×
South Asian Languages:
আমেরিকা

২০১৩ সালের শেষ বঙ্গোপসাগরে ভারতের একসারি সামরিক কাজকর্ম দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে. “অগ্নি-৩” রকেটের উড়ান আর জাপান – ভারত সম্মিলিত সামুদ্রিক মহড়া – শুধু এই সবেরই কয়েকটা উদাহরণ হতে পারে. এটা কোন দ্ব্যর্থ না রেখেই বলা যেতে পারে যে, ভারত শুধু এখন সমুদ্র তীরে কোন রকমের আক্রমণ প্রতিহত করতেই সক্ষম নয়, বরং অনেক উচ্চাকাঙ্ক্ষাও পোষণ করেছে, যা তাদের সমুদ্র সীমা থেকে অনেক দূরের এলাকায় বর্তমানে তৈরী হয়েছে. বাস্তবে ভারতের সামরিক –সামুদ্রিক ক্ষমতা বৃদ্ধি করা বহু রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের সেই তত্ত্বকেই প্রমাণ করে দেয় যে, ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগর ইতিমধ্যেই একটি সম্পূর্ণ মহাসাগরে পরিণত হতে চলেছে – যাকে বলা যেতে পারে ভারত- প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকা.

সিরিয়া সঙ্কট সমাধানের জন্য “জেনেভা – ২” আন্তর্জাতিক সম্মেলনের শুরু হতে আর এক মাসের কম সময় রয়েছে. কিন্তু এখনও কারা অংশগ্রহণ করবে তা ঠিক হয় নি. বিরোধী পক্ষ ঠিক করে উঠতে পারছে না সুইজারল্যান্ডে কি নিজেদের প্রতিনিধি দল পাঠানো হবে, আর তা যদি হয়, তবে ঠিক কাকে. আর ইরানের যোগদান নিয়ে রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখনও সমঝোতায় পৌঁছতে পারছে না.

২০১০ সালের ২৪শে ডিসেম্বর টিউনিশিয়ার সিদি-বুজিদে প্রথম বেন আলির প্রশাসনের বিরুদ্ধে গণ অভ্যুত্থান ঘটেছিল, যা “আরব বসন্তের” শুরু করেছিল. হাতে গোনা কয়েক সপ্তাহের মধ্যে উত্তর আফ্রিকায় দুটি প্রশাসনকে জনতার ঝড় ধুয়ে দিয়েছিল, যে দুটিই বহুদিন ধরে পশ্চিমের খুবই ভরসার জোটসঙ্গী হয়ে ছিল.

তারপরে ঘটনাচক্র দিক পরিবর্তন করেছে, আর ছড়িয়ে পড়েছে সেই সমস্ত দেশের উপরে, যাদের বেন আলির টিউনিশিয়া বা হোসনি মুবারকের ইজিপ্টের সঙ্গে খুব কমই অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দিক থেকে মিল ছিল. “আরব বসন্ত” তারপরে ১৮০ ডিগ্রী দিক পরিবর্তন করেছে.

দুই দেশের ব্যবসায়ী মহলকে চিন্তিত করে তুলেছে ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের মধ্যে এক শোরগোল তোলা কূটনৈতিক স্ক্যান্ডাল, যা দিয়ে ২০১৩ সাল শেষ হতে চলেছে. কিছু ব্যবসায়ী ইতিমধ্যেই মনমোহন সিংহের প্রশাসনকে আহ্বান করেছেন ঘুমন্ত সিংহকে না জাগাতে ও সাবধান করে দিয়েছেন যে, এভাবে চললে ভারত আমেরিকার ও পশ্চিমের বিনিয়োগকারীদের হারাতে পারে. ফলে আগে ঘোষণা করা ২০১৭ সালে দেশে এক লক্ষ কোটি বিদেশী ডলার বিনিয়োগ টেনে আনার লক্ষ্য অধরাই থেকে যেতে পারে.

