কিন্তু আসলে কি সবটাই এত ভয়ঙ্কর?

গত জুনে ওয়াশিংটন ও দিল্লী, মনে হয়েছিল যে, বাণিজ্য যুদ্ধের একেবারে দোড়গোড়ায় এসে দাঁড়িয়েছিল. আমেরিকার ব্যবসায়ের খুবই তীক্ষ্ণ অসন্তোষের কারণ হয়েছিল ভারত সরকারের সেই সিদ্ধান্ত যে, শুধুমাত্র ভারতের স্থানীয় কোম্পানীদের কাছ থেকে তথ্য প্রযুক্তি সংক্রান্ত যন্ত্রপাতি ও পরিবেশ দূষণ মুক্ত শক্তি উত্পাদনের জন্য যন্ত্র ক্রয় করা হবে. তাছাড়া, ভারতীয় ঔষধি নির্মাণ কোম্পানীদের পক্ষ থেকে আমেরিকার ওষুধের মূল অংশ দেশেই সৃষ্টি করাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে বলা হয়েছিল বুদ্ধিজাত সম্পত্তির অধিকার লঙ্ঘণ করা হচ্ছে বলে.

ভারতের পক্ষ থেকে একই সঙ্গে নিজেদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অনেক অভিযোগের কথা তোলা হয়েছিল. অংশতঃ, অভিবাসন সংক্রান্ত আইন নিয়ে ও আমেরিকার শ্রমের বাজারে ভারত থেকে যাওয়া পেশাদার কাজের লোকদের নিয়েও, এই কথা মনে করিয়ে দিয়ে আমাদের সমীক্ষক সের্গেই তোমিন বলেছেন:

“ফলে ভারতীয় পক্ষ ওয়াশিংটনকে বিশ্বাস করতে বাধ্য করেছিল যে, ব্যবসায়িক সহযোগিতা, এটা দুদিকেই যাওয়ার মতো রাস্তা. দিল্লী ঘুরে গিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র সচিব জন কেরি জোর দিয়ে বলতে বাকী রাখেন নি যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শুধু ভারতের এক বিশ্বমানের রাষ্ট্রে উন্নত হওয়ার বিষয়েই সাহায্য করছে না, বরং সব রকম ভাবেই এর জন্য সহযোগিতা করছে. তিনি দুই পক্ষকেই আহ্বান করেছিলেন যে, দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বাড়তি ক্ষমতাকে ব্যবহার করার জন্য আর সেটাকে আরও উপরের স্তরে তুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য. গত বছরে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ বেড়েছিল দশ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়ে, আমেরিকার বিনিয়োগ ভারতীয় অর্থনীতিতে হয়েছে দু’হাজার পাঁচশো কোটি ডলারের বেশী. কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মনে করেছে এই স্তর একেবারেই যথেষ্ট নয় ও চেষ্টা করেছে ভারতে নিজেদের ব্যবসাকে আরও প্রসারিত করতে. সব মিলিয়ে জাতীয় স্বার্থ রক্ষার বিষয়ে পরম্পরা মেনে চলা ও নিজেদের দাবীতে অটল থাকা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারতের ব্যবসায়িক মর্যাদাকে মোটেও নষ্ট করে নি”.

একই রকম ব্যাপার ভারতের সঙ্গে হয়েছিল ইউরোপের নেতৃস্থানীয় রাষ্ট্রগুলির সঙ্গে. এই বছরের শুরুতে ভারত ও ইতালির মধ্যে সেই স্ক্যান্ডাল, যখন ভারতীয় জেলেদের জলদস্যূ ভেবে ভুল করে হত্যা করা ইতালির জাহাজের রক্ষীদের বিচারের জন্য ভারতকে দিতে না চাওয়ার ফলে তৈরী হয়েছিল, আর যা মনে হয়েছিল সমগ্র ইউরোপীয় সঙ্ঘের সাথেই ভারতের সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার উপক্রম করেছিল, তখন ভারতের সুপ্রীম কোর্টের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছিল এক অভূতপূর্ব সিদ্ধান্ত, যার ফলে ইতালির রাষ্ট্রদূতকে ভারত ছেড়ে যেতে দেওয়া হয় নি, তা সেই সময়ে ইউরোপীয় সঙ্ঘকেই একটা কঠিন সমস্যার সমানে ফেলেছিল: কি করে নিজেদের সদস্য দেশের স্বার্থ অনুযায়ী এই বিরোধের সমাধান করা সম্ভব ও এশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির সঙ্গে কি করে সংঘর্ষ এড়ানো যেতে পারে, তা নিয়ে.

ইউরোপ ভারতের জেদের সঙ্গে কিছুতেই পেরে ওঠে নি. এই বছরের শুরুতে দিল্লী শহরে সফরে এসেছিলেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন, যিনি ভারতকে নতুন ধরনের সহযোগিতার পথ নির্দেশ প্রস্তাব করেছিলেন. ব্রিটেনের তরফ থেকে আশা করা হয়েছিল দু’হাজার পাঁচশো কোটি ডলারের সমান বিনিয়োগ করার. ডেভিড ক্যামেরনের মিশন দিল্লী এসেছিল ফরাসী রাষ্ট্রপতি ফ্রান্সুয়া অল্যান্দের মিশনের অব্যবহিত পরেই ও ভারতের বাজারের জন্য ফরাসী ও ব্রিটেনের ব্যবসায়ীদের মধ্যে বেড়ে ওঠা প্রতিযোগিতাকেই প্রকাশ করেছিল.

জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য ভারতের পরম্পরা মেনে চলা রাজনীতি নিজেদের ফল এবারে দেখিয়ে দিয়েছে: ভারতের বাজার যাতে হারাতে না হয়, তাই পশ্চিম বাধ্য হয়েছে এর সঙ্গেই মানিয়ে নিতে, যা সমগ্র ইউরোপীয় সঙ্ঘের বাজারের সঙ্গে তুলনা করার মতো.