এই সপ্তাহের শুরুতে ফেব্রুয়ারী মাসে সিন্ধ প্রদেশে দু’সপ্তাহ ব্যাপী সাংস্কৃতিক উত্সবের বিলাবল ভুট্টোর পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছিল. এই বিশাল অনুষ্ঠানের আয়োজকের ভূমিকা নিয়ে বিলাবল সিদ্ধান্ত করেছে দেশের সামনে স্রেফ নিজের মহান এবং খুব একটা নয় এমন পূর্বপুরুষদের ছায়া হয়েই না থাকার, যেমন ছিলেন পিতামহ জুল্ফীকার আলি ভুট্টো ও মা বেনজির ভুট্টো অথবা পিতা আসিফ আলি জারদারি, বরং একজন স্বতন্ত্র রাজনীতিবিদ হিসাবেই উপস্থিত হতে, যাকে পুরনো বংশের নতুন মুখ বলেই মনে করা যেতে পারে. এই প্রসঙ্গে রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ বরিস ভলখোনস্কি বলেছেন:

“এই উত্সবের প্রধান লক্ষ্য – পাকিস্তানে ক্রমবর্ধমান সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে ধর্মীয় চরমপন্থার শক্তি বৃদ্ধিকে থামিয়ে দেওয়া, দেখানো যে, এই ধরনের ঐতিহ্য অনেকটাই প্রসারিত যা ইসলামের সংকীর্ণ ধারণার বাইরে রয়েছে, যা জোর করে চাপিয়ে দিতে চায় এই ধরনের চরমপন্থীরা. আর মহেঞ্জোদরো এলাকাতে হঠাত্ করেই এই উত্সব শুরু করা হচ্ছে না, কারণ এখানে শুধু ইসলামের প্রবেশের আগেই মানুষ থাকতেন না, এমনকি আর্যরা আসার আগেও থাকতেন.

মহেঞ্জোদরো নতুন করে বাঁচিয়ে তোলার জন্য ও তা সারা বিশ্বের পর্যটকদের জন্যেই একটা আকর্ষণের কেন্দ্র করে তোলা – এটা বিলাবল ভুট্টোর এক অনেক দিনের ইচ্ছা. এই ধারণার মধ্যে খারাপ কিছু নেই: সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখা – একটা অভিজাত সুলভ কর্ম, আর এই ক্ষয়িষ্ণু জায়গার অর্থনীতিকে বাঁচিয়ে তোলার চেষ্টা, যেখানে মহেঞ্জোদরো শহরের ধ্বংসস্তূপ রয়েছে, তাও বাহবা দেওয়ার যোগ্য কাজ. কিন্তু কয়েক মাস আগেই যখন বিলাবল বিশেষ তহবিল গড়ার কথা ঘোষণা করেছে, তখনই সন্দেহজনক প্রশ্নগুলো সেই আশা, যা এই শুরুর সঙ্গে জড়িত ছিল, তাতে জল ঢেলে দিয়েছিল”.

কারণ ভুট্টো- জারদারি বংশের সামাজিক মর্যাদা খুবই পরস্পর বিপরীত ধর্মী, বিশেষ করে তার “মাঝের” প্রজন্মের জন্যই. যেমন বেনজির ভুট্টোর সম্পর্কে, তেমনই আসিফ আলি জারদারির সম্পর্কেও বিভিন্ন সময়ে দুর্নীতি নিয়ে অপরাধের জন্য অভিযোগ আনা হয়েছে. এই রকম একটা পরিস্থিতিতে অনেকেই মন্তব্য করেছেন যে, এই তহবিল শুধু মহেঞ্জোদরো শহর পুনরুদ্ধার করার জন্যই ব্যবহার করা হচ্ছে না, যত না করা হচ্ছে তার উদ্যোক্তার ব্যক্তিগত লাভের জন্যই, তাই ভলখোনস্কি আবারও বলেছেন:

“তাই এই সাংস্কৃতিক উত্সবের ধারণা অনেক প্রশ্নের উদ্ভব করেছে. তার অনুষ্ঠানে যেমন এমন সব পরিকল্পনা রয়েছে, যেমন ঘুড়ি ওড়ানো, ঘোড় দৌড় ও ভ্যালেন্টাইন ডে উপলক্ষে কনসার্ট. অবশ্যই এটা চরমপন্থী ইসলামের বিপরীত পন্থী মনে করা যেতে পারে, কিন্তু এটা কিভাবে পাকিস্তানের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের উদাহরণ হতে পারে, বরং বলা যেতে পারে যে, আধুনিক পপ কালচারের অঙ্গ, যা বাইকে থেকে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে. এই একই সারিতে রাখা যেতে পারে উত্সবের প্রতীককেও – ইংরাজী এস, যা যত না সিন্ধ প্রদেশের সঙ্গে জড়িত, তার চেয়েও বেশী করে আমেরিকার সুপারম্যান চরিত্র অথবা ডলারের প্রতীকের সঙ্গেই মেলে”.

বিলাবলের পক্ষ থেকে জনতার নজর তার দিকে ফেরানোর চেষ্টাও অন্য একটা প্রবণতাকে উল্লেখ করে, যা শুধু ভারতের জন্যই নয়, এমনকি সারা দক্ষিণ এশিয়ার জন্যও একই রকমের. এটা কোন এক সময়ের মনে হওয়া প্রায় অমর সামাজিক মতামতের নেতাদের, যারা সবচেয়ে পুরনো রাজনৈতিক বংশের লোক, তাদের প্রভাব কমে যাওয়ার সঙ্গেই জড়িত, তাই আবারও ভলখোনস্কি বলেছেন:

“যদি প্রতিবেশী ভারতের দিকে দেখা হয়, তবে নেহরু – গান্ধী পরিবারের সবচেয়ে ছোট বংশধরের সঙ্গে তুলনার যোগ্যই মনে হয় – রাহুল গান্ধীর সঙ্গে. তিনি শুধু নিজের পূর্বপুরুষদের প্রভাব ব্যবহার করতেই ব্যর্থ হন নি, যেমন হয়েছেন নিজের রাজ্য উত্তর প্রদেশে ২০১২ সালের বিধান সভা নির্বাচনের সময়ে, বরং এখন প্রশ্নের সামনেই ফেলেছেন নিজেদের পরিবারের ঐতিহ্যকে, যে পরিবারকে এক সময়ে মনে করা হয়েছিল সম্পূর্ণ ভাবেই ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকা প্রভাবশালী বলে”.

কিন্তু কে জানে হতে পারে বিলাবল ভুট্টোর জন্য অন্য কিছু অপেক্ষা করে রয়েছে?