দুশানবে ইউরো-এশিয়া সমাকলন থেকে যে লাভ করতে পারে, তা একেবারেই স্পষ্ট দেখতে পাওয়া যাচ্ছে. এটা যেমন বিনিয়োগ টেনে আনা, তেমনই উত্পাদন বৃদ্ধি, আর তারই সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ শ্রমের বাজারে প্রবেশ. এই ধরনের সম্ভাবনা তাজিকিস্তানের গড় বার্ষিক উত্পাদনের হারে বাড়তি সাড়ে তিন শতাংশ যোগ করতে পারে আর সেটা মাঝারি পাল্লার সময়ের জন্যই. ইউরো-এশিয়া উন্নয়ন ব্যাঙ্কের বিশেষজ্ঞরা মনে করেছেন যে, অর্থনৈতিক জোট এই দেশ থেকে শতকরা ১৫ ভাগ বাড়িয়ে দেবে অভিবাসন, আর তার মানে হল যে, অভিবাসিত লোকদের তরফ থেকে বাত্সরিক ভাবে অর্থ পাঠানোর পরিমাণ বেড়ে যাবে প্রায় একের তৃতীয়াংশ. হঠাত্ করেই সামাজিক মতামত গ্রহণ থেকে দেখতে পাওয়া যায় নি যে, প্রায় চারের তিন অংশ তাজিকিস্তানের মানুষ মস্কো, আস্তানা ও মিনস্কের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের স্বপক্ষে, এই কথা উল্লেখ করে তাজিকিস্তানের বিজ্ঞান একাডেমীর অর্থনীতি ও জনসংখ্যা বিদ্যা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ হাজি মুহম্মদ উমারভ বলেছেন:

“সাধারণ লোকরা অপেক্ষায় রয়েছেন যে, অর্থনৈতিক সমাকলনের ফলে তাঁরা ভাল করে বাঁচতে পারবেন, বেশী আয় করতে পারবেন ও নিজেদের ছেলেমেয়েদের জন্য লেখাপড়া ও অন্যান্য সুযোগ বেশী করেই পাবেন, তাদের মানসিক ও শারীরিক ক্ষমতার উন্নতিও ভাল হবে”.

প্রসঙ্গতঃ এই ফোরামে সমাকলন প্রক্রিয়ার সমালোচকদেরও শোনা হয়েছে. যেমন তাজিক বিশ্লেষণ তহবিল “ইন্ডেম” থেকে আসা প্রধান সইমিদ্দীন দুস্তভ বেশ কিছু কারণের কথা বলেছেন, যেগুলো তাজিকিস্তানকে শুল্ক সঙ্ঘের দেশগুলোর সঙ্গে একজোট হওয়া থেকে বিরত হতে বাধ্য করতে পারে, তিনি বলেছেন:

“তাজিকিস্তানের উপরে এখন তথ্য সংক্রান্ত আক্রমণ করা হচ্ছে, তা যেমন তাজিকদের উপরে প্রজাতি হিসাবে, তেমনই দেশের নেতাকেও. এই ধরনের দৃষ্টিকোণ থাকলে সমাকলনের কথা উঠতেই পারে না. সারা রাশিয়া জনমত গবেষণা কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী রাশিয়া শতকরা এক ভাগেরও কম লোক তাজিকদের সম্বন্ধে ভাল কথা ভাবেন”.

এর উত্তরে তাজিকিস্তানে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ইগর লিয়াকিন– ফ্রোলভ এই ধরনের ঘোষণাকে বলেছেন প্ররোচনা মূলক বলেই. তাঁর কথামতো, কেউই তাজিকিস্তানকে বাধ্য করছে না একটা বা অন্য একটা কিছু কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত হতে, প্রজাতন্ত্র নিজের থেকেই নিজেদের জোট সঙ্গী বেছে নেবে, তিনি আরও বলেছেন:

“রাশিয়ার সঙ্গে যোগ দিতে চান না – এটা আপনাদের অধিকার. কাজাখস্থান বা বেলোরাশিয়ার সঙ্গেও যেতে চান না – এটাও আপনাদের অধিকার. যা চান – ঠিক সেটাই করুন. তাজিকিস্তানের পক্ষ থেকে শুল্ক সঙ্ঘ ও ইউরো-এশিয়া সঙ্ঘে যোগ দেওয়া নিয়ে আমার মনে হয়েছে যে, এখানে এই সমাকলনের সঙ্গে যোগ দেওয়ার বিষয়ে নিজেদের লাভ ও ক্ষতি নিয়ে একটা নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ করার দরকার রয়েছে. আর শুধু তার পরেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার দরকার রয়েছে”.

নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞদের মতে, আগে হোক বা পরেই হোক, তাজিকিস্তানের পক্ষ থেকে সমাকলনের প্রক্রিয়া শুরু করতেই হবে. এই দেশ সমস্ত দেশের থেকেই আলাদা হয়ে স্রেফ সব বন্ধ করে বসতে থাকতে পারবে না. বেশ কয়েকটা উপায় রয়েছে. এই প্রজাতন্ত্রের পক্ষ থেকে চিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়া, আফগানিস্তানের দিকের সীমান্ত খুলে ধরে আমেরিকার “নতুন সিল্ক রোড” প্রোগ্রামের সঙ্গে জুড়ে যাওয়া ইত্যাদি. রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ আঝদার কুরতভ বিশ্বাস করেন যে, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে দুশানবের জন্য ইউরো-এশিয়া সমাকলনের পথই সবচেয়ে আগ্রহোদ্দীপক বলে মনে হয়েছে, তাই তিনি বলেছেন:

“তাজিকিস্তান এখন ঐস্লামিক বিশ্বের দিকে ভেসে চলেছে. এটা যেমন খারাপ, তেমন ভালও বটে, কারণ ঐস্লামিক বিশ্বই নানা রকমের. আর ইসলামে সব সময়েই কট্টরপন্থীরা উদ্ভব হয়েছে আর তা পরে হতেও থাকবে, তাদের মধ্যে চরমপন্থীরাও আসতে পারে, যারা জীবন যাপনের একমাত্র উপায় বলে মনে করবে শরিয়তের আইন কানুন ও ইসলামের শিক্ষাকেই. তাদের পক্ষ থেকে প্রচারকরা ইতিমধ্যেই তাজিকিস্তানে রয়েছে. আর যদি অস্থিতিশীলতার ঢেউ নিকট প্রাচ্য থেকে কাছে এগিয়ে আসে, তবে এই আন্দোলনে সেই সমস্ত মোটেও ভাল নয় এমন সব মৌলবাদীরা তাজিকিস্তানের এলাকায় কোন ভাল মডেলের মধ্যে তুলনা করতে বসবে না, যা চিন বা রাশিয়ার এগিয়ে আসা নিয়ে হতে পারত, বরং হবে সমস্ত রকমের খারাপ ধরনের পরিকল্পনার বীজতলা”.

তাজিকিস্তানের সরকারি নেতৃত্ব ঘোষণা করেছেন ইউরো-এশিয়া সমাকলন নিয়ে তাঁদের আগ্রহের কথা. এই প্রসঙ্গে দুশানবে শহরে সরকারি কর্মীরা মনে করেন যে, এই বিষয়ে আটকে রাখার কারণ হয়েছে এই সব দেশের মধ্যে কোন রকমের পারস্পরিক সীমান্তের অভাব. তাঁদের কথামতো, একবার কিরগিজিয়া এই জোটে যোগ দিলেই প্রজাতন্ত্রের পক্ষ থেকে সক্রিয়ভাবে কাজকর্ম করা শুরু হয়ে যাবে.