রাশিয়া নিজেদের সামুদ্রিক নৌবাহিনীর জাহাজ দিচ্ছে সিরিয়ার বন্দর লাতাকিয়া থেকে ইউরোপের একটি বন্দর পর্যন্ত রাসায়নিক অস্ত্র বোঝাই জাহাজ নিরাপদে পৌঁছে দেওয়ার জন্য. সেখানে বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ বিশেষ ভাবে যন্ত্র ব্যবস্থা সমেত আমেরিকার জাহাজে তোলা হবে, যেখানে এই অস্ত্র নষ্ট করার কাজ করা হবে. এই বিষয়ে চলে যাওয়া সপ্তাহের শুরুতে বলেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্র প্রধান সের্গেই লাভরভ. আর কিছু পরে রাশিয়ার পক্ষ থেকে রাসায়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ সংস্থায় স্থায়ী প্রতিনিধির ডেপুটি ভাসিলি তিতুশকিন জানিয়েছেন যে, সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্রের ভাণ্ডার ধ্বংস করার জন্য ইতালির সমুদ্রতীরের কাছে জায়গা বেছে নেওয়া হয়েছে. রাশিয়ার সামরিক নৌবহরের অংশগ্রহণ আবশ্যক, কারণ জঙ্গীদের তরফ থেকে কোন রকমের প্ররোচনা এড়ানো দরকার রয়েছে. মনে করিয়ে দিই যে, যেই জেনেভা শহরে সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্র ধ্বংস করা নিয়ে সমঝোতা হয়েছে, তখনই সিরিয়াতে ও তার বাইরে থাকা জঙ্গীরা হুমকি দিয়েছিল যে, তারা এই প্রক্রিয়াতে বাদ সাধবে.

তারই মধ্যে সেই পশ্চিমেই জঙ্গীদের সঙ্গে সম্পর্ক আস্তে হলেও পাল্টে যাচ্ছে. এখন সেখানে খোলাখুলি ভাবেই বলা হচ্ছে যে, আসাদের জয় সিরিয়ার জন্যই ভাল. এই প্রসঙ্গে রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক মূল্যায়ণ ও বিশ্লেষণ ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ সের্গেই দেমিদেঙ্কো বলেছেন:

“এখন সকলের জন্যই স্পষ্ট হয়েছে যে, বাশার আসাদকে তাঁর দেশের বেশীর ভাগ লোকই সমর্থন করেছেন. বিরোধীদের মধ্যে কট্টরপন্থী ঐস্লামিকরাই রয়েছেন ও এটাই পশ্চিমকে বিশেষ করে ভীত করেছে. অসাম্প্রদায়িক বিরোধীরা বাস্তবে দানা বাঁধতে সক্ষম হন নি, আর তারা যদি আসাদের প্রশাসন ভেঙে পড়ে তাহলে ক্ষমতাও নিজেদের হাতে তুলে নিতে সক্ষম নন, আর তারা ঐস্লামিকদের বিরুদ্ধে কোন শক্তিও একজোট করতে সক্ষম হবে না”.

কয়েকদিন আগে লন্ডনে “সিরিয়ার মিত্রদের” অধিবেশনের সময়ে বিরোধীদের প্রতিনিধিরা প্রথমবার বুঝতে দিয়েছেন যে, পশ্চিমে এখন আর আসাদের চলে যাওয়াকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার প্রয়োজনীয় শর্ত বলে মনে করা হচ্ছে না. বরং উল্টো. এখন তাঁর জয়কেই মনে করা হয়েছে সম্ভাব্য ঘটনা পরম্পরার মধ্যে সবচেয়ে ভাল বলেই. এই সম্বন্ধে জানিয়েছে রয়টার সংবাদ সংস্থা, লন্ডন অধিবেশনের এক অংশগ্রহণকারীকে উল্লেখ করে. প্রসঙ্গতঃ, তার পরেই মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র মারি হার্প এই খবর অস্বীকার করেছেন. তাঁর কথামতো, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আগের মতই মনে করে যে, আসাদের পদত্যাগ করা উচিত্, আর অন্তর্বর্তী কালীণ প্রশাসনে তাঁর জন্য কোনও জায়গা নেই. কিন্তু মনে তো হয় না যে, হার্প যা বলেছেন, তার সঙ্গে আমেরিকার নেতৃত্বের সত্য বিবেচনা ও ইচ্ছার কোন মিল রয়েছে, এই রকম মনে করে পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা রাজনীতি সভার প্রধান ফিওদর লুকিয়ানভ বলেছেন:

“আমেরিকার সমস্ত সুস্থ বিশেষজ্ঞরাই এখন বলছেন যে, যে কোন রকমের বিরোধীদের বিজয়ের ঘটনা পরম্পরাই অন্যগুলোর চেয়ে খারাপ. আসাদ যে রকমেরই হোন না কোন তার সময়ে সিরিয়া খুবই স্থিতিশীল ছিল আর হতে পারে যে, তা পরে থাকবেও. যদি তাকে জয়ী হতে দেওয়া যায়, তবে এই সমস্যা কিছু সময়ের জন্য হলেও সমাধান করার জন্য বাকী রাখা সম্ভব হবে. কিন্তু সরকারি ভাবে পশ্চিমের কোন রাজনীতিবিদই এই ঘোষণা করছেন না. কারণ তখন বুঝতে পারা যাবে না যে, তাঁরা বিগত কয়েক বছর ধরে তাহলে কি করলেন”.

পশ্চিমের দেশগুলোর অবস্থান বদলের ফলে আসাদের সঙ্গে বিরোধের সামনের দিকে সবচেয়ে কট্টরপন্থী জঙ্গীরা এগিয়ে এসেছে. তার মধ্যে আবার তারা বিগত সময়ে শুধু সরকারি সামরিক বাহিনীর সঙ্গেই লড়াই করছে না, করছে পশ্চিমের মদত পুষ্ট তথাকথিত মধ্যপন্থীদের সঙ্গেও. যেমন, কয়েকদিন আগেই ঐস্লামিক জঙ্গীরা সিরিয়ার স্বাধীন বাহিনীর অস্ত্র ভাণ্ডার দখল করে ফেলেছে, যার পরে এই গোষ্ঠীর নেতা দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে. ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও গ্রেট ব্রিটেন ঘোষণা করেছে যে, তারা বিদ্রোহীদের মৃত্যুবাহী নয় এমন সামরিক অস্ত্র রসদ সরবরাহ বন্ধ করেছে.