রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালে আফগানিস্তানে হিংসার স্তর গত বছরের তুলনায় তিনগুণ বেড়েছে. পশ্চিমের সেনাবাহিনীর গুটিয়ে নেওয়ার সুযোগ নিয়ে জঙ্গীরা নিজেদের নিয়ন্ত্রণ দেশের অনেকটা জায়গাতেই নিয়ে নিয়েছে. ২০১৪ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময়ে তারা তৈরী হচ্ছে “নিজেদের সমস্ত ক্ষমতা” প্রদর্শন করার জন্য. কিন্তু ন্যাটো জোটে বলা যেতে পারে একটা “নিজেদের তরফ থেকেই নিজেদের শান্ত করার চেষ্টা” চলছে, আর তা সেই কারণে যে, জোট নিজেদের আফগানিস্তানে উপস্থিতি কমিয়ে ফেলছে. “আমরা এই ধরনের ব্যবস্থা সমর্থন করি না – আমাদের আফগানিস্তানে পরিস্থিতির পরিবর্তন খুব বেশী করেই উদ্বিগ্ন করেছে” – বলেছেন আফগানিস্তান সংক্রান্ত পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান আলবের্ত খোরেভ.

এর উত্তরে ন্যাটো জোটের প্রতিনিধিরা, মস্কোর ন্যাটো জোটের দপ্তরের প্রধান রবার্ট প্শেল ও আফগানিস্তানের বিভাগীয় প্রধান নিকোলাস উইলিয়ামস নিজেদের পক্ষ থেকে যুক্তি উত্থাপন করেছেন. জঙ্গীদের শুধু শতকরা পনেরো ভাগ আফগানিস্তানের জনতা সমর্থন করে. আর বছর দশেক পরে আফগানিস্তান একটা “সাধারণ উন্নতিশীল দেশেই” পরিণত হবে, যদি আন্তর্জাতিক সমাজ তাদের সাহায্য করে, আর তার মধ্যে অর্থ সাহায্যও.

এই ধরনের পূর্বাভাসের পরস্পর বিরোধীতা আগে থেকেই কার্য-কারণ সম্পর্কিত, এই কথা উল্লেখ করে স্ট্র্যাটেজিক মূল্যায়ণ ও বিশ্লেষণ ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ ও প্রাচ্য বিশারদ সের্গেই দেমিদেঙ্কো বলেছেন:

“জোট ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপরে দায়িত্ব রয়েছে, আফগানিস্তানে যা হচ্ছে, তার জন্য. তারা দশ বছরেরও বেশী সময় ধরে সেখানে কিছুই ঠিক করে তৈরী করে দেয় নি, আর এর জন্য আবার দায়িত্ব অন্যদের ঘাড়ে চাপাতে চাইছে, যেমন করেছে ইরাকের ক্ষেত্রে. এই ধরনের পরিস্থিতিতে আমেরিকার লোকদের পরিকল্পনার মূল অর্থ এই ধরনের – সমাধানের প্রশ্নকে আন্তর্জাতিক সমাজের হাতে ছেড়ে দেওয়া. এই পরিপ্রেক্ষিতে তারা চেষ্টা করবে অন্যান্য দেশকে নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে জুটিয়ে দিতে. আর নিজেরা আরও বেশী করেই সরে পড়বে. তাই তারা চেষ্টা করছে পরিস্থিতিকে এমন ভাবে দেখাতে: চিন্তা করবেন না, সবই ঠিক হবে, আমরা নিজেদের কাজ করে ফেলেছি, পরিস্থিতি স্থিতিশীলই রয়েছে”.

রাশিয়ার বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, আমেরিকার লোকদের জন্য মুখ্য হল – মধ্য এশিয়ার এলাকায় সামরিক ঘাঁটি রেখে দেওয়া. আর সব রকম ভাবে জঙ্গীদের সঙ্গে চুক্তি করার চেষ্টা, যাতে তারা সেই গুলো না ছোঁয়.

রাশিয়ার বিশেষজ্ঞরা ইরাক ও লিবিয়া সম্বন্ধে নিজেদের পূর্বাভাসের বিষয়েও কোন ভুল করেন নি, যেখানে ঘটনা ঘটেছিল খুবই নৈরাশ্য জনক ঘটনা পরম্পরা অনুযায়ী. আফগানিস্তান নিয়ে যা বলা যেতে পারে, তা হল যে, ২০১৪ সালের শেষে সামরিক বাহিনী ও পুলিশ নিজেদের হাতে মনে হয় না যে, সমস্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত দায়িত্ব নিতে সক্ষম হবে. এই নিয়ে বলেছেন কাবুল শহরে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আন্দ্রেই আভেতিসিয়ান, আফগানিস্তানের সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারের সময়ে, তিনি বলেছেন:

“বিগত বছরগুলোতে সামরিক বাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর প্রশিক্ষণ স্পষ্ট করে করা হয় নি. শুধু তুলনামূলক ভাবে অল্প কিছু দিন আগেই প্রচুর শক্তি প্রয়োগ করা হয়েছে. কিন্তু শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ও পুলিশ তৈরী করার জন্য যেমন অফিসারদের দরকার রয়েছে, যারা সামরিক একাডেমীতে ভাল রকমের শিক্ষা পেয়েছেন, তেমনই তাদের যুদ্ধের অভিজ্ঞতাও থাকা দরকার. আমি মনে করি যে, ২০১৪ সালের পরেও এই সমস্ত দিকে জোর দেওয়ার দরকার পড়বে”.

আফগানিস্তানে পরবর্তী সময়ে ঘটনা অনেক ক্ষেত্রেই তার উপরে নির্ভর করবে যে, কিভাবে বসন্তকালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হতে চলেছে. সব মিলিয়ে এই দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যত কুয়াশাচ্ছন্নই রয়ে গিয়েছে. আফগানিস্তানের শক্তিমান রাজনৈতিক শক্তিদের পক্ষে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে এই রকমের একটা আশা এখনও রয়েছে. কিন্তু এই বিষয়ে কোন ভরসা নেই. তাই বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে, রাশিয়া ও স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহের অন্যান্য দেশগুলির পক্ষে যে কোন রকমের পরিস্থিতির জন্যই তৈরী থাকা ঠিক হবে.