“আমরা গত নির্বাচনে বাস্তবে কোনও ছক্কা মারতে পারি নি” – স্বীকার করেছেন রাহুল গান্ধী, ভারতীয় ব্যবসায়ীদের নেতৃত্বের সঙ্গে এক অধিবেশনে, ক্রিকেটের “টার্ম” ব্যবহার করে, আর তারই সঙ্গে যোগ করেছেন: “আমরা নিজেদের নতুন করে গড়বো ও আত্মবিশ্বাস নিয়েই কঠিন লড়াই করবো”. বর্তমানের নির্বাচনের মরসুমে নেহরু-গান্ধী রাজনৈতিক বংশের প্রতিনিধি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রাথমিক কাজের মধ্যে নাম করেছেন রক্তক্ষয়ী দুর্নীতির সঙ্গে লড়াই ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য পরিস্থিতি তৈরী করে দেওয়া, যা ছাড়া তাঁর মতে, দারিদ্র দূরীকরণ সম্ভবপর হবে না.

রাহুল গান্ধীর এই ঘোষণা মনে হতে পারে যে স্রেফ একটা রাজনৈতিক ঘোষণা, যা বাস্তব নির্ভর নয়, যদি না তা মনে করা হয় একটা খোলাখুলি বাহবা নেওয়ার প্রয়াস বলেই. কিন্তু আসলে, বর্তমানের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহের শাসনের সময়েই ভারতে দুর্নীতির চরম বহিঃপ্রকাশ স্থানীয় নির্বাচনের সময়ে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের অপমানজনক পরাজয়ের কারণ হয়েই দাঁড়িয়েছিল.

তাছাড়া, প্রাথমিক দৃষ্টিপাতে, খুবই অবোধ্য মনে হয়েছে রাহুল গান্ধীর তরফ থেকে ভারতীয় অর্থনীতিতে ত্বরণ সৃষ্টির প্রয়াসকে. কারণ বৃদ্ধির গতি অনেকটাই কমে গিয়েছে আর ভারতীয় টাকার দাম চলে যাওয়া বছরে হয়েছে ঐতিহাসিক ভাবেই সবচেয়ে কম. কিন্তু এই সবই এত সহজ নয়, আর কংগ্রেসের কাজ – ক্ষমতায় বহাল থাকা, - যা যদিও খুবই জটিল বলে মনে হতে পারে, কিন্তু মোটেও তা নৈরাশ্যজনক নয়, এই কথা উল্লেখ করে আমাদের সমীক্ষক সের্গেই তোমিন বলেছেন:

“হতে পারে যে, ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের জন্য একমাত্র “ট্রাম্প কার্ড” রয়ে যাচ্ছেন রাহুল গান্ধী ব্যক্তি হিসাবে ও ক্ষমতাসীন বংশের “ব্র্যান্ড”, যার তিনি বর্তমানে প্রতিনিধি. ভারতীয় জনতা পার্টির এই ধরনের কোন “ট্রাম্প কার্ড” নেই. তার ওপরে, যদি রাহুল গান্ধী নীতিগত ভাবে ভারতীয় সমাজকে একজোট করলে করতেও পারেন, তবে তাঁর মুখ্য প্রতিদ্বন্দ্বী ও গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী, যিনি নিজের রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রশ্নে অনেক সাফল্য দেখিয়েছেন, তাঁর পক্ষে আগের মতই সম্ভব হচ্ছে না দেশের সংখ্যালঘু অহিন্দু জনগনের বিশ্বাস অর্জনের. তাই তাঁকে এখনও এক বহু প্রজাতি ও বহুধর্মালম্বী দেশের নেতা হিসাবে মেনে নেওয়া যাচ্ছে না. এই বিষয়ে তাঁর দলের ভিতরেই সন্দেহের অবকাশ রয়ে গিয়েছে”.

দুর্নীতি সম্বন্ধে যা বলা যেতে পারে, তা হল যে, মনমোহন সিংহের সময়ে অসফল শাসনকেই ব্যক্তিগত ভাবে দোষী করা যেতে পারবে, দল ও প্রতিষ্ঠান হিসাবে সমগ্র ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস দলকে নয়. অর্থাত্ দুর্নীতি ও ভারতের অন্যান্য সমস্ত দুঃখের জন্য দায়িত্ব নিয়ে চলে যাবেন বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ, আর যুবক ও শক্তিমান আর তার উপরে বিশেষ রকমের “চার্ম” নিয়ে রাহুল গান্ধী সব আবার শুরু করবেন একেবারে “নতুন খাতার সাদা পাতা” থেকেই.

সব মিলিয়ে নেহরু-গান্ধী বংশের বংশধর এবারে খুবই শক্তিশালী ইঙ্গিত দেশের মধ্যবিত্ত শ্রেনী ও ব্যবসায়ী মহলকে পাঠাতে সক্ষম হবেন, বিজেপি দলের কাছ থেকেই দেশকে আধুনিকীকরণ করার পরিকল্পনাকে ছিনিয়ে নিয়ে. এই ব্যাপারের মধ্যেই রাহুল গান্ধী ও তাঁর ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস দলের সুযোগ থেকে যাচ্ছে ২০১৪ সালের নির্বাচনের সময়ে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য.