তাই একেবারেই হঠাত্ করেই উঠে এসেছে নিউ ইয়র্ক শহরে ভারতের ডেপুটি কনসাল জেনারেল দেবযানী খোবরাগাদে কে এত তুচ্ছ কারণে গ্রেপ্তারের বিষয়. যে কোন ভারতীয়েরই এই কারণে স্রেফ একটা ব্যাঙ্গাত্মক হাসির উদ্রেক হতে পারে. দেখা গিয়েছে যে, শ্রীমতী খোবরাগাদে তাঁর বাড়ীর কাজের লোককে ভিসা পাওয়ার সময়ে ফর্ম ভর্তির সময়ে যত বেতন দেবেন বলে উল্লেখ করেছিলেন, তার থেকে অনেক কম দিয়েছেন. ঠিক এই কারণেই তাঁকে জেলে যেতে হয়েছে, যেখানে এর ওপরে আবার তাকে অপমানিত হয়ে হয়েছে.

প্রসঙ্গতঃ, আরও বেশী করেই অবাক হওয়ার মতো মনে হয়েছিল ভারতীয় পক্ষের প্রতিক্রিয়া, যারা শুধু এই ধরনের স্ক্যান্ডালকে থামাতেই চায় নি, বরং উল্টো যে, আরও তীক্ষ্ণ করতেই চেয়েছে, আমাদের সমীক্ষক সের্গেই তোমিন এই প্রসঙ্গে বলেছেন:

“একটা প্রশ্ন উঠেছে: কেন? কেউ হয়তো বা এটাকে ব্যাখ্যা করবেন যে, দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে একটা সংক্ষিপ্ত মোহময় সময়ের পরে আবার করে বিরোধ শুরু হয়েছে. এই তো কূটনৈতিক স্ক্যান্ডালের সময়ে একে অপরের জন্য বিরক্তিকর ব্যাপারগুলো আবার বেরিয়ে পড়েছে. কিন্তু প্রধান কারণ যা মনে হয়েছে, সেটা মোটেও এটা নিয়ে নয়, বরং আগামী বসন্তে হতে যাওয়া সর্বজনীন লোকসভা নির্বাচনে প্রতিযোগী দলগুলোর জনপ্রিয়তা ও সম্ভাবনা পরীক্ষা করার জন্যই করা হয়েছে”.

আজকের দিনে ক্ষমতাসীন কংগ্রেস এই নির্বাচনের দৌড়ে এখন এক এমন দলে পরিণত হয়েছে, যারা পাল্লা দিয়ে যেন দৌড়চ্ছে. আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক স্ক্যান্ডাল বিরোধী দল বিজেপিকে আরও বেশী সুযোগ করে দিয়েছে কংগ্রেসের সঙ্গে নিজেদের ব্যবধান বাড়িয়ে ফেলার জন্য. কারণ জাতীয়তাবাদী ভারতীয় বিরোধী দল আমেরিকা বিরোধী মানসিকতা ব্যবহার করতে জানে আর করতে ভালও বাসে, তারা নানা সময়েই জাতীয় গরিমা সম্বন্ধে উল্লেখ করে থাকে ও ঐতিহ্য মেনে চলা মূল্যবোধ নিয়ে, যা বিদেশের বিপজ্জনক প্রভাব থেকেই বাঁচিয়ে রাখা দরকার, তাই সের্গেই তোমিন বলেছেন:

“যদি মনমোহন সিংহের মন্ত্রীসভা এই কূটনৈতিক স্ক্যান্ডালের সময়ে কোন রকমের দুর্বলতা দেখায়, তবে বিজেপি তত্ক্ষণাত বলে উঠত যে, তারা বিদেশে জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে আর আমেরিকার দালাল হয়েছে. এই ধরনের অভিযোগ কংগ্রেসকে একেবারেই শেষ করে দিতে পারত, তাদের নির্বাচনে সফল হওয়ার কোনও সুযোগই থাকত না. তাই দেখতে পাওয়া গেল যে, ভারতের জাতীয় কংগ্রেস বাদ্য হয়েছে নিজেদের প্রতিযোগীদের এলাকাতেই খেলতে, কোন ভাবেই নজর না করে যে, এই ধরনের কাজের ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে খুবই বড় ধরনের সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে”.

দিল্লীর কাজকর্ম, আমেরিকায় যেটাকে দেখা হয়েছে একটা চ্যালেঞ্জ হিসাবে, তার আরও একটা ব্যাখ্যা রয়েছে. ওয়াশিংটনকে একটা কড়া উত্তর দিয়ে ভারত একই সঙ্গে বুঝতে দিয়েছে যে, আরও বেশী করেই আগের সম্পর্কের মডেল তাদের জন্য চলবে না: একটা ছোট ও বড় সহযোগীর সম্পর্ক, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর জন্য আর তাদের থেকে সাহায্য পাওয়া দেশগুলোর জন্যই ব্যবহার করে থাকে.

দেশের ক্ষমতাসীন উচ্চপদস্থ লোকদের বিরক্তি সাক্ষ্য দিয়েছে যে, ভারত তৈরী রয়েছে পশ্চিমের নেতৃস্থানীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে মানদণ্ড উঁচু করতে. গত বছরে ভারত হঠাত্ করেই খুবই কড়া ভাবে ও অনেকের জন্যেই অবাক হওয়ার মতো করে ইতালির জাহাজের রক্ষীদের সঙ্গে বিচারের বিষয়ে, যারা ভারতীয় জেলেদের গুলি করে হত্যা করেছিল, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে. এমনকি ইউরোপীয় সঙ্ঘের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে সাক্ষ্য দিতে আসা ও দিল্লীর সমালোচনা স্বত্ত্বেও ভারত নিজের অবস্থায় অনড় ছিল.

এই ধরনের কাজকর্ম, যা দিল্লীতে করা হয়েছে, তা পশ্চিমে মনে করা হয়ে থাকে বিরল অথবা কীর্তি বলেই, কিন্তু এবারে তাই ভারতীয় প্রশাসনের জন্য নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে – নতুন করে দক্ষিণ এশিয়ার এক বৃহত্ রাষ্ট্র হিসাবে ভূ-রাজনৈতিক মর্যাদা আদায়ের জন্য.