“আগে মনে করা হয়েছিল যে, এই পরিবহনের জন্য সময় লাগবে প্রায় দু’সপ্তাহ ও তা সিরিয়ার সামরিক বাহিনীর লোকরাই করবে. প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রায় ৫০০টন রাসায়নিক অস্ত্র ২০১৪ সালের মার্চ মাসের আগেই নষ্ট করে ফেলার কথা ছিল. সব দেখে শুনে মনে হয়েছে যে, এই সময় সীমা পার হয়ে যাবে. কারণ এর জন্য প্রয়োজন হবে প্রায় ৩০০০ কন্টেনার. আপনারা ভেবে দেখতে পারেন এই তিন হাজার কন্টেনার ভর্তি রাসায়নিক অস্ত্র এক বিশাল এলাকা দিয়ে নিয়ে যাওয়া কতখানি ঝুঁকির কাজ, তার ওপরে যেখানে এমনিতেই যুদ্ধ চলছে, সেখান দিয়ে”.

যখন পশ্চিমে দামাস্কাসের প্রস্তাব নিয়ে নেতিবাচক ভাবে প্রতিক্রিয়া দেখানো হয়েছে ও সেখান থেকে সিরিয়ার সামরিক বাহিনীকে সাঁজোয়া গাড়ী দিতে আপত্তি করা হয়েছে, তখনই রাশিয়া সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে. সমঝোতায় আসা সম্ভব হয়েছে যে, রাশিয়া সিরিয়াকে বিশেষ ধরনের মালবাহী গাড়ী ও সিস্টার্ন পাঠাবে, যাতে করে রাসায়নিক অস্ত্র নিয়ে যাওয়া হবে. সিরিয়ার সামরিক বাহিনীর কাজ থাকবে – এই গাড়ীর ক্যারাভান নিরাপদ ভাবে অস্ত্র ভাণ্ডার থেকে রাস্তা দিয়ে লাতাকিয়া বন্দর পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া. এটা – সবচেয়ে কঠিন অধ্যায়, এই রকম মনে করে রাশিয়ার রাজনৈতিক গবেষণা কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ আলেকজান্ডার চেকভ বলেছেন:

“সব দিক থেকেই সবচেয়ে বিপজ্জনক জায়গা হল ভাণ্ডার থেকে বন্দর পর্যন্ত রাসায়নিক অস্ত্র নিয়ে যাওয়া, যেখানে এগুলো জাহাজে তোলা হবে. খুবই বড় প্রশ্ন হল: এখানে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার বেষ্টনী দেওয়া সম্ভব হবে কি না. কারণ এই পরিস্থিতিতে এমনকি একটা মালবাহী গাড়ী ধ্বংস হলেও তার পরিণাম শোকাবহ হতে চলেছে”.

এর পরে সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্র চড়ানো হবে জাহাজে, যা পাঠাচ্ছে ডেনমার্ক ও নরওয়ে, তারপরে তা সিরিয়ার জলসীমা ছেড়ে চলে যাবে. পরে ইতালির একটি বন্দরে এই জাহাজগুলো থেকে তা চড়ানো হবে আমেরিকার “কেপ রে” জাহাজে. সেই জাহাজের উপরেই বিষাক্ত দ্রব্য নষ্ট করা হবে. কিন্তু এখনও সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় নি যে, কোথায় সেই নষ্ট করার সময়ে মৃত্যুবাহী জিনিষ সমেত জাহাজ থাকবে, এই কথা উল্লেখ করে আলেকজান্ডার চেকভ বলেছেন:

“মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্র নষ্ট করার জন্য নিজেদের জাহাজ দিতে তৈরী হয়েছে. কিন্তু সমস্যা হল যে, উন্মুক্ত সমুদ্রে কোন দেশের জলসীমার বাইরে রাসায়নিক অস্ত্র নষ্ট করাও বিপজ্জনক. সেখানে ঝড় উঠতে পারে অথবা কোন রকমের প্রাকৃতিক দুর্যোগ হতে পারে, আর আমরা জানি না যে, এই জাহাজ তা কতদূর সহ্য করতে পারবে. তাই আশা করা হয়েছে যে, সেটা কোন না কোন তৃতীয় দেশের বন্দর অথবা কোন খাঁড়িতে ঢুকবে, যা চারপাশে হাওয়ার হাত থেকে সুরক্ষিত. কিন্তু আপাততঃ একটি দেশও নিজেদের জলসীমা এই কাজের জন্য দিতে রাজী হয় নি”.

এই সমস্ত পরিস্থিতিই নেতিবাচক ভাবে যে সময়সীমা আন্তর্জাতিক রাসায়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ সংস্থার পক্ষ থেকে এই কাজের জন্য বেঁধে দেওয়া হয়েছে, তার উপরে প্রভাব ফেলেছে. প্রসঙ্গতঃ, এটার অর্থ এই নয় যে, তা পার হয়ে যাবে. রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান সের্গেই লাভরভ ঘোষণা করেছেন যে, সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্র আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আনা হয়েছে, এই লক্ষ্য নিয়েই যে, তা পরে ধ্বংস করে ফেলা হবে, আর সেই কাজও এখন সম্পূর্ণ গতিতেই এগিয়ে যাচ্ছে. এই প্রক্রিয়ার প্রথম অংশ সফল ভাবেই শেষ হয়েছে, এখন দ্বিতীয় অধ্যায় শুরু হচ্ছে, যা জটিল কাজকর্ম সমাধানের দাবী করেছে ও বহু দেশের শক্তি প্রয়োগের প্রয়োজন পড়েছে. বর্তমানে সিরিয়াতে রাসায়নিক অস্ত্র উত্পাদনের সমস্ত যন্ত্রপাতি ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে. কিছু বিষাক্ত পদার্থ ও তাদের রাখার জায়গা সিরিয়ার ভিতরেই নষ্ট করে ফেলা হচ্ছে.

সিরিয়ার বাইরে এনে কম বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থ নষ্ট করার জন্য সংস্থা থেকে বিশ্বজোড়া টেন্ডার ডাকা হয়েছে. তাতে যে কোন বাণিজ্যিক কোম্পানী যোগ দিতে পারে, ইতিমধ্যেই ৪০টি আবেদন পত্র জমা পড়েছে. সিরিয়া সম্পূর্ণ ভাবে রাসায়নিক অস্ত্র মুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে ২০১৪ সালের ৩০শে জুলাইয়ের মধ্যেই.