সিরিয়ার বিরোধী ও বৈপ্লবিক শক্তি জোটের মুখপাত্র লুয়েই সাফি বলেছেন যে, “জোট জেনেভা সম্মেলনে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে ভেবে দেখতে পারে, যদি তারা নিজেদের যোদ্ধাদের সিরিয়া থেকে প্রত্যাহার করে ও প্রশাসনের অপরাধ স্বীকার করে”. অন্য কথায় বলতে হলে – জোট ইরানের অংশগ্রহণে সম্মত, যদি তেহরান দামাস্কাসের সঙ্গে সমস্ত রকমের সম্পর্ক ত্যাগ করে ও শান্তি প্রস্তাবে অনিচ্ছুক সিরিয়ার বিরোধীদের পক্ষ নেয়. এই ধরনের ঘোষণা নিয়ে গুরুত্ব দিয়ে চিন্তা করা সম্ভব? এই রকমের প্রশ্ন অবশ্যই একেবারে শুধু ঝঙ্কার তোলার মতোই.

সিরিয়া নিয়ে জেনেভা শহরে আন্তর্জাতিক সম্মেলনের তারিখ ২২শে জানুয়ারী এগিয়ে আসার সাথে এটাকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা বেড়েই চলেছে. সমস্ত সক্রিয় পক্ষই চাইছে আগে থেকেই জেনেভায় নিজেদের স্বার্থ বজায় রাখতে.

আগে আমরা বোঝার চেষ্টা করব সিরিয়াতে কে কার বিরুদ্ধে. এটা, একদিক থেকে সোজা আবার অন্যদিক থেকে কঠিন কাজ. যদি সহজে বলতে হয়, তবে বাশার আসাদের প্রশাসনের বিরুদ্ধে একটা বিরোধী সশস্ত্র জঙ্গী বাহিনী রয়েছে, যারা চাইছে তার প্রশাসনের পতন, অর্থাত্ নিজেদের হাতে দেশের ক্ষমতা তুলে নিতে চাইছে. কিন্তু যেমন একদিকে, তেমনই অন্যদিকে শক্তি মোটেও ঐক্যবদ্ধ নয়.

রাষ্ট্রপতিকে সহায়তা দিচ্ছে ইরান ও লেবাননের “হেজবোল্লা” জঙ্গী দলের লোকরা. তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করছে আসাদ, ইরান ও “হেজবোল্লার” বিরোধী নানা রকমের জঙ্গীরা, যাদের সক্রিয়ভাবে সহায়তা দিচ্ছে সৌদী আরব ও কাতার. তাদের মধ্যে যেমন রয়েছে পশ্চিম পন্থী সিরিয়ার সামাজিক নেতারা, তেমনই ঐস্লামিক কট্টরপন্থীরা, যারা আবার সমস্ত রকমের বর্ণ ও ধারণার – মধ্য পন্থী থেকে একেবারে উগ্রপন্থী লোকজন. প্রসঙ্গতঃ, তাদের মধ্যে সবচেয়ে কট্টরপন্থী হল জেহাদীরা, সম্মিলিত “ঝেভাত-আন-নুসরা” ও “ইরাক ও লেভান্তে ঐস্লামিক রাষ্ট্র” ঘোষণা করা দলের লোকরা – যারা অনেকদিন হল নিজেদের খেল খেলছে, আসাদের বিরুদ্ধে যেমন যুদ্ধ করছে, তেমনই করছে মধ্যপন্থীদের বিরুদ্ধেও.

গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার সময় থেকেই সিরিয়াতে পশ্চিম এদের যারাই আসাদের বিরুদ্ধে, তাদের সকলকেই প্রচুর পরিমাণে সাহায্য করেছে, কোন রকমের বাদ বিচার না করেই, তখন তারা মস্কোর পক্ষ থেকে বহুবার করা সাবধান বাণী যে, এই কারণে খালি চরমপন্থীদেরই প্রভাব বাড়বে, আর তার ফলে সিরিয়া সন্ত্রাসবাদের আরও একটা ঘাঁটি হতে চলেছে, যা যেমন পশ্চিমের জন্য, তেমনই পূর্বের জন্যও বিপজ্জনক, তা শোনে নি. তাই এই পরিস্থিতি নিয়ে সামরিক রাজনীতিবিদ ইউরি বন্দার মন্তব্য করে বলেছেন:

“এমন একটা ধারণা তৈরী হচ্ছে যে, এখন পশ্চিম নিজেকে একটা হিসাবে দিতে শুরু করেছে যে, এই ধরনের বিপদ – বাস্তব, আর সিরিয়ার এলাকায় আসলে ইরান ও সৌদী আরবের মধ্যে লড়াই চলছে এই এলাকার মালিকানা নিয়ে. আর এই পরিস্থিতিতে বিশ্বের সমস্ত কোণা থেকে চলে আসা সবচেয়ে ঘৃণ্য উগ্রপন্থী ঐস্লামিক লোকরা দানা বেঁধেছে একটাই সামনে লক্ষ্য নিয়ে – সিরিয়াকে নিজেদের ঘাঁটি তৈরী করার জন্য. আর মনে হচ্ছে যে, বিশ্ব এবারে এটা বুঝতে শুরু করেছে”.

এই কারণেই সিরিয়াতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আনতে গেলে তেহরান ও এর-রিয়াদ ছাড়া, অর্থাত্ এই দুই প্রধান ক্রীড়নক ছাড়া – স্রেফ চলতেই পারে না. তার ওপরে শুধু এর-রিয়াদ পারে জোর দিয়ে অথবা বুঝিয়ে সবচেয়ে চরমপন্থী জোটগুলোকে, যারা “আল- কায়দা” গোষ্ঠীর কাছাকাছি ও সদ্য “ঐস্লামিক ফ্রন্ট” বলে গোষ্ঠী গড়েছে, যুদ্ধ থেকে বিরত করতে পারে. আর এই সবই আলোচনা করার দরকার রয়েছে রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে সমস্ত পক্ষকে আহ্বান করে “জেনেভা – ২” সম্মেলনে.

এই প্রসঙ্গে উল্লেখ করা দরকার রয়েছে যে, এই সম্মেলনে ইরানের বা সৌদী আরবের অংশ নেওয়া নিয়ে প্রাথমিক কোন শর্ত দেওয়াই অর্থহীণ.

অবশ্যই জেনেভায় আলোচনা, সব দিক থেকে সিরিয়ার সঙ্কটে কোন রকমের শেষ সমাধান হয়ে দাঁড়াবে না, কিন্তু তা একটা ভিত্তি হতে পারে কোন একটা সকলের উপযুক্ত লক্ষ্য স্থির করার জন্যে, যাতে সিরিয়াতে সমস্ত রকমের বিরোধী পক্ষই শান্তির পথে চলা শুরু করতে পারে ও ভ্রাতা হন্তারক এই যুদ্ধ বন্ধ করতে পারে.