ভারতীয় কূটনীতিবিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তৈরী করা হয়েছে, তাঁর প্রাক্তন কাজের লোক সঙ্গীতা রিচার্ডের বয়ান অনুযায়ী. ২০১২ সালে, যাতে এই কাজের লোক, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পেতে পারে, তাই দেবযানী খোবরাগাদে ফর্ম ভরতে গিয়ে লিখছিলেন যে, তিনি এই মহিলাকে সাড়ে চার হাজার ডলার মাসে বেতন দেবেন, যা আমেরিকার শ্রম সংক্রান্ত আইনের সঙ্গে সম্পূর্ণ ভাবেই মেলে. কিন্তু আসলে তিনি তাঁকে ভারতীয় টাকায় তিরিশ হাজার বেতন দিতেন (প্রায় পাঁচশো ডলার). ভারতীয় অর্থে এটা কম টাকা নয়, কিন্তু আমেরিকার ন্যূনতম মজুরির চেয়ে অনেক কম. এই প্রসঙ্গে রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ বরিস ভলখোনস্কি বলেছেন:

“বাড়ীর কাজের লোক সঙ্গীতা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে পাওয়ার ভিসা পেয়ে কিছুদিনের মধ্যেই পালিয়ে গিয়েছিল ও পুলিশে খবর দিয়েছিল. যদিও ভারতের আদালত তাঁর প্রাক্তন কর্ম দাতাকে নিয়ে এই বিষয়ে সঙ্গীতাকে ভারতীয় আদালতের বাইরে অন্য কোথাও এই নিয়ে অভিযোগ করতে নিষেধ করেছে, তবুও সঙ্গীতা এই নিষেধ স্রেফ উপেক্ষাই করেছে. এখন দেবযানী খোবরাগাদে ভিসা ফর্ম সঠিক ভাবে না ভর্তি করা ও আমেরিকার শ্রম সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত হয়েছেন”.

গত সপ্তাহে ভারতের এই মহিলা কূটনীতিবিদকে হাতকড়া পরিয়ে গ্রেপ্তার ও কাপড় খুলিয়ে খানা তল্লাশী করার পরে খুনী ও দাগী আসামীদের সঙ্গে ছ’ঘন্টা ধরে রাখা হয়েছিল. এই রকমের একটা পরিস্থিতিতে শ্রীমতী খোবরাগাদে কতদূর অপরাধী, সেই প্রশ্নই দূরে থেকে গিয়েছে: কারণ আমেরিকার পুলিশের পক্ষ থেকে বিদেশী কূটনীতিবিদের প্রতি আচরণ একেবারেই সীমা ছাড়ানো রকমের ন্যক্কারজনক হয়েছে. তাই ভলখোনস্কি বলেছেন:

“মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে নিজেদের নিউইয়র্ক শহরের পুলিশের ভারতের ডেপুটি কনসাল জেনারেলের বিরুদ্ধে করা কাজকর্মকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে এই ভাবে যে, তিনি ১৯৬১ সালে নেওয়া কূটনীতিবিদ সংক্রান্ত ভিয়েনা কনভেনশনের আওতায় পড়েন না. তাঁর জন্য শুধু সেই ধরনের আইন ভঙ্গের ক্ষেত্রে কিছু করা যাবে না, যদি তাঁর সরাসরি ডেপুটি কনসাল জেনারেল হিসাবে দায়ভারের ক্ষেত্রে তিনি কোনও কর্মক্ষেত্রে অপরাধ করে বসেন, তাহলেই. কিন্তু যদি কনস্যুলেটের কর্মী একই সঙ্গে ডিপ্লোম্যাট হন (শ্রীমতী খোবরাগাদের ক্ষেত্রে তাই হয়েছে), তবে তাঁর ওপরে ১৯৬১ সালের কনভেনশনের সুরক্ষা থাকে. সুতরাং কম করে হলেও যা আমেরিকার প্রশাসন করতে পারত – তা তাঁকে দেশ থেকে ফেরত পাঠাতে পারত, কিন্তু কোন ভাবেই গ্রেপ্তার বা খানা তল্লাশী নয়”.

খুবই আশানুরূপ হয়েছিল আমেরিকার প্রশাসনের কাজের জন্য ভারতের প্রত্যুত্তরে প্রতিক্রিয়া. ভারতের সরকারি লোকরা, যাদের মধ্যে দেশের পার্লামেন্টে দুই প্রধান দলের নেতারা রয়েছে, দেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত পরামর্শদাতা শিবশঙ্কর মেনন ও দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সুশীল কুমার শিন্ডে রয়েছেন, তাঁরা সকলেই প্রতিবাদ হিসাবে মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে দেখা করতে অস্বীকার করেছেন. বিরোধী দলের নেতাও ৩৭৭ নম্বর ধারা প্রয়োগ করতে বলেছেন, তাই ভলখোনস্কি বলেছেন:

“কিন্তু সবচেয়ে বিরক্তিকর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হতে পারে ভারতের প্রশাসনের তরফ থেকে মঙ্গলবার যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, অর্থাত্ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের সামনে থেকে স্পীড ব্রেকার কংক্রীট ব্লক সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, ফলে এখন যে কোন রকমের গাড়ীই দূতাবাসের কাছে চলে আসতে পারে. বিশ্বজোড়া মার্কিন বিরোধী সন্ত্রাসের সময়ে এই ধরনের নিরাপত্তার অভাব নিশ্চয় করেই সবচেয়ে বেশী রকমের মানসিক চাপ সৃষ্টি করবে”.

খুব স্পষ্ট করেই দেখতে পাওয়া যাচ্ছে যে, ভারতীয় কূটনীতিবিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকার এই ধরনের পরিস্থিতি যে হতে পারে, তা না বুঝে থাকতে পারে নি. কিন্তু ভারতে আমেরিকা বিরোধী মানসিকতা বৃদ্ধি হতে দেখে ও দেশে ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদী, যিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ভিসা অযোগ্য, তাঁর প্রধান মন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা দেখেই ওয়াশিংটন বোধহয় ঠিক করেছে নিজেরাই আগে সাবধান করে দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে আর আগে থেকেই খারাপ হবে বলে তৈরী হতে.