ব্রিকস দেশগুলোর রেটিংয়ে, যা প্রকাশ করা হয়েছে “QS World University Rankings: BRICS 100”-এ, তাতে মস্কোর রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় জায়গা করে নিয়েছে চিনের দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরেই, একটি সিনহুয়া, দ্বিতীয়টি বেজিং বিশ্ববিদ্যালয়. এই তালিকায় রাশিয়া থেকে সেরা হওয়ার জায়গা পেয়েছে ১৯টি প্রতিষ্ঠান, তাদের মধ্যে সেন্ট পিটার্সবার্গ ও নভোসিবিরস্ক বিশ্ববিদ্যালয়, বাউম্যান নামাঙ্কিত মস্কোর রাষ্ট্রীয় প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজধানী এবং অন্যান্য শহরের আরও কিছু উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান. বিদেশী ছাত্রছাত্রীদের জন্য মর্যাদা সম্পন্ন রেটিংয়ে রাশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভাল অবস্থান, রাশিয়ার এই পড়াশোনা করার জায়গা গুলোকেই বেশী করে আকর্ষণীয় করে তুলেছে, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার রেক্টর সঙ্ঘের উপ সাধারন সম্পাদক বরিস দেরেভিয়াগিন বলেছেন:

“QS রেটিংয়ে বিগত সময়ে যে বেশী করেই রাশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর নাম করা হচ্ছে, তা ইতিমধ্যেই একটা ইতিবাচক ত্বরণের প্রমাণ. রাশিয়ার রেক্টর সঙ্ঘ পরবর্তী সময়েও সেই জন্য কাজ করবে, যাতে রাশিয়ার উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম বিশ্বের মঞ্চে বেশী করেই ধ্বনিত হতে পারে, যাতে রাশিয়ার পড়াশোনাকে জনপ্রিয় করার কাজ শুধু রেটিংয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলনেও তার কথা ওঠে. তা যেমন রাশিয়া থেকে পাশ করা ছাত্রছাত্রীদের মর্যাদা নিয়ে, তেমনই বিদেশী ছাত্রছাত্রীদের ও শিক্ষকদের রাশিয়ার এই ধরনের প্রতিষ্ঠানে আকর্ষণ করার জন্যও”.

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে মূল্যায়ণের সময়ে এই রেটিংয়ের জন্য দেখা হয়েছিল পড়াশোনার বিশ্বে প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও কর্মদাতাদের অর্থাত্ যারা শিক্ষা পরিষেবার প্রধান গ্রাহক, তাদের মধ্যে মর্যাদার প্রসঙ্গ. তারই সঙ্গে মনোযোগ দেওয়া হয়েছিল ছাত্র ও প্রফেসরদের মধ্যে সাংখ্যিক তুলনা নিয়ে. এই সূচক আজকের দিনে সবচেয়ে বেশী শিক্ষার গুণগত মানের পরিমাপক হয়ে দাঁড়িয়েছে, এই কথা উল্লেখ করে পূর্ব ইউরোপ ও মধ্য এশিয়ার QS কোম্পানীর আঞ্চলিক প্রধান জোইয়া জাইতসেভা বলেছেন:

“শিক্ষকদের কাজকর্ম সরাসরি ভাবে নিখুঁত করে মাপা সম্ভব হয় না, তার জন্য বিশ্বের সতেরো হাজার বিশ্ববিদ্যালয়ের সবকটিতেই অডিট করার দরকার পড়ত, কিন্তু ছাড় দেওয়া হয়ে থাকে এই রকমের যে, প্রফেসর পিছু যত কম ছাত্র, তত বেশী করেই তাদের গুণগত ভাবে যোগাযোগের সম্ভাবনা বেশী বলে. বলা দরকার যে, এই সূচক অনুযায়ী রাশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজেদের খুবই ভাল বলতে পারে”.

ব্রিকস রাষ্ট্রগুলোর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেটিং প্রকাশের সময়ে আটটি সূচক পর্যালোচনা করা হয়েছে, তার মধ্যে ডক্টরেট করা কর্মীদের সংখ্যা, বৈজ্ঞানিক শিক্ষক কর্মীদের বৈজ্ঞানিক বিষয়ে প্রকাশনার সংখ্যা, বৈজ্ঞানিক কাজকর্মের উদ্ধৃতির পরিমাণ আর যাঁরা পড়াচ্ছেন ও পড়ছেন, তাঁদের মধ্যে বিদেশী ছাত্রছাত্রীদের সংখ্যাও দেখা হয়েছে.

ব্রিকস রেটিং, বিশ্বের রেটিং থেকে বেছে নেওয়া রেটিং নয়, তা করা হয়ে থাকে আলাদা গবেষণা হিসাবেই.