সিরিয়ায় আঘাতহানার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে নিয়ে ফেলেছে। গত ২১ আগষ্ট দামাস্কাসের উপকন্ঠে সিরিয়ার সেনাবাহিনীকে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করার দায়ে যুক্তরাষ্ট্র বাশার আসাদের ওপর দোষ চাপাচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত সঠিকভাবে জানা যায় নি যে রাসায়নিক হামলা কি হয়েছিল আর যদি হয়েই থাকে তবে কারা এই হামলা চালিয়েছিল। বিরোধী দল নাকি সরকারি সেনাবাহিনী। মার্কিন প্রশাসন আস্থার সাথে বলছে যে বাশার আসাদের নির্দেশেই রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল এবং এ অপরাধের শাস্তি সিরিয়ার সরকারকে পেতে হবে।

 

তবে লন্ডনে ঘটেছে একটু ভিন্ন ঘটনা। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞা ছাড়া সিরিয়ায় সামরিক হামলা করার যুক্তরাজ্যের প্রস্তাব নাকোচ করেছে দেশটির সরকার।

এছাড়া সিরিয়া সফরকরা জাতিসংঘ পরিদর্শক দলটির কাছ থেকে চুড়ান্ত প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত ন্যাটোভুক্ত অনেক দেশ দামাস্কাসে হামলার পথ থেকে সড়ে দাড়িঁয়েছে।

গতকাল শনিবার সিরিয়ায় আলামত সংগ্রহ করার কাজ শেষ করেছে জাতিসংঘের পরিদর্শকরা। এখন পরীক্ষাগারে যাচাই-বাচাই করার পালা। চূড়ান্ত ফলাফল তৈরী হতে আরো ২ সপ্তাহ সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা । আর এর আগে রাসায়নিক গ্যাস জারিন ব্যবহার করা নিয়ে বাসার আসাদকে দায়ি করে সামরিক আঘাতহানার হুমকি দেওয়া আইনপরিপন্থি কজ।

যুগোস্লাভিয়া, ইরাক এবং লিবিয়া। এই তো বেশিদিনের কথা নয়। পশ্চিমা মিত্রজোটদের সঙ্গে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র নিজেরাই সর্বোচ্চ বিচারকের দায়িত্ব পালন করে নিজেদের মনগড়া কারণ দেখিয়ে ক্ষমতাসীনদের অপসারণ করেছিল।

সর্বোপরি, যুক্তরাষ্ট্রের সিরিয়ায় সামরিক হামলা চালানোর সম্ভবনা এখন উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। রাশিয়ার স্ট্রাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ সের্গেই দেমিদেনকো রেডিও রাশিয়াকে বলেন, “হ্যাঁ, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা চালানোর সম্ভাবনা অনেক বেশি। আর তা হতে পারে ১৯৮৬ সালে মুহাম্মর গাদ্দাফির বিরুদ্ধে করা সামরিক হামলার আদলে।"

এখন মস্কোর প্রচেষ্টা হবে সিরিয়ার চিত্রপট যেন আর ঘনীভূত না হয় সেদিকে সজাগ থাকা। রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারকে মস্কো নিন্দা জানায়। তবে সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্র আসাদের সেনাবাহিনী ব্যবহার করছে সেই সংক্রান্ত কোন তথ্য-প্রমাণ রাশিয়ার কাছে আপাতত নেই। শনিবার সাংবাদিকদের সাথে সাক্ষাতকালে এ বিষয়ে বলেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি বলেন, "বলা হচ্ছে যে, ওই ধরণের প্রমাণ রয়েছে কিন্তু তা গোপন রাখা হয়েছে। এটি সহযোগি রাষ্ট্র ও অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর প্রতি অসম্মান দেখানোর সমান। তদন্ত প্রতিবেদন সবার সামনে প্রকাশ করা উচিত। একটি স্বাধীন দেশের প্রতি সামরিক হামলার হুমকি তা কখনো গ্রহণযোগ্য নয়।"

 

জাতিসংঘকে উপক্ষা করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দ্যোগে যে কোন সামরিক আঘাত আন্তর্জাতিক বিধিনিষেধের পরিপন্থি হিসেবে গন্য করা হবে।