প্রথম থেকে শেষ অবধিই অসম্ভব ঠেকেছে নিউইয়র্ক শহরে ভারতের ডেপুটি কনসাল জেনারেল দেবযানী খোবরাগাদে আচমকা গ্রেপ্তার হওয়া আর তারপরে জেলবন্দী থাকার ঘটনা. উচ্চপদস্থ এই কূটনীতিবিদকে অপমানজনক ভাবে খানাতল্লাশী করা হয়েছে ও তারপরে নানারকমের অপরাধী ও মাদকাসক্তদের সাথে একত্রে কারাবাসে বাধ্য করা হয়েছে. এই কাজ দিয়েই খুব নোংরা ভাবে বিদেশে রাষ্ট্রের প্রতিনিধি সংক্রান্ত ১৯৬৩ সালের ভিয়েনা কনভেনশন ভঙ্গ করা হয়েছে, যে দলিলে স্পষ্ট করেই লেখা রয়েছে কূটনীতিবিদদের অনাক্রম্যতা নিয়ে.

ওয়াশিংটন ও দিল্লীর মধ্যে কূটনৈতিক স্ক্যান্ডাল এবারে আরও বেশী করেই জ্বলে উঠেছে, যদিও সেটা যুক্তিসঙ্গত দেখাচ্ছে না কারণ গত দশক পূর্ব ও পশ্চিমের দুই গণতন্ত্রের ঐতিহাসিক ভাবে কাছাকাছি আসা নিয়ে কেটে গিয়েছে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতের সঙ্গে পারমাণবিক ক্ষেত্রে সহযোগিতার প্রশ্নে এগিয়ে এসেছে বাধা নিষেধ পার হয়ে আর ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহকে এমন ভাবে নিজেদের দেশে সফরের সময়ে আপ্যায়ন করেছে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বহু জোটসঙ্গী দেশের প্রধানদের দেওয়া হয় না. বাণিজ্য ও বিনিয়োগও বহু গুণে বেড়ে গিয়েছিল. মনে হয়েছিল যে, ভারত আবার করে যেন নিজেদের জন্য আমেরিকা আবিষ্কার করেছে, আর আমেরিকা – ভারতকে.

২০১১ সালের গোড়ায় সিরিয়ায় সঙ্কট দেখা দেওয়ার সময় থেকে পৃথিবীর প্রায় ৭০টি দেশ থেকে ১১ হাজারেরও বেশি জঙ্গী সিরিয়ায় পৌঁছেছে সরকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে সামরিক ক্রিয়াকলাপে অংশগ্রহণের জন্য.

ভারতের ডেপুটি কনসাল জেনারেল দেবযানী খোবরাগাদে কে নিউইয়র্কে গত সপ্তাহে গ্রেপ্তার নিয়ে স্ক্যান্ডাল জ্বলে উঠেছে. ভারতের পার্লামেন্টের সদস্যরা ও প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মচারীরা মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাত্কার করতে অস্বীকার করেছেন ও মঙ্গলবারে ভারতীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দিল্লী শহরে মার্কিন দূতাবাসের সামনে থেকে কংক্রীটের পথ রোধ করার ব্লক হঠিয়ে নেওয়া হয়েছে আর বিরোধী জনতা দলের নেতা যশবন্ত সিনহা আমেরিকার কূটনীতি দপ্তরের কর্মচারীদের সমকামী সহকর্মীদের ভারতে কয়েকদিন আগে নতুন করে প্রবর্তিত ভারতীয় অপরাধ আইনের ৩৭৭ ধারার ভিত্তিতে আদালতে বিচার করতে বলেছেন. কারণ এই স্ক্যান্ডাল শুরু করানো হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আর ধারণা করা যেতে পারে যে, ওয়াশিংটন ঠিক করেছে ভারতের সর্বজনীন নির্বাচন অবধি অপেক্ষা না করেই আমেরিকা- ভারত সম্পর্ক খারাপ করার ভার নিজেদের হাতেই তুলে নিতে, কারণ খুবই সম্ভাব্য যে, ভারতে ক্ষমতায় আসতে চলেছে আমেরিকা বিরোধী শক্তি.

আফগানিস্তানের রাষ্ট্রপতি হামিদ কারজাই ভারত সফরে গিয়েছিলেন. আসন্ন সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো জোটের পক্ষ থেকে আফগানিস্তানের মূল সেনাবাহিনী প্রত্যাহার, কাবুল ও দিল্লীর সামনে খুবই কঠিন প্রশ্ন উপস্থিত করেছে, যেগুলোর সমাধানের উপরে নির্ভর করছে শুধু আফগানিস্তানের ভবিষ্যতই নয়, বরং সমগ্র মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তাও.

আফগানিস্তানের রাষ্ট্রপতি হামিদ কারজাই – ভারতীয় রাজধানীর এক নিয়মিত অতিথি, কিন্তু তাঁর এই বিগত চার দিনের সফরকে বিশেষ বলে উল্লেখ করা সম্ভব, এই রকম মনে করে আমাদের সমীক্ষক সের্গেই তোমিন বলেছেন:

ঠিক দুই বছর আগে বাগদাদে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পতাকা নামিয়ে নেওয়া হয়েছিল. এটা ছিল একটা প্রতীকী ব্যাপার, যা করা হয়েছিল, স্রেফ দেখানোর জন্যই যে, ইরাক থেকে মার্কিন সেনাবাহিনী চলে যাচ্ছে. আগামী বছরে, সব দেখে শুনে মনে হয়েছে যে, আমেরিকার সেনাবাহিনীর মূল অংশ আফগানিস্তান থেকেও নিয়ে যাওয়া হতে চলেছে.

কিছু লোক মনে করেছেন যে, ওয়াশিংটন রাজনৈতিক দিক থেকেও মধ্য ও নিকট প্রাচ্য থেকে নিজেদের প্রভাব কম করছে – আর এটা বিগত সময়েই বেশী করে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে.

বুধবারে ভারতের সুপ্রীম কোর্ট এক রায় দিয়েছে, যার ফলে সমস্ত সমলিঙ্গ বিবাহ ও সমকামী সম্পর্কের পক্ষপাতী আর যারা এই সমকামী পুরুষদের ভারতে ও ভারতের বাইরেও পছন্দ করেন, তারা একেবারে চরম বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন. সুপ্রীম কোর্ট ২০০৯ সালে অধঃস্তন আদালতের দেওয়া রায়, যেখানে বলা হয়েছিল যে, ভারতীয় ফৌজদারী সংহিতার ৩৭৭ নম্বর ধারা রদ করা হচ্ছে, তা বাতিল করেছে. এই ধারা অনুযায়ী স্বাভাবিকের চেয়ে আলাদা রকমের যৌন আচরণ বলা হয়েছিল অপরাধ ও ধারা অনুযায়ী ভারতের যৌন কারণে সংখ্যালঘুদের সাংবিধানিক অধিকার খর্ব হয়. লিবারেল সমাজের এই বিষয়ে ক্ষোভ বোধগম্য: বিশ্বের সবচেয়ে বেশী জনসংখ্যার গণতান্ত্রিক দেশের সর্ব্বোচ্চ আদালতে রায়ের অর্থ হল যে, এবারে তাদেরই পরাজয় হয়েছে, যারা মানবসমাজের সমস্ত ভিত্তি মূলক মূল্যবোধকেই ধ্বংস করে দিতে চেয়েছে.

রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান ইরান সফরে গিয়েছিলেন, যেখানে তিনি তাঁর সহকর্মী জাভাদ জারিফের সঙ্গে আলোচনা করেছেন আর তাঁর সঙ্গে ঐস্লামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের রাষ্ট্রপতি হাসান রোহানি দেখা করেছেন.

যদিও এই সফরকে আনুষ্ঠানিক ভাবে কার্যকরী বলা হয়েছে, তবুও তার সংজ্ঞা সাধারণ দ্বিপাক্ষিক অনুষ্ঠানের বাইরেই হয়েছে. এই প্রসঙ্গে আমাদের সমীক্ষক ভ্লাদিমির সাঝিন মন্তব্য করেছেন.

২০১৩ সালে বিশ্বে রেকর্ড পরিমাণে দানাশষ্য উত্পাদিত হতে যাচ্ছে. রাষ্ট্রসঙ্ঘের খাদ্যদ্রব্য ও কৃষি সংস্থার অনুমান অনুযায়ী নতুন বছরের আগেই বিশ্বে আড়াইশো কোটি টন বিভিন্ন ধরনের দানাশষ্য তোলা সম্ভব হতে চলেছে. এটা গত বছরের চেয়ে শতকরা আট শতাংশ বেশী. তারই মধ্যে এই সংস্থা সাবধান করে দিচ্ছে যে, খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে পরিস্থিতি এশিয়া ও আফ্রিকার অনেক অংশেই খারাপ হতে চলেছে.

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী চাক হেগেলের সফর ইসলামাবাদে গত চার বছরের মধ্যে এই প্রথম পেন্টাগনের প্রধানের সফর, যে দেশকে ওয়াশিংটনের স্ট্র্যাটেজি তৈরী করা লোকরা বহুদিন হল নিজেদের জন্য এশিয়ার “সমস্যা জনক জোটসঙ্গী” বলেই নির্দিষ্ট করেছে. গত কয়েক বছরে দুই দেশের সম্পর্ক একাধিক সঙ্কট পার হয়েছে. তার ওপরে পাকিস্তানে লোকসভা নির্বাচনের পরে এই বছরে “যুগের পরিবর্তন” হয়েছে. শাসন ক্ষমতা হস্তান্তর হয়েছে নওয়াজ শরীফের হাতে, যিনি নির্বাচকদের আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, দেশের ভিতরে শান্তি আলোচনার ব্যবস্থা করবেন ও ইসলামাবাদের প্রধান ঋণদাতা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আরও কড়া ভাবে নিজেদের অবস্থান রক্ষা করে চলবেন, এই কথা উল্লেখ করে আমাদের সমীক্ষক সের্গেই তোমিন বলেছেন:

যদিও আন্তর্জাতিক জোটের মূল শক্তি আফগানিস্তান ছেড়ে আগামী বছরে চলে যাবে, তবুও মনে করা হয়েছে যে, আমেরিকার সেনাবাহিনীর এক সামান্য অংশ সেখানে তাও থেকে যেতে চলেছে. এটাও সত্যি যে, আপাততঃ সম্পূর্ণ ভাবে জানা যায় নি যে, কত সংখ্যক সৈন্য থাকবে, অথবা সেটাও যে, এই সমস্ত সেনারা কি নিয়ে কাজ করবে.

এরই মধ্যে ওয়াশিংটন রাষ্ট্রপতি হামিদ কারজাইয়ের সঙ্গে দরাদরি করে কাবুল থেকে সেনা প্রত্যাহার করার ভয় দেখাচ্ছে, যাতে আফগান প্রশাসন তালিবানের সঙ্গে মুখোমুখি হতে বাধ্য হয়. তবে এটাও ঠিক যে, এই ধরনের হুমকির সত্যতা খুব কম লোকই বিশ্বাস করেন.

এই চলে যাওয়া সপ্তাহে স্পষ্ট হয়েছে যে, সেই সমস্ত সমস্যা, যা রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামার এডওয়ার্ড স্নোডেনের ফাঁস করে দেওয়া খবর থেকে তৈরী হয়েছে – এটা শুধুমাত্র এক ফোঁটা সমুদ্রের জলের মতই, যার সামনে তাঁকে এবারে মুখোমুখি পড়তে হতে চলেছে. “ওয়াশিংটন পোস্ট” আরও এক ডোজ ফাঁস করে দেওয়া খবর প্রকাশ করেছে: বুঝতে পারা গিয়েছে যে, জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার ডাটা ব্যাঙ্কে প্রত্যেকদিন বিশ্বের পাঁচশো কোটি মোবাইল টেলিফোন থাকা মানুষের অবস্থানের খবর জমা হয়ে থাকে. আর লন্ডনে “দ্য গার্ডিয়ান” পত্রিকার প্রধান সম্পাদক অ্যালান রাসব্রিজার, যাঁর কাগজে প্রথমে স্নোডেনের ফাঁস করে দেওয়া খবর ছাপা হয়েছিল, তিনি বলেছেন যে, আপাততঃ স্নোডেনের দেওয়া খবরের মাত্র এক শতাংশই ছাপা হয়েছে.

মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন চালকবিহীন বিমান বা ড্রোন হামলা নিয়ন্ত্রণকারীদের ওপর পূর্বে বহাল থাকা শর্তাবলী কিছুটা শিথিল করেছে। দূরবর্তী যুদ্ধ পরিচালনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা ধরণা করছেন। আর এর ফলে বেসামরিক মানুষদের ড্রোনের আঘাতে নিহত হওয়ার সংখ্যাও হ্রাস করবে বলে মনে করা হচ্ছে

মস্কো থেকে নিজেদের পারমাণবিক অস্ত্র সম্ভার সমৃদ্ধ করার খবরে আমেরিকার বিশেষজ্ঞ মহলে শুরু হয়েছে রাশিয়ার সামরিক শক্তি পুনর্জন্ম নিয়ে খুবই উত্তেজিত তর্কবিতর্ক.

নভেম্বর মাসের শেষে স্ট্র্যাটেজিক সংজ্ঞাবহ রকেট প্রতিরক্ষা বাহিনীর উন্নয়ন সংক্রান্ত প্রশ্ন নিয়ে অধিবেশনের সময়ে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন জানিয়েছেন যে, এই বছরেই দুটি বাহিনী সর্বাধুনিক চলমান আন্তর্মহাদেশীয় ব্যালিস্টিক রকেট ব্যবস্থা পেয়ে যাবে. আর আগামী বছরে রাষ্ট্রপতির কথামতো, স্ট্র্যাটেজিক সংজ্ঞাবহ রকেট প্রতিরক্ষা বাহিনী এই ধরনের আরও ২২টি কমপ্লেক্স পাবে. বিশেষজ্ঞরা দ্রুত এই খবরকে বিশ্লেষণ করেছেন যে, এখানে কথা হচ্ছে “ইয়ারস” নামের রকেটের, যা যেমন চলমান অবস্থায় তেমনই খনি গর্ভে বসানো অবস্থায় রাখা যেতে পারে. রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি একই সঙ্গে উল্লেখ করেছেন যে, নতুন রকেটগুলো যে কোন ধরনের রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা অতিক্রম করতে সক্ষম.

বছরের শেষে লন্ডন ও ওয়াশিংটনের জন্য বেশী করেই খারাপ খবর উদয় হচ্ছে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের থেকে পালিয়ে আসা জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার কর্মী এডওয়ার্ড স্নোডেনের ফাঁস করে দেওয়া ফাইলের সঙ্গেই যুক্ত.

রাষ্ট্রসঙ্ঘের মানবাধিকার রক্ষা ও সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত বিশেষ প্রবন্ধকার বেন এম্মেরসন ঘোষণা করেছেন যে, এই নিয়ে স্ক্যান্ডাল মোটেও নিভে আসবে না, বরং নতুন সমস্ত বর্ণনা দিয়ে আরও বেশী করেই জ্বলে উঠবে. এম্মেরসন ঠিক করেছেন সারা বিশ্বের ৩৫টা দেশের নাগরিক ও দেশ নেতাদের উপরে নজরদারি করতে গিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও গ্রেট ব্রিটেন রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিয়ম কানুন কতটা ভঙ্গ করেছে, তা উল্লেখ করার. এম্মেরসন আবার তাঁর আগে করা নানা রকমের প্রবন্ধ, যা তিনি সিআইএ সংস্থার ইউরোপের গোপন জেল নিয়ে, পেন্টাগনের গুয়ান্তানামো বন্দী শিবির নিয়ে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে বেআইনি ভাবে ড্রোন বিমান ব্যবহার নিয়ে ও তা দিয়ে নিরীহ জনগনকে হত্যা করা নিয়ে লিখেছেন তার জন্যই বিখ্যাত.

ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা বিশেষজ্ঞদের খনিজ তেলের বাজারে একেবারেই নানা রকমের ভবিষ্যত সম্ভাবনা ব্যক্ত করতে আগ্রহী করেছে. বিশ্বের বাজারে বৃহত্ পরিমানে ইরানের খনিজ জেল উপস্থিত হলে তা এই কালো সোনার দামের ক্ষেত্রে অনেকটাই প্রভাব ফেলতে পারে.

২০১২ সাল পর্যন্ত তেহরান ওপেক সংস্থার সদস্য দেশগুলোর মধ্যে উত্পাদনের বিষয়ে দ্বিতীয় স্থানে ছিল. প্রতিদিনে তারা ৩৫ লক্ষ ব্যারেল খনিজ তেল উত্পাদন করত, যা ২৩টি দেশে সরবরাহ করত. পশ্চিমের দেশগুলো থেকে নিষেধাজ্ঞা বহালের পরে বিশ্বের বাজারে তেহরানের জায়গা ভাগ করে নিয়েছিল ওপেক সংস্থার অন্যান্য অংশীদার দেশরা, প্রাথমিক ভাবে ইরাক. বিগত সময়ে ইরান দিনে মাত্র সাত লক্ষ ব্যারেল তেল উত্পাদন করত, যা চিনে যেত, আর তারই সঙ্গে তাইওয়ান, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও তুরস্কে যেত.

আগের
1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30
নভেম্বর 2017
ঘটনার সূচী
নভেম্বর 2017
1
2
3
4
5
6
7
8
9
10
11
12
13
14
15
16
17
18
19
20
21
22
23
24
25
26
27
28
29
30