আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির অনেকদিন পর্যন্ত এই ভিলেজ বা গ্রাম কোথায় করা হবে তা নিয়ে কোন কড়া নিয়ম কানুন ছিল না, থাকার জন্য জায়গা করা হত সারা শহর জুড়েই, সেখানে মুখ্য ছিল যে, যাতে খেলোয়াড়রা একই সময়ের মধ্যে ষ্টেডিয়ামে এসে পৌঁছতে পারেন, আর পুরুষ ও মহিলারা আলাদা ভাবে থাকতেন. কিন্তু যে কোন অলিম্পিক দেখতে ইচ্ছুক ব্যক্তি, তা সে ফ্যান বা সাংবাদিকই হোক – তারা সকলেই এই গ্রামের এলাকায় অথবা সেই সব বাড়ীর কাছে ঘুরে বেড়াতে পারত, যা বলা যেতে পারত যে, এই গ্রামের অংশ. পরিস্থিতির বদল হয়েছে ১৯৭২ সালের পর থেকে, যখন মিউনিখ অলিম্পিকের সময়ে সন্ত্রাসবাদীরা ইজরায়েলের প্রতিনিধিদলের উপরে আক্রমণ করেছিল. তার পর থেকে অলিম্পিক ভিলেজ নিষিদ্ধ এলাকায় পরিণত হয়েছে ও তা অবশ্যই হওয়া দরকার ছোট এলাকার মধ্যেই, যাতে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা বজায় রাখা যায়.

সোচীতে ২০১৪ সালে তিনটে অলিম্পিক ভিলেজ তৈরী করা হয়েছে. একটা সমুদ্রপারের কাছে অলিম্পিকের কেন্দ্রগুলির কাছে, দ্বিতীয় – “রোজা খুতর” নামের পাহাড়ে স্কি করার কমপ্লেক্সের কাছে আর তৃতীয় - স্কি ও বিয়াথলন করার জন্য বিশেষ “লাউরা” নামের রাস্তার কাছে. সমস্ত খেলোয়াড়রাই সেই সব ষ্টেডিয়াম ও জায়গার কাছে থাকবেন, যেখানে তাদের প্রতিযোগিতা হতে চলেছে.

২. সেকেন্ডের দশ ভাগের এক ভাগ সময়েই হিসেব করা হবে

১৯৮০ সালের লেক-প্লেসিড অলিম্পিক ছিল শেষ, যখন স্কি দৌড়ের সময়ে বিজয়ী বাছা হয়েছিল সেকেন্ডের শত ভাগের এক ভাগ সময়ের মধ্যে. সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হয়েছিল ১৫ কিলোমিটার দূরত্বের দৌড়. ফিনল্যান্ডের খেলোয়াড় ইউখা মিয়েতো এই দূরত্ব অতিক্রম করেছিলেন ৪১ মিনিট ৫৭, ৬৪ সেকেন্ড সময়ে. আর তার প্রতিদ্বন্দ্বী, সুইডেনের টমাস ভাস্সবের্গ, - ৪১ মিনিট ৫৭, ৬৩ সেকেন্ড সময়ে. স্বর্ণ পদক দেওয়া হয়েছিল সুইডেনের খেলোয়াড়কেই. ফ্যানরা এই নিয়ে শোরগোল তুলেছিল, আর তাদের পরে আরও যোগ দিয়েছিলেন ক্রীড়া জগতের কর্তারা. তারা ঠিক করেছিলেন যে এক সেকেন্ডের শত ভাগের এক ভাগ – এটা খুবই কম, যা দিয়ে স্কি দৌড়ে চ্যাম্পিয়নদের ভাগ্য নির্ধারণ করা সম্ভব. আর তার পরের বছর থেকেই সমস্ত রকমের স্কি সংক্রান্ত প্রতিযোগিতায় সেকেন্ডের দশ ভাগের এক ভাগ সময় মাপা শুরু হয়েছিল. যখন দু’জন খেলোয়াড়ই একসাথে সোনার পদক পেয়েছিল, সেই পরিস্থিতি তার পর থেকে বহুবারই হয়েছে. যেমন, ২০০২ সালে সল্ট লেক সিটিতে অলিম্পিকের সময়ে ফলো করার দৌড়ে দু’জন অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন ছিল – নরওয়ে দেশের টমাস আল্সগোর্ড ও ফ্রুডে এস্টিল একই ফল করেছিলেন.

একই সঙ্গে লেক-প্লেসিড অলিম্পিকের পরেই অলিম্পিকের স্কি খেলার প্রোগ্রামে নতুন এক ধরনের খেলা শুরু হয়েছিল – যাতে গণহারে লোকে যোগ দিয়েছে. এটা এমন এক দৌড়, যখন সমস্ত খেলোয়াড়রাই একসাথে ফিনিশের দিকে দৌড়তে থাকেন, তখন তারা আর সেকেন্ড মাপার ঘড়ির দিকে লক্ষ্য করেন না, বরং তাদের নিজেদের বাস্তব প্রতিযোগীদের দিকেই খেয়াল করেন, যাদের থেকে হয় এগিয়ে থাকতে হবে অথবা যাদের টপকে যেতে হবে. স্কি খেলোয়াড়দের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আর ফ্যানদের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে যে, এটা সবচেয়ে দেখার মত ও সত্ প্রতিযোগিতা.