বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ও রাজনীতিবিদদের মধ্যে অনেকদিন ধরেই একটা মত রয়েছে যে, এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখা ইউরোপের চেয়ে অনেক বেশী কঠিন হবে. অন্ততপক্ষে মতের মিল নেই এমন দেশের সংখ্যা অনেক বলেই. এখানে একসারি দেশ এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় সম্মিলিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা বানানোর পক্ষে, কিন্তু তাদের একটাও বড় কোন রকমের আগ্রহের সূচনা করে নি, আর সে নিয়ে কথা ছাড়া বেশী দূর কিছুই এগোয় নি. আর এখন পরিস্থিতি পাল্টাতে শুরু করেছে, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার জাতীয় এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় নিরাপত্তা পরিষদের যোগাযোগ সচিব গিওর্গি তলোরায় বলেছেন:

“এখন আঞ্চলিক নিরাপত্তার কাঠামো ব্যবস্থা করার বিষয়ে সেই দিকে একটা গতি এসেছে বলেই দেখতে পাওয়া যাচ্ছে. এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার দেশগুলি অনুভব করতে পেরেছে যে আমেরিকা-চিনের মধ্যে বিরোধ বেড়ে যাওয়ার পরিস্থিতিতে ও এই এলাকাতেও বিরোধের বৃদ্ধি হওয়াতে কোন এক রকমের সমস্যা এড়ানোর ব্যবস্থা করার দরকার পড়েছে, সেটা শুধু সমস্যা নিয়ে আলোচনা করলেই চলবে না, বরং দরকার পড়েছে কোন একটা বেশী স্পষ্ট কাঠামোর, যারা বিরোধ বন্ধ করতে সহায়তা করবে, অপ্রিয় ঘটনা পরম্পরা গতি পাওয়া থেকে থামাবে”.

এখানে খুবই প্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে রাশিয়ার পক্ষ থেকে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকাতে সম্মিলিত ভাবে নিরাপত্তা সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করা নিয়ে উদ্যোগ. তা ২০১০ সালে নেওয়া বিখ্যাত রুশ-চিন উদ্যোগের গতি অর্জনের ফলে আর রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই লাভরভের পক্ষ থেকে ২০১২ সালে নমপেন শহরের পূর্ব-এশিয়া শীর্ষ সম্মেলনে করা প্রস্তাবের জন্যই. এই প্রসঙ্গে গিওর্গি তলোরায় বলেছেন:

“রাশিয়ার প্রস্তাবে স্পষ্ট করেই একটা লক্ষ্য দেওয়া রয়েছে – পথনির্দেশের দিকে এগিয়ে যাওয়া ও এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকাতে আইন সঙ্গত ভাবে যৌথ নিরাপত্তা নিয়ে চুক্তি করা. এটা ইন্দোনেশিয়ার পক্ষ থেকে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকাতে একই ধরনের নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্যোগের সঙ্গে একসঙ্গেই হয়েছে. রাশিয়া এখন সক্রিয়ভাবেই এই ধারণাকে এগিয়ে ধরেছে, নিয়মিত ভাবেই পরামর্শ করা হচ্ছে, তা যেমন হচ্ছে প্রাথমিক পথ নির্দেশ অনুযায়ী, অর্থাত্ সরকারি ভাবে যোগাযোগের মাধ্যমে, তেমনই হচ্ছে দ্বিতীয় পথ ধরেও, অর্থাত্ একাডেমী সংক্রান্ত পরস্পর বিনিময়ে মাধ্যমে”.

এই প্রক্রিয়ার একটি অঙ্গ হয়েছে গতকাল মস্কো শহরে হয়ে যাওয়া রাশিয়ার এশিয়া – প্রশান্ত মহাসাগরীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত সহযোগিতা সভার অধিবেশন. বিশেষজ্ঞরা সেই প্রস্তাবকে নিয়ে আলোচনা করেছেন যে, এই দিকে কি ভাবে এগিয়ে যাওয়া দরকার. তার একটি পথ হল – আলোচনার মঞ্চগুলিতে কাজ অনুযায়ী ভাগ করে দেওয়া, যা এখন করা হচ্ছে নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্যা আলোচনার ক্ষেত্রে. তাই আবারও গিওর্গি তলোরায় বলেছেন:

“আমরা এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় বেসরকারি ভাবে পরামর্শের জন্য খুবই ভাল চ্যানেল পেয়েছি, তাদের নানা রকমের অবস্থান. অবশ্যই নানা রকমের জটিল মনোভাবের সহকর্মীরা আছেন, কিন্তু এই ধরনের পরামর্শ আমাদের বুঝতে সাহায্য করে যে, কিভাবে এই নিরাপত্তা কাঠামো তৈরী করা দরকার. আমাদের ধারণা, যা অনেক দেশই সমর্থন করেছে, আর যাদের মধ্যে এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সহকর্মী দেশরাও রয়েছে, যেমন অস্ট্রেলিয়া, - তা বলা হয়েছে একটা নির্দিষ্ট স্তরের গঠনের কথা হিসাবে: সমস্যা কিভাবে দেখা হবে তা নিয়ে সম্মিলিত ভাবে আলোচনা করবে পূর্ব এশিয়ার শীর্ষ সম্মেলনগুলোতে. মন্ত্রী পর্যায়ে হওয়া এশিয়ার আঞ্চলিক নিরাপত্তা সম্মেলনেই নিরাপত্তা সংক্রান্ত ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করা হবে. প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের সম্মেলনে সামরিক ও প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত প্রশ্নাবলী নিয়ে আলোচনা হবে, আর এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা সভায় কথা হবে অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়েই. এর ফলে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় একই কাজের জন্য একাধিক সংস্থার প্রয়োজন পড়বে না, যা আজ আমাদের রয়েছে, আর সামনে রাখা লক্ষ্যের দিকে অনেক বেশী পরম্পরা মেনেই এগিয়ে যাওয়া যাবে”.

পুরনো গুলোর সঙ্গে রাশিয়ার নতুন উদ্যোগের ক্ষেত্রে নীতিগত ভাবে পার্থক্য হল যে, এখন মস্কো এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোকে প্রস্তাব করেছে কোন তৈরী করা দলিল নয়, যা নেওয়া অথবা প্রত্যাখ্যান করা যেতে পারে, বরং বাস্তবে একটা পথের নির্দেশ, যা দিয়ে আইন সঙ্গত ভাবেই বাধ্যতা মূলক দলিল তৈরী করা সম্ভব হবে, যা তৈরীর সময়ে আলোচনার মাধ্যমে আগামী চুক্তির সমস্ত অংশগ্রহণকারীদের মতামতই হিসাবের মধ্যে আনা সম্ভব হবে.

মস্কো অধিবেশনের অংশগ্রহণকারীরা উল্লেখ করেছেন যে, বর্তমানে রাশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার উদ্যোগকে সমর্থন করেছে এই এলাকার বেশীর ভাগ দেশ. এখানে গুরুত্বপূর্ণ হল যে, চিন সব মিলিয়ে সম্পূর্ণ ভাবে এই এলাকার নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি সমর্থন করতে তৈরী রয়েছে ও তাতে যোগ দিতেও চেয়েছে. এখানে বোধহয় একমাত্র ব্যতিক্রম রয়ে গিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র. কিন্তু বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, এখানে পরস্পর বিরোধ বেড়ে যাওয়া ও উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ার ফলে একসময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেরও ইচ্ছা হবে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকাতে যৌথ নিরাপত্তা চুক্তির ধারণাকেই সমর্থন করা. মুখ্য হল যে, যাতে এটা খুব দেরী করে না হয়.