নতুন বছরে ইউরি গাগারীনের মহাকাশ ভ্রমণ পালন করা হবে সবচেয়ে উঁচু – কক্ষ পথের স্তরে. তার জন্য তার জন্য আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের ২৭তম মহাকাশ যাত্রী দল তৈরী হচ্ছে, এই দলে রয়েছেন আমেরিকার মহিলা মহাকাশচারী ক্যাথরিন কলমেন, ইতালির মহিলা মহাকাশচারী পাওলো নেসপলি ও দলের নেতা রুশ মহাকাশচারী দিমিত্রি কনদ্রাতেয়েভ. রুশ মহাকাশ গবেষণার বছর বলে ঘোষিত ২০১১ সালের অধিকাংশই তাঁরা কক্ষ পথে থাকবেন. ১৯৬১ সালে "ভস্তক" মহাকাশ যানের কক্ষ পরিক্রমার সময় লেগেছিল ১০৮ মিনিট. আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে মহাকাশচারীরা প্রায় ছয় মাস করে বর্তমানে রয়েছেন.

বর্তমানে তাঁদের কক্ষ পথে অবস্থিত মহাকাশের বাস গৃহের আয়তন একটি ফুটবল মাঠের সঙ্গে তুলনার যোগ্য. ল্যাবরেটরী কমপ্লেক্সের মধ্যে ৭টি আমেরিকার মডিউল ও পাঁচটি রুশ মডিউল রয়েছে, আর রয়েছে ইউরোপীয় মডিউল কলম্বাস ও জাপানের কিবো মডিউল. এই বিশাল মহাকাশ প্রকল্প, যা ১৬টি দেশের অনুসন্ধিত্সু বিজ্ঞানীদের একত্রিত করতে পেরেছে, তা আন্তর্জাতিক স্তরে সহযোগিতার এক অনন্য উদাহরণ. আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের উড়ানের নিয়ন্ত্রণ দুটি জায়গা থেকে নিরন্তর করা হয়ে চলেছে, রাশিয়ার মস্কো উপকণ্ঠের শহর করলিয়ভ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস রাজ্যের হিউস্টন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র থেকে. প্রতিটি কেন্দ্রেই সব সময়ে অন্য দেশের বিশেষজ্ঞরা রয়েছেন.

এই স্টেশনে ইতিমধ্যেই ২০০ মহাকাশচারী বিভিন্ন দেশ থেকে গিয়েছেন. গত বছরে রাশিয়া তার সহকর্মীদের কাছে প্রস্তাব করেছিল আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন ভিত্তি করে কক্ষ পথের বাইরে মহাকাশ ভ্রমণের জন্য যান তৈরী করার. আজ যে ধারণাকে কল্প কথা বলে মনে হচ্ছে, তা কিন্তু আন্তর্জাতিক সমর্থন পেয়েছে. সুতরাং আগামী কিছু বছর পরেই আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন সম্পূর্ণ ভাবেই মহাকাশ যান নির্মাণের জন্য জোড়া লাগানোর কারখানাতে পরিনত হতে পারে, আর একই সঙ্গে প্রধান মহাকাশ বন্দরেও.

রাশিয়া, কানাডা, ইউরোপ, জাপান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ সংস্থা গুলির প্রধানেরা একটি বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের আয়ুষ্কাল বাড়িয়ে ২০২০ পর্যন্ত করার মধ্য কোন সমস্যা নেই. বর্তমানে মহাকাশ অনুসন্ধানের জন্য সমস্ত দেশের শক্তিকেই এক করা প্রয়োজন. মহাকাশে প্রতিযোগিতা বহু দিন হল শেষ হয়েছে, এই কথা দৃঢ় ভাবে জানানো হয়েছে রসকসমস সংস্থার নেতৃত্বের তরফ থেকে.

মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বড় হতে চলেছে. ভবিষ্যতের মহাকাশ গবেষণা – এটা স্বয়ংক্রিয় ভারী শিল্প প্রকল্প, যেখানে খনিজ ধাতু উত্তোলন ও তার নিষ্কাশন করা হবে সৌর মন্ডলের অন্যান্য গ্রহ গুলি থেকে. বিদ্যুত শক্তি উত্পাদন করা হবে মহাকাশের শিল্প ও পৃথিবীর চাহিদা মেটানোর জন্য. আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন, যেখানের পরিবেশ হবে কৃত্রিম কিন্তু মানুষের জীবনের জন্য উপযুক্ত, যেখান থেকে নিয়ন্ত্রিত হবে মহাকাশের শিল্প প্রকল্প গুলি. আর লক্ষ্য হল ভারী শিল্পকে পৃথিবী থেকে দূরে পাঠিয়ে দেওয়া ও আমাদের এই বিরল গ্রহের পরিবেশকে দূষণের হাত থেকে র৭া করা. ভবিষ্যত – সহযোগিতার পক্ষে.