আন্তর্জাতিক প্রশ্নাবলী সম্বন্ধে উত্তর দিতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেছেন যে, রাশিয়া সিরিয়ার সঙ্কট ও ইরানের পারমাণবিক পরিকল্পনা নিয়ে সমস্যা সমাধানে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে. এই প্রসঙ্গে ভ্লাদিমির পুতিন উল্লেখ করেছেন যে, এই ফল পাওয়া সম্ভব হয়েছে চিন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার বিশ্ব সমাজে অন্যান্য সহকর্মীদের সাথে যৌথভাবে শক্তি প্রয়োগের ফলেই. পুতিন আরও যোগ করেছেন যে, “আমাদের ও আমেরিকার, ইউরোপের, চিনের বন্ধু স্থানীয় লোকদের সম্মিলিত ভাবে কাজ এই সব বিষয়ে করা না হলে এই ধরনের ফল পাওয়া সম্ভব হত না”.

স্নোডেনের ইতিহাস রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে কি ধরনের প্রভাব ফেলেছে এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে রুশ প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেছেন যে, রাশিয়া চেষ্টা করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গোপন খবর যে ফাঁস করে দিয়েছে, তার কাছ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গুপ্তচর বিভাগের গোপন কোনও খবর জানতে চায় নি অথবা আমেরিকার গুপ্তচর, যারা রাশিয়ার দিকে কাজ করছেন, তাদের কাজের সম্পর্কেও নয়. তিনি এই প্রসঙ্গে বলেছেন:

“আমি ইতিমধ্যেই বলেছি আর বলব প্রায় পেশাদার ভাষাতেই: কাজকর্ম সংক্রান্ত বিষয়ে আমরা তার সঙ্গে কাজ করছি না ও কোনদিনও করি নি. তার কাছে সমস্ত রকমের প্রশ্নও তুলে ধরি না যে, সে যেখানে কাজ করেছে, সেই পরিষেবা দপ্তর থেকে রাশিয়া নিয়ে কি ও কিভাবে করা হয়েছে”.

প্রতিবেশী ইউক্রেন নিয়ে রাশিয়ার অবস্থান সম্বন্ধে বলতে গিয়ে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেছেন যে, ইউক্রেন দেশকে সহায়তা করার সিদ্ধান্ত রাশিয়ার পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে সেই দেশের কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কথা বিচার করেই. ইউক্রেন – আমাদের ভ্রাতৃসম দেশ, আর রাশিয়া এই পরিস্থিতিতে তাদের সহায়তা করতে বাধ্য চিল, ঘোষণা করেছেন ভ্লাদিমির পুতিন, তিনি একই সঙ্গে ইউক্রেনকে ঋণ দেওয়া ও গ্যাসের দাম কমানো সংক্রান্ত সিদ্ধান্তকে বলেছেন অবস্থা বুঝে নেওয়া ব্যবস্থা, যাতে আমাদের প্রধান সহকর্মী দেশকে সহায়তা করা সম্ভব হয়. রাষ্ট্রপতি বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন যে, রাশিয়া ইউরোপীয় সঙ্ঘের সঙ্গে ইউক্রেনের যোগ দানের বিষয়ে বিরোধী নয়, কিন্তু নিজেদের বাজারকে রক্ষা করবে, যদি কিয়েভ স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের বদলে ইউরোপের পক্ষে যায়.

সামাজিক বিশ্ব নিয়ে প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে ভ্লাদিমির পুতিন ব্যাখ্যা করেছেন যে, সেই সমাজ, যাদের ঐতিহ্যবহ কোন মূল্যবোধ নেই, তারাই অবক্ষয়ের পথে চলে.

“আমার জন্য পশ্চিমের মূল্যবোধের সমালোচনা করা গুরুত্বপূর্ণ নয়. আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হল আমাদের উত্তরাধিকারকে কিছু ছদ্ম মূল্যবোধের কাছ থেকে রক্ষা করা, যা আমাদের দেশের লোকরা খুবই জটিল ভাবে নিয়েছেন” – ঘোষণা করেছেন ভ্লাদিমির পুতিন. তাই রাশিয়ার সরকার সমস্ত কিছুই করবে, যাতে দেশের লোককে কিছু সামাজিক গোষ্ঠী থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়, যারা শুধু এখানে নিজেদের ইচ্ছামতো বাঁচেই না, বরং খুবই আগ্রাসী ভাবে নিজেদের দৃষ্টিকোণ অন্য লোকদের অন্য দেশে চাপিয়ে দিতে চায়. এটা অবশ্যই খুব সংরক্ষণশীল পদক্ষেপ – রাষ্ট্রপতি তা স্বীকার করেছেন, কিন্তু বিখ্যাত রুশ দার্শনিক বেরদিয়ায়েভ যেমন বলেছিলেন যে, সংরক্ষণশীলতা, - এটা সেই ব্যাপার, যা এগিয়ে যেতে আর উন্নত হতে বাধা দেয় না, বরং বাধা দেয় অবনত হতে বা পিছিয়ে যেতে.

“রাশিয়া – খুবই প্রাচীন ও সমৃদ্ধ সংস্কৃতির দেশ. শুধু এই ধরনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের উপরে ভর করেই আমরা এগিয়ে যেতে পারব” – সিদ্ধান্ত পৌঁছেছেন রাষ্ট্রপতি.

অলিম্পিকের খেলা সংক্রান্ত বিষয়ে বলতে গিয়ে ভ্লাদিমির পুতিন উল্লেখ করেছেন যে, রাশিয়ার জন্য, এক অলিম্পিকের গৃহকর্তা দেশ হিসাবে প্রাথমিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ হল যে, এই প্রতিযোগিতাকে উপযুক্ত রকমের স্তরে পরিচালনা করা, সমস্ত খেলোয়াড়দের জন্যেই সবচেয়ে ভাল পরিবেশ তৈরী করে দেওয়া. আর যদিও সমস্ত রুশ লোকরাই নিজেদের দেশের খেলোয়াড়দের কাছ থেকে বিজয় আশা করেছেন, তবুও আমাদের দেশের অলিম্পিকের খেলোয়াড়দের কাছে বেশী পদক জয়ের সম্ভাবনা দাবী করা ঠিক হবে না, তাই তিনি আরও বলেছেন:

“সবচেয়ে মূল কথা হল যে, আমি আমাদের খেলোয়াড়দের কাছ থেকে আশা করব যে, তাঁরা যেন নিজেদের ক্ষমতা ও চরিত্রের জোর দেখাতে পারেন, যাতে আমরা তাদের খেলা ও প্রতিযোগিতা দেখে আনন্দ পেতে পারি. কারণ খেলা – এটা যদিও ধাঁধা নয়, তবুও এটা ঘটনাচক্রের ব্যাপার. আর তাই আগে থেকে শতকরা একশ ভাগ ফল, এমনকি সবচেয়ে নামী বিখ্যাত খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রেও খুবই জটিল বিষয়. সবই হতে পারে: পায়ে হোঁচট খাওয়া, আছাড় খেয়ে পড়ে যাওয়া, পিছলে যাওয়া – জীবনে সব কিছুই হতে পারে. কিন্তু আমি মনে করি যে, আমাদের ফ্যানরা এই সবই বুঝবেন. যদি কোন রকমের বাধা উত্পন্ন হয়, সব সময়েই মাপ করে দেবেন. সবচেয়ে মুখ্য হল যে, - নিজের কৌশল আর চরিত্রের জোর দেখাতে পারা. জয়ী হবে সবচেয়ে শক্তিশালী আর আমরা এই সমস্ত শক্তিশালীদের জন্যই আনন্দ করবো”.

আগামী বছরে সোচী শীত অলিম্পিকের রাজধানী হতে চলেছে. প্রতিযোগিতা শুরু হতে আর ৫০ দিন বাকী.