এজেন্সির প্রতিনিধিরা তাকে ক্ষমা করার সম্ভাবনা বাদ দেয় না – সে যাতে দেশে ফেরে. ভ্লাদিমির পুতিন নিজের বড় সাংবাদিক সম্মেলনে স্নোডেনের কার্যকলাপ এবং ভবিষ্যত্ ভাগ্য সম্বন্ধে বিশদে মত প্রকাশ করেন.

   মনে হচ্ছে, বর্তমান কালের প্রধান উদ্ঘাটকের উপাধিতে এডওয়ার্ড স্নোডেন-কে অভ্যস্ত হতে হবে – শান্ত, বাঁধাধরা জীবন আর তার জন্য নেই. জাতীয় নিরাপত্তা এজেন্সির প্রাক্তন কর্মীর ভাগ্যের প্রতি আগ্রহ কমছে না – ১৯শে ডিসেম্বর বছরের শেষ সাংবাদিক সম্মেলনে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন-কে প্রশ্ন করা হয়েছিল তাঁরা ব্যক্তিগতভাবে পরিচিত কি না এবং রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি মোটামুটিভাবে স্নোডেনের কার্যকলাপের প্রতি কিরকম মনোভাব পোষণ করেন. পুতিন উত্তরে বলেন যে, তিনি ব্যক্তিগতভাবে স্নোডেনের সাথে পরিচিত নন, তবে মনে করেন স্নোডেনের নির্বাচন যদিও অতি জটিল, তবু কল্যাণকর. –

   আমি আগেই বলেছি: অপারেটিভ দিক থেকে আমরা তার সাথে কাজ করছি না এবং কখনও কাজ করি নি. মার্কিনী গোয়েন্দা বিভাগ রাশিয়া সম্পর্কে কি এবং কিভাবে কাজ করছে সে সম্পর্কেও তাকে প্রশ্ন করি নি. সে আমাদের দেশের ভূভাগে রয়ে গিয়েছে সকলের জানা পরিস্থিতির দরুণ. তাকে নিজেকেই নির্ধারণ করতে হবে নিজের ভবিষ্যত্ জীবন. আমরা তাকে এ ব্যাপারে সাহায্যও করছি না, বাধাও দিচ্ছি না. আমরা শুধু তাকে আশ্রয় দিয়েছি.

   এদিকে ওয়াশিংটনে আঞ্চলিক বিচারক এক চাঞ্চল্যকর রায় দিয়েছেন, যা অনুযায়ী, নাগরিকদের প্রতি জাতীয় নিরাপত্তা এজেন্সির বৈদ্যুতিন নজরদারী সংবিধান-বিরোধী. এ সম্ভাবনাও বাদ দেওয়া যায় না যে, এটি স্নোডেন-কে দেশে ফিরিয়ে আনার একটি পদক্ষেপ. সম্প্রতি জাতীয় নিরাপত্তা এজেন্সির প্রতিনিধি রিক লেগেট প্রাক্তন কর্মীর বাড়িতে ফেরার ক্ষেত্রে তাকে ক্ষমাদানের সম্ভাবনা কথা বলেছেন. তবে প্রশ্ন হল – মার্কিনী গোয়েন্দা বিভাগ নিজের কথা রাখবে কি?

   মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ ভ্লাদিমির ভাসিলিয়েভ মনে করেন যে, পলাতকের জন্য অপেক্ষা করে থাকতে পারে অতি কঠোর শাস্তি – আর তাকে শুধু লোভ দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূভাগে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে. –

   স্নোডেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের উপর বিশাল আঘাত হেনেছে. মার্কিনী সিনেটের গোয়েন্দা কার্যকলাপ সংক্রান্ত কমিটির নেতৃবৃন্দ বলেছেন যে, কোনো ক্ষমা দান হতেই পারে না. এ হল পার্লামেন্টের স্থিতি. স্নোডেনের ক্ষমা নেই, শুধু তা-ই নয়, তার প্রতি ক্ষমা দানও সম্ভব নয়. “টাইম” পত্রিকার শেষ সংখ্যায় স্নোডেন-কে সবচেয়ে খ্যাতনামা লোকেদের একজন বলে উল্লেখ করা হয়েছে. আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার খ্যাতিতে ভয় পাচ্ছে.

   স্ট্র্যাটেজিক পরিকল্পনা ও পূর্বাভাস ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর আলেক্সান্দর গুসেভ উল্লেখ করেছেন যে, স্নোডেন ফিরবে বলে মনে হয় না. –

   এ শেষ তথ্য যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাকে দেশে ফেরার প্রস্তাব করবে, তাকে তুলনা করা যেতে পারে লোভ দেখানোর সাথে, যাতে স্নোডেন-কে আদালতে সোপর্দ করা যায়. সে নিজে, তার সাথী ও সহযোগীরা, যাদের উপর সে নির্ভর করছে নিজের কার্যকলাপে, এই লেন-দেনে রাজি হবে না. সে খুঁজছে আরও উপযুক্ত দেশ, রাশিয়া অথবা অন্য কোনো দেশ, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নয়.

   স্নোডেন সত্যিই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইমেজের অসংশোধনীয় ক্ষতি সাধন করেছে, বিশেষ করে ইউরোপেও. তবে ইউরোপীয়রাও নির্দোষ নয়. যেমন, স্নোডেনের কল্যাণে জানা গিয়েছে যে, সুইডেন ও নরওয়ে মার্কিনী জাতীয় নিরাপত্তা এজেন্সির সাথে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতায় রাশিয়া সম্পর্কে গোপন তথ্য সংগ্রহ করছিল উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের টেলিফোন সংলাপ শুনে, কম্পিউটারে পত্র-বিনিময়ের গোপনতা লঙ্ঘন করে তা পড়ে. স্নোডেনের আর কি করার আছে? তা এখনও কেউ জানে না, সে নিজে ছাড়া. তবে সকলের কাছেই বোধগম্য যে, অনেকেই জাতীয় নিরাপত্তা এজেন্সির প্রাক্তন কর্মীকে চুপ করে থাকতে বাধ্য করতে চায়.