রাশিয়াতেও কের্লিং খেলা অনেকদিন আগে শুরু হয়েছে, প্রায় দেড়শো বছর আগে. ১৮৭৩ সালে মস্কোতে রাশিয়ার প্রথম কের্লিং ক্লাব খোলা হয়েছিল, স্কটল্যান্ডের ক্যালেডন কের্লিং ক্লাবের শাখা হিসাবে.

আরও একটি বাঁধা ধরা ধারণা: কের্লিং – খুবই বিরক্তিকর খেলা. আর এটাও ঠিক নয়. কের্লিং খুবই উত্তেজক ও জটিল খেলা, যাতে অঙ্কের হিসাব দরকার হয়ে থাকে. খুব কম লোকই জানেন যে, এমনকি কের্লিং খেলার জন্য বরফ তৈরী করাও প্রায় একটা শিল্প. এখানে বরফের জন্য শুধু পরিশ্রুত জলই নেওয়া যেতে পারে, কোন রকমের মিশ্রণ ছাড়া. তারপরে, তৈরী হয়ে যাওয়া বরফের রাস্তায় বিশেষ ধরনের জল ঢালার জিনিষ দিয়ে জ্যামিতিক রকমের নিখুঁত ভাবে ছোট্ট জলের ফোঁটার সার ফেলা হতে থাকে, যা পরে ঝাড়ু দিয়ে সাফ করা হতে থাকে, যাতে পাথর ভাল করে পিছলে যেতে পারে. এই রকমের একটা পাথরের ওজন কুড়ি কিলো.

কের্লিং নিয়ে আরেকটা গল্প রয়েছে যে, এটা নাকি কুঁড়ে লোকদের খেলা. আসলে সেই সমস্ত খেলোয়াড়, যারা পাথরের আগে চলতে গিয়ে দ্রুত ও জোর দিয়ে বরফ ঘষতে থাকেন, তারা খুবই বেশী রকমের শক্তি ক্ষয় করে থাকেন. একবারের প্রশিক্ষণের সময়ে দুই কিলো পর্যন্ত ওজন কমতে পারে.

রাশিয়ার মেয়েদের দল সোচী শহরে স্বর্ণপদক পাওয়ার জন্য লড়াই করতে প্রস্তুত হচ্ছে, তাদের সঙ্গে ছেলেদের দলও এখন ভাল ফল দেখাচ্ছে, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার কের্লিং ফেডারেশনের সভাপতি দিমিত্রি স্ভিশ্যভ বলেছেন:

“অলিম্পিকে একটাও দুর্বল দল আসবে না. সমস্ত দলই খুব শক্তিশালী আর বাস্তবে প্রায় সকলেই একই স্তরের দল. কিন্তু রাশিয়ার জাতীয় দল – তা যেমন মেয়েদের, তেমনই ছেলেদের, এবারে তৈরী হচ্ছে যে কোন দলকেই হারিয়ে দিতে. গত ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশীপে, তারা সকলকেই হারিয়ে দিয়েছে”.

এখন রাশিয়াতে কের্লিং সক্রিয়ভাবে উন্নতি করছে. এই প্রক্রিয়াতে শুধু পেশাদার দলগুলোর সাফল্যই সহায়তা করছে না, বরং বিভিন্ন স্পোর্টস ক্লাব, বহু সংখ্যক কের্লিং ক্লাব, যেখানে সকলেই যথেচ্ছ কের্লিং খেলায় অংশ নিতে পারেন, তাও সাহায্য করছে, তাছাড়া এই খেলা খেলে সময় কাটানোও খুবই ভাল. এখন বোলিং খেলার মতই কের্লিং খেলা জনপ্রিয় হয়েছে. আর বাস্তবে দেখতে পাওয়া গিয়েছে যে, যারা একবার অন্তত এই খেলা টিভিতে দেখেছে, তারাই আবার নিজেরা এটা খেলতে শুরু করেছে.