছে এবং এই কাজে নিযুক্ত রয়েছে অপরিমেয় কর্মী.”- জানিয়েছেন স্নোডেন.

এটা সত্যি কথা যে, সবদেশেই প্রাইভেসি লঙ্ঘন ও নজরদারি করাকে খুব বেশি পাত্তা দেওয়া হয়েছে, তা নয়. ‘রেডিও রাশিয়া’র করা সমীক্ষার ফলাফলে প্রকাশ যে, মাত্র ১০% জার্মানভাষী ও ১৩% ফরাসীভাষী ফেসবুক ত্যাগ করেছে, যখন ইংরেজীভাষী ৫৭% ফেসবুক ব্যবহারকারীই তাদের নিজস্ব পৃষ্ঠা কবর দিয়েছে. আর রাশিয়ানদের মধ্যে নিজস্ব পৃষ্ঠা উড়িয়ে দিয়েছে মাত্র ৪% ব্যবহারকারী.

‘রেডিও রাশিয়া’কে দেওয়া সাক্ষাতকারে কর্নেল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক মাইকেল মেইসি বলছেন – ফেসবুক পরিত্যাগকারীরা ভেবেচিন্তেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, কারণ সোস্যাল-নেটওয়ার্ক ছেড়ে চলে যাওয়া দুস্কর. –

এ্যাকাউন্ট উড়িয়ে দেওয়া খুব কঠিন, কারণ ফেসবুক সর্বৈবভাবে তাতে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করবে. তার থেকে অনেক সহজ, সিপ্মলি ঐ এ্যাকাউন্টটা ব্যবহার না করা. উপরন্তু লোপাট করতে গেলে আপনি আপনার সমস্ত কনটেন্ট, ফোটো হারাবেন. কিন্তু তা সত্বেও লোকে যদি এই পদক্ষেপ করে, তার মানে তারা পরিষ্কার সিগন্যাল দিচ্ছে যে, তাদের প্রাইভেসি তাদের কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ.

এখনো কি ঝাড়েঝাড়ে ব্যক্তিগত এ্যাকাউন্ট লোপাট করা চলছে?- ‘রেডিও রাশিয়া’র দেওয়া এই প্রশ্নের উত্তরে ব্রিটেনের ওপেন রাইটস গ্রুপ কোম্পানীর কার্যনির্বাহী আধিকারিক জিম কিল্লক বলেছেনঃ

ব্যবসার উপর এটা অবশ্যই প্রভাব ফেলবে, বিশেষত ফেসবুক মুনাফা খোয়াবে. তবে এর ইতিবাচক দিক হচ্ছে এই যে, অতঃপর কোম্পানীগুলি আমেরিকার গুপ্তচর বিভাগগুলির সাথে তাদের পারস্পরিক সহযোগিতা পুনর্বিবেচনা করবে এবং যে সব আইনের ধারা তাদের ব্যক্তিগত তথ্যে মাথা গলানোর সুযোগ দেয়, সেই সব আইন সম্পর্কে আরও বেশি সচেতন থাকবে. এখন এটা সবাই জেনে গেছে যে, আমেরিকার আইনকানুন এমনই যে, তা যেকোনো আগ্রহোদ্দীপক ব্যক্তি সম্পর্কে সমস্ত প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের সুযোগ দেয় গোয়েন্দাদের. সরকার কোনো বাধা দেবে না. এই ক্ষেত্রে, আমার মনে হয় সামাজিক চাপ খুব কার্যকরী হতে পারে.

তবে এটা সত্যি যে, এনএসএ’র কিসসা চারিদিকে রটিয়ে যাওয়ার পরে গুগল, ইয়াহু ও ফেসবুক ব্যক্তিগত তথ্যাবলীর মধ্যে কোন কোনটা গুপ্তচর বিভাগ নিচ্ছে আর কোন কোনটা নিচ্ছে না – তার হিসাব দাখিল করার নতুন প্রস্তাব দিচ্ছে. বিশেষজ্ঞদের মতে, এরকম স্বচ্ছতা কিছুটা সাহায্য করবে. কিন্তু আসল কাজটা করতে হবে প্রশাসকদের – যাতে আদালতের রায় বিনা কোনো ব্যক্তির খোঁজখবর নেওয়াটা সীমায়ীত করা হয়. আর যতক্ষণ সেটা করা না হচ্ছে, সোস্যাল সাইটগুলো জনপ্রিয়তা ও সেইসাথেই মুনাফাও হারাতেই থাকবে